SCI-Salat Curriculum for Implementation

SCI-Salat Curriculum for Implementation Understand salat for action.

01/02/2026

দিন-০১১ /৩০০
সূরা বাকারাঃ আয়াত ১৪৭-১৬৪
সারাংশঃ আদেশ ৩ টি (আ ১৬,১৭,১৮) এবং নিষেধ ০ (১৪) টি
আদেশ
১/১৯ ভাল কাজে প্রতিযোগিতা করতে হবে (আয়াত ১৪৮)
২/২০ নামাযে কেবলামুখী হতে হবে । (অর্থাৎ নামাযের সময় মসজিদুল হারাম তথা কাবা শরীফের দিকে মুখ ফিরাতে হবে) (আয়াত ১৪৯-১৫০)
৩/২১ ভয় করতে হবে আল্লাহকে, মানুষকে নয়। (অর্থাৎ দ্বীনের বিধান পালনে বিরোধীরা কি বললো না বললো সেটাকে আমালে নেয়া যাবে না।) (আয়াত ১৫০)
৪/২২ আল্লাহকে স্বরণ করতে হবে (আল্লাহকে স্বরণ করলে আল্লাহও বান্দাকে স্মরণ করেন) এবং আল্লাহর শোকর (কৃতজ্ঞতা) আদায় করতে হবে। (আয়াত ১৫২)
৫/২৩ আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে। (আয়াত ১৫৩)
৬/২৪ বিপদে-মুসিবতে মুমিনদের করণীয়: ধৈর্যধারণ---- (আয়াত ১৫৫-১৫৭)
নিষেধ
১/১৪ (দ্বীনের বিধান পালনে) মানুষকে ভয় করা যাবে না; ভয় করতে হবে একমাত্র আল্লাহকে। (আয়াত ১৫০)
২/১৫ আল্লাহর নাফরমানী (না-শোকরী) করা যাবে না। (আয়াত ১৫২)
৩/১৬ আল্লাহর রাস্তায় যারা প্রাণ দিয়েছেন, (শহীদ হয়েছেন) তাদের মৃত বলা যাবে না। কারণ তারা আসলে জীবিত, কিন্তু মানুষ তা অনুধান করতে পারে না। (আয়াত ১৫৪)
৪/১৭ আল্লাহর কিতাবের কোন কিছু গোপন করা যাবে না (যারা এরুপ করে তারা গযবপ্রাপ্ত) (আয়াত ১৫৯-১৭৪)

আদেশ ১৯
ভাল কাজে প্রতিযোগিতা করতে হবে (আয়াত ১৪৮)

আর প্রত্যেকের একটি দিক রয়েছে, যে দিকে সে চেহারা ফিরায়। অতএব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা কর। তোমরা যেখানেই থাক না কেন আল্লাহ্ তোমাদের সবাইকে নিয়ে আসবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। (আয়াত ১৪৮)
যারা কিবলা পরিবর্তনের কারণে আপত্তি করছিল, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ চূড়ান্ত করার পর মুসলিমদেরকে হিদায়াত দেওয়া হচ্ছে যে, প্রতিটি ধর্মের লোক নিজেদের জন্য আলাদা কিবলা স্থির করে রেখেছে। কাজেই ইহকালে তাদের সকলকে বিশেষ একটি কিবলার অনুসারী বানানো তোমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। সুতরাং তাদের সাথে কিবলা সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত না হয়ে বরং তোমাদের উচিত নিজেদের কাজে লেগে পড়া। নিজেদের সে কাজ হল আমলনামায় যত বেশি সম্ভব পুণ্য সঞ্চয় করা। তোমরা এ কাজে একে অন্যের উপরে থাকার চেষ্টা কর। শেষ পরিণাম তো হবে এই যে, আল্লাহ তাআলা সমস্ত ধর্মাবলম্বীদেরকে নিজের কাছে ডেকে নেবেন এবং তখন তাদের সকলের হুজ্জত খতম হয়ে যাবে। সেখানে সকলেরই কিবলা একটিই হয়ে যাবে। কেননা তখন সকলে আল্লাহ তাআলার সামনে তাঁরই অভিমুখী হয়ে দাঁড়ানো থাকবে।
তাফসীর (মুফতী তাকী উসমানী)

২/২০ নামাযে কেবলামুখী হতে হবে । (অর্থাৎ নামাযের সময় মসজিদুল হারাম তথা কাবা শরীফের দিকে মুখ ফিরাতে হবে) (আয়াত ১৪৯-১৫০)

আর যেখান থেকেই আপনি বের হন না কেন মসজিদুল হারামের দিকে চেহারা ফিরান। নিশ্চয় এটা আপনার রব-এর কাছ থেকে পাঠানো সত্য। আর তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন।
আর (কেবলা পরিবর্তনের দ্বিতীয় তাৎপর্য হলো এই যে, আল্লাহ্ তা’আলার রীতি অনুসারে) প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীদের জন্যই একেকটি কেবলা নির্ধারিত রয়েছে, (ইবাদত করার সময় ) তারা সেদিকেই মুখ করে থাকে। (শরীয়তে মুহাম্মদীও যেহেতু একটি স্বতন্ত্র দীন, কাজেই এর জন্যও একটি কেবলা নির্ধারণ করে দেওয়া হলো। এ তাৎপর্যটি যখন সবাই জানতে পারল) কাজেই (হে মুসলমানগণ, এখন এসব বিতর্ক পরিহার করে) তোমরা সৎকাজের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাবার চেষ্টা কর। (কারণ, একদিন তোমাদেরকে নিজেদের মালিকের সম্মুখীন হতে হবে। কাজেই) তোমরা যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহ্ তোমাদের সবাইকে (নিজের সামনে) অবশ্যই হাযির করবেন। (তখন সৎকাজের প্রতিদান এবং মন্দ কাজের জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে।) বস্তুত আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন নিশ্চয়ই যাবতীয় বিষয়ে ক্ষমতাশীল। আর (এ তাৎপর্যের তাকীদও এই যে, যেভাবে মুকীম অবস্থায় কা’বার দিকে মুখ করা হয়, তেমনিভাবে মদীনা কিংবা অন্য যে কোনখান থেকে যদি আপনি সফরে গমন করেন, (তখনও নামায পড়ার সময়) নিজের চেহারা মসজিদে হারামের দিকে রাখবেন। (সারকথা, মুকীম অবস্থায় হোক কিংবা সফরকালে হোক, সর্বাবস্থায় এটাই হলো কেবলা।) আর (কেবলার ব্যাপারে) এই সাধারণ নির্দেশই হলো সম্পূর্ণ ও সঠিক এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত। আর আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে এতটুকুও অনবহিত নন।
তাফসীরে মারিফুল কোরআন

আর তুমি যেখান হতেই বের হও না কেন, মাসজিদুল হারামের (কা’বা শরীফের) দিকে মুখ ফেরাও এবং যেখানেই থাক না কেন, সেই (কা’বার) দিকেই মুখ ফেরাও। * যাতে তাদের মধ্যে সীমালঘংনকারিগণ ছাড়া অন্য কোন লোক তোমাদের সাথে বিতর্ক না করতে পারে। সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না, বরং একমাত্র আমাকেই ভয় কর, যাতে আমি আমার অনুগ্রহ তোমাদেরকে পরিপূর্ণরূপে দান করতে পারি এবং যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।
ক্বিবলার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশের তিনবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। হয় এর উপর তাকীদ ও এর গুরুত্ব বর্ণনা করার জন্য অথবা এই জন্য যে, এটা কোন বিধানকে রহিত ঘোষণা করার প্রথম পরীক্ষা ছিল। তাই মনের মধ্যেকার সন্দেহ-সংশয় ও খুঁতখুঁতে ভাবকে দূর করার জন্য জরুরী ছিল যে, তার বারবার পুনরাবৃত্তি করে মানুষের অন্তরে সুদৃঢ় করে দেওয়া হোক। আবার এও হতে পারে যে, একাধিক কারণের জন্য এ রকম করা হয়েছে। এক কারণ তো এই ছিল যে, নবী করীম (সাঃ)-এর এটা আন্তরিক ইচ্ছা ও আশা ছিল। তা বর্ণনা করার জন্য এ কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় কারণ, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বি ও দাওয়াতদাতার নিজস্ব পৃথক কেন্দ্র (ক্বিবলা) ছিল, তা বর্ণনা করে এ কথার পুনরাবৃত্তি হয়। তৃতীয় কারণ, বিরোধীপক্ষের অভিযোগসমূহের খন্ডনের জন্য তৃতীয়বার তা পুনরুক্ত হয়। (ফাতহুল ক্বাদীর)
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৩/২১ ভয় করতে হবে আল্লাহকে, মানুষকে নয়। (অর্থাৎ দ্বীনের বিধান পালনে বিরোধীরা কি বললো না বললো সেটাকে আমালে নেয়া যাবে না।) (আয়াত ১৫০)

আর তুমি যেখান হতেই বের হও না কেন, মাসজিদুল হারামের (কা’বা শরীফের) দিকে মুখ ফেরাও এবং যেখানেই থাক না কেন, সেই (কা’বার) দিকেই মুখ ফেরাও। যাতে তাদের মধ্যে সীমালঘংনকারিগণ ছাড়া অন্য কোন লোক তোমাদের সাথে বিতর্ক না করতে পারে। সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না, * বরং একমাত্র আমাকেই ভয় কর, যাতে আমি আমার অনুগ্রহ তোমাদেরকে পরিপূর্ণরূপে দান করতে পারি এবং যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।
তাদেরকে ভয় করো না অর্থাৎ, মুশরিকদের কথার পরোয়া করো না। তারা বলেছিল যে, মুহাম্মাদ তো আমাদের ক্বিবলা গ্রহণ করে নিয়েছে, এবার অতি সত্বর দেখবে সে আমাদের দ্বীনও গ্রহণ করে নেবে। 'আমাকেই ভয় কর' অর্থাৎ, যে নির্দেশ আমি দিতে থাকব, তার উপর নির্ভয়ে আমল করতে থাকো। ক্বিবলার পরিবর্তনকে অনুগ্রহ পরিপূর্ণতা ও পথপ্রাপ্তি বলে আখ্যায়িত করে এ কথা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, অবশ্যই আল্লাহর নির্দেশের উপর আমল মানুষকে অনুগ্রহ, পুরস্কার ও সম্মানের অধিকারী বানায় এবং সে সুপথপ্রাপ্তি তথা হিদায়াতের তওফীক লাভ করে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪/২২ আল্লাহকে স্বরণ করতে হবে (আল্লাহকে স্বরণ করলে আল্লাহও বান্দাকে স্মরণ করেন) এবং আল্লাহর শোকর (কৃতজ্ঞতা) আদায় করতে হবে। (আয়াত ১৫২)

কাজেই তোমরা আমাকে স্মরণ কর*, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ে না। (আয়াত ১৫২)
শরী'ঈ পরিভাষায় যিকর হচ্ছে, বান্দা তার রবকে স্মরণ করা। হোক তা তার নাম নিয়ে, গুণ নিয়ে, তার কাজ নিয়ে, প্রশংসা করে, তার কিতাব তিলাওয়াত করে, তার একত্ববাদ ঘোষণা করে, তার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে অথবা তার কাছে কিছু চেয়ে।
যিকর দুই প্রকার। যথা - কওলী বা কথার মাধ্যমে যিকর ও আমলী বা কাজের মাধ্যমে যিকর। প্রথম প্রকার যিকরের মধ্যে রয়েছে - কুরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম ও সিফাতসমূহের আলোচনা ও স্মরণ, তার একত্ববাদ ঘোষণা ইত্যাদি। আর দ্বিতীয় প্রকারে রয়েছে - ইলম অর্জন করা ও শিক্ষা দেয়া, আল্লাহর হুকুম-আহকাম ও আদেশ-নিষেধ মেনে চলা ইত্যাদি। প্রথম প্রকার যিকরের মধ্যে কিছু যিকর আছে যা সময়, অবস্থা এবং সংখ্যার সাথে সম্পৃক্ত। যেমন, সকাল ও সন্ধ্যার যিকর, সালাতের পরের যিকর, খাওয়ার শুরু-শেষ, কাপড় পরিধান, মসজিদে প্রবেশ-বাহির ইত্যাদি সহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ-কর্মের দোআ বা যিকরসমূহ। যে সকল যিকর অবস্থা, সময় ও সংখ্যার সাথে সম্পৃক্ত সেগুলোর সংখ্যা, সময় অথবা অবস্থা কোনটিরই পরিবর্তন করা জায়েয নেই। যে সকল যিকর এ তিনটির সাথে সম্পৃক্ত নয় অর্থাৎ সাধারণ যিকর, সেগুলো সময়, সংখ্যা অথবা অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত করাও জায়েয নেই। ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ ‘মৌখিক যিকরের জন্য কোন নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হওয়া এবং নির্দিষ্ট শব্দ নির্ধারণ করা বিদ'আত’। [ইবনুল হুমাম, শরহে ফাতহুল কাদীরঃ ২/৭২]
যিকর এর ফযীলত অসংখ্য। তন্মধ্যে এটাও কম ফযীলত নয় যে, বান্দা যদি আল্লাহকে স্মরণ করে, তাহলে আল্লাহও তাকে স্মরণ করেন। আবু উসমান নাহদী রাহেমাহুল্লাহ বলেন, আমি সে সময়টির কথা জানি, যখন আল্লাহ তা'আলা আমাদিগকে স্মরণ করেন। উপস্থিত লোকেরা জিজ্ঞেস করল, আপনি তা কেমন করে জানতে পারেন? বললেন, তা এজন্য যে, কুরআনুল কারীমের ওয়াদা অনুসারে যখন কোন মুমিন বান্দা আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন আল্লাহ নিজেও তাকে স্মরণ করেন। কাজেই বিষয়টি জানা সবার জন্যই সহজ যে, আমরা যখন আল্লাহর স্মরণে আত্মনিয়োগ করব, আল্লাহ্ তা'আলাও আমাদের স্মরণ করবেন।
সাঈদ ইবনে যুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ যিকরুল্লাহ'র তাফসীর প্রসঙ্গে বলেছেন যে, যিকরের অর্থই হচ্ছে আনুগত্য এবং নির্দেশ মান্য করা। তার বক্তব্য হচ্ছেঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশের আনুগত্য করে না, সে আল্লাহর যিকরই করে না; প্রকাশ্যে যতবেশী সালাত এবং তাসবীহই সে পাঠ করুক না কেন। মূলত: যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্য করে অর্থাৎ তার হালাল ও হারাম সম্পর্কিত নির্দেশগুলোর অনুসরণ করে, সেই আল্লাহকে স্মরণ করে, যদি তার নফল সালাত ও সিয়াম কিছু কমও হয়। অন্যদিকে যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশাবলীর বিরুদ্ধাচরণ করে সে সালাত-সিয়াম, তাসবীহ-তাহলীল প্রভৃতি বেশী করে করলেও প্রকৃতপক্ষে সে আল্লাহকে স্মরণ করে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেনঃ যে ব্যক্তি যিকর করে এবং যে ব্যক্তি যিকর করেনা তাদের উপমা হচ্ছে জীবিত ও মৃতের ন্যায়। [বুখারীঃ ২০৮]
অপর এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদেরকে কি এমন একটি উত্তম আমলের সংবাদ দেব যা তোমাদের মালিকের নিকট অধিকতর পবিত্র, তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অধিকতর সহায়ক, স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যয় করা থেকেও তোমাদের জন্য উত্তম, শক্রর সাথে মোকাবেলা করে গর্দান দেয়া-নেয়া থেকে উত্তম? তারা বলল, হ্যাঁ অবশ্যই বলবেন। তিনি বললেন, যিকরুল্লাহ। [তিরমিযীঃ ৫/৪৫৯]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এক হাদীসে-কুদসীতে আছে, আল্লাহ্ তাআলা বলেন, বান্দা যে পর্যন্ত আমাকে স্মরণ করতে থাকে বা আমার স্মরণে যে পর্যন্ত তার ঠোট নড়তে থাকে, সে পর্যন্ত আমি তার সাথে থাকি। [বুখারীঃ ৭৪০৫] মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আল্লাহর আযাব থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে মানুষের কোন আমলই যিকরুল্লাহর সমান নয়।” যুন্নুন মিসর বলেনঃ ‘যে ব্যক্তি প্রকৃতই আল্লাহকে স্মরণ করে সে অন্যান্য সবকিছুই ভুলে যায়। এর বদলায় স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলাই সবদিক দিয়ে তাকে হেফাজত করেন এবং সবকিছুর বদলা তাকে দিয়ে দেন’।
তাফসীরে জাকারিয়া
৫/২৩ আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে। (আয়াত ১৫৩)

হে ঈমানদারগণ! তোমরা সাহায্য চাও সবর * ও সালাতের মাধ্যমে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সবরকারীদের সাথে আছেন।**
‘সবর’ শব্দের অর্থ হচ্ছে সংযম অবলম্বন ও নফস্ এর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ। কুরআন ও হাদীসের পরিভাষায় ‘সবর’-এর তিনটি শাখা রয়েছে। (এক) নফসকে হারাম এবং না-জায়েয বিষয়াদি থেকে বিরত রাখা (দুই) ইবাদাত ও আনুগত্যে বাধ্য করা এবং (তিন) যেকোন বিপদ ও সংকটে ধৈর্যধারণ করা। অর্থাৎ যেসব বিপদ-আপদ এসে উপস্থিত হয়, সেগুলোকে আল্লাহর বিধান বলে মেনে নেয়া এবং এর বিনিময়ে আল্লাহর তরফ থেকে প্রতিদান প্রাপ্তির আশা রাখা। [ইবনে কাসীর]।
‘সবর’-এর উপরোক্ত তিনটি শাখাই প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্যপালনীয় কর্তব্য। সাধারণ মানুষের ধারণা সাধারণতঃ তৃতীয় শাখাকেই সবর হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রথম দুটি শাখা এ ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, সে ব্যাপারে মোটেও লক্ষ্য করা হয় না। এমনকি এ দু’টি বিষয়ও যে ‘সবর’-এর অন্তর্ভুক্ত এ ধারণাও যেন অনেকের নেই। কুরআন হাদীসের পরিভাষায় ধৈর্যধারণকারী বা সাবের সে সমস্ত লোককেই বলা হয়, যারা উপরোক্ত তিন প্রকারেই সবর অবলম্বন করে।
** সালাত এবং ‘সবর’-এর মাধ্যমে যাবতীয় সংকটের প্রতিকার হওয়ার কারণ এই যে, এ দু'পস্থায়ই আল্লাহ্ তা'আলার প্রকৃত সান্নিধ্য লাভ হয়। আল্লাহ সবরকারীদের সাথে আছেন বাক্যের দ্বারা এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, সালাত আদায়কারী এবং সবরকারীগণের আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ হয়। মহান আল্লাহ আরশের উপর থেকেও তাঁর বান্দাদের সাথে থাকার অর্থ দুটি। প্রথম. সাধারন অর্থে সাথে থাকা। যা সমস্ত মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর তা হচ্ছে, সবাই মহান আল্লাহর জ্ঞানের ভিতরে থাকা। মহান আল্লাহর যত সৃষ্টি সবার যাবতীয় অবস্থা তাঁর গোচরিভূত।
তিনি ভাল করেই জানেন কে কোথায় কোন অবস্থায় কোন কাজে লিপ্ত। দ্বিতীয় প্রকার সাথে থাকা বিশেষ অর্থে। যা কেবলমাত্র তাঁর নেককার, সবরকারী, ইহসানকারী, মুত্তাকীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর সেটি হচ্ছে, সাহায্য-সহযোগিতা করা। মহান আল্লাহর পক্ষে কারও সাথে থাকার অর্থ কখনো এটা হতে পারে না যে, তিনি তার সাথে চলাফেরা করছেন বা কোন কিছুর ভিতরে প্রবেশ করে আছেন। অথবা তার সাথে লেগে আছেন। কারণ; মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপর রয়েছেন। তিনি স্রষ্টা হিসেবে সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
তাফসীরে জাকারিয়া
৬/২৪ বিপদে-মুসিবতে মুমিনদের করণীয়: ধৈর্যধারণ---- (আয়াত ১৫৫-১৫৭)

কোন বিপদে পতিত হওয়ার আগেই যদি সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে দেয়া হয়, তবে সে বিপদে ধৈর্যধারণ সহজতর হয়ে যায়। কেননা, হঠাৎ করে বিপদ এসে পড়লে পেরেশানী অনেক বেশী হয়। যেহেতু আল্লাহ্ তা'আলা সমগ্র উম্মতকে লক্ষ্য করেই পরীক্ষার কথা বলেছেন, সেহেতু সবার পক্ষেই অনুধাবন করা উচিত যে, এ দুনিয়া দুঃখ-কষ্ট সহ্য করারই স্থান। সুতরাং এখানে যেসব সম্ভাব্য বিপদ-আপদের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোকে অপ্রত্যাশিত কিছু মনে না করলেই ধৈর্যধারণ করা সহজ হতে পারে। পরীক্ষায় সমগ্র উম্মত সমষ্টিগতভাবে উত্তীর্ণ হলে পরে সমষ্টিগতভাবেই পুরস্কার দেয়া হবে; এছাড়াও সবর-এর পরীক্ষায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে যারা যতটুকু উত্তীর্ণ হবেন, তাদের ততটুকু বিশেষ মর্যাদাও প্রদান করা হবে।
মূলত: মানুষের ঈমান অনুসারেই আল্লাহ্ তা'আলা মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সবচেয়ে বেশী পরীক্ষা, বিপদাপদ-বালা মুসিবত নবীদেরকে প্রদান করেন। তারপর যারা তাদের পরের লোক, তারপর যারা এর পরের লোক, তারপর যারা এর পরের লোক।” [মুসনাদে আহমাদ: ৬/৩৬৯] অর্থাৎ প্রত্যেকের ঈমান অনুসারেই তাদের পরীক্ষা হয়ে থাকে। তবে পরীক্ষা যেন কেউ আল্লাহর কাছে কামনা না করে। বরং সর্বদা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা করাই মুমিনের কাজ।
তাফসীরে জাকারিয়া

Send a message to learn more

01/02/2026

পাঠ-০১০/৩০০
সূরা বাকারাঃ আয়াত ১৩৫-১৪৬
সারাংশঃ আদেশ ৩ টি (আ ১৬,১৭,১৮) এবং নিষেধ ০ (০) টি
আদেশ
১/১৬ আল্লাহর উপর ঈমান আনার সাথে সাথে পূর্ববর্তী নবীগণ ও তাদেঁর উপর অবতীর্ণ আসমানী কিতাবসমূহের উপরও ঈমান আনতে হবে (আয়াত ১৩৬)
২/১৭ আল্লাহর রঙে রঙ্গীণ হতে হবে (অর্থাৎ আল্লাহ যেভাবে চান সেভাবে জীবন-যাপন করতে হবে) (আয়াত ১৩৮)
৩/১৮ মুসলিম জাতিকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সাক্ষী হওয়ার মর্যাদা দিয়েছেন। (আয়াত ১৪৩)

আদেশঃ ১৬
আল্লাহর উপর ঈমান আনার সাথে সাথে পূর্ববর্তী নবীগণ ও তাদেঁর উপর অবতীর্ণ আসমানী কিতাবসমূহের উপরও ঈমান আনতে হবে (আয়াত ১৩৬)

তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহ্র প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে এবং যা ইবরাহীম, ইসমা’ঈল, ইসহাক, ইয়া’কুব ও তার বংশধরদের প্রতি(১) নাযিল হয়েছে, এবং যা মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীগণকে তাদের রব এর নিকট হতে দেয়া হয়েছে(২)। আমরা তাদের মধ্যে কোন তারতম্য করি না(৩)। আর আমরা তারই কাছে আত্মসমর্পণকারী।
অর্থাৎ, ঈমান হল এই যে, সমস্ত নবীগণ আল্লাহ কর্তৃক যা কিছু পেয়েছেন বা যা কিছু তাঁদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে, সে সবের উপর ঈমান আনা। কোন কিতাব ও রসূলকে অস্বীকার না করা। কোন এক কিতাব বা নবীকে মেনে নেওয়া এবং কোন নবীকে অস্বীকার করা হল নবীদের মধ্যে পার্থক্য সূচিত করা; যা ইসলামে বৈধ নয়। অবশ্য আমল এখন কেবল কুরআনের বিধান অনুযায়ী হবে। পূর্বের কিতাবে লিখিত কথা অনুযায়ী হবে না। কেননা, প্রথমতঃ তা (পূর্বের কিতাবগুলো) তার আসল অবস্থায় অবিকৃত নেই, দ্বিতীয়তঃ কুরআন সেগুলোকে রহিত করে দিয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান

আদেশ ১৭:
আল্লাহর রঙে রঙ্গীণ হতে হবে (অর্থাৎ আল্লাহ যেভাবে চান সেভাবে জীবন-যাপন করতে হবে) (আয়াত ১৩৮)

আল্লাহর রং এ রঞ্জিত হও(১)। আর রং এর দিক দিয়ে আল্লাহর চেয়ে কে বেশী সুন্দর? আর আমরা তারই ইবাদতকারী।
আল্লাহর রং বলতে অধিকাংশ মুফাসসিরীনের নিকট উদ্দেশ্য হলোঃ আল্লাহর দ্বীন বা ইসলাম। সারমর্ম হলো- যা কিছু বর্ণিত হলো, তা হলো আল্লাহর দ্বীন, তার নবী ইবরাহীমের মিল্লাত, এটা হলো সর্বোত্তম রং। আয়াতটির দুটি অনুবাদ হতে পারে। (এক) আমরা আল্লাহর রং ধারণ করেছি। (দুই) আল্লাহর রং ধারণ কর। নাসারাদের দ্বীনের আত্মপ্রকাশের পূর্বে ইয়াহুদীদের মধ্যে একটি বিশেষ রীতির প্রচলন ছিল। কেউ তাদের দ্বীন গ্রহণ করলে তাকে গোসল করানো হত। আর তাদের ওখানে গোসলের অর্থ ছিল, তার সমস্ত গোনাহ যেন ধুয়ে গেল এবং তার জীবন যেন রং ধারণ করল। পরবর্তীকালে নাসারাদের মধ্যেও এ রীতির প্রচলন হয়। তাদের ওখানে এর পরিভাষিক নাম হচ্ছে ‘ইসতিবাগ’ বা রঙ্গিন করা (ব্যাপ্টিজম)। তাদের দ্বীনে যারা প্রবেশ করে কেবল তাদেরকেই ব্যাপ্টাইজড করা হয় না, বরং নাসারা শিশুদেরকেও ব্যাপ্টাইজড করা হয়। এ ব্যাপারেই বলা হচ্ছে যে, এ লোকাচারমূলক রঞ্জিত হবার যৌক্তিকতা কোথায়? বরং আল্লাহর রঙে রঞ্জিত হও। যা কোন পানির দ্বারা হওয়া যায় না। বরং তার বন্দেগীর পথ অবলম্বন করে এ রঙে রঞ্জিত হওয়া যায়।
তাফসীরে জাকারিয়া
আদেশঃ ১৮
মুসলিম জাতিকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সাক্ষী হওয়ার মর্যাদা দিয়েছেন। (আয়াত ১৪৩)

আর এভাবে আমরা তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতিতে পরিণত করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির উপর স্বাক্ষী হও* এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হতে পারেন।** আর আপনি এ যাবত যে কিবলা অনুসরণ করছিলেন সেটাকে আমরা এ উদ্দেশ্যে কেবলায় পরিণত করেছিলাম যাতে প্রকাশ করে দিতে পারি কে রাসূলের অনুসরণ করে এবং কে পিছনে ফিরে যায়? আল্লাহ্ যাদেরকে হিদায়াত করেছেন তারা ছাড়া অন্যদের উপর এটা নিশ্চিত কঠিন। আল্লাহ এরূপ নন যে, তোমাদের ঈমানকে ব্যর্থ করে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল, পরম দয়ালু।
* এ আয়াত থেকে কয়েকটি বিষয় জানা গেল, ১. মুসলিম সম্প্রদায়কে ভারসাম্যপূর্ণ তথা ন্যায়ানুগ করা হয়েছে যাতে তারা সাক্ষাদানের যোগ্য হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি আদেল বা ন্যায়ানুগ নয়, সে সাক্ষ্যদানেরও যোগ্য নয়। আদেলের অর্থ সাধারণতঃ নির্ভরযোগ্য করা হয়। ২. ইজমা শরীআতের দলীল। ইমাম কুরতুবী বলেনঃ ইজমা (মুসলিম আলেমদের ঐক্যমত) যে শরীআতের একটি দলীল, আলোচ্য আয়াতটি তার প্রমাণ। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা এ সম্প্রদায়কে সাক্ষ্যদাতা সাব্যস্ত করে অপরাপর সম্প্রদায়ের বিপক্ষে তাদের বক্তব্যকে দলীল করে দিয়েছেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, এ সম্প্রদায়ের ইজমা বা ঐকমত্যও একটি দলীল এবং তা পালন করা ওয়াজিব।
** এ উম্মাত হাশরের ময়দানে একটি স্বাতন্ত্র্য লাভ করবে। সকল নবীর উম্মতরা তাদের হিদায়াত ও প্রচারকার্য অস্বীকার করে বলতে থাকবে, দুনিয়াতে আমাদের কাছে কোন আসমানী গ্রন্থ পৌছেনি এবং কোন নবীও আমাদের হেদায়াত করেননি। তখন মুসলিম সম্প্রদায় নবীগণের পক্ষে সাক্ষ্যদাতা হিসেবে উপস্থিত হবে এবং সাক্ষ্য দেবে যে, নবীগণ সর্বযুগেই আল্লাহর পক্ষ থেকে আনীত হিদায়াত তাদের কাছে পৌছে দিয়েছেন। একাধিক হাদীসে সংক্ষেপে ও সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা নূহ আলাইহিস সালাম-কে ডেকে বলবেন, হে নূহ আপনি কি আমার বাণী লোকদের কাছে পৌছিয়েছেন? তিনি বলবেন, হ্যাঁ।
তখন তার উম্মতকে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, তোমাদের কাছে কি তিনি কিছু পৌছিয়েছেন? তারা বলবে, আমাদের কাছে কোন সাবধানকারী আসেনি। তখন আল্লাহ বলবেনঃ হে নূহ আপনার পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে? তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ ও তার উম্মত। তখন তারা সাক্ষ্য দেবে যে, নূহ আলাইহিস সালাম আল্লাহর বাণী লোকদের কাছে পৌছিয়েছেন। আর রাসূল তখন তোমাদের সত্যতার উপর সাক্ষ্য দেবেন। এটাই হলো আল্লাহর বাণীঃ “এভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতিতে পরিণত করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির উপর স্বাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হতে পারেন।” [বুখারীঃ ৪৪৮৭]
তাফসীরে জাকারিয়া

Send a message to learn more

01/02/2026

পাঠ-০০৯/৩০০
সূরা বাকারাঃ আয়াত ১২০-১৩৪
সারাংশঃ আদেশ ২ (আদেশ ১৪,১৫) টি এবং নিষেধ ১ (নি ১৩) টি
আদেশ
সেই (শেষ বিচারের) দিনকে ভয় করতে হবে যেদিন কেউ কারো কাজে আসবে না। (আয়াত ১২৩)
কাবা ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্যে পবিত্র রাখা আবশ্যক। (ইব্রাহিম ও ইসমাঈল আ. এর প্রতি নির্দেশ) আয়াত ১২৫
নিষেধ
ইহুদী-নাসারাদের খুশী করার চেষ্টা করা যাবে না এবং তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করা যাবে না (আয়াত ১২০)
আদেশঃ ১৪
সেই (শেষ বিচারের) দিনকে ভয় করতে হবে যেদিন কেউ কারো কাজে আসবে না। (আয়াত ১২৩)
তোমরা সেই দিনকে ভয় কর, যেদিন কেউ কারো উপকারে আসবে না, কারো নিকট হতে কোন ক্ষতিপূরণ গৃহীত হবে না, কোন সুপারিশ কারো পক্ষে লাভজনক হবে না এবং তারা কোন সাহায্যও পাবে না। (আয়াত ১২৩)

আদেশ ১৫:
কাবা ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্যে পবিত্র রাখা আবশ্যক। (ইব্রাহিম ও ইসমাঈল আ. এর প্রতি নির্দেশ) আয়াত ১২৫

আর স্মরণ করুন, যখন আমরা কাবাঘরকে মানবজাতির মিলনকেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল করেছিলাম এবং বলেছিলাম, তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ করো। আর ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ দিয়েছিলাম তাওয়াফকারী, ই’তিকাফকারী, রুকু’ ও সিজদাকারীদের জন্য আমার ঘরকে পবিত্র রাখতে।(৬)

এখানে কা'বাগৃহকে পাক-সাফ করার নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে। বাহ্যিক অপবিত্রতা ও আবর্জনা এবং আত্মিক অপবিত্রতা উভয়টিই এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন কুফর, শির্ক, দুশ্চরিত্রতা, হিংসা, লালসা, কুপ্রবৃত্তি, অহংকার, রিয়া, নাম-যশ ইত্যাদির কলুষ থেকেও কা'বা গৃহকে পবিত্র রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর ঘরের আসল পবিত্রতা হচ্ছে এই যে, সেখানে আল্লাহ ছাড়া আর কারো নাম উচ্চারিত হবে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর ঘরে বসে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে মালিক, প্রভু, মা’বুদ, অভাব পূরণকারী ও ফরিয়াদ শ্রবণকারী হিসেবে ডাকে, সে আসলে তাকে নাপাক ও অপবিত্র করে দিয়েছে। এ নির্দেশে بيتي শব্দ দ্বারা ইংগিত করা হয়েছে যে, এ আদেশ যে কোন মসজিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ, সব মসজিদই আল্লাহর ঘর। কুরআনে বলা হয়েছে, (فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَن تُرْفَعَ) উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে এক ব্যক্তিকে উচ্চঃস্বরে কথা বলতে শুনে বললেন, তুমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছ, জান না? অর্থাৎ মসজিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত, এতে উচ্চঃস্বরে কথা বলা উচিত নয়।
মোটকথা, আলোচ্য আয়াতে কা'বা গৃহকে যেমন যাবতীয় বাহ্যিক ও আত্মিক অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রাখতে বলা হয়েছে, তেমনি অন্যান্য মসজিদকেও পাক-পবিত্র রাখতে হবে ৷ দেহ ও পোষাক-পরিচ্ছদকে যাবতীয় অপবিত্রতা ও দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু থেকে পাক-সাফ করে এবং অন্তরকে কুফর, শির্ক, দুশ্চরিত্রতা, অহংকার, হিংসা, লোভ-লালসা ইত্যাদি থেকে পবিত্র করে মসজিদে প্রবেশ করা কর্তব্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়াজ, রসুন ইত্যাদি দুৰ্গন্ধযুক্ত বস্তু খেয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে বারণ করেছেন। [মাআরিফুল কুরআন]
তাফসীরে জাকারিয়া

নিষেধঃ ০১৩
ইহুদী-নাসারাদের খুশী করার চেষ্টা করা যাবে না এবং তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করা যাবে না (আয়াত ১২০)
ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা তোমার প্রতি কখনও সন্তুষ্ট হবে না; যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর।[1] বল, ‘আল্লাহর পথ-নির্দেশ (ইসলাম)ই হল প্রকৃত পথ-নির্দেশ (সুপথ)।’ [2] তোমার নিকট আগত জ্ঞানপ্রাপ্তির পর তুমি যদি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহর বিপক্ষে তোমার কোন অভিভাবক থাকবে না এবং সাহায্যকারীও থাকবে না। [3]
[1] অর্থাৎ, ইয়াহুদী অথবা খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ না কর।
[2] যা বর্তমানে 'ইসলাম' আকারে বিদ্যমান এবং যার প্রতি নবী করীম (সাঃ) দাওয়াত দিয়েছেন। বিকৃত ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান ধর্ম নয়।
[3] এখানে ধমকি দেওয়া হচ্ছে যে, যদি জ্ঞান আসার পরেও তুমি ঐ শ্রেণীর ভ্রষ্ট লোকদেরকে কেবল সন্তুষ্ট করার জন্য তাদের আনুগত্য কর, তাহলে তোমার কোন সাহায্যকারী থাকবে না। এখানে আসলে উম্মতে মুহাম্মাদীকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে যে, বিদআতী ও ভ্রষ্ট লোকদের সন্তুষ্টি লাভের জন্য তারা যেন এমন কাজ না করে এবং কোন দ্বীনী ব্যাপারে তোষামোদ ও তার অযথা অপব্যাখ্যা না করে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান

Send a message to learn more

01/02/2026

পাঠ-০০৮/৩০০
সূরা বাকারাঃ আয়াত ১০৬-১১৯
সারাংশঃ আদেশ ২ (আ-১২,১৩) টি এবং নিষেধ ১ (নি- ১২) টি
আদেশ
নামায কায়েম করতে হবে, যাকাত প্রদান করতে হবে। (আয়াত ১১০)
নিজেকে আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণরুপে সমর্পণ করতে হবে ও সৎকর্মপরায়ণ হতে হবে। তাহলে আল্লাহর কাছে পুরস্কার পাবে---- (আয়াত ১১২)

নিষেধ
মসজিদে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয়া যাবে না (আয়াত ১১৪)

আদেশঃ ০১১
নামায কায়েম করতে হবে, যাকাত প্রদান করতে হবে। (আয়াত ১১০)

আর তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা কর ও যাকাত দাও এবং তোমরা উত্তম কাজের যা কিছু নিজেদের জন্য পেশ করবে আল্লাহর কাছে তা পাবে। নিশ্চয় তোমরা যা করছ আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।(আয়াত ১১০)
ইয়াহুদীদের যেহেতু ইসলাম ও নবী করীম (সাঃ)-এর প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ ছিল, তাই তারা মুসলিমদেরকে ইসলাম থেকে দূরে রাখার জঘন্য প্রচেষ্টা চালাতো। সুতরাং এখানে মুসলিমদেরকে বলা হচ্ছে যে, তোমরা ধৈর্য ও উপেক্ষার পথ অবলম্বন কর এবং ইসলামের বিধি-বিধান ও ফরয কাজগুলো পালন কর, যার নির্দেশ তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
আদেশঃ ০১২
নিজেকে আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণরুপে সমর্পণ করতে হবে ও সৎকর্মপরায়ণ হতে হবে। তাহলে আল্লাহর কাছে পুরস্কার পাবে---- (আয়াত ১১২)

হ্যাঁ, যে কেউ আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে এবং সৎকর্মশীল হয় * তার প্রতিদান তার রব-এর কাছে রয়েছে। আর তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। (আয়াত ১১২)
আল্লাহর কাছে কোন বান্দার আমল গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে দু'টি বিষয়ঃ এক, ইখলাস তথা বান্দা মনে-প্রাণে নিজেকে আল্লাহর কাছে সমৰ্পন করবে। দুই রাসূলের পরিপূর্ণ অনুসরণ। অর্থাৎ যদি কেউ মনে-প্রাণে আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্যের সংকল্প গ্রহণ করে কিন্তু আনুগত্য ও ইবাদাত নিজের খেয়াল-খুশীমত মনগড়া পন্থায় সম্পাদন করে, তবে তাও জান্নাতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, বরং এ ক্ষেত্রেও আনুগত্য ও ইবাদাতের সে পন্থাই অবলম্বন করতে হবে, যা আল্লাহ্ তাআলা রাসূলের মাধ্যমে বর্ণনা ও নির্ধারণ করেছেন। প্রথম বিষয়টি (بَلَىٰ مَنْ أَسْلَمَ) বাক্যাংশের মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় বিষয়টি (وَهُوَ مُحْسِنٌ) বাক্যাংশের মাধ্যমে ব্যক্ত হয়েছে। এতে জানা গেল যে, আখেরাতের মুক্তি ও জান্নাতে প্রবেশের জন্য শুধু ইখলাসই যথেষ্ট নয়, বরং সৎকর্মও প্রয়োজন। বস্তুতঃ কুরআন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যশীল শিক্ষা ও পন্থাই সৎকর্ম।
তাফসীরে জাকারিয়া

নিষেধঃ ০১২
মসজিদে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয়া যাবে না (আয়াত ১১৪)


আর তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদগুলোতে তার নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং এগুলো বিরাণ করার চেষ্টা করে? অথচ ভীত-সন্ত্রস্ত না হয়ে তাদের জন্য সেগুলোতে প্রবেশ করা সঙ্গত ছিল না। দুনিয়াতে তাদের জন্য লাঞ্ছনা ও আখেরাতে রয়েছে মহাশাস্তি। (আয়াত ১১৪)
যারা মসজিদে আল্লাহর যিকর করতে বাধা দান করেছিল, তারা কারা? তাদের ব্যাপারে মুফাসসিরদের দু'টি মত রয়েছে। একটি মত হল, এ থেকে খ্রিষ্টানদেরকে বুঝানো হয়েছে। যারা রোমসম্রাটের সাথে সাহায্য নিয়ে ইয়াহুদীদেরকে বায়তুল মুক্বাদ্দাসে নামায পড়তে বাধা দিয়েছিল এবং তার বিনাশ সাধনে অংশ নিয়েছিল। ইবনে জারীর ত্বাবারী এই মতকেই পছন্দ করেছেন। কিন্তু হাফেয ইবনে কাসীর এই মতের বিরোধিতা করে বলেন, এ থেকে মক্কার মুশরিকদের বুঝানো হয়েছে। তারা নবী করীম (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাদেরকে মক্কা থেকে বের হতে বাধ্য করেছিল এবং কাবা শরীফে মুসলিমদেরকে ইবাদত করতে বাধা দিয়েছিল। আবার হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় একই আচরণের পুনরাবৃত্তি করে বলেছিল যে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের হত্যাকারীদেরকে মক্কায় প্রবেশ করতে দেবো না, অথচ কাবা শরীফে ইবাদত করতে বাধা দেওয়ার অনুমতি ও তার প্রচলন ছিল না। (তাফসীরে আহসানুল বায়ান)
এ আয়াত থেকে মসজিদ সংক্রান্ত কতিপয় প্রয়োজনীয় মাসআলা ও বিধানও প্রমাণিত হয়।

প্রথমতঃ শিষ্টতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিশ্বের সকল মসজিদ একই পর্যায়ভুক্ত। বায়তুল-মুকাদ্দাস, মসজিদে হারাম ও মসজিদে-নববীর অবমাননা, যেমনি বড় যুলুম, তেমনি অন্যান্য মসজিদের বেলায়ও তা সমভাবে প্রযোজ্য।
দ্বিতীয়তঃ মসজিদে যিকর ও সালাতে বাধা দেয়ার যত পন্থা হতে পারে সে সবগুলোই হারাম। তন্মধ্যে একটি প্রকাশ্য পন্থা এই যে, মসজিদে গমন করতে অথবা সেখানে সালাত আদায় ও তিলাওয়াত করতে পরিস্কার ভাষায় নিষেধাজ্ঞা প্রদান। দ্বিতীয় পন্থা এই যে, মসজিদে হট্টগোল করে অথবা আশে-পাশে গানবাজনা করে মুসল্লীদের সালাত আদায় ও যিকরে বিঘ্ন সৃষ্টি করা।

তৃতীয়তঃ মসজিদ জনশূন্য করার জন্য সম্ভবপর যত পন্থা হতে পারে সবই হারাম। খোলাখুলিভাবে মসজিদকে বিধ্বস্ত করা ও জনশূন্য করা যেমনি এর অন্তর্ভুক্ত তেমনিভাবে এমন কারণ সৃষ্টি করাও এর অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে মসজিদ জনশূন্য হয়ে পড়ে। মসজিদ জনশূন্য হওয়ার অর্থ এই যে, সেখানে সালাত আদায় করার জন্য কেউ আসে না কিংবা সালাত আদায়কারীর সংখ্যা হ্রাস পায়।
তাফসীরে জাকারিয়া

Send a message to learn more

01/02/2026

পাঠ-০০৭/৩০০
সূরা বাকারাঃ আয়াত ৯৪-১০৫
সারাংশঃ আদেশ ০ টি এবং নিষেধ ১ (নি ১১) টি
নিষেধ
যাদু-টোনা শয়তানের কাজ। ( এ কাজ করা যাবে না) (আয়াত ১০২)

নিষেধঃ ০১১
যাদু-টোনা শয়তানের কাজ। (এ কাজ করা যাবে না) (আয়াত ৮৫)

আর সুলাইমানের রাজত্বে শয়তানরা যা আবৃত্তি করত তারা তা অনুসরণ করেছে। আর সুলাইমান কুফরী করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত জাদু ও (সে বিষয় শিক্ষা দিত) যা বাবিল শহরে হারূত ও মারূত ফিরিশতাদ্বয়ের উপর নাযিল হয়েছিল। তারা উভয়েই এই কথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, ‘আমরা নিছক একটি পরীক্ষা; কাজেই তুমি কুফরী করো না’।(১)। তা সত্বেও তারা ফিরিশতাদ্বয়ের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত যা দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতো(২)। অথচ তারা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তা দ্বারা কারো ক্ষতি করতে পারত না। আর তারা তা-ই শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং কোন উপকারে আসত না। আর তারা নিশ্চিত জানে যে, যে কেউ তা খরিদ করে, (অর্থাৎ জাদুর আশ্রয় নেয়) তার জন্য আখেরাতে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছে, তা খুবই মন্দ, যদি তারা জানত! (আয়াত ১০২)
জাদু এমন এক বিষয়কে বলা হয়, যার উপকরণ নিতান্ত গোপন ও সূক্ষ্ম হয়ে থাকে। জাদু এমন সব গোপনীয় কাজের মাধ্যমে অর্জিত হয়, যা দৃষ্টির অগোচরে থাকে। জাদুর মধ্যে মন্ত্রপাঠ, ঝাড়ফুঁক, বাণী উচ্চারণ, ঔষধপত্র ও ধুম্ৰজাল - এসব কিছুর সমাহার থাকে। জাদুর বাস্তবতা রয়েছে। ফলে মানুষ কখনো এর মাধ্যমে অসুস্থ হয়ে পড়ে, কখনো নিহতও হয় এবং এর দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাও সৃষ্টি করা যায়। তবে এর প্রতিক্রিয়া তাকদীরের নির্ধারিত হুকুম ও আল্লাহর অনুমতিক্রমেই হয়ে থাকে। এটা পুরোপুরি শয়তানী কাজ! এ প্রকার কাজ শির্কের অন্তর্ভুক্ত। দুটি কারণে জাদু শির্কের অন্তর্ভুক্ত।
(এক) এতে শয়তানদের ব্যবহার করা হয়। তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা হয় এবং তাদের পছন্দনীয় কাজের মাধ্যমে তাদের নৈকট্য অর্জন করা হয়। (দুই) এতে গায়েবী ইলম ও তাতে আল্লাহর সাথে শরীক হবার দাবী করা হয়। আবার কখনো কখনো জাদুকরকে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে বিশ্বাস করা হয়। এ সবগুলোই মূলতঃ ভ্রষ্টতা ও কুফরী। তাই কুরআনুল করীমে জাদুকে সরাসরি কুফরী-কর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

Send a message to learn more

01/02/2026

পাঠ-০০৬/৩০০
সূরা বাকারাঃ আয়াত ৮৪-৯৩
সারাংশঃ আদেশ ০ টি এবং নিষেধ ১ (নি ১০) টি
নিষেধ
আল্লাহর কিতাবের কিছু অংশ মানা আর কিছু অংশ না মানা, এরুপ করা যাবে না। (যারা এরুপ করে তাদের জন্য দুনিয়াতে অপমান ও আখিরাতে কঠিন শাস্তি রয়েছে) (আয়াত ৮৫)

নিষেধঃ ০১০
আল্লাহর কিতাবের কিছু অংশ মানা আর কিছু অংশ না মানা, এরুপ করা যাবে না। (যারা এরুপ করে তাদের জন্য দুনিয়াতে অপমান ও আখিরাতে কঠিন শাস্তি রয়েছে) (আয়াত ৮৫)

তারপর তোমরাই তারা, যারা নিজদেরকে হত্যা করছ এবং তোমাদের একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তোমরা একে অন্যের সহযোগিতা করছ তাদের উপর অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন দ্বারা। আর তারা যখন বন্দীরূপে তোমাদের কাছে উপস্থিত হয় তখন তোমরা মুক্তিপণ দাও; অথচ তাদেরকে বহিষ্কার করাই তোমাদের উপর হারাম ছিল। তবে কি তোমরা ধর্মগ্রন্থের কিছু অংশে বিশ্বাস আর কিছু অংশকে অবিশ্বাস কর? * তাহলে তোমাদের যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ও অপমান এবং কেয়ামতের দিন তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে কঠিনতম শাস্তির দিকে। আর তারা যা করে আল্লাহ সে সম্পর্কে অনবহিত নন। আয়াত ৮৫)
নবী করীম (সাঃ)-এর যুগে মদীনায় আনসার (যারা ইসলামের পূর্বে মুশরিক ছিল তাদের আউস ও খাযরাজ নামে দু'টি গোত্র ছিল। ওদের আপোসে সর্বদা যুদ্ধ লেগেই থাকত। মদীনাতে ইয়াহুদীদেরও বানু-ক্বায়নুক্বা, বানু-নাযীর এবং বানু-ক্বুরায়যা নামে তিনটি গোত্র ছিল। এরাও আপোসে সব সময় লড়ত। বানু-ক্বুরায়যা আউসের মিত্র ছিল এবং বানু-ক্বায়নুক্বা ও বানু-নাযীর খাযরাজের মিত্র ছিল। যুদ্ধে এরা আপন আপন মিত্রদের সাহায্য করত এবং নিজেদেরই জাতভাই ইয়াহুদীদেরকে হত্যা করত, তাদের ঘর-বাড়ী লুণ্ঠন করত এবং তাদেরকে সেখান থেকে বহিষ্কার করত। অথচ তাওরাত অনুযায়ী এ রকম করা তাদের জন্য হারাম ছিল। আবার ওই ইয়াহুদীরাই যখন পরাজিত হয়ে বন্দী হত, তখন তাদেরকে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত করত এবং বলত যে, তাওরাতে আমাদেরকে এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আয়াতগুলোতে ইয়াহুদীদের সেই আচরণের কথাই বর্ণনা করা হয়েছে। তারা তাদের শরীয়তের বিধানকে খেলার পুতুল বানিয়ে নিয়েছিল। কোন কোন জিনিসের উপর ঈমান আনত এবং কোন কোন জিনিসকে উপেক্ষা করত। কোন নির্দেশকে পালন করত, আবার কোন সময় শরীয়তের কোন গুরুত্বই দিত না। হত্যা, বহিষ্কার এবং একে অপরের বিরুদ্ধে সাহায্য করা তাদের শরীয়তেও হারাম ছিল। তা সত্ত্বেও এ কাজগুলো নির্দ্বিধায় তারা করত এবং মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি করার যে বিধান ছিল, তার উপরে আমল করত। অথচ প্রথমের তিনটি নির্দেশ (হত্যা, বহিষ্কার এবং একে অপরের বিরুদ্ধে সাহায্য না করা) যদি তারা পালন করত, তাহলে মুক্তিপণ নিয়ে মুক্ত করার প্রয়োজনই হত না।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান

Send a message to learn more

01/02/2026

পাঠ-০০৫/৩০০
সূরা বাকারাঃ আয়াত ৭০-৮৩
সারাংশঃ আদেশ ২ টি (আ ১০ ও আ ১১) এবং নিষেধ ১ (নি ৯) টি
আদেশঃ
ক. ভালো ব্যবহার (আচরণ) করতে হবে মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম ও মিসকিনদের সাথে এবং মানুষকে সুন্দর কথা বলতে হবে (বনী ইসরাইল থেকে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি গ্রহণ প্রসঙ্গে)।(আয়াত ৮৩)
খ. নামায কায়েম করতে হবে, যাকাত প্রদান করতে হবে। (আয়াত ৮৩)
নিষেধ
ক. নিজেদের কথা আল্লাহর কিতাব বলে চালিয়ে দেয়া যাবে না (এটা ইহুদীদের অভ্যাস) (আয়াত ৭৯)

আদেশঃ ০১০
ভালো ব্যবহার (আচরণ) করতে হবে মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম ও মিসকিনদের সাথে এবং মানুষকে সুন্দর কথা বলতে হবে (বনী ইসরাইল থেকে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি গ্রহণ প্রসঙ্গে)।(আয়াত ৮৩)

আর স্মরণ কর, যখন আমরা ইসরাঈল-সন্তানদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড় আর কারো ইবাদত করবে না, মাতা-পিতা *, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম ও দরিদ্রের** সাথে সদয় ব্যবহার করবে এবং মানুষের সাথে সদালাপ করবে***।
আর সালাত প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দিবে, তারপর তোমাদের মধ্য হতে কিছুসংখ্যক লোক ছাড়া তোমরা সকলেই অবজ্ঞা করে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে।

*আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে কোন আমল সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, “সময়মত সালাত আদায় করা”। বললেন, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, “পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার" বললেন, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা”। [বুখারী ৫২৭, মুসলিম: ৮৫]
**রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মিসকীন সে নয়, যে এক খাবার বা দুই খাবারের জন্য ঘুরে বেড়ায় বরং মিসকীন হচ্ছে, যার সামর্থ নেই অথচ সে লজ্জায় কারও কাছে চায় না। অথবা মানুষকে আগলে ধরে কোন কিছু চায় না।” [বুখারী: ১৪৭৬, মুসলিম: ১০৩৯]
***আয়াতে এমন কথাকে বুঝানো হয়েছে, যা সৌন্দর্যমণ্ডিত। এর অর্থ এই যে, যখন মানুষের সাথে কথা বলবে, নম্রভাবে হাসিমুখে ও খোলামনে বলবে। তবে দ্বীনের ব্যাপারে শৈথিল্য অথবা কারো মনোরঞ্জনের জন্য সত্য গোপন করবে না। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা যখন মূসা ও হারূন আলাইহিমাস সালাম-কে নবুয়ত দান করে ফিরআউনের প্রতি পাঠিয়েছিলেন, তখন এ নির্দেশ দিয়েছিলেন, “তোমরা উভয়েই ফিরআউনকে নরম কথা বলবে।" [সূরা ত্বা-হাঃ ৪৪] আজ যারা অন্যের সাথে কথা বলে, তারা মূসা আলাইহিস সালাম-এর চাইতে উত্তম নয় এবং যার সাথে কথা বলে, সেও ফিরআউন অপেক্ষা বেশী মন্দ বা পাপিষ্ঠ নয়। সুতরাং সবার সাথে সুন্দরভাবে কথা বলা উচিত। হাদীসে এসেছে, “তোমরা সৎকাজের সামান্যতম কিছুকে খাটো করে দেখ না। যদিও তা হয় তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করা।” [মুসলিম: ২৬২৬] তাছাড়া মানুষের সাথে সদালাপের অর্থ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে এক বর্ণনায় এসেছে যে, তা হচ্ছে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ। [আত-তাফসীরুস সহীহ]

তাফসীরে যাকারিয়া
আদেশঃ ০১১
নামায কায়েম করতে হবে, যাকাত প্রদান করতে হবে। (আয়াত ৮৩)


আর স্মরণ কর, যখন আমরা ইসরাঈল-সন্তানদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড় আর কারো ইবাদত করবে না, মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম ও দরিদ্রের(২) সাথে সদয় ব্যবহার করবে এবং মানুষের সাথে সদালাপ করবে(৩)।
আর সালাত প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দিবে, তারপর তোমাদের মধ্য হতে কিছুসংখ্যক লোক ছাড়া(৪) তোমরা সকলেই অবজ্ঞা করে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে।
অল্প কয়েকজন অর্থ, তারাই যারা তাওরাতের পুরোপুরি অনুসরণ করত, তাওরাত রহিত হওয়ার পূর্বে তারা মূসা আলাইহিস সালাম প্রবর্তিত শরীআতের অনুসারী ছিল এবং তাওরাত রহিত হওয়ার পর ইসলামী শরীআতের অনুসারী হয়ে যায়। আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, একত্ববাদে ঈমান, এবং পিতা-মাতা, আত্মীয় স্বজন, ইয়াতীম বালক-বালিকা ও দীন-দরিদ্রের সেবাযত্ন করা, মানুষের সাথে নম্রভাবে কথাবার্তা বলা, সালাত আদায় করা ও যাকাত দেয়া ইসলামী শরীআতসহ পূর্ববর্তী শরীআতসমূহেও ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মানুষ সেগুলো ত্যাগ করে।
তাফসীরে যাকারিয়া

নিষেধঃ ০০৯
ক. নিজেদের কথা আল্লাহর কিতাব বলে চালিয়ে দেয়া যাবে না (এটা ইহুদীদের অভ্যাস) (আয়াত ৭৯)

কাজেই দুর্ভোগ(১) তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে অতঃপর সামান্য মূল্য পাওয়ার জন্য বলে, “এটা আল্লাহর কাছ থেকে। অতএব, তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্য তাদের ধ্বংস এবং যা তারা উপার্জন করেছে তার জন্য তাদের ধ্বংস।(২)(আয়াত ৭৯)
এখানে ইয়াহুদীদের আলেমদের দুঃসাহসিকতা এবং তাদের অন্তর থেকে আল্লাহর ভয় বিলুপ্ত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তারা নিজেরাই মনগড়া বিধান তৈরী করে বড় ধৃষ্টতার সাথে বুঝাতো যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে। হাদীস অনুযায়ী 'ওয়াইল' জাহান্নামের এক উপত্যকা যার গভীরতা এত বেশী যে, একজন কাফেরকে তার তলদেশে পড়তে চল্লিশ বছর সময় লাগবে! (আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে হিববান, হাকেম, ফাতহুল ক্বাদীর) কোন কোন আলেমগণ এই আয়াতের ভিত্তিতে ক্বুরআন বিক্রি করা নাজায়েয বলেছেন। কিন্তু এই আয়াত থেকে এ রকম দলীল গ্রহণ করা সঠিক নয়। এই আয়াতের লক্ষ্য কেবল তারা, যারা দুনিয়া অর্জনের জন্য আল্লাহর কালামের মধ্যে হেরফের করে এবং ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান

Send a message to learn more

Address

Flat 4-B, House 1/A, Road 02, Sector 3, Uttara
Dhaka
1230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when SCI-Salat Curriculum for Implementation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category