Shamim Anwar

Shamim Anwar Additional Special SP at CID
CID Headquarters, Malibagh, Dhaka. BCS (Police), 34th BCS

18/07/2026

আমার দেখাদেখি পরিমনিও 'আর্জেন্টিনা কাপ জিতলেই বিয়ে' করার ঘোষণা দেওয়ার প্রতিবাদে আমি এ বিষয়ক আমার ঘোষণাটি এতদ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিলাম। [এখন হেটার্সরা বলবে, পরিমনি-টনি কিছু না, আপনি আসলে একটা অজুহাত খুঁজছিলেন। সেটা পেয়ে এখন কায়দা করে নিজেকে বিয়ে থেকে বাঁচিয়ে নিলেন আরেকবার!!]

গত দুইদিন প্রশ্নেপ্রশ্নে আমার ইনবক্স সয়লাব- 'তবে কি পরিমনিই আপনার সেই কানা, খোঁড়া, ল্যাংড়া..?' 'দুইজনের পোস্ট কী করে মিলে গেল, নিশ্চয়ই কোনো রহস্য আছে!! সুখবরটা কবে পাচ্ছি? ইত্যাদি ইত্যাদি।

আরে ভাই, নায়িকাকে নিয়ে গসিপ হলে সব ছেলেরই ভালো লাগে। মনেমনে হলেও কিঞ্চিৎ প্রেমপ্রেম ভাব জাগে। কিন্তু তাই বলে পরিমনি!!! বিদ্যা সিনহা মিম, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি বা এমন কেউ হলেও না হয় মানা যেত! [নাছোড়বান্দা হেটার্সরা এখুনি আবার প্রশ্ন তুলে বলবে- এই দুই নায়িকা লম্বা, এজন্যই কি আপনি তাদের নাম নিলেন?] কিন্তু তাই বলে পরিমনি! ভাই, আমাকে জ্বালাতনের টপিকের অভাব বোধ করলে জানাইয়েন, আমি স্মরণ করায় দিব। আমার ইনবক্স ভরা টপিক-
'ভাই, আপনি এখনো বিয়ে করেননি?
'কেন বিয়ে করেননি?' ছ্যাঁকা খাইছেন নাকি?'
'আপনি কি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছেন, কখনো বিয়ে করবেন না?'
অনেকে বিয়ের কথা বাদ দিয়ে এককাঠি আগে বেড়ে জিজ্ঞেস করে বসেন 'ভাই, বাচ্চাকাচ্চা কয়টা?'

ওকে, এসব বলেবলে আমাকে যতখুশি জ্বালিয়ে ছারখার করতে পারেন। আমি কিচ্ছু বলব না। কিন্তু পরিমনি গসিপ? প্লিজ মাফ চাই ভাই।

29/06/2026

শুধু চাই যেকোনো পরিস্থিতিতে ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধাচারণের গাটস: ৪৭তম বিসিএসে সুপারিশকৃত ক্যাডারগণের প্রতি!

সারাজীবন এই চাকরি করে যেতেই হবে, 'যেকোনো মূল্যে' চাকরিটা ধরে রাখতে/চাকরিক্ষেত্রে উন্নতিবিধান করতেই হবে। অন্যথায় জীবনটাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। এমন ধারণা থেকে যদি বের হয়ে আসতে পারেন, আমি লিখে দিচ্ছি, আশা করা যায় আপনি সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে আপনার আসন্ন চাকরিজীবন অতিবাহিত করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। সাময়িক কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়তো হতে হবে। চাকরির ওপর ঝড়-ঝঞ্ঝা আসতে পারে, নিম্নপদে পড়ে থাকতে হতে পারে বছরের পর বছর, গাওগেরামে পোস্টিং হতে পারে। আমি বলি, পরিস্থিতি যেমনই হোক, নিজের ওপর বিশ্বাসটা শুধু রাখবেন। যিনি আপনাকে এই চাকরিটা দান করেছেন, সেই তিনি আপনার জন্য হালাল রিজিকের ব্যবস্থাও কোথাও না কোথাও করে রেখেছেন। আর না হলেও নেই। যেকোনো পরিস্থিতিতে ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধাচারণ করার মতো গাটস প্রদর্শন করতে পারাই মানুষ হিসেবে আপনার এই পৃথিবীতে আগমনকে সার্থক করার জন্য যথেষ্ট।

আপনারা কে কে সচিব, আইজিপি, কমিশনার, অধ্যাপক ইত্যাদি বড় বড় পদে যেতে পারবেন, কে কত ক্ষমতার অধিকারী হবেন বা কারা ক্রিম পোস্টিং (!) এর নাগাল পাবেন, এসব আমার কাছে একেবারেই গৌন। শুধু চাইব, প্রতিমুহূর্তে অন্যায়ের, অন্যায্যতার, অমানবিকতার প্রতিবাদে সরব থাকার মতো গাটস দিয়ে যেন মহান পরওয়ারদিগার আপনাদের বুক ভর্তি করে দেন। যত অজনপ্রিয় হতে হয়, মানুষের নিন্দেমন্দ হজম করতে হয়, এমনকি যদি চাকরি চলেও যায়, ডোন্ট কেয়ার। যিনি আপনাকে এই পদে এনেছেন, তিনি অন্য কোথাও কিছু একটা ব্যবস্থা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ। মানসম্মান? সেটা দেওয়া- নেওয়ার মালিকও তো তিনিই। ৪৭তম বিসিএসের নতুন অফিসারদের উদ্দেশে আমার তরফ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই। শুভপ্রত্যাশা নিরন্তর।

এখন বেরসিক কেউ বলে বসতে পারেন, আপনি কী করছেন, আগে সেইটা বলেন। যৎসামান্য চেষ্টা ছাড়া আসলে বলার মতো তেমন কিছুই পারিনি। আমার চাকরিজীবনের পোস্টিং প্লেসগুলো দেখলে আর আমার সঙ্গে চাকরি করা বিভিন্ন পদের হাজার হাজার সহকর্মীর সঙ্গে কথা বললে আমার নগন্য প্রচেষ্টা সম্পর্কে কিছু আইডিয়া পাবেন হয়তো। যাহোক, নবনিয়োগপ্রাপ্ত একজন অফিসারও যদি এই অধমের কথা আমলে নিয়ে স্রোতের বিপরীতগামী সমস্যাসঙ্কুল এই পথ বেছে নেন, আমি ধন্য অনুভব করব।

[পুলিশ ভেরিফিকেশন বা অনুরূপ বিষয়ে আপনাদের কারো যদি জটিলতা বা জিজ্ঞাসা থাকে, কষ্ট করে প্লিজ ইনবক্স। অবশ্যই উত্তর দিব প্রিয় ভাই-বোনেরা।]..............................................
শামীম আনোয়ার
বিসিএস (পুলিশ)
এডিশনাল স্পেশাল এসপি (সিআইডি)
সিআইডি হেডকোয়ার্টার্স, মালিবাগ, ঢাকা।

আর্জেন্টিনা যদি এবার কাপ জিতে:এক সপ্তাহের মধ্যে আমি বিয়ে করে ফেলব। কানা, খোড়া, ল্যাংড়া যাকেই পাওয়া যাবে। decision final....
16/06/2026

আর্জেন্টিনা যদি এবার কাপ জিতে:
এক সপ্তাহের মধ্যে আমি বিয়ে করে ফেলব। কানা, খোড়া, ল্যাংড়া যাকেই পাওয়া যাবে। decision final. 🫢🤟😎
শুধুই আর্জেন্টিনা...🇦🇷💙😍💙🇦🇷

08/06/2026

এআই-নির্মিত কৃত্রিম ছবি/ভিডিওর পরিচিতি
প্রকাশ বাধ্যতামূলক না করলে সামনেই মহাবিপদ!
---------------------------------------------------------------

কয়েক বছর আগেও একটি ছবি বা ভিডিওকে সত্যের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে ধরা হতো। “ভিডিও আছে”, “ছবি আছে”- এই দুটি বাক্যই কোনো ঘটনার সত্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় যথেষ্ট ছিল। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির ফলে আমরা এমন এক বাস্তবতায় এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে চোখে দেখা জিনিসও আর নির্ভরযোগ্য নয়। এখন একটি ভিডিও দেখেও নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন হয়ে পড়ছে- এটি বাস্তব, নাকি নিখুঁতভাবে নির্মিত একটি ডিজিটাল প্রতারণা।

এআই-নির্মিত ছবি ও ভিডিও প্রযুক্তি দিন দিন এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যে, অনেক ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদেরও ফরেনসিক বিশ্লেষণের সাহায্য নিতে হচ্ছে আসল ও নকলের পার্থক্য নির্ণয়ের জন্য। একজন মানুষের মুখ, কণ্ঠস্বর, অঙ্গভঙ্গি কিংবা আবেগ- সবকিছু এত নিখুঁতভাবে অনুকরণ করা সম্ভব হচ্ছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে বিভ্রান্ত হওয়া প্রায় অনিবার্য।

এই পরিস্থিতিতে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে- মানুষ কীভাবে বুঝবে কোনটি বাস্তব আর কোনটি কৃত্রিম? পথ একটাই- আইন করে বাধ্যতামূলকভাবে এআই-নির্মিত ছবি ও ভিডিওর উপর স্পষ্ট ও দৃশ্যমানভাবে উল্লেখ করা যে এটি একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্ট। এই প্রদর্শনীটাও এমন সুস্পষ্টভাবে হতে হবে, যাতে একজন সাধারণ মানুষও প্রথম দেখাতেই বুঝতে পারেন- এটি বাস্তব দৃশ্য নয়, বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মিত একটি উপস্থাপনা। আর কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সেই পরিচয় গোপন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে থাকা দরকার কঠোর আইনগত ব্যবস্থার বিধান।

আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে কয়েক সেকেন্ডের একটি ভুয়া ভিডিও দিয়েই একজন মানুষকে অপরাধী, দুর্নীতিবাজ, রাষ্ট্রবিরোধী কিংবা সামাজিকভাবে ঘৃণিত ব্যক্তিতে পরিণত করা সম্ভব হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একটি মিথ্যা ভিডিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। পরে সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হলেও যে মানসিক, সামাজিক বা পেশাগত ক্ষতি হয়ে যায়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আর পূরণ করা সম্ভব হয় না।

এআই-নির্মিত কৃত্রিম কন্টেন্ট ও প্রকৃত কন্টেন্ট আলাদা করতে না পারার বিপদ এখন আর শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক সম্প্রীতি এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও এটি গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা এখন হরহামেশাই দেখে থাকি- বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারি কর্মকর্তা বা ধর্মীয় নেতার নামে কৃত্রিম ভিডিও বানিয়ে সেটা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে তাকে এমন কিছু বলতে বা করতে দেখা যাচ্ছে যা তিনি কখনোই বলেননি বা করেননি। ইতোমধ্যে এই এআই নির্মিত ভুয়া ভিডিও গুজব ছড়ানো ও ব্যক্তির চরিত্র হননের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বাস্তবতা এটাই যে, মানুষ নিজের চোখকে কানের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করে।

আমাদের দেশের প্রধানত রক্ষণশীল ও অসচেতন সমাজ কাঠামোতে নারীদের ক্ষেত্রে এসব ভিডিওর প্রভাব আরো ভয়াবহ, আরো বিস্তৃত। যদি কোনো মেয়েকে নিয়ে কৃত্রিম ভিডিও বানিয়ে সমাজমাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন আমাদের দেশের অসচেতন সামাজিক ব্যবস্থা কোনো রকম বাছবিচার ছাড়াই সেটাকে কথিত 'ভাইরাল' করে দেয়। সবাই বুঝে,না বুঝে এমনভাবে নিন্দামন্দ করতে থাকে যে, রক্ষণশীল সামাজিক বাস্তবতায় পরিস্থিতির শিকার নারীর বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়ে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রযুক্তি প্রতারণার নতুন নতুন পথ খুলে দিয়েছে। ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি, সাম্প্রদায়িক উসকানি- সবকিছুর জন্যই এআই-নির্মিত কনটেন্ট এখন কার্যকর একটি অস্ত্র। অতীতে গুজব ছড়াত মুখে মুখে বা লেখার মাধ্যমে; এখন তা ছড়ায় ভিডিওর ভাষায়, যা মানুষের মনকে অনেক দ্রুত প্রভাবিত করে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যেই এআই-নির্মিত কনটেন্ট চিহ্নিতকরণ এবং ডিপফেক নিয়ন্ত্রণে আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ তারা উপলব্ধি করেছে, প্রযুক্তির বিকাশকে থামানো সম্ভব নয়, কিন্তু তার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রেখেও প্রযুক্তির স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব- যদি সঠিক আইনি কাঠামো তৈরি করা যায়। আমাদের দেশেও অবিলম্বে এমন সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন ও যথাযথ প্রয়োগ অতীব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যথায় এআই-নির্মিত ভিডিও/ছবির মাধ্যমে সৃষ্ট সামাজিক বিশৃঙ্খলা যে অবিলম্বে সীমা ছাড়াবে, এটা বলাই বাহুল্য।

অবশ্যই এআই কোনো সমস্যা নয়। শিল্প, শিক্ষা, গবেষণা, বিনোদন কিংবা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে এআই অসাধারণ সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সমস্যা প্রযুক্তিতে নয়; সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হয় মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য, মিথ্যাকে সত্যের রূপ দেওয়ার জন্য, কিংবা প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য।

এআই-নির্মিত ছবি ও ভিডিওতে বাধ্যতামূলক ওয়াটারমার্ক ও দৃশ্যমান ঘোষণা অন্তর্ভুক্ত করা দরকার যে, এটি একটি এআই-নির্মিত ছবি/ভিডিও। এবং এর ব্যতিক্রম কিছু করলে কঠোর শাস্তির বিধান এখন সময়ের দাবি। এটি প্রযুক্তির বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নয়; বরং প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহারের পক্ষে অপরিহার্য পদক্ষেপ।

শঙ্কা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে নিয়ে নয়; বরং সত্যকে চিনে রাখার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলাটাই আগামীর দুনিয়ায় অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার সীমারেখা ঝাপসা হয়ে ওঠার বিপদও ততই বাড়বে। সামাজিক মাধ্যমসহ প্রযুক্তির অদক্ষ ও অসচেতন ব্যবহারকারীতে ভরা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এই বিপদের শঙ্কা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় দৃশ্যতঃ অনেক অনেক বেশি। আর এর সুযোগ নিয়ে মিথ্যের বেসাতি করে ক্রমবর্ধমান হারে সমাজকে অস্থির ও বিশৃঙ্খল করে তুলতে পারে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। আইন প্রণয়ন করে এআই-নির্মিত কৃত্রিম কন্টেন্টের পরিচয় দৃশ্যমানভাবে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক না করলে বড় সামাজিক বিশৃঙ্খলাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।..........................................................
© শামীম আনোয়ার
এডিশনাল স্পেশাল এসপি (সিআইডি)
সিআইডি হেডকোয়ার্টার্স, মালিবাগ, ঢাকা।

05/06/2026

আমি মনে করি সব দোষ ওই পুলিশ কনস্টবল বাবারই। প্যারেন্টিং কত খারাপ হলে মেয়ে তার জন্মদাতা বাবাকে নিয়ে জনসমক্ষে এভাবে অপমান অপদস্ত করে কথা বলতে পারে ভাবতে পারেন!

>>'আমার বাবা চরম মিথ্যাবাদী'
>>'আমার বাবা সবাইকে টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছে। আমার বাবা (পুলিশে) চাকরি করে বলে সে-ই শুধু দেশের নাগরিক? আমরা কিছু না? যারা টাকা আছে, টাকার পাহাড়/পাওয়ার আছে, তারাই কেবল নাগরিক?
>>'আমার বাবা সাইকো। আমার বাবা-মা কান্নাকাটির নামে একটিং করছে। একটিং-য়ে ওরাই সেরা। তারা অহংকারী।
>> আমার বাবা পুলিশ, র‍্যাব ও গুণ্ডা পাঠিয়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি।

আচ্ছা, একজন পুলিশ কনস্টবল কী এমন টাকার মালিক হয় যে, সবাইকে কিনে ফেলবে!! ক্ষুদ্র চাকুরে নিজের পিতাকে টাকার পাহাড়ের মালিক বলে কোন দিকে ইঙ্গিত করা হলো, সহজেই অনুধাবনযোগ্য। সম্ভবত মেয়েটা জানে, ঠিক কোন জায়গায় আঘাত করলে তার বাবা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে। খুব খুব দুঃখজনক।

পুলিশি অভিজ্ঞতা থেকে আরো বলি, এই গল্পের একটি চরিত্র খুব সম্ভবত মাদকাসক্ত (আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে নির্দিষ্ট করে বললাম না)। কিছুদিন পর এমন একটা পরিস্থিতি না হলে আমি খুশি হব, যেখানে পুলিশকে আরেকটি মামলা রেকর্ড করতে হচ্ছে। নারী নির্যাতন /যৌতুক দাবির মামলা। যেখানে উল্লেখ থাকবে যে, আগের ভিডিওটা তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোক তাকে জোর করে করতে বাধ্য করেছিল। নিজের জন্মদাতা পিতাকে অসম্মান, অপদস্ত করে মেয়েটি কতটা সুখেশান্তিতে থাকে, দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

আর যে এতই খারাপ, তাকে বারবার বাবা ডাকার দরকারও কী ছিল। তার চেয়ে অন্য কাউকে বাবা বানিয়ে নিয়ে জন্মদাতাকে বাবার জায়গা থেকে মুছে দিলেও হতো না! যা হোক, মন থেকে চাই, আমার পূর্বানুমানটি সত্যি না হোক।

ওহ, আরেকটা কথা- যেভাবে মেয়েটি 'ভিডিওটা বেশি বেশি শেয়ার' চাইলো, তাতে মনে হয় কন্টেন্ট ক্রিয়েশন/ টিকটক জগতে তার ভবিষ্যত বেশ উজ্জ্বল।

02/06/2026

মনডা ক্যান জানি খুব শান্তি শান্তি লাগতেছে রে...

বিশ্বজুড়ে আমরা কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে প্রকাশ্যে- গোপনে, অন্তরে- বাহিরে মধ্যপ্রাচ্যের কশাইটাকে নিয়ে যে কথাগুলো বলি, সেই একই কথা যখন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষটিও বলে দেয়, তা-ও কিনা এক্কেবারে কুকুরটির মুখের উপর...! সেই মুহূর্তে জোঁকের মুখে লবন পড়ার মতো করে কুকুরটি কেমন চুপসে গিয়েছিল, ভাবতেই অন্যরকম লাগছে 😜😜😜😜 ফ্যান হয়ে গেলাম স্যার।

৩৪তম বিসিএসের এক দশক: চাকরি টিকে আছে, কিন্তু স্বপ্নগুলো?দেখতে দেখতে আমরা ৩৪তম বিসিএস পরিবার দশ পেরিয়ে এগারোতে পদার্পণ কর...
01/06/2026

৩৪তম বিসিএসের এক দশক: চাকরি টিকে আছে, কিন্তু স্বপ্নগুলো?

দেখতে দেখতে আমরা ৩৪তম বিসিএস পরিবার দশ পেরিয়ে এগারোতে পদার্পণ করে ফেললাম। ২০১৬ সালের ১লা জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হলরুমে বসে কত স্বপ্ন, কত কল্পনা নিয়ে যোগদানপত্রে স্বাক্ষরটি করেছিলাম!

যদি জানতে চান- এই দশ বছরে সেসব স্বপ্নের বাস্তবায়ন কতটা? আমার ক্ষেত্রে খুবই কম, প্রায় শুন্যের কাছাকাছি। সাফল্য বলতে যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে তা শুধু এই যে, এই দশ বছর ধরে আমি বুঝতে শিখেছি যে, একজন ব্যক্তির চাওয়া যত তীব্রই হোক না কেন, বাস্তবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা খুবই কঠিন, প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। অন্তত একজন সিভিল সার্ভেন্টের তরফে।

আমি আরো বুঝতে শিখেছি যে, যদি স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়াই হয় কারো লক্ষ্য, তার জন্য ঈপ্সিত স্বপ্ন-কল্পনার বাস্তবায়ন জলবৎ তরলং। তিনি শনৈঃ শনৈঃ উন্নতির সিঁড়ি ভেঙে দিব্যি এগিয়ে চলবেন। তরতর করে। পকেট স্ফিত হবে, প্লট-ফ্ল্যাট, গাড়ি-বাড়ি হবে, একের পর এক বাড়বে ব্যাংক স্থিতির অঙ্ক-সংখ্যা। এর অংশবিশেষ গরিবদুঃখীদেরকে দান করে তিনি সমাজে নিজের ঔদার্যের পরিচয়ও তুলে ধরতে পারবেন। কোনো সমস্যা নেই।

কিন্তু যদি কেউ বিদ্যমান অপব্যবস্থার বিপরীতে দাঁড়াতে চান, যুগযুগ ধরে নানান শাসনব্যবস্থায় যাদের অভিন্ন নিগ্রহের গল্প, সেই গরিব- অসহায় মানুষের পক্ষে নিজের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলেই হয়েছে! নানামুখী সমস্যা আষ্টেপৃষ্টে তাকে গ্রাস করতে ছুটে আসবে। ভেতর- বাহিরের নির্মম বাস্তবতা তাকে 'ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি' মুডে নিয়ে যাবে। কিছু করতে তো পারবেনই না, বরং পেরেশানিতে জেরবার হবেন অহর্নিশ। সিস্টেমবাজ অফিসারের হাতেমতাঈ ইমেজের বিপরীতে তিনি মহাকিপ্টুস লোক হিসেবে সমাজে দুর্নাম কামাবেন। সমাজের লোকজন বলবে, অমুকের ছেলে অমুক এত বড় অফিসার হয়ে লাভটা কী হলো। আমাদের কোনো কাজেই তো এলো না! সমাজের জন্য তো কিছুই করল না।
[আমি এখন আর দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজ বলি না, তার বদলে বলি সিস্টেম ও সিস্টেমবাজ। দুর্নীতিবাজের অপরাধ তো একমুখী। সিস্টেমবাজের অপরাধ দুর্নীতিসহ আরো বহু বহু বহুমুখী।]

পর্বতপ্রমাণ সেই বৃত্ত ভাঙতে এই গরিব মাঝেসাঝে যৎসামান্য চেষ্টার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল বৈকি। কিন্তু শেষব্দি সবই ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা- সিস্টেমের সঙ্গে মানিয়ে চলতে না পারা। আরো অনেক অনেক কথা বলার ছিল। কিন্তু চাকরিবিধির অদৃশ্য শেকলে হাত-পা-মুখ বাঁধা। সংক্ষেপে শুধু এটুকু বলি, যেসব স্বপ্ন পূরণের আকাঙ্ক্ষায় সাধের বিসিএস ক্যাডারটা হতে চেয়েছিলাম, হওয়ার পর তার কোনোটাই আসলে সেভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। নিকট বা দূর ভবিষ্যতেও যে পারব, তেমন সম্ভাবনাও প্রায় অনুপস্থিত। চাকরিটা টিকে আছে, আমিও মাস শেষে পাওয়া বেতনে দুমুঠো ডালভাত খেয়ে বেঁচেবর্তে আছি- এই তো এটুকুই।

এদিকে বিভিন্ন ক্যাডারে কর্মরত আমার সহকর্মীরা প্রায় সবাই যারযার অধিক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন, রাখছেন আলহামদুলিল্লাহ। যোগাযোগ কম হলেও আমি আপনাদের খোঁজখবর নিয়মিতই রাখি বন্ধুরা। আপনাদের প্রতিটি সাফল্য, প্রতিটি জয়গাঁথা আমাকে আনন্দিত করে, হে কর্মবীরগণ। আল্লাহপাক আপনাদেরকে আমানে- এহসানে রাখুন, আজীবন তাঁর রহমতের চাদরে পরিবেষ্টিত করে রাখুন, আপনাদের জন্য কায়মনোবাক্যে এই দোয়া রইলো। দশক পূর্তিতে ৩৪ পরিবারের সকল সহকর্মী, সহযাত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।...................................................
শামীম আনোয়ার
বিসিএস (পুলিশ)
এডিশনাল স্পেশাল এসপি
সিআইডি, ঢাকা।

আসামি গ্রেপ্তারের দাবি তোমার টাইমলাইন জুড়েহয়তোবা এসি রুমে শুয়েই, প্রতিবাদের তীব্র সুরেশোনো, তখন আমিও কিন্তু পথেপ্রান্তরে...
22/05/2026

আসামি গ্রেপ্তারের দাবি তোমার টাইমলাইন জুড়ে
হয়তোবা এসি রুমে শুয়েই, প্রতিবাদের তীব্র সুরে
শোনো, তখন আমিও কিন্তু পথেপ্রান্তরে বেড়াই ঘুরে
সেই আসামিরই সন্ধানে, পুড়ে গ্রীষ্মের খর রোদ্দুরে!

কী, রাগ করলা!

19/05/2026

সাইবার সংক্রান্ত সমস্যায় যেভাবে সিআইডির সহযোগিতা নিবেন!

আপনার ছবি/ভিডিও ব্যবহার করে কেউ নোংরা কন্টেন্ট বানিয়ে আপনাকে হ্যারেস করছে? ফেসবুক আইডি হ্যাক, বিকাশ/নগদ প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন? ভুয়া চাকরির অফার, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, মেসেঞ্জারে পরিচয় গোপন করে প্রতারণা, বিদেশ থেকে লটারির প্রলোভন, “OTP দিন—অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করুন” টাইপের ফাঁদ, কিংবা প্রেমের অভিনয় করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েছেন?

এসব ঘটনার শিকার হলে দেরি না করে সরাসরি সিআইডির সাইবার শাখার সঙ্গে কথা বলুন।
#সিআইডি #সাইবার #হটলাইন: 01320010148

দুঃখজনক হলেও সত্য—অনেক মানুষ সমস্যায় পড়ার পর প্রকৃত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে না গিয়ে প্রথমেই ফেসবুকের কমেন্ট সেকশনের “আইটি এক্সপার্ট”, “রিকভারি মাস্টার” কিংবা ইনবক্সে এসে সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া অচেনা লোকদের বিশ্বাস করেন।
আর এখানেই ঘটে দ্বিতীয় প্রতারণা!

প্রতারকেরা কেউ প্রচার করে “আমাদের টিম আন্তর্জাতিক সাইবার স্পেশালিস্ট”, কারও বাগাড়ম্বর "আমরা এফবিআই-এর সঙ্গে কাজ করি", কেউবা আবার ভুয়া সিআইডি, ভুয়া পুলিশ কিংবা ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট ইত্যাদি পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের আতঙ্ককে পুঁজি বানায়।

এরপর শুরু হয় নতুন ফাঁদ। OTP চাওয়া, ইমেইল পাসওয়ার্ড নেওয়া, নতুন ছবি- ভিডিও দিতে বাধ্য করা, বিকাশে টাকা পাঠাতে বলা, রিমোট অ্যাপ ইনস্টল করানো, ব্যক্তিগত ছবি/ভিডিও সংগ্রহ করা, ব্যাংক তথ্য হাতিয়ে নেওয়া ইত্যাদি।

মনে রাখবেন, সত্যিকারের তদন্তকারী সংস্থা কখনো ইনবক্সে এসে গোপনে টাকা চায় না, ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড চায় না, কিংবা “আগে টাকা দিন, পরে উদ্ধার” টাইপ কথাবার্তা বলে না।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অনেকে প্রতারণার শিকার হওয়ার পর লজ্জায় বা ভয় পেয়ে ঘটনা গোপন রাখেন। ভাবেন, “মানুষ কি বলবে!” কিন্তু এই নীরবতাই প্রতারকদের আরও শক্তিশালী করে তোলে। আপনি অভিযোগ না করলে, একই প্রতারক হয়তো পরের দিন আরেকজনের সর্বনাশ করবে।

তাই সাইবার সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় ভুয়া অনলাইন “হেল্পার” বা ইনবক্সে ঘুরে বেড়ানো প্রতারক নয়, সরাসরি যোগাযোগ করুন সিআইডির সাইবার শাখার সঙ্গে।

জেনে রাখুন,
01320010148 নম্বরই সিআইডির সাইবার সংক্রান্ত #একমাত্র হটলাইন নম্বর। এটা ব্যতীত অনলাইনে, অফলাইনে পাওয়া অন্য কোনো নম্বরকে এক্ষেত্রে বিশ্বাস করবেন না।

শামীম আনোয়ার
বিসিএস (পুলিশ)
এডিশনাল স্পেশাল এসপি (সিআইডি)
সিআইডি হেডকোয়ার্টার্স, মালিবাগ, ঢাকা

07/05/2026

ঢাকার রাস্তা দখলে নিচ্ছে এক 'নীরব ট্রাফিক পুলিশ'!

১.
ট্রাফিক পুলিশ: “সিগনাল অমান্য করে চলে গেলেন কেন? লাল বাতি জ্বলছিল, দেখেননি?”
ড্রাইভার: “লাল বাতি দেখেছি স্যার। কিন্তু আপনাকে দেখি নাই!”
২.
ট্রাফিক পুলিশ: "গাড়ির কাগজপত্র তো ঠিক নাই। এখন মামলা দিব। আর না হলে ১ হাজার টাকা দে"।
ড্রাইভার: "স্যার এত টাকা তো নাই"।
ট্রাফিক: "তাইলে ৫ শ টাকা দে"।
ড্রাইভার: "৫শ-ও নাই স্যার"।
এভাবে ১০০, ৫০,২০ ও ১০ টাকা আদায় করার চেষ্টা করেও ট্রাফিক পুলিশ যখন চালকের কাছ থেকে ওই একই উত্তর পেল 'নাই স্যার'।
শেষমেষ রেগে গিয়ে, ট্রাফিক পুলিশ: 'তাইলে পিঠটা চুলকে দিয়ে যা ব্যাটা"।

লোকসমাজে আমাদের দেশের ট্রাফিক শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে এমন অজস্র কৌতুক শুনতে পাওয়া যায়। শত বছরের অভিজ্ঞতা প্রসূত এসব কৌতুক। আশার কথা হচ্ছে, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকে পরবর্তী উন্নততর ধাপে নিয়ে যেতে ঢাকার রাস্তায় এসেছে নতুন “নীরব ট্রাফিক পুলিশ”!

হ্যা, সে-ও ট্রাফিক পুলিশই। তবে তার হাতে না আছে বাঁশি, না আছে স্টিক। মনে না আছে রাগ, না অনুরোধ শোনার অভ্যাস। না তিনি ঘুষ খান, না নাস্তা-পানি খাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সেবাগ্রহীতার পকেট সাফাই করেন। এই ট্রাফিক শুধু দেখে, তারপর সরাসরি রিপোর্ট পাঠায়।

রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে Dhaka Metropolitan Police - DMP চালু করেছে AI-ভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং ও E-Prosecution সিস্টেম।

মানে কী?
আগে আইন ভাঙলে হয়তো সামনে পুলিশ থাকলে ধরা পড়তেন। এখন দশাসই চেহারার কোনো সার্জেন্টের সিগনালের মুখোমুখি না হলেও আপনি ক্যামেরার সার্বক্ষণিক দৃষ্টির পর্যবেক্ষণেই থাকবেন।

ক্যামেরা? এ আর এমন কি; ঠিকঠাক ফাঁকি দেওয়ার রাস্তা বের করে নেওয়া যাবে?

আপনি যদি আমার মতো গরিব-গুনা টাইপের হয়ে থাকেন, আপনার হাতে হয়তো স্বল্প রেজুলেশনের কমদামি এনড্রয়েড মোবাইল আছে। আর আপনি যদি বড়লোক্স হয়ে থাকেন, তাহলে হয়তো আপনার ডিএসএলআর-ই আছে। সেটা না থাকলেও আপনার মুঠোয় যে লেটেস্ট মডেলের আইফোন রয়েছে, তাতেও আছে উচ্চ ক্ষমতার ক্যামেরা সাপোর্ট। কিন্তু জেনে নিন, আপনার-আমার ক্যামেরা আর এই ট্রাফিক ক্যামেরা এক জিনিস নয় কিন্তু! এ ক্যামেরা ভীষণ বুদ্ধিমান। সে শুধু ভিডিও তোলে না, “বুঝে”ও ফেলে যে, আপনি কী ভুলটা করলেন।

>>সিগন্যাল লাল, আপনি গেলেন?
>>জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর গাড়ি থামালেন?
>>উল্টো পথে ঢুকলেন?
>>হেলমেট ছাড়া বাইক?
>>স্টিয়ারিং হাতে, ফোন কানে?
>>সিটবেল্ট ছাড়া ড্রাইভিং?
>>অনুমতি ছাড়া VIP লাইট?
এসবকিছুই এখন ডিজিটালি রেকর্ড হতে পারে।

আর সবচেয়ে বড় কথা, আপনাকে রাস্তার মাঝখানে থামিয়ে তর্কও করা হবে না।ক্যামেরা নিজের কাজ করে চলে যাবে, কিন্তু মামলাটা পরে আপনার কাছেই পৌঁছে যাবে। যদি মনে করেন, পুলিশ শুধুই তো মামলাই দিয়েছে, কাগজপত্র তো আর নেয়নি। এই ভেবে যদি নির্ধারিত দিনে হাজির না হন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে নেওয়া হতে পারে সমন বা ওয়ারেন্টের মতো পদক্ষেপও।

এখানে আরেকটা বিষয় জানা খুবই জরুরি। গাড়ি আপনি চালান বা অন্য কেউ চালাক, সিস্টেম প্রথমে ধরবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর। অর্থাৎ ভুল করলে ঝামেলা আগে যাবে মালিকের দিকেই।

একসময় ড্রাইভাররা বলত- “পুলিশ নাই, রাস্তা ক্লিয়ার!” এখন রাস্তা ক্লিয়ার হলেও সিস্টেম ঠিকই অন থাকবে। তাই সতর্ক থাকুন।নিজে নিয়ম মানুন, অন্যকেও মানতে পরামর্শ দিন। নাহলে? ক্যামেরা হয়তো কথা বলবে না। প্রমাণ কিন্তু জমা রাখবে ঠিকঠাক। আর যথাসময়ে কাগজ পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।

আমাদের দেশের পুলিশ কেন ইউরোপ আমেরিকার পুলিশের মতো হয় না, এ নিয়ে যাদের হাপিত্যেশ ছিল, তাদের হতাশা দূর হতে চলল বলে! (না হইলেই ভালা হইতো, তাই না? :p ).........................................................
শামীম আনোয়ার
বিসিএস (পুলিশ)
এডিশনাল স্পেশাল এসপি, সিআইডি
সিআইডি হেডকোয়ার্টার্স, মালিবাগ, ঢাকা

Address

CID Headquarters, Malibagh
Dhaka

Telephone

+8801711206760

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shamim Anwar posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share