29/08/2020
# বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হওয়ার পর পরই, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট -"স্বাধীন রাষ্ট্র-ব্যবস্থা" পূনর্গঠনের জন্য - "নিউক্লিয়াসসের প্রতিষ্ঠাতা এবং স্বাধীনতার রূপকার" সিরাজুল আলম খান "১৫ দফা" সুপারিশ-মালা প্রদান করেছিলেন।
# এই ১৫ দফা কর্মসূচি বাংলাদেশের সমাজ এবং রাষ্ট্র-ব্যবস্থায়, সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে, বঙ্গবন্ধুর "অমানবিক এবং নির্মম-হত্যাকান্ড" সম্ভব ছিল না। বাংলাদেশকেও আজ এই -"ঘুষ, দূর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের"- এই দুরাবস্থার মধ্যে থাকতে হতোনা।
# খান সাহেবের ১৫ দফা "রূপ-রেখাটি" নিন্মরূপ : -
১) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং পুনর্গঠনের একটা পর্যায় পর্যন্ত বাংলাদেশ - একটি "বিপ্লবী জাতীয় সরকার" দ্বারা পরিচালিত হবে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ- কারী, সকল দলের সমন্বয়ে গঠিত, এই সরকারের প্রধান থাকবেন বঙ্গবন্ধু।
২) কেন্দ্রীয় সরকার গঠিত হবে, মুক্তিযুদ্ধের পরীক্ষিত নেতৃত্ব দ্বারা - যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন।
৩) বঙ্গবন্ধুর মর্যাদার বিষয়ে, বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়ােজনবােধে তিনি রাজধানীর বাইরে অবস্থান করবেন। তাকে কেন্দ্র করে, বাঙালি জাতির "চেতনা বিকাশের ধারা" প্রবাহিত হবে।
৪) বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলােকে - কোনাে দেশের অনুকরণে নয়। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে, একটা "সংবিধান প্রণয়ন কমিটি" গঠন করা।
৫) চিরাচরিত প্রথার সেনাবাহিনী গঠন না করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে - জাতীয় পর্যায়ে "রেভলুশনারি গার্ড বাহিনী" গঠন করা হবে।
"এফএফ এবং বিএলএফ" সহ - সকল মুক্তি- যােদ্ধাদেরকে নিয়ে, এই বাহিনী তৈরি করা হবে এবং এর সমান্তরাল - অন্য কোনাে বাহিনী থাকবে না।
৬) রেভল্যুশনারি গার্ডের মধ্যে থাকবে : -
ক) বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ-প্রাপ্ত জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী - যা কিনা হবে "পিপলস আর্মি"।
খ) কৃষি কাজে সহায়তা দেওয়ার জন্য "রেভল্যুশনারি কৃষক ব্রিগেড"।
গ) শিল্প এলাকার জন্য রেভল্যুশনারি লেবার ব্রিগেড।
৭) নিবর্তন-মূলক পুলিশ বাহিনীর বদলে, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গঠন করা হবে। পুলিশ নামটি ব্যবহার করা হবে না।
৮) শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলাে আপাততঃ খােলা হবে না। মুক্তিযােদ্ধা শিক্ষক-ছাত্রদের নিয়ে, ছােট ছােট স্কোয়াড তৈরি করে, সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং এক বছরের মধ্যে ৬০ শতাংশ মানুষকে স্বাক্ষরতার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
৯) উচ্চ-শিক্ষার সুযােগ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রয়ােজনে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষা শেষ করে, কর্মক্ষেত্রে যােগ দিয়ে - ঋণ পরিশােধের সুযােগ দেওয়া হবে।
১০) ব্রিটিশ-পাকিস্তানি উপনিবেশিক আমলের ধারাবাহিকতায় - জেলা, মহকুমা এবং থানায়, কমপক্ষে দুই-তিন বছর "প্রশাসনের কোনাে ক্যাডার" বা গােষ্ঠীকে "জন-প্রশাসনের" দায়িত্বে রাখা যাবে না।
১১) মুক্তিযুদ্ধের সময়, যারা জেলা-মহকুমা-থানা পর্যায়ে "কমান্ডারের" দায়িত্ব পালন করেছেন - তাঁরাই জন-প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবেন।
১২) জন-প্রশাসনে "প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ" - এই সব শ্রেণি-বিন্যাস থাকবে না । কাজের ক্ষেত্রে, দায়িত্ব পাওয়ার জন্য - যেসব স্তর হবে - তার কোনাে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত থাকবে না।
১৩) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত হবে অনধিক ১ : ৭।
১৪) সমবায়-ভিত্তিক অর্থনৈতিক-ব্যবস্থা চালু হবে। পরিত্যক্ত কলকারখানা, মুক্তিযােদ্ধা শ্রমিক- কর্মচারীদের সমবায়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
১৫) কেবল ভারত ও রাশিয়ার ওপর নির্ভর না করে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে - "কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক" সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।
# এই ১৫ দফা কর্মসূচি টি - এক ঝলক দেখে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব - সেটা তার টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দেন। ঐ ড্রয়ার থেকে, সেটা আর কখনো বের হয়নি।
# আজো অর্থাৎ দীর্ঘ ৫০ বছর পরেও - এই কর্মসূচি তথা সুপারিশ-সমুহ - সম্পূর্ণ বাস্তবতা সমৃদ্ধ। এর মধ্যে দেশ- প্রেম ছাড়া, ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কোন বিষয় ছিলনা।
# এই রাষ্ট্র-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে, বাংলাদেশ আজ কোথায় থাকতো !! মুক্তিযোদ্ধারা আজ কোথায় থাকতো !! এদেশের শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের অবস্থান আজ কোথায় থাকতো !!!
পুরানো বিষয় সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য দুঃখিত। ধন্যবাদ। বাংলা এবং বাঙ্গালীর জয় হোক।
# আমার এই উপস্থাপনাটি "বঙ্গবন্ধু এবং সিরাজুল আলম খানের" - "ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সম্মিলন" সম্পর্কিত - বাংলাদেশের "রাজনৈতিক সমীকরণ"
সবাইকে ধন্যবাদ।