09/03/2026
Surpass Cause And Effect – 01
Job Job Clear
তেলের দামের হিসাব বুঝার আগে বুঝা লাগবে , ব্যারেল ও লিটারে পার্থক্য । আপনি যে অকটেন – ডিজেল কিনেন বাজার থেকে , এটা লিটারে কিনেন । বাজারে বিক্রি হয় , ব্যারেল হিসেবে । ১ব্যারেলে প্রায় ১৫৯লিটার হয় ! ধরেন , আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ডলার বাড়লো , মানে ১৫৯লিটার তেলের দাম ধরেন ১০ডলার বাড়লো । মানে প্রতি লিটারে ০.০৬ডলার বাড়ে । হিসাবটা কিন্তু এতো সরলীকরণ করে পাওয়া যায় না আসলে । প্রভাবটা আরো বেশি , কারণ , আমরা ব্যারেল হিসেবে যে তেল কিনি সেটা অপরিশোধিত তেল বা Crude Oil. এখানে সালফার , নাইট্রোজেন , লোহা , লবণ , পানি সবই থাকে । এভাবে তো আর ব্যবহার করা যায় না । সেখান থেকে আসলে কতটুকু অকটেন পাওয়া যাচ্ছে , এটার উপর নির্ভর করে আসলে প্রতি ব্যারেল থেকে আপনি কত লিটার তেল পাচ্ছেন । সেটার উপর নির্ভর করেই দাম ।
হিসাব এখানেও শেষ না । শিপে করে তো তেল আসে , এখন শিপ খরচটা কিন্তু অর্ধেক তার জ্বালানির উপর । এই পরিস্থিতিতে Freight Rate বেড়ে যায় জাহাজের । জাহাজের জ্বালানি খরচ বাড়ে , ফলে খরচ বাড়ে । এরপর শিপগুলো রিস্ক এড়াতে বেশি দূরত্ব ঘুরে যাচ্ছে , ফলে সময় বেশি লাগছে জ্বালানি খরচ বাড়ছে । আগে যেখানে ৫দিন লাগতো সময় , এখন সময় লাগছে ৮দিন । ফলে শিপের শিডিউল পাওয়া যাচ্ছে না । ডিমান্ড বাড়ছে সাপ্লাই নাই, মানে খরচ বাড়ছে । জাহাজগুলোর বীমা খরচ বাড়ছে , যা আপনার পণ্যের উপরই প্রভাব পড়ছে । ওভারঅল অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে খরচ বেড়ে যাচ্ছে ।
এই সবগুলো ফ্যাক্টর মাথায় রেখে ভাবেন , যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিলো ৬৭ডলারে , এখন সেটা ১২০ডলার । যুদ্ধ আরেকটু দীর্ঘস্থায়ী হলে এ দাম ২০০ডলারে ঠেকতে পারে । তখন জাহাজের ওভারঅল খরচসহ ভাবেন , তেলের দাম কি পরিমাণ বাড়বে ! তেলের দাম বাড়া মানে জাহাজের খরচ বাড়া , যেসব পণ্য আমদানি করা হয় সেগুলোতে বেশি ভাড়া দিতে হবে । ফলে আমদানিকৃত সকল পণ্যের দাম বাড়বে !
সেই পণ্য কিনতে আপনার খরচ বাড়বে । সেই খরচ উঠাতে আপনি ব্যাংকে টাকা জমা দিবেন কম , উঠাবেন বেশি । গভমেন্ট তারল্য সংকট মোকাবিলায় টাকা ছাপাবে ! ইউএসএ ডলার ছাপাবে । ইনফ্ল্যাশেন বাড়বে । বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিবে ।
তার মানে এই যুদ্ধের খরচ , প্রতিটি বোমার খরচ , আসলেই আপনি আমি বহন করছি । আগে ১লাখ টাকায় আপনি যে পরিমাণ দ্রব্য পেতেন , এখন সেটা পাবেন না । এই বাড়তি খরচটাই সে বোমার খরচ , যা অন্য দুই দেশ একে অপরের উপর মারছে । কিন্তু খরচটা আপনি আমি বিশ্ব বহন করছে ।
এর বাইরে আমাদের রেমিট্যান্স কমবে । সেগুলোর আলাপ আলাদা , আলাদাভাবে বলতে চাই। ওভারঅল একটা ডিজাস্টার সামনে আসতে যাচ্ছে !
একটা পরামর্শঃ একটা জিনিস কোনো গভমেন্ট ছাপাতে পারে না । সেটা হচ্ছে , গোল্ড ! ল্যান্ড , স্থায়ী সম্পদ এগুলো ! টাকার মানে কমছে কিন্তু স্থায়ী সম্পদের মান বাড়ছে । আপনি আগে জমি থেকে ১০মণ ধান পেতেন , এখনও ১০মণ পান । কিন্তু এখন সেই ১০মণের দাম বেড়েছে । যারা কিনে তারা বেশি দামে আপনার থেকে নিবে , আপনি বর্ধিত মূল্য দিয়ে যেসব জিনিসের দাম এক্সট্রা বেড়েছে সেগুলো কিনবেন ।
অর্থাৎ , জমে থাকা টাকা সম্পদ না , সম্পদ হচ্ছে আপনার স্থায়ী সম্পদ । আপনার জমি , গোল্ড এগুলো । উৎপাদনে মনোযোগী হতে হবে ।