07/05/2026
ঢাকার রাস্তা দখলে নিচ্ছে এক 'নীরব ট্রাফিক পুলিশ'!
১.
ট্রাফিক পুলিশ: “সিগনাল অমান্য করে চলে গেলেন কেন? লাল বাতি জ্বলছিল, দেখেননি?”
ড্রাইভার: “লাল বাতি দেখেছি স্যার। কিন্তু আপনাকে দেখি নাই!”
২.
ট্রাফিক পুলিশ: "গাড়ির কাগজপত্র তো ঠিক নাই। এখন মামলা দিব। আর না হলে ১ হাজার টাকা দে"।
ড্রাইভার: "স্যার এত টাকা তো নাই"।
ট্রাফিক: "তাইলে ৫ শ টাকা দে"।
ড্রাইভার: "৫শ-ও নাই স্যার"।
এভাবে ১০০, ৫০,২০ ও ১০ টাকা আদায় করার চেষ্টা করেও ট্রাফিক পুলিশ যখন চালকের কাছ থেকে ওই একই উত্তর পেল 'নাই স্যার'।
শেষমেষ রেগে গিয়ে, ট্রাফিক পুলিশ: 'তাইলে পিঠটা চুলকে দিয়ে যা ব্যাটা"।
লোকসমাজে আমাদের দেশের ট্রাফিক শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে এমন অজস্র কৌতুক শুনতে পাওয়া যায়। শত বছরের অভিজ্ঞতা প্রসূত এসব কৌতুক। আশার কথা হচ্ছে, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকে পরবর্তী উন্নততর ধাপে নিয়ে যেতে ঢাকার রাস্তায় এসেছে নতুন “নীরব ট্রাফিক পুলিশ”!
হ্যা, সে-ও ট্রাফিক পুলিশই। তবে তার হাতে না আছে বাঁশি, না আছে স্টিক। মনে না আছে রাগ, না অনুরোধ শোনার অভ্যাস। না তিনি ঘুষ খান, না নাস্তা-পানি খাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সেবাগ্রহীতার পকেট সাফাই করেন। এই ট্রাফিক শুধু দেখে, তারপর সরাসরি রিপোর্ট পাঠায়।
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে Dhaka Metropolitan Police - DMP চালু করেছে AI-ভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং ও E-Prosecution সিস্টেম।
মানে কী?
আগে আইন ভাঙলে হয়তো সামনে পুলিশ থাকলে ধরা পড়তেন। এখন দশাসই চেহারার কোনো সার্জেন্টের সিগনালের মুখোমুখি না হলেও আপনি ক্যামেরার সার্বক্ষণিক দৃষ্টির পর্যবেক্ষণেই থাকবেন।
ক্যামেরা? এ আর এমন কি; ঠিকঠাক ফাঁকি দেওয়ার রাস্তা বের করে নেওয়া যাবে?
আপনি যদি আমার মতো গরিব-গুনা টাইপের হয়ে থাকেন, আপনার হাতে হয়তো স্বল্প রেজুলেশনের কমদামি এনড্রয়েড মোবাইল আছে। আর আপনি যদি বড়লোক্স হয়ে থাকেন, তাহলে হয়তো আপনার ডিএসএলআর-ই আছে। সেটা না থাকলেও আপনার মুঠোয় যে লেটেস্ট মডেলের আইফোন রয়েছে, তাতেও আছে উচ্চ ক্ষমতার ক্যামেরা সাপোর্ট। কিন্তু জেনে নিন, আপনার-আমার ক্যামেরা আর এই ট্রাফিক ক্যামেরা এক জিনিস নয় কিন্তু! এ ক্যামেরা ভীষণ বুদ্ধিমান। সে শুধু ভিডিও তোলে না, “বুঝে”ও ফেলে যে, আপনি কী ভুলটা করলেন।
>>সিগন্যাল লাল, আপনি গেলেন?
>>জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর গাড়ি থামালেন?
>>উল্টো পথে ঢুকলেন?
>>হেলমেট ছাড়া বাইক?
>>স্টিয়ারিং হাতে, ফোন কানে?
>>সিটবেল্ট ছাড়া ড্রাইভিং?
>>অনুমতি ছাড়া VIP লাইট?
এসবকিছুই এখন ডিজিটালি রেকর্ড হতে পারে।
আর সবচেয়ে বড় কথা, আপনাকে রাস্তার মাঝখানে থামিয়ে তর্কও করা হবে না।ক্যামেরা নিজের কাজ করে চলে যাবে, কিন্তু মামলাটা পরে আপনার কাছেই পৌঁছে যাবে। যদি মনে করেন, পুলিশ শুধুই তো মামলাই দিয়েছে, কাগজপত্র তো আর নেয়নি। এই ভেবে যদি নির্ধারিত দিনে হাজির না হন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে নেওয়া হতে পারে সমন বা ওয়ারেন্টের মতো পদক্ষেপও।
এখানে আরেকটা বিষয় জানা খুবই জরুরি। গাড়ি আপনি চালান বা অন্য কেউ চালাক, সিস্টেম প্রথমে ধরবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর। অর্থাৎ ভুল করলে ঝামেলা আগে যাবে মালিকের দিকেই।
একসময় ড্রাইভাররা বলত- “পুলিশ নাই, রাস্তা ক্লিয়ার!” এখন রাস্তা ক্লিয়ার হলেও সিস্টেম ঠিকই অন থাকবে। তাই সতর্ক থাকুন।নিজে নিয়ম মানুন, অন্যকেও মানতে পরামর্শ দিন। নাহলে? ক্যামেরা হয়তো কথা বলবে না। প্রমাণ কিন্তু জমা রাখবে ঠিকঠাক। আর যথাসময়ে কাগজ পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।
আমাদের দেশের পুলিশ কেন ইউরোপ আমেরিকার পুলিশের মতো হয় না, এ নিয়ে যাদের হাপিত্যেশ ছিল, তাদের হতাশা দূর হতে চলল বলে! (না হইলেই ভালা হইতো, তাই না? :p ).........................................................
শামীম আনোয়ার
বিসিএস (পুলিশ)
এডিশনাল স্পেশাল এসপি, সিআইডি
সিআইডি হেডকোয়ার্টার্স, মালিবাগ, ঢাকা