23/09/2016
কিছুদিন আগে আমার ভার্সিটির ই এক ভাইয়া ক্যাডার হয়েছেন।উনাকে কখনো তত সিরিয়াস দেখিনি,তাই কিউরিওসিটি থেকে জানতে চাইলাম উনার "কোটা" আছে কিনা।উনি বললেন নাই।
ভাবলাম,অনেকেই তো আছে কম পড়েও ভাল করে,বা দেখতে অগোছালো বাট আসলে সিরিয়াস।
যাক,ব্যাপার টা ভুলে গিয়েছিলাম,কিন্তু কালকে শুনি উনার দাদা মুক্তিযোদ্ধা।কত্ত বড় গর্ব আর সম্মান করার জায়গা।অথচ উনি তা সবার কাছে লুকিয়ে যাচ্ছেন।কারন এখন আর এটা গর্বের নয়,বরং অসম্মানের,যা নিজের পরিচয় কে আরো ছোট করে দেয়।এই পরিচয় দিতে এখন মানুষ লজ্জা পায়,আত্মসম্মানে বাঝে।বাঝবেই না কেন??ক্যাডার হওয়ার খবরে মানুষ যতটা সম্মান দিয়ে কারোর দিকে তাকায়,কোটা আছে শোনার পর তার চেয়ে বিষদৃষ্টি তে তাকায়।
"কোটা" জিনিস টা শুনলেই এখন সবার চোখে ভাসে গর্দভ কেউ একজন হাজারো মেধাবীর ভাত মেরে অনৈতিক ভাবে ক্যাডার হয়ে গেছে।আর "মুক্তিযোদ্ধা কোটা" সর্বাধিক (৩০%) বলে এটা এখন মানুষ সবচেয়ে অপছন্দ করে।
যে পরিচয় মানুষ আগে গর্ব নিয়ে বলত,"আমি হচ্ছি বীরসেনা মুক্তিযোদ্ধা "..ছেলে বলত "আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ",সন্তানদের বলত "তোদের দাদা মুক্তিযোদ্ধা "...দাদা-নানারা সবার সামনে বুক ফুলিয়ে নাতিনাতনি দের যুদ্ধের গল্প শোনাতেন......
আর এখন দাদা নানারা নাতিনাতনি দের কানে কানে ফিসফিসিয়ে বলবেন "দাদুভাই,চিন্তা কর না,আমাদের তো সার্টিফিকেট আছেই,তা দেখাইয়াই সব জায়গা পার হওয়া যাবে,কাউকে বল না যেন"...
এখন মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় যেন আরো লজ্জার।
এমনকি পিএসসি নিজেও কোটাধারী দের পরিচয় দিতে লজ্জা পায়,তাই মেধা আর কোটা আলাদা করে রেসাল্ট দেয় না।এতে নাকি বৈষম্য করা হবে।
তো যখন দেশের মোট জনসংখ্যার ১% মুক্তিযোদ্ধা দের জন্য ৩০% সীট ফাঁকা রাখা হয়,(বাকি কোটা গুলো বাদ ই দিলাম)তখন এটা কোন নীতিতে সমর্থন যোগ্য??এটা তো এখন দেখা যাচ্ছে,আগে পাকিস্তানি রা আমাদের শোষণ করত,যে কোন সরকারি চাকরির সিংহভাগ তারা দখল করত,আর এখন নিজের দেশের ই কিছু কোটাধারী তা করছে,দেশ স্বাধীন হয়েছে,কিন্তু সাধারান মানুষ এখনো সেই আগের মত বন্দী,বলির পাঁঠা হচ্ছে।
আমি নিজে একজন মেয়ে হয়েও "নারী কোটা" (১০%) সমর্থন করি না।নারীরা এখন অনেক এগিয়ে।এস.এস.সি,এইচ.এস.সি র রেসাল্ট বের হলে দেখা যায় মেয়েদের পাশের হার বেশী। আর বিসিএস তো আর "কুস্তি লড়াই" না যে,মেয়েদের শক্তি কম বলে ওদের জন্য আলাদা কোটা রাখা লাগবে।ব্রেইন তো সবার ই সমান।
আমি মনে করি একমাত্র "প্রতিবন্ধী কোটা" ছাড়া আর সব ই তুলে দেয়া উচিৎ।
সময় এসেছে এখন এসব অদ্ভুত, আজগুবি নিয়ম চেঞ্জ করার।
ধিক,সেই কোটা ব্যাবস্থা কে যা আমাদের "মহান মুক্তিযুদ্ধ " কে কলুষিত করছে,তরুন প্রজন্ম এর কাছে "মুক্তিযুদ্ধ -মুক্তিযোদ্ধা -মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট " কে এখন এক আতংকে পরিণত করেছে।
আর আজকাল যেখানে সন্তান, নিজের বাবা মাকেই দেখে না,সেখানে চাকরি পেয়ে দাদা-নানা কে খাওয়াবে এটা ভাবা তো বোকামি। তাই মুক্তিযোদ্ধা দের সাহায্যের নামে এসব ভক্কর-চক্কর "কোটা" বাদ দিয়ে তাদের জন্য "পুনর্বাসন কেন্দ্র" ও "ফান্ড" খোলা উচিৎ। পত্রিকা খুললেই তো দেখা যায় কত মুক্তিযোদ্ধা না খেয়ে, চিকিৎসার অভাবে মরছে,ভিক্ষা করছে।মরে গেলে "গার্ড অফ অনার" দিয়ে মাটির নিচে পুইত্যা রাইখা লাভ কি,যদি বাইচ্যা থাকতে খাইতেই না পারে??
সবশেষে, আমরা চাই তারা যেন গর্ব করে বলতে পারে তাদের বাবা-দাদারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন,তাদের আত্মত্যাগ এ আমরা আজ স্বাধীন দেশ পেয়েছি,চাইনা.. তারা লজ্জায় তাদের পরিচয়,আর গর্বের জায়গা লুকাক।
Sumya Binte