Bjoy Aziz

Bjoy Aziz I am simple, responsible, carrying & handsome but a formal person. Always try to maintain me as an open feeling person.

স্বপ্নবাজ মানুষ আমি। স্বপ্ন দেখি আমার দ্বারা একজন হলেও উপকৃত হবে।

19/01/2022

ভালবাসার সংজ্ঞা অনেকের কাছে অনেক রকম, আমার কাছেও তাই।
কিন্তু আমার কাছে,
হে নারী-তোমার আমার ভালবাসা মানে-

বারবার ফিরে গেছো, আর ফিরবে না বলে
অথচ,ফিরেছো ঠিক-ই আমার হৃদয় কোলে।
বারবার লাইন কেটেছো টেলিফোনের
কথা বলবেনা করেছো আড়ি,
অথচ, তুমিই আমাকে আবার নতুন ভালবেসে
ছেঁটে দিয়েছ অভিমানের যত কমা, দাড়ি।

ভালবাসার সংজ্ঞা আমি জানিনা
আমি শুধু তোমার শুন্যতায়,
হৃদয়ের হাহাকারের খবর জানি
যতই বলি আমাকে ভুলে যাও
তরী ভাসাও অন্য সমুদ্রে
ততই
আমার বুকের বামপাশে
হৃদকম্পনের যন্ত্রণা অনুভব করি।

আমি ভালবাসার সুখ জানিনা-
আমি তোমার দুচোখের মনিকোঠায় তাকিয়ে
আমার স্বপ্নের সীমানা অতিক্রম করেছি
দুই ভ্রু যোগলের মাঝে চুমু আঁকলে
তোমার লজ্জাবনত তৃপ্ত মুখ আমি দেখিছি।

তোমার আমার ভালবাসা মানে-
আমার অবর্তমানে তোমার চোখের কোণে বন্যা
আর তোমার অবর্তমানে আমার দীর্ঘশ্বাস
আর অগোছালো জীবনের পথচলা।

•• পুনঃজীবন ••- বাবাই ওঠ, ৭টা বাজতে যাচ্ছে টিউশন পড়াতে যাবি না আজ? কিরে ওঠ...!মায়ের ডাক শুনে হুড়মুড়িয়ে ঘুম থেকে উঠে...
06/01/2022

•• পুনঃজীবন ••

- বাবাই ওঠ, ৭টা বাজতে যাচ্ছে টিউশন পড়াতে যাবি না আজ? কিরে ওঠ...!

মায়ের ডাক শুনে হুড়মুড়িয়ে ঘুম থেকে উঠে যায় বছর সাতাশেক অতীন বিশ্বাস। ঘুম ভাঙতেই কানে গেল পাশের পাড়ার সুবিমল গাঙ্গুলির একমাত্র মেয়ে নেহার বিয়ের সানাই এর আওয়াজটা। নিজেকে কোনো রকমে সামলে নিয়ে ব্রাশ করে, সামান্য চা টুকু না খেয়েই সাইকেলটা নিয়ে, গ্রামীণ মেঠো পথ ধরে এগিয়ে চললো পড়াতে।

টিউশন পড়িয়ে যখন ঘরে ঢুকলো, তখন ঘড়িতে প্রায় সাড়ে বারোটা। অন্যদিন ৯ টার বেশি পড়ায় না, স্কুলে যেতে হয়। মাস চারেক হলো প্রাইমারীর স্কুলে চাকরিটা শেষমেশ পেয়েছে। সাইকেলটা উঠোনে দাঁড় করিয়ে সোজা চলে গেলো কলঘরে। স্নান সেরে মনমরা হয়ে কি যেনো ভেবেই চলেছে তখনও। হঠাৎ মায়ের আওয়াজে হতচকিয়ে উঠলো অতীন

- বাবান, আয় এইবার খেয়ে নে। অনেক বেজে গেলো তো। এইবার না খেলে পেটে পিত্তি পড়বে...?

মায়ের ডাক শুনে গুটি গুটি পায়ে খেতে বসল অতীন। ভাতের থালায় আঁকিবুকি কাটতে কাটতে কিছুটা খেয়ে, উঠে গেল হঠাৎ করেই।

দুপুরে ঠিক মত খায়নি দেখে, সন্ধ্যা থেকেই অতীন এর মা মিতুলা দেবী পায়ে বাতের ব্যথা নিয়ে ছেলের পছন্দের সব পদ রেঁধে চলেছে। রান্না শেষ করেই ডাক দিল ছেলেকে। কিন্তু একি! যে ছেলে চিকেন পেলে হামলে পড়ে ক্ষুধার্ত বাঘের ন্যায়। আজ যেন ওটাই সবচেয়ে অপছন্দের লাগছে ওর কাছে। হঠাৎ করেই মিতুলা দেবী বলে ওঠেন

- বাবান, তোর কি হয়েছে রে? কদিন ধরেই দেখছি খাচ্ছিস না ঠিক মতো...। শরীর খারাপ নাকি, বাবার থেকে তো এক দাগ ওষুধ খেয়ে নিতে পারিস। এতো বড়ো হয়েছিস, এখনও এগুলো বলতে হবে?

মায়ের কোনো কথার জবাব না দিয়ে নিজের রুমের দিকে হাঁটা দিল অতীন। কিভাবে বলবে, এই রোগ তার বাবার মতো নামকরা গ্রামীণ ডাক্তারও সারাতে পারবে না। এই রোগ ভালো করার উপায়, সে ঠিক করেই রেখেছে। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা তারপরই সব যন্ত্রণা থেকে চির মুক্তি পাবে সে।

সকাল থেকে ছেলেটাকে মনমরা দেখে, মিতুলা দেবী আর রতীন বাবু কিছুই খেতে পারলো না। দুজনে বিড়বিড় করে আলোচনা করেই চলেছে, আর কারনটা বোঝার চেষ্টা করছে। কোনো কিনারা করতে না পেরে মনমরা হয়ে কিছুটা খেয়ে তারাও উঠে গেল।

ঘড়িতে তখন রাত এগারোটা। ঘড়ির কাঁটা ঢং ঢং করে জানান দিল গভীর রাত্রির নিস্তব্ধতা। গ্রাম্য এলাকা রাত ৯ টা বাজতে না বাজতেই একে একে নিভে আসে প্রতিটি বাড়ির আলো। ধীরে ধীরে গ্রাস করে অন্ধকার। মাঠের ধারে শিয়ালগুলো শীতের দাপটে তখনও কাতর স্বরে ডেকেই চলেছে, একটু বাঁচার তাগিদে। ঘরের দেওয়ালের টিকটিকিটা এখনও আড় চোখে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। হয়তো পুরো ঘটনার সাক্ষী থাকার জন্যই। রুমের ভিতর কয়েকটি ইঁদুর অন্ধকারে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করেছে। গা থেকে মোটা চাদরটা সরিয়ে দিয়ে ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে আলমারি থেকে গোপনে কিনে আনা দড়িটা বের করে ফ্যানে ঝুলিয়ে দিল। জানালা খুলে শেষবারের মতো দেখে নিল প্রিয় প্রকৃতিটাকে। আজ কি দারুন লাগছে চারিদিক! চাঁদের আলোয় ঝলমল করছে পুরো গ্রাম। তারাগুলো মিট মিট করে আনন্দে জ্বলছে। পুকুরের জলটা হাওয়ার তালে নৃত্য করে চলেছে চঞ্চল বালিকার ন্যায়। বাগান থেকে ভেসে আসছে প্রস্ফুটিত ফুলের মিষ্টি সুবাস। এসব সৌন্দর্য্য দেখে ভীষণ বাঁচতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু নেহাকে ছেড়ে কিভাবে বাঁচবে অতীন। ওকে তো খুব ভালোবেসেছিলো...। এভাবে ঠকাবে ভাবতে পারেনি!

অনেক বেজে গেছে আর সময় নষ্ট করতে চায় না অতীন। চেয়ারের উপর উঠতেই কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দে পিছন ফিরে তাকাল। দেখল - ইঁদুরের তাণ্ডবে পড়ার টেবিল থেকে মাটিতে পড়ে গেছে উপন্যাসের সব কটি বই। খোলা জানালা দিয়ে প্রবেশ করা চাঁদের আলো, দুরন্ত বালিকার ন্যায় সারা ঘর জুড়ে খেলা করছে। বইগুলি টেবিলে তুলে রাখতে রাখতে চোখ গেলো একটু দূরে পড়ে থাকা রবি ঠাকুরের "শেষের কবিতা"র উপর। বইটি কত বার পড়েছে তার ঠিক নেই। প্রতিটি পাতার প্রতিটি শব্দ, প্রটিতি লাইন এখনও তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। মনে ভেসে উঠলো অমিত আর লাবণ্যের শেষ পরিনামটা। অনেকটা তাদের মতই। তবে অমিত এর মত কোনো কেতকীকে বিয়ে করার ইচ্ছে তার নেই।

নেহার সাথে অতীন এর পরিচয় হয় দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন। দুজনে পাশাপশি বসে অঞ্জলী দিয়েছিল, আর সেইদিনই তাদের মনের ঘরে উঠেছিল গভীর ঝড়। ঝড়ের তান্ডবে আকড়ে ধরেছিল একে অপরকে। মিলেছিল দুটি মন, এক হয়েছিল দুটি হৃদয়। শুরু হয় ভালোবাসার নামহীন তিন বছরের পথচলা।

হঠাৎ সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। নেহার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়, নেহার বাবার বন্ধুর ছেলে রিতেশ এর সঙ্গে। খবরটা নেহার বাবায় অবশ্য জানিয়েছিল ফোন করে। আর এটাও জানিয়েছিল - নেহা চায়না তোমার সাথে যোগাযোগ রাখতে। তাই ওকে আর বিরক্ত করো না। অনেক চেষ্টা করেও নেহার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি অতীন। চোখের জল মুছে, চেয়ারে উঠতেই কানে ভেসে এলো নেহার চিৎকার

- অনি...।

ভ্রম ভেবে মনকে শান্ত করলেও, শব্দটা আবারও ভেসে এলো। এইবার সে নিশ্চিত এটা নেহার গলা। কিন্তু কিভাবে...। হুড়মুড়িয়ে দরজা খুলতেই দেখতে পেল বাইরে কনের সাজে দাঁড়িয়ে আছে নেহা। কনকনে ঠান্ডায় মধ্যে দরদর করে ঘেমেই চলেছে তখনও। হাঁপাতে হাঁপাতে বলে ওঠে

- চল এইবার বিয়েটা সেরে নিই। এই নে সিঁদুরটা তাড়াতাড়ি পড়িয়ে দে। অনেক চেষ্টা করেছি তোর সাথে যোগাযোগ করতে। এই কদিন বাবা আমাকে চোখের আড়াল করেনি তিলমাত্র। অনেক কষ্টে পালিয়ে এসেছি। প্লিজ আমাকে বাঁচা। তুই বিয়ে না করলে জলে ঝাঁপ দেবো, তবুও রিতেশকে বিয়ে করবো না...

অতীন এর কাছে সব কিছু স্বপ্নের মতো মনে হলো। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নেহার দিকে। এতদিন কতো ভুল বুঝেছে ওকে। অদূরে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল মিতুলা দেবী আর রতীন বাবু। ছেলের মনমরা থাকার কারণ এখন স্পষ্ট তাদের কাছে।

লেখক বার্তা :- মৃত্যু কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। জীবন ঈশ্বরের দান। জন্ম হয়েছে যখন মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু নিজেকে নিজে শেষ করে দেওয়া অন্যায়, অপরাধ। জীবন কারোর জন্য থেমে থাকেনা। বয়ে চলে নিজের গতিতে। আমরা গা ভাসাতে পারি না। তাই থামিয়ে দিই, হেরে গেছি মনে করে।

কপি

05/01/2022

মেয়েমানুষেরা তবু একদিন ভালোবেসে আমাদের হিংসা করে ছেড়ে যায়;
বইয়ে পড়ে দেখেছি সে-সব!

জয়নাল হাজারীর জন্য শোকগাথাআপনারা অনেক ক্ষমতাবান, দিনকে রাত করতে পারেন। আপনারা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানুষ আপনাদের কথা ...
29/12/2021

জয়নাল হাজারীর জন্য শোকগাথা

আপনারা অনেক ক্ষমতাবান, দিনকে রাত করতে পারেন। আপনারা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানুষ আপনাদের কথা বিশ্বাস করে। আপনাদের অনেক সম্পদ, তা দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। আপনাদের দ্বারা হয়তো অনেক কিছুই সম্ভব। কিন্তু মানুষের নিখাদ ভালোবাসা - তা হয়তো আপনাদের ডিকশনারির বাইরে। তা পেতে হলে অন্যকিছু থাকতে হয়।

আপনারা বাহবা পাবেন, হাততালি পাবেন, লোকজনের মোসাহেবি পাবেন। কিন্তু যেদিন থাকবেন না, সেদিন থেকেই বিস্মৃত হতে থাকবেন। কারণ ক্ষমতা দিয়ে, দম্ভ দিয়ে অনেক অপপ্রচার করেছেন। অনেককে অপরাধী বানিয়েছেন। অনেক মানুষের কাছে অনেকের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। এর জলজ্যান্ত উদাহরণ বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল হাজারী। কিন্তু তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসা কি কমেছে ? তাঁর নিথর দেহ ঘিরে নারী পুরুষ আবাল বৃদ্ধ বণিতার অঝোরে কান্নার আওয়াজও নিশ্চয়ই আপনাদের কর্ণ কুহুরে প্রবেশ করেছে। তাঁর কোনো সন্তানও নেই বিয়েও করেননি।

জয়নাল হাজারীর কর্মজীবন আমি বিশ্লেষণই করবো না। দেশের মানুষের কাছে তার ভাবমূর্তি নেতিবাচক- এটাই সত্য। যারা তার এই ভাবমূর্তি তৈরী করেছেন তারাও ভিন্নরকমের প্রভাবশালী। তারাও কোনোদিন মারা যাবেন। তাদেরও জানাজা হবে। সেদিন তাদের জানাজায় আসা মানুষ গুনবো, যদি বেঁচে থাকি। কেন গুনবো জানেন ? তাদের প্রতি মানুষের ভালোবাসার পরিমাপ করতে। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজারীর জানাজার ছবি ও তাদের জানাজার ছবি পাশাপাশি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করবো।

একজন নিঃস্ব মানুষ তার এলাকার মানুষজনের কাছে কতটা ভালোবাসার, তা প্রমাণিত হয়েছে তার জানাজায়। শেষ জীবনে তিনি নিঃস্বই ছিলেন। ভালোবাসার মানুষগুলো শুধু নশ্বর দেহের সামনে হাজির হয়েছে। সেখানে কোনো ক্ষমতা, প্রভাব, প্রতিপত্তি ছিলোনা। শুধু তাঁর কর্ম ছিলো …হ্যা, কর্মগুণের কারনেই জয়নাল হাজারীর জানাজায় লাখো মানুষ এসেছে, তাদের প্রিয়জনের জন্য ভালবাসার মিছিল হয়ে।

২০০১ সালে কিছু পত্রিকাতে পড়েছিলাম জয়নাল হাজারীর শৈলকুঠি বাড়িতে নাকি গুপ্তগুহা পথ আছে। গুপ্ত টর্চার সেল আছে। ওনার অনুপস্থিতেই একবার ওই দোতলা বাড়িটিতে গিয়েছিলাম ২০০৪ সালের দিকে। গুপ্ত গুহা পথ ও গুপ্ত টর্চার সেল অনেক খুঁজেছি পাইনি। তখন বুঝেছি এটাও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার।একসময়ের বাঘ জয়নাল হাজারীকে অপপ্রচার করে আপনারা বিড়াল বানিয়েছেন। ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদরাও তাঁর সাথে কথা বলতে বিব্রত হতেন। তাঁর হাতেই যারা তৈরী, যাদের তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন; তারাও তাকে এড়িয়ে চলতেন। এই যে তাঁর ভাবমূর্তির সঙ্কট; তা ইচ্ছে করে, পরিকল্পিতভাবে তৈরী করা হয়েছে। কারণ তিনি বঙ্গবন্ধুর খাঁটি সৈনিক ছিলেন, শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত হাতিয়ার ছিলেন। এতটাই বিশ্বস্ত ছিলেন যে, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নেত্রীর কথার বাইরে যাননি। এক সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেছিলেন, নেত্রী বলেছেন বলেই তিনি চুপ হয়ে গেছেন। এখানেও তিনি ব্যতিক্রম এবং অনুগত।

যাকে এক নজর দেখার জন্য মানুষ ভীড় জমাতো, পত্রিকার পাতায় লীড নিউজ হতো; সেই হাজারী শেষ জীবনে রাস্তায় একা একা ফুটপাথ দিয়ে হেঁটেছেন। কোন বডিগার্ড নিয়ে চলেননি। তিনি যদি এতোটাই খারাপ হতেন, তাহলে যে কেউ তখন প্রতিশোধ নিতে পারতো। একা দেখে কেউ তাকে গালি দিয়েছে এমন কথাও শুনিনি। আপনারা তাকে হেয় করার অপচেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁর এলাকার সাধারণ মানুষের চোখে তিনি বাঘই রয়েছেন এবং ভালোবাসার মানুষ হয়েই থাকবেন।

তাঁর জানাজার লাখো মানুষের ভালোবাসার ছবি অনেক পত্রিকাতেই দেখিনি। তাতে কি হয়েছে - জয়নাল হাজারীরা ক্ষণজন্মা। বিশ্বকবির ভাষায়…
“মোর লাগি করিয়ো না শোক ,
আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক ।
ফিরিবার পথ নাহি;
দুর হতে যদি দেখ চাহি
পারিবে না চিনিতে আমায় ।
হে বন্ধু, বিদায় !!”

27/12/2021

সম্প্রতি ইন্টারনেটে ঝর তোলা আইসক্রিম বিক্রেতা, যিনি তুরস্কের নাগরিক। তিনি তার আইসক্রিম বিক্রি করেন,যদি কাস্টমার তার শর্তে রাজি হন। এবার শুনেই দেখুন কি তার শর্ত?

একটা সমাজ পরিবর্তনশীল, কিন্তু এমনি এমনি সমাজ পরিবর্তন হয়না।কাউকে না কাউকে পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে হয়। আমাদের সমাজের কথায়...
23/12/2021

একটা সমাজ পরিবর্তনশীল, কিন্তু এমনি এমনি সমাজ পরিবর্তন হয়না।কাউকে না কাউকে পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে হয়। আমাদের সমাজের কথায় ধরুন, অফিস শেষে সন্ধ্যায় যখন ফিরি মায়েরা বা বোনেরা ব্যস্ত ইন্ডিয়ান কোন চ্যানেল নিয়ে। যার কারনে ঘটছে পারিবারিক বৈরিতা, এই ভাবে সমাজ পরিবর্তনের কাজ হবে না, সংস্কৃতির ভাব বিনিময় সবাই চাই,তার মানে এই নয় যে,বিদেশি ভাষা অনুকরণ করে আমাদের নিজস্ব স্বকীয়তা, সংস্কৃতির কথা ভুলে ডুবে যাব অন্যের উপর। এটা হতে পারেনা। এতিহ্য আর সংস্কৃতির বিনিময় হলে এক চেটিয়া করা যাবে না। যেখানে আমাদের কোন চ্যানেল ভারতে প্রচার হবে না সেখানে আমরা কেন তাদের চ্যানেলের উপর ঝাপিয়ে পড়ব? যদি আপনার ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা হয় , তবে বর্জন করুন ভারতীয় চ্যানেল। নিজনিজ জায়গা থেকে। এখনই মোক্ষম সময় আজকের তরুনদের। জবাব দেবার সময় এখনই। ভারতীয় চ্যানেল দেখতে আমাদের আপত্তি নেই কিন্তু তাদের চ্যানেলে ঝগড়া, পরকিয়া, হিংসা ধন্ধ ছাড়া আর কিছু নাই।যা দেখে আমার দেশের পরিবারে বাড়ছে ডিবোর্স নামক এক ভয়ন্কর ব্যধি।আসুন আমরা সবাই এক হই আর রুখে দেই ।

যার হাতে ১ কোটির বেশি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেনকুয়েতে জন্মগ্রহণ করা ডক্টর আব্দুর রহমান আস-সুমাইত বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ...
23/12/2021

যার হাতে ১ কোটির বেশি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন
কুয়েতে জন্মগ্রহণ করা ডক্টর আব্দুর রহমান আস-সুমাইত বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিসিন ও সার্জারিতে বি.এস করেন। অতঃপর উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান। ১৯৭৪ সালে লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রপিকাল ডিজিজের ওপর ডিপ্লোমা করেন। কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় (McGill University) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্টগ্রাজুয়েট সম্পন্ন করেন।
মাসে লক্ষাধিক টাকার বেতনে চাকরি করার সুযোগ ছিলো তাঁর সামনে। সুযোগ ছিলো ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের নাগরিক হবার, মানুষের স্বপ্নের দেশগুলোর যেকোনো একটিতে সম্মানজনক ডাক্তার হিশেবে বসবাস করার। মানুষ বর্তমানে কতো চেষ্টা করে IELTS, GRE, GMAT দিয়ে বিদেশ যেতে চায়। স্বপ্নের দেশগুলোতে যেতে চায়। আব্দুর রহমান আস-সুমাইত সেসব দেশে গিয়ে পড়াশোনা করেন।
১৯৭২ সালে তিনি ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করছেন। তখন শুনতে পেলেন তাঁর এক বন্ধু একটি কনফারেন্সে গেলো। সেই কনফারেন্সে ইউরোপের খ্রিস্টান নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়েছে ‘আফ্রিকা মিশন’ নামে। তারা পরিকল্পনা করলো আগামী ১৮ বছর তারা আফ্রিকায় মিশনারীর কাজ করবে, পুরো আফ্রিকাকে প্রায় শতোভাগ খ্রিস্টান জনসংখ্যায় পরিণত করবে।
আফ্রিকা বর্তমানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম। আফ্রিকা একসময় ছিলো খনিজ সম্পদে ভরপুর। সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর অন্যতম আকর্ষণ ছিলো এই আফ্রিকা। আফ্রিকায় নিজেদের কলোনি স্থাপন করে তারা সেখানকার রক্ত শুষে খেয়েছে, মানুষকে বানিয়েছে দাস। টান্স-আটলান্টিক দাসপ্রথা যার অন্যতম উদাহরণ। সেই আফ্রিকার অবস্থা জরাজীর্ণ। সেখানকার মানুষ খাদ্যাভাবে, চিকিৎসাভাবে মারা যাচ্ছে। পরিবারগুলো ছেলেমেয়েদেরকে পড়ালেখা করাতে পারছে না।
আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে কিভাবে মানুষ তার ধর্মত্যাগ করে, সেই প্রেক্ষাপটে কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘মৃত্যুক্ষুধা’। আফ্রিকার মানুষের অবস্থা তেমন। মিশনারীগুলো সেখানকার মানুষদের খাদ্যাভাব দূর করে, বিনিময়ে তাদেরকে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। গিভ অ্যান্ড টেক রিলেশন।
ডাক্তার আব্দুর রহমান আস-সুমাইত ইংল্যান্ডে পড়াশোনাকালীন সময়ে মিশনারীদের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। পড়াশোনা শেষে তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন যে, তিনি চান তাঁর ক্যারিয়ার পূর্ব-এশিয়ায় শুরু করতে। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো হলো- চীন, হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া। এসব দেশে ইসলামের প্রচার-প্রসার তেমন নেই। আব্দুর রহমান আস-সুমাইতের ইচ্ছে ছিলো সেসব দেশে ডাক্তারি পেশার পাশাপাশি দাওয়াতের কাজ করবেন।
তিনি তাঁর নিজ দেশ কুয়েতে ফিরেন। ঘটনাক্রমে কুয়েতের আমিরের স্ত্রীর সাথে তাঁর দেখা হয়। তিনি চান, আফ্রিকায় তাঁর নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করতে; এক্ষেত্রে ডাক্তারের সরাসরি তত্ত্বাবধান কামনা করছেন। ডাক্তার আব্দুর রহমান আস-সুমাইত প্রস্তাবে রাজী হোন। কুয়েতের আমিরের স্ত্রীর অর্থায়নে একটি মসজিদ নির্মাণে পাড়ি জমান আফ্রিকায়।
মসজিদ নির্মাণ করতে গিয়ে তিনি আফ্রিকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। আফ্রিকার মুসলিমদের অবস্থা দেখে তিনি যেনো নিজের দুচোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না! তিনি দেখতে পান:
অনেক মুসলিম কিভাবে নামাজ পড়তে হয় জানে না, কিভাবে ওজু করতে হয় জানে না।
তারা নামে মুসলিম, কিন্তু তারা সূর্যের উপাসনা, তারকার উপাসনা করে!
মসজিদের ইমাম মসজিদের মধ্যে যিনায় লিপ্ত!
চারিদিকে শিরক বিদআতের ছড়াছড়ি।
আফ্রিকার মুসলিমরা অর্থাভাবে আছে। সেই দূর্বলতায় খ্রিস্টান মিশনারী আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে তাদেরকে খ্রিস্টান বানাচ্ছে।
আফ্রিকার মুসলিমরা পড়ালেখায় অনেক পিছিয়ে। ফলে, আফ্রিকার নীতিনির্ধারক যারা হচ্ছে, যারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এমপি-মন্ত্রী হচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই খ্রিস্টান। মুসলিমরা আর্থিকভাবে যেমন পিছিয়ে পড়ছে, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবেও তেমন পিছিয়ে পড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে আফ্রিকার মুসলিমদের অবস্থা চরম শোচনীয়! আফ্রিকার মুসলিমরা ইসলাম ত্যাগের দ্বারপ্রান্তে।
আব্দুর রহমান আস-সুমাইত আফ্রিকায় গিয়েছিলেন কয়েক মাসের সফরে। কিন্তু, আফ্রিকার এমন অবস্থা দেখে তিনি চিন্তায় পড়ে গেলেন। কিয়ামতের দিন যদি তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, মুসলিমদের এমন শোচনীয় অবস্থা দেখে তিনি কেনো পালিয়ে গেলেন? তিনি কেনো বেটার লাইফস্টাইলের আশায় মানুষকে ঈমানহারা হতে দেখেও চলে যান উন্নত দেশে? এসব চিন্তা তাঁর মাথায় ঝেঁকে বসে।
তিনি স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করেন- “আমাদের তো যাবার কথা ছিলো পূর্ব-এশিয়ায়, এই অবস্থায় আমরা কী করবো?”
তাঁর স্ত্রী জবাব দেন:
“এটা হয়তো আল্লাহরই পরিকল্পনা। মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদেরকে আফ্রিকায় নিয়ে এসেছেন, যাতে আমরা আফ্রিকার অবস্থা দেখতে পারি। আপনি চিন্তা করবেন না, আমি চাই না বিলাসী জীবন। আমি আফ্রিকায়ই থাকতে চাই।”
এই বলে উম্মে সুহাইব (আব্দুর রহমানের স্ত্রী) নিজের স্বর্ণালঙ্কার স্বামীকে দিয়ে বলেন, “এগুলো দিয়ে দাওয়াতের কাজ শুরু করেন। জান্নাতে গেলে আমি এমনিতেই স্বর্ণালঙ্কার পাবো। দুনিয়ার স্বর্ণালঙ্কার আমি জান্নাতের জন্য বিনিয়োগ করলাম।”
একটি মসজিদ স্থাপনের জন্য আসা ডাক্তার আব্দুর রহমান আস-সুমাইত তাঁর ঈর্ষণীয় ক্যারিয়ার পেছনে ফেলে বসবাস শুরু করলেন আফ্রিকায়। আফ্রিকার মানুষের কল্যাণে প্রতিষ্ঠা করেন ‘African Muslim Agency’। বৈদেশিক ত্রাণ আফ্রিকার অভাবী মানুষের হাতেনাতে পৌঁছে দেবার জন্য গঠন করেন আরো কয়েকটি সংগঠন।
আফ্রিকার এক দেশ থেকে আরেক দেশে, এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে পায়ে হেঁটে, সাঁতার কেটে, গাড়িতে চড়ে দাওয়াতের জন্য সফর করেন। এমনও দিন অতিবাহিত হয়েছে, যখন তাঁর খাওয়ার জন্য পানি ছাড়া কিছুই ছিলো না। মানুষের মলমূত্র ফেলা হয়, এরকম পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে খেতে হয়েছে মাঝেমধ্যে। বেশ কয়েকবার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। দুইবার তিনি জেলেবন্দী হোন। তবুও তিনি দমে যাননি।
একবার একটি গ্রামে প্রবেশ করতে চাইলেন। সেখানকার অধিবাসীরা ছিলো খ্রিস্টান। দাওয়াতের জন্য সেই গ্রামে তাঁকে ঢুকতে দেয়া হবে না। তারা শর্ত দিলো- আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, আল্লাহ যেনো আমাদের গ্রামে বৃষ্টি দেন। এই গ্রামে গতো ৩-৪ বছর ধরে বৃষ্টি হয় না। আপনার দু’আয় যদি বৃষ্টি হয়, তবেই আমরা ইসলাম গ্রহণ করবো। নতুবা আপনার এই ইসলামের কোনো দরকার নেই। আপনি ভাগেন।
ডাক্তার আব্দুর রহমান বললেন, “এটা তো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি দু’আ করলেই আল্লাহ বৃষ্টি দিবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা তো আমি দিতে পারি না।”
লোকজন তাঁকে জোরাজুরি করলো। একবার দু’আ করেই দেখেন। যদি আপনার দু’আয় কাজ হয়, তাহলে তো আমরা ইসলাম গ্রহণ করবো।
তিনি তাঁর সঙ্গীদের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন। তারাও পরামর্শ দিলো, আপনি একবার দু’আ করেন।
আব্দুর রহমান আস-সুমাইত হাত তুললেন। তিনি বলেন:
“আমি হাত তুলে দু’আ করতে লাগলাম। আমার মনের আকুতি মিশিয়ে আল্লাহর কাছে যতোটা নত হওয়া যায়, কান্না করতে লাগলাম। আমার মনে হলো আমার সমস্ত চোখের পানি ছেড়ে দিই! আমি কাঁদতেই থাকলাম, কাঁদতেই থাকলাম। আমি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলাম-
‘হে আল্লাহ! আমার পাপের জন্য আপনি আপনার বান্দাদের এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হতে দিয়েন না। আমার পাপ যেনো তাদের ইসলাম গ্রহণে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। হে আল্লাহ, আপনি বৃষ্টিবর্ষণ করুন।’
আমি দু’আ করতে করতে আকাশের দিকে তাকালাম। অবাক হয়ে লক্ষ করলাম আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতে শুরু করেছে, মেঘের গর্জন শুনা যাচ্ছে। অতঃপর ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো। এমন বৃষ্টি হলো, আফ্রিকার মানুষ তাদের জীবনে এভাবে মুষলধারে বৃষ্টি দেখেনি। গ্রামবাসী তাদের কথা রাখলো। পুরো গ্রাম ইসলাম গ্রহণ করলো।”
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডাক্তার আব্দুর রহমান আস-সুমাইতের উদ্যোগে এমনসব কাজ হয়, যেগুলো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেও হবার চিন্তা করা দুঃসাধ্য। পুরো আফ্রিকাজুড়ে ডাক্তার আব্দুর রহমান আস-সুমাইত যা করেন:
৯৫০০ টি এতিমখানা স্থাপন করেন।
৯৫,০০০ শিক্ষার্থীর পড়ালেখার জন্য বৃত্তি প্রদান করেন।
৫,৭০০ টি মসজিদ স্থাপন করেন।
নারীদের জন্য ২০০ টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন।
৮৬০ টি স্কুল স্থাপন করেন।
১০২ টি ইসলামিক সেন্টার স্থাপন করেন।
তানজেনিয়া, জানজিবার, কেনিয়ায় ৪ টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন।
পানি সঙ্কট নিরসনে ৯৫০০ টি কূপ খনন করেন।
৫ কোটি ১০ লক্ষ কুরআন বিতরণ করেন।
ডাক্তার আব্দুর রহমান আস-সুমাইতের সঙ্গীদের তথ্যমতে, তাঁর কল্যাণে আফ্রিকার ১ কোটির বেশি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে।
আফ্রিকায় এক কুটির ঘরে রাতের বেলা। আব্দুর রহমান বসে আছেন স্ত্রীর পাশে। উম্মে সুহাইবকে বেশ ক্লান্ত মনে হচ্ছে। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে শরীর জুড়ে অবসাদের ছাপ। আব্দুর রহমান আস-সুমাইত জিজ্ঞেস করলেন, “ও উম্মে সুহাইব, তোমাকে তো বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে? তোমার কষ্ট হচ্ছে? তুমি কি হাল ছেড়ে দিয়েছো?”
উম্মে সুহাইব হাসলেন। তিনি ভাবছেন কী আর তাঁর স্বামী জিজ্ঞেস করছেন কী? তিনি বললেন,
“ও আবু সুহাইব! আমি এখন কী ভাবছি জানো?”
“তুমি না বললে জানবো কিভাবে!?”
“আমি ভাবছি, আল্লাহ যদি আমাকে জান্নাত দান করেন, আমি আজ যতোটা খুশি আছি, জান্নাত লাভের পর কি তারচেয়েও বেশি খুশি হবো?”
স্বামী-স্ত্রী নিজেদের পুরো জীবন এমনভাবে দ্বীনের খেদমতে কাজে লাগাত, দুনিয়ায় থাকাবস্থায় তারা জান্নাতের স্বাদ পাচ্ছেন! তারা ভেবে পাচ্ছেন না, তারা এতো সুখে আছেন, জান্নাত পেলে কি তারচেয়েও বেশি খুশি হবেন!
আব্দুর রহমান আস-সুমাইত শুধুমাত্র মুখে মুখে দাওয়াত দেননি। তিনি মানুষের অভাব বুঝতে পারেন, মানুষের চাহিদা বুঝতে পারেন। সেই অনুযায়ী নেমে যান দাওয়াতে। মানুষের খ্যাদ্যাভাব দূর করার জন্য উদ্যোগ নেন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেন। আফ্রিকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেনো ভবিষ্যতে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে, ভবিষ্যতে যাতে তারা জাতির কর্ণধার হতে পারে, সেজন্য স্থাপন করেন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। ধর্মীয় অজ্ঞতা দূর করার জন্য স্থাপন করেন মসজিদ, মক্তব, মাদ্রাসা।
নিজের জীবনটা কাটিয়ে দেন আফ্রিকায়। নিজের মেয়ের বিয়ের সময় এমন একজন পাত্রের হাতে মেয়েকে তুলে দেন, যে স্ত্রীসহ আফ্রিকায় বসবাস করতে ইচ্ছুক। আফ্রিকার মুসলিমদের দুর্দশা দূরীকরণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যান তাঁর নিজের পরিবার।
এতো কিছু করতে গিয়ে নিজের শরীরের দিকে খেয়াল করার সময় তাঁর ছিলো না। আস্তে আস্তে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসার জন্য যান।
১৫ আগস্ট ২০১৩। ৬৬ বছর বয়সে ডাক্তার আব্দুর রহমান আস-সুমাইত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাহিমাহুল্লাহ। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও উন্নত জীবনযাপনের আশায় তিনি স্রোতের অনুকূলে হাঁটেননি। পুরো জীবনটা বিলিয়ে দেন আল্লাহর রাস্তায়।
ডাক্তার আব্দুর রহমান আস-সুমাইতের পুরো জীবনের গল্প পড়ে মনে পড়ে কুরআনের একটি আয়াত। আল্লাহ বলেন:
“মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজেকে বিলিয়ে দেয়। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি স্নেহশীল।” [সূরা বাকারা ২: ২০৭]
ডাক্তার আব্দুর রহমান আস-সুমাইতের ইন্তেকালের পরের ঘটনা। কুয়েতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি কনফারেন্স হয়। সেই কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন পূর্ব-আফ্রিকার দেশ মালাউই এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কনফারেন্স শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেন, “আব্দুর রহমান আস-সুমাইতের কবর কোথায়?”
পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কবর দেখানো হলে তিনি যিয়ারত করেন। একজন কৌতুহল দমিয়ে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি একটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আপনি কেনো এই দেশের একজন সাধারণ ডাক্তারের খোঁজ নিয়ে তাঁর কবর যিয়ারতে যাচ্ছেন?”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দিলেন:
“আমি ছিলাম একজন এতিম বালক। ডাক্তার আব্দুর রহমান আস-সুমাইত আমার পড়ালেখার ব্যবস্থা করেন। সেদিন যদি তিনি আমাকে টেনে নিয়ে স্কুলে ভর্তি না করতেন, তাহলে আজকে আমি এখানে আসতে পারতাম না!”
একজন সফল ব্যক্তির গল্প
আরিফুল ইসলাম
২১ ডিসেম্বর ২০২১
[লেখাটি বিভিন্ন লেকচার, আর্টিকেল থেকে অনুবাদ করা। এরকম কয়েকটি টপিকে একটি অনুবাদ বই প্রকাশিত হবে, ইন শা আল্লাহ।]

22/12/2021
প্রধানমন্ত্রী বললেন, "আপনি ভাতা নেন, একলা এভাবে কতদিন চলবেন.."রমা বললেন, "ছেলে দিয়েছি, স্বামী দিয়েছি, সম্ভ্রম দিয়েছি। তা...
10/12/2021

প্রধানমন্ত্রী বললেন, "আপনি ভাতা নেন, একলা এভাবে কতদিন চলবেন.."
রমা বললেন, "ছেলে দিয়েছি, স্বামী দিয়েছি, সম্ভ্রম দিয়েছি। তার তো ক্ষতিপূরণ হবে না। ভাতা নিয়ে কি করব!?"
ধর্ষিতা হওয়ায় যুদ্ধের পর ওঁকে একঘরে করে দেয়া হয়। অথচ তিনি পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম নারী স্নাতকোত্তর।

নিজের হাতে বই লিখতেন, সে বই ছাপাতেন, ফেরিওয়ালার মতো বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই ফেরি করতেন, পয়সা যা হতো তাই দিয়ে একলা মানুষটার জীবন চলতো। এই মানুষটির বাড়ি আদতে একটি খড়ের চালার কুঁড়েঘর। যার আশপাশের বাসিন্দা কুকুর, বেড়াল, কাক, পেঁচা।

জুতো পরতেন না রমা। লোকজন জিজ্ঞেস করলে বলতেন, "এই মাটিতে আমার ছেলেরা ঘুমায়, জুতো পরে ওদের বুকের রক্তের ওপর পাড়া দিয়ে হাঁটব কি করে !"

এই রমা আমাদের যুদ্ধজননী। ৪৫ টা বছর যিনি খালি পায়ে রৌদ্রতপ্ত পিচঢালা পথে হেঁটে বেড়িয়েছেন। নিজের চোখের সামনে সন্তানদের মৃত্যু দেখেছেন যিনি, যিনি দুচোখে দেখেছেন পাকিস্তানের দোসররা মানুষের ঘরবাড়ি দাউদাউ করে জ্বালিয়ে দিতে।

এদেশ থেকে তাঁর নেয়ার কিচ্ছু নেই, দেবার ছিল। দিয়ে গেছেন। মৃত্যুতে তাঁর লজ্জায় ডুবিয়ে দিয়ে গেছেন গোটা জাতিকে ।

ভেবেছিলেন বই বেচা পয়সায় একটা অনাথ আশ্রম করবেন, সে আশা আর পূর্ণ হলো কই!

এমন কতো রমা চৌধুরী এখনো যুদ্ধ করেন, এখনো খালি পায়ে হেঁটে বেড়ান, কত আজাদের মা সাফিয়া বেগমরা ভাত খান না শতবছর, কত জাহানারা ইমাম আগলে রাখেন রুমিদের মেডেল-ট্রফি।

এঁদের যুদ্ধের কাছে বারবার হেরে যায় বাংলাদেশ, সে হারায় দুঃখ নেই, আছে লজ্জা, আছে গর্ব, আছে প্রেরণা।

মাটিতেই তো ছিলেন আজীবন। কবরে থাকতে অসুবিধে হবে না মায়ের। স্রষ্টা আমাদের মতো নির্মম নন।

৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পাওয়া আমার এই সোনার বাংলাদেশ।
বিজয়ের মাসে শ্রদ্ধা ভরে স্বরন করছি সেই সব বীর শহীদদের । যেখানে থাকুন ভালো থাকুন মা, রমা চৌধুরী 🖤🖤

09/12/2021

সত্যিই সুবিচার হলো কি?

আবরার হত্যা মামলার রায় দেয়া হলো গতকাল। নিম্ন আদালতে দ্রুত বিচার আইনে অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে ২০জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হলো। এই রায়ের মধ্যে দিয়ে একটি জঘন্য ও নৃশংস অপরাধের সুবিচার হলো হয়তো, তবে আমি আনন্দিত বোধ করতে পারিনি।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রাবাসে একটি কথিত টর্চার সেলে একজন ছাত্রকে ডেকে নিয়ে তার সতীর্থ ছাত্রেরা একজোট হয়ে বাঁশের লাঠি, স্কিপিং রোপ এবং ক্রিকেটের স্টাম্পের মত ভোতা অস্ত্র ব্যবহার করে এমনভাবে পেটালো, যে ছেলেটি অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও ব্যাথায় মারা গেল। ঘটনার আগে এই কক্ষেই পরপর দুইদিন পরিকল্পনা সভা করা হয়েছে কিভাবে ছেলেটিকে একটি কথিত ফেসবুক পোস্টের জন্য উচিৎ শিক্ষা দেয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে মারা হলো ৫০/৬০ বার। যখন সে বমি এবং প্রস্রাব করে ফেলেছে, পানি চাইছে, এরপর আবার মারা হলো ৪০/৫০ বার। তারপর আর বাঁচতে পারেনি ছেলেটি। হলের সিঁড়িতে তার লাশ পাওয়া যায়।

নির্দেশদাতা, পরিকল্পনাকারী এবং তথাকথিত উচিৎ শিক্ষা দেয়ায় অংশগ্রহনকারী সকলকেই বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় এনে সমুচিত শাস্তির রায় দেয়া হয়েছে। তার পরেও স্বস্তি বোধ করতে পারছি না কেন? পারছি না, আবরার এবং সাজাপ্রাপ্ত ২৫টি ছেলের পরিবারগুলির দুর্দশার কথা ভেবে। তাদের বাবা মায়ের আশাভঙ্গ হবার কথা ভেবে!

এই নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেটি দেশের সুউচ্চতম একটি বিদ্যাপীঠ। প্রতিবছর যে লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়েরা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়, তাদের মধ্যে কেবল হাতে গোনা মাত্র কয়েকশতটি সর্বশ্রেষ্ঠ ছেলেমেয়েই যোগ্যতা অর্জন করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। একেকটি ছেলেমেয়ের পরিবার, বিশেষ করে বাবা মায়েদের কতটা শ্রম, ত্যাগ এবং কষ্টের বিনিময়ে ছেলেমেয়েরা এই সুযোগ পায়। এই সুযোগের সংবাদটিতে কতটাই না গর্বিত হন বাবা মায়েরা! ভর্তি হবার পর বাবা মায়েদের কতটাই না স্বপ্ন বোনা আরম্ভ হয় তাঁদের এই ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎকে ঘিরে! সেই বাবা মা যখন সংবাদ পান তাঁর সেই প্রিয় সন্তানটি একজন প্রকৌশলী নয়, রুপান্তরিত হয়েছে একজন নৃশংস খুনী হিসেবে, কিভাবে গ্রহণ করতে পারবেন তাঁরা এই সংবাদটি?

আমিও একজন পিতা। আমার জ্যেষ্ঠ সন্তানটি এই ২৬টি ছেলের কাছাকাছি বয়সের, সেও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। তার বন্ধুদের সাথে সে বেড়ায়, বন্ধুরা আমাদের বাসায় আসে। আজ যদি সে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতো, যেখানে ছাত্ররাজনীতির নিয়মিত চর্চা আছে, তাহলে কি আমাকেও সন্দেহ করতে হতো যে তার বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো খুনী হিসেবে রুপান্তরিত হয়ে গেছে?

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি তো সব সময়ই ছিল। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে আরম্ভ করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ছাত্ররাজনীতির ভুমিকা অস্বীকার করার কোনো সুযোগই নেই। একইভাবে ভবিষ্যতের জন্য গুণগত রাজনীতিবিদ গড়ে তুলতেও হয়তোবা ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু তাই বলে লেজুরব্রিত্তিক অপরাজনীতি, চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজি করার অপরাজনীতি, হলের সীট দখলের অপরাজনীতি যে একেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলছে, মেধাবী ছাত্রদের খুন-খারাবীতে মত্ত করে ফেলছে, এদের কাছ থেকে দেশ ভবিষ্যতে কেমন ধরণের রাজনীতিবিদ আশা করতে পারে? অপরাজনীতি যদি এতটাই প্রকট হয়ে ওঠে, রাজনীতিতে জড়ানো যদি সকলের উপর জুলুম করে চাপিয়ে দেয়া হয় বাধ্যতামূলকভাবে, এই খুনী বা খুনীর বন্ধুরাই তো হবে দেশের ভবিষ্যত রাজনীতিবিদ, আমলা, নীতিনির্ধারক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, আইনজীবি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী! ভাবা যায়, কাদের উপর দেশের ভবিষ্যত নির্ভর করছে?

আবরারের নির্মম মৃত্যুর পর শোনা গেল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি ছাত্রাবাসেই নাকি এমন টর্চার সেল রয়েছে। অর্থাৎ এই শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানটির শ্রেষ্ট ছাত্রদের মধ্যে কেবল এই অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত ২৫জনই নয়, আরও অনেক সম্ভাব্য খুনী রয়েছে। ভাবা যায়? কথাটি অনুমানের উপর ভিত্তি করে বলছি না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রভোস্ট সে সময়ই কয়েকটি শীর্ষ পত্রিকাকে এই তথ্যটি জানিয়েছিলেন। এর অর্থ হলো, এই টর্চার সেলগুলির অস্তিত্বের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অজানা নয়। এই তথ্যটি জানার পরও প্রশাসন যদি এগুলি নির্মূল করার ব্যাপারে কোনো কার্যকরী ভুমিকা না নেয়, এগুলিকে বহাল তবিয়তে চলতে দেয়, তাহলে তারাও কি পরোক্ষভাবে আবরারের মৃত্যুর জন্য দায়ী নয়? যে রাজনৈতিক দলগুলির ছত্রছায়ায় এই মেধাবী ছাত্রগুলি ক্রমে ক্রমে খুনী হিসেবে রুপান্তরিত হচ্ছে, তাঁদের কি কোনই দায়ভার নেই?

সুবিচার প্রসঙ্গে ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে, “Justice should not only be served, it must also be evident that it has been served.” অর্থাৎ, সুবিচার শুধু হলেই হবে না, রায়ে প্রতীয়মানও হতে হবে যে সুবিচার করা হয়েছে। আবরারকে আঘাত করায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সকলকেই মৃত্যুদণ্ড এবং পরিকল্পনায় বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, অর্থাৎ ৩০ বছরের কারাদন্ড, এবং ৫০,০০০ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদন্ড। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার ঘটনায় এতজন আসামী ছাত্রের মৃত্যুদণ্ডের নজির সৃষ্টি করা হলো এই রায়ের মাধ্যমে। বিচারক তাঁর রায় ঘোষনার সময় যথার্থভাবেই বলেছেন, এই সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হচ্ছে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনই না ঘটে। এই রায়টিতে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতেই পারে যে সুবিচার হয়েছে। তবে যে প্রশাসনের ছত্রছায়ায়, বা জানা থাকা সত্বেও এই টর্চার সেলগুলি বন্ধ করার ক্ষেত্রে যাদের অবহেলার কারণে আবরারের মৃত্যু হলো, পরোক্ষভাবে তাঁরাও তো দায়ী। তাঁদেরকে কেন এই বিচারের আওতায় আনা হলো না? অপরাজনীতিতে যে কেবল ছাত্ররাই জড়িত, তা তো নয়। শিক্ষক এবং প্রশাসনে থাকা ব্যক্তিরাও তো অনেকেই জড়িত। তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া তো আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অপরাজনীতির চর্চা হচ্ছে না। তাঁরা যদি দায়িত্বে সজাগ থাকতেন, তাহলে আজ আবরারের বাবা মায়ের কোল খালি হতো না, অন্য ২৫টি পরিবারকে মেধাবী সন্তানের পরিবারের পরিবর্তে খুনী পরিবার হিসেবে অভিশপ্ত হতে হতো না।

অভিযুক্ত হবার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিটি ছাত্রকে বহিষ্কার করে দায়িত্ব শেষ করেছে। যাদের অবহেলায় ঘটনাটি ঘটলো, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল বলে শুনিনি। আইনী প্রক্রিয়াতেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিজ্ঞ বিচারকের ভাষায়, সত্যিই যদি এমন একটি রায়ের মাধ্যমে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অপাংক্তেয় ও নৃশংস কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়, তাহলে শুধু এই ২৫জন ছাত্রই নয়, পরোক্ষভাবে জড়িত শিক্ষক এবং প্রশাসনিক ব্যক্তিদেরও এই বিচারের আওতায় আনা উচিৎ ছিল, যেন সকল প্রতিষ্ঠানেই প্রশাসনে থাকা মানুষগুলোও তাঁদের যারযার দায়িত্বে সক্রিয় হন, নিজেরাও যেন কোনো ধরণের অপরাজনীতিতে সম্পৃক্ত না হন, এবং তাঁদের স্বার্থে ছাত্রদেরও অপরাজনীতিতে ব্যবহার না করেন। পর্দার আড়ালে থাকা এই মানুষগুলিকেও যদি এই বিচারের আওতায় আনা হতো, তবেই হয়তো আরও বেশি স্বস্তি বোধ করতাম!

নিম্ন আদালতের এই রায় উচ্চ আদালতে গেলে কতটুকু টিকবে, তা আমার জানা নেই। শেষ পর্যন্ত গিয়ে রায় কতটুকু কার্যকর করা হবে, তাও জানি না। আবরারের হতভাগ্য বাবা মা তাঁদের জীবদ্দশায় এই রায়ের শেষ পরিনতি দেখে যেতে পারবেন কিনা, ছেলে হত্যার সুবিচার শেষ পর্যন্ত পাবেন কিনা জানি না। তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা জানানো ছাড়া আর কিছুই বলার নেই। ২৫জন অপরাধী ছেলে তাদের কর্মফল ভোগ করুক। কিন্তু তাদের বাবা-মায়েদের তো কোন অপরাধ নেই। মেধাবী ছেলে নিয়ে গর্বিত পরিবারগুলি আজ সমাজে ঘৃণিত হচ্ছে। যে মানুষগুলির দায়িত্বে অবহেলার কারণে এই মেধাবী ছেলেগুলি এমন অপরাধে জড়িত হয়ে যাবার সুযোগ পেল, সেই মানুষগুলি কিছু না কিছু শাস্তি পেলে হয়তো এই ২৫টি পরিবার কিছুটা স্বস্তি পেত। একজন বাবা হিসেবে এই ২৫জন বাবা মায়ের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

এই ২৫জনের যে কোনো একজন বাবা মা হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাদের বিরুদ্ধে এখন আইনী প্রক্রিয়া আরম্ভ করতে পারে। যদি সত্যিই সেটি করে, এবং যদি সত্যিই কেউ অভিযুক্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়, সেইদিন আবরার হত্যার প্রকৃত সুবিচার প্রক্রিয়া শেষ হবে। সেদিন সত্যি সত্যিই সকলের সাথে আমিও পুর্নভাবে আনন্দিত হবো!

সকলের মধ্যে শুভবুদ্ধি ও শুভচিন্তার উদয় হোক, পরমতসহিষ্ণুতার প্রসার ঘটুক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে ছাত্ররাজনীতির নামে অপরাজনীতির চর্চা চিরতরে বন্ধ হোক!
Copied

শ্রদ্ধাভাজন, সম্মানিত স্যার, উপাধ্যক্ষ এম.সুলতান উদ্দিন, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে অলংকৃত করেছেন, উনার অনেক ছাত্র-ছ...
07/12/2021

শ্রদ্ধাভাজন, সম্মানিত স্যার, উপাধ্যক্ষ এম.সুলতান উদ্দিন, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে অলংকৃত করেছেন, উনার অনেক ছাত্র-ছাত্রী আজ দেশে উচ্চ শিক্ষার আসনে ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে অলংকৃত, অনেকে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি আমার সরাসরি শিক্ষক না হলেও উনার শিক্ষকতা পেশায় দক্ষতাকে আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি, তিনি একজন পেশায় শিক্ষক হিসেবে একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলাম এক সময়, যথেষ্ট সৎ, বিনয়ী, শিক্ষাবান্দব একজন মানুষ তিনি। অনেক হতদরিদ্র শিক্ষার্থী উনার প্রচেষ্টায় আজ বিসিএস সহ অনেক উচ্চ পর্যায়ে। তিনি যখন প্রথম ২০১৬ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন,তখন অনেকেই নব আশায় বুক বেধেছিলেন। কিন্তু তিনি, এই একজন মানুষ, একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে যেমন নিজেকে অলংকৃত করেছিলেন, তাঁর চেয়ারম্যান পদটিকে সমানতালে কিংবা এর চেয়ে ঢের বেশি ভাবে সম্মানিত করেছেন, সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন একজন আদর্শ চেয়ারম্যান হিসেবে। আমি আসলে উনার পক্ষপাতী কথা না বলে সত্যটা আজকে প্রথম বলতে চেয়েছি। যদিও উনাকে নিয়ে কথা বলার জ্ঞান আমার এখনো অর্জিত হয় নি। তবু বলার প্রয়োজন মনে করছি, কারন যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্যতার আসনে বসানো উচিত। যা উনার নির্বাচনী এলাকার জনগন বুজতে পেরেছিলেন। যার জন্য উনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন বহু ভোটের ব্যবধানে। তিনি এবারও নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলে এলাকার জনগন, দলীয় মনোনয়ন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উনার উপর আস্থা রেখে আবারও নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। আশা নয়, কিংবা প্রত্যাশার বলি নয়, এটা বিশ্বাস যে, নির্বাচনী এলাকার জনগন উনাকে উপযুক্ত সম্মান দিয়ে সম্মানিত করবেন এবং তিনি এবারও নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার জন্য মনোনিবেশ করে আপামর জনগনের কাছে আরও সমাদৃত হয়ে সকলের দোয়া নিয়ে দীর্ঘ হায়াতের জীবন পার করবেন।
স্যার এম.সুলতান উদ্দিন আপনার জন্য শুভকামনা।

Address

H-43, Sec/03, Uttara
Dhaka

Telephone

+8801672878191

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bjoy Aziz posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Bjoy Aziz:

Share