22/04/2026
আন্ত:শাখা সমন্বয়ক - গ্রীনপার্টি বাংলাদেশ মো: ইয়ামিন খান বলেছেন—একটি রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার সাংগঠনিক কার্যক্রম কতটা সুসংগঠিত, কার্যকর এবং আদর্শনিষ্ঠ তার ওপর। একটি দল যত বেশি সংগঠিত, তত বেশি টেকসই এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশ ও প্রবাসে গ্রীনপার্টি বাংলাদেশের বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। কারণ, বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে একটি দলের সামগ্রিক শক্তি গড়ে ওঠে না; বরং সমন্বিত পরিকল্পনা, অভিন্ন লক্ষ্য এবং নিয়মিত যোগাযোগই একটি শক্তিশালী সংগঠন তৈরির মূল ভিত্তি।
যোগ্য ও মেধাবীদের মূল্যায়নের বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। তার মতে, নেতৃত্ব বা দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা প্রভাব নয়, বরং যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাই হওয়া উচিত মূল বিবেচ্য বিষয়। এতে করে দল যেমন শক্তিশালী হয়, তেমনি একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়ভিত্তিক সাংগঠনিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
জ্ঞান ও বিজ্ঞানের প্রসার নিয়েও তিনি জোর দেন। একটি আধুনিক রাজনৈতিক দলকে অবশ্যই গবেষণাভিত্তিক হতে হবে। নতুন ধারণা, প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গ্রহণ করতে না পারলে কোনো দল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। তাই প্রতিটি শাখায় জ্ঞানচর্চা, পাঠচক্র, আলোচনা সভা এবং গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কর্মসূচির ক্ষেত্রেও তিনি বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—জনগণের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত কার্যক্রমই হওয়া উচিত দলের মূল লক্ষ্য। পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি—এসব বিষয়কে সামনে রেখে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
সরকারের কার্যক্রমের উপর নিবিড় পর্যবেক্ষণের বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের কাজ শুধু সমালোচনা করা নয়, বরং গঠনমূলক বিশ্লেষণ করা, ভালো কাজকে স্বাগত জানানো এবং ভুলগুলো যুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা।
প্রত্যেক শাখায় শক্তিশালী কমিটি গঠনের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন—“শক্তিশালী বলতে গায়ের জোর নয়, মেধা ও সততার জোর।” অর্থাৎ, একটি কমিটি তখনই কার্যকর হয়, যখন সেখানে দায়িত্বশীল, সৎ, চিন্তাশীল এবং কর্মঠ মানুষ থাকে। এই ধরনের নেতৃত্বই পারে দলকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে।
সবশেষে তিনি আহ্বান জানান—দেশ ও প্রবাসে গ্রীনপার্টি বাংলাদেশের সকল নেতা-কর্মীরা যেন পারস্পরিক সহযোগিতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শের ভিত্তিতে কাজ করেন। সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও জনমুখী রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব।