24/05/2026
#সংবাদ #গাইবান্ধা
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট গাইবান্ধা সরকারি কলেজে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬% বরাদ্দের দাবিতে অধ্যক্ষের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ।
আজ ২৪ মে ২০২৬ বেলা ১১ টায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার উদ্যোগে শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ বরাদ্দের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে কলি রানীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক জয়নুল ইসলাম জয়, অর্জুন কুমার বর্মন, জয়ন্ত কুমার, ত্রিভুন, বিপ্লব কুমার প্রমুখ
বক্তাগণ বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ ও ছাত্রসমাজের দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে। আর সেই রাষ্ট্র নির্মাণের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, একটি সর্বজনীন, গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলাদেশে শিক্ষা খাত বরাবরই রাষ্ট্রীয় অবহেলার শিকার। ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী, একটি দেশের মোট জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা প্রয়োজন।
বক্তাগণ আরো বলেন, বাংলাদেশে গত এক দশকে শিক্ষা বাজেট জিডিপির ২ শতাংশের ঘর অতিক্রম করতে পারেনি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের মাত্র ১১.৮৮% এবং জিডিপির মাত্র ১.৬৯%। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের মাত্র ১২.১০ % এবং জিডিপির মাত্র ১.৫৩ %। যা শুধু বিশ্বে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায়ও অত্যন্ত কম। মুক্তিযু্দ্ধ পরবর্তী সব সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিকীকরণ ও সংকোচনের পথে ঠেলে দিয়েছে। মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং লুটপাট হলেও শিক্ষা খাতকে ধারাবাহিকভাবে অবহেলা করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, গরিব ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ক্রমেই দুরূহ হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার প্রতিটি স্তরে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে।
বক্তাগণ আরো বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে বড় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও এটি নানা সংকটে জর্জরিত। নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক লাইব্রেরি, গবেষণাগার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত আবাসন, পরিবহন, নিরাপদ পরিবেশ ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা নেই। আমরা মনে করি, শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ কোনো দয়া বা অনুদান নয়; এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। বর্তমান সরকার অভ্যুত্থান পরবর্তী একটি বিশেষ রাজনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনে সরকার প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবেন–এটি ছাত্র সমাজ প্রত্যাশা করে। এছাড়া শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। ছাত্রসমাজের চাওয়া, অতীতের গণবিরোধী ধারার পুনরাবৃত্তি না করে শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিবেন।
সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল অধ্যক্ষের সাথে দেখা করে স্মারকলিপি প্রদান করেন।