31/03/2026
দুআ করার কিছু আদব বা শিষ্টাচার রয়েছে, যা মেনে দুআ করলে দুআ কবুল হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়—
১. দুআ করার সময় মনকে সম্পূর্ণ আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ রাখা। অবহেলা বা উদাসীন মনে দুআ করা উচিত নয়। মনে দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ অবশ্যই আমার দুআ কবুল করবেন।
২. আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসা দিয়ে দুআ শুরু করা।
৩. সম্ভব হলে কিবলামুখী হয়ে বসা এবং বিনয়ের সাথে দুই হাত তুলে দুআ করা।
৪. হারাম খাবার, পানীয় ও পোশাক দুআ কবুলের পথে বড় অন্তরায়। তাই হালাল উপার্জন নিশ্চিত করা এবং কৃত গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে তাওবা করা জরুরি।
৫. চিৎকার করে দুআ না করে অনুনয়-বিনয় সহকারে নিচু স্বরে দুআ করা উত্তম। এটি আল্লাহর প্রতি বিনয় প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম।
৬. একই দুআ বারবার করা অর্থাৎ তাড়াহুড়ো না করা।
৭. আসমাউল হুসনা বা আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম ধরে দুআ করা। যেমন : ক্ষমা চাইলে 'ইয়া গাফফার', রিজিক চাইলে 'ইয়া রাজ্জাক' বলে সম্বোধন করা।
একটি বিশেষ টিপস : দুআর বাক্যগুলো তিনবার করে বলা আর দুআর শুরুতে নিজের কোনো নেক আমলের অসিলা দেওয়া বা অন্য কোনো মুমিনের জন্য দুআ করা দুআ কবুলের পথ প্রশস্ত করে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—
অনেকেই এভাবে দুআ করেন—‘হে আল্লাহ, আপনি আমাদের বাবাদের ক্ষমা করে দিন, মায়েদের ক্ষমা করে দিন, দাদাদের ক্ষমা করে দিন, দাদিদের ক্ষমা করে দেন, মামাদের ক্ষমা করে দিন, খালাদের ক্ষমা করে দিন, চাচাদের ক্ষমা করে দেন, ফুফাদের ক্ষমা করে দিন...’ এভাবে এক এক করে আত্মীয়দের (নাম ধরে ধরে সবার) জন্য দুআ করা হয়। এরপর আসে (একে একে) প্রতিবেশীদের কথা, অতঃপর সহপাঠী ও অন্যান্যদের পালা। এভাবে বিস্তারিত দুআ করতে গিয়ে অনেক সময় লেগে যায়। অথচ এমনটা বলাই যথেষ্ট ছিল—‘হে আল্লাহ, আপনি আমাদের ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের ক্ষমা করে দিন।’ এভাবে সংক্ষেপে দুআ করা যায়। আর আল্লাহ তাআলার রহমত নিঃসন্দেহে বিস্তৃত। ©
আরাফাহ হজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ,
হজ ও উমরাহ সার্ভিসেস।