29/04/2014
ডিএমপি’র ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, নির্যাতিতের আশার আলো
আমাদের সমাজে যারা ভিকটিম, তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর জন্য কিছু মহানুভব ব্যক্তি থাকলেও তাদেরকে আশ্রয় দেয়ার লোক বিরল। আর ভিকটিম যদি নারী হয় তাহলে তো কথাই নেই, আশ্রয় দেয়া তো দূরের কথা, নানা অপবাদ দিতেও কার্পণ্য করেননা অনেকে। যৌতুকের দাবী, বহু বিবাহ, সংসার হতে বিতাড়ন নারীর প্রতি অত্যাচারের এ বহুমাত্রিক রুপ আধুনিক সমাজের ভৌতিক কোনো কাহিনী নয়। নারী ও শিশু গৃহকর্মীর প্রতি অমানবিক নির্যাতনও অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক সভ্য সমাজের উঁচু স্তরের কিছু মানুষের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়। নির্মম সত্য এই যে, অসহায় এই নির্যাতিতদের অনেকেই বিচার যে চাওয়া যায় তাও জানে না,জানলেও বিচার চাইতে পারেনা,চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে পেতে ব্যর্থ হয় ।
আধুনিক সভ্য সমাজের আরেক করুণ দৃশ্য হারিয়ে যাওয়া, ঠিকানাবিহীন অসহায় মানুষেরা। এদের দেখে আমাদের মানবিকতাবোধ জাগ্রত হলেও তাদের আশ্রয়ের স্থান নেই আমাদের সমাজে। এমনকি গল্প, সিনেমার কাহিনীর মত এতিমখানাতেও তাদের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা নেই ।
আমাদের সমাজের এমনই এক করুণ বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এই নির্যাতিত, অসহায় এবং ঠিকানাবিহীন মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। প্রতিষ্ঠিত করেছে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার অসহায় নারী ও শিশুদের সেবা দিয়ে তাদেরকে আলোর পথ দেখাচ্ছে। ভিকিটম সাপোর্ট সেন্টার কোন বিরতি ছাড়াই ২৪ ঘন্টা সেবা প্রদান করছে। গত পাঁচ বছরে শুধু রাজধানীতেই আড়াই হাজারের বেশি ভিকটিমকে সেবা দেয়া হয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার পিআরপি’র উদ্যোগে যাত্রা শুরু করেছে ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। প্রথম থেকেই ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সাথে এক এক করে এনজিও সংস্থা সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করে। এর ফলে ভিকটিমদের সেবা প্রদানের বিষয়টি দ্রুততার সাথে অগ্রসর হতে শুরু করে। এ সেন্টারে যারা সেবা প্রদানের সাথে সংশ্লিষ্ট তারা সবাই নারী। কাজেই ভিকটিমদের কখনোই বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হয় না।
ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার চালুর দুই বছরের মাথায় তদন্তকাজ শুরু করে ২০১১ সালে। তদন্তকারী কর্মকর্তা নারী এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট যারা রয়েছেন তারাও নারী। এ পর্যন্ত ৯২৩টি মামলার কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। ৮০১টি মামলার নিস্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা হচ্ছে ১২২টি। এরমধ্যে আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে ৪৭১টি। তাছাড়া ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে ৩৩০টি মামলার। অধিকাংশ মামলার ধরণ হচ্ছে ধর্ষণ, অপহরণ, শ্লীলতাহানি, পাচার, এসিড নিক্ষেপ ও যৌতুক।
গত পাঁচ বছরে ভিকটিমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫২৪ জন। এরমধ্যে এনজিও’র কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে এক হাজার ৭৪ জনকে। পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে ৯০০ জনকে। নিজ জিম্মায় চলে গেছে ১০৮ জন ভিকটিম। তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ৪৩৫ জনকে।
এ পর্যন্ত হারিয়ে যাওয়া এক হাজার ১৪৩ জন এখানে সেবা পেয়েছে। কোন না কোনভাবে এরা হারিয়ে গিয়েছিল। এদের মধ্যে মামলা সংশ্লিষ্ট হচ্ছে ৩৭৪ জন। তবে তারা কেউই আসামী নয়, ভিকটিম। প্রথমে সেন্টারে ভিকটিমকে গ্রহণ করা হয়। এরপর শুরু হয় কাজ। ভিকটিমের কথা শোনা, সমস্যা বের করা, ইমারজেন্সি মেডিকেল সাপোর্ট, অভিযোগ এন্ট্রি করা, খাদ্য বস্ত্র ও বাসস্থান, এফআইআর করতে সহযোগীতা, আইন সম্পর্কে জানানো, কাউন্সেলিং, আইন বিষয়ক সহায়তা, মানসিক সাপোর্ট, টেলিফোনর মাধ্যমে সহায়তা, নিজ পরিবারে ফেরত, পুনরায় ভিকটিমাইজড হওয়া থেকে রক্ষা এবং ডাটাবেজ সংরক্ষণ। এছাড়া তাত্ক্ষনিকভাবে সরাসরি টেলিফোনের মাধ্যমেও প্রাপ্ত খবরের মাধ্যমে নারী ও শিশুকে সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে।
ডিএমপির তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার ছাড়াও দেশে আরও সাতটি সেন্টার এ কাজ করেছ। এগুলো হচ্ছে খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী, রাঙ্গামাটি ও বরিশাল। তবে বরিশালের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার নির্মাণাধীন রয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানা-
ডিউটি অফিসার
ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার
তেজগাঁও, ডিএমপি, ঢাকা।( তেজগাঁও থানা সংলগ্ন)
মোবাইল নং- ০১৭৪৫-৭৭৪৪৮৭, ফোন ৯১১০৮৮৫ ,
ফ্যাক্স-৯১৩৭৮৩৮
ইমেইল[email protected]