06/05/2026
আমাদের সমাজে একটি বিষয় খুবই সাধারণ—সামাজিক অনুষ্ঠান মানেই সবার অংশগ্রহণ।
বিয়ে-শাদী, জন্ম-মৃত্যুর অনুষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্বোধন, আঞ্চলিক বা সামাজিক সংগঠনের প্রোগ্রাম—এগুলো কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতাদর্শের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। এখানে মানুষ আসে মানুষ হিসেবে, সম্পর্কের টানে, ভালোবাসার বন্ধনে।
এই জায়গাগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ একসাথে বসে, কথা বলে, ছবি তোলে—এটাই আমাদের সামাজিক সংস্কৃতির সৌন্দর্য।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, অনেক সময় সেই সাধারণ, মানবিক মুহূর্তগুলোকেও রাজনৈতিক রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়। একটি ছবিকে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা, বিভ্রান্তি বা অপপ্রচার তৈরি করা হয়—যা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়।
ছবি একটি মুহূর্তের স্মৃতি, কোনো ব্যক্তির আদর্শ বা রাজনৈতিক অবস্থানের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
সামাজিক অনুষ্ঠানে কারো সাথে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা মানেই তার রাজনৈতিক মতাদর্শকে সমর্থন করা নয়—এটা বোঝার মতো পরিপক্বতা আমাদের সবার থাকা উচিত।
ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে, গ্রাম থেকে শুরু করে ঢাকা শহর পর্যন্ত, বিশেষ করে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংগঠনের মানুষের সাথে আলহামদুলিল্লাহ আমার সুসম্পর্ক রয়েছে।
এই সম্পর্কগুলো গড়ে উঠেছে সামাজিক কাজ, মানবিকতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে—রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
সামাজিক সংগঠনের সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই আমি সবসময় চেষ্টা করেছি এলাকার আর্থ-সামাজিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মানুষ—আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি—এমনকি ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শের মানুষ একসাথে কাজ করে। এটাই আমাদের সমাজের বাস্তবতা এবং শক্তি।
তাই সামাজিক প্রোগ্রামের ছবি নিয়ে রাজনীতি করা বা কাউকে হেয় করার চেষ্টা করা শুধু অনৈতিকই নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও ক্ষতিকর।
রাজনৈতিক প্রোগ্রাম একটি আলাদা বিষয়—সেখানে প্রত্যেকের অবস্থান স্পষ্ট থাকে।
আমার ক্ষেত্রেও সেটি স্পষ্ট—রাজনৈতিকভাবে আমি যেখানে সম্পৃক্ত, সেখানেই আমার অবস্থান দৃশ্যমান।
আমরা যদি সামাজিক সম্পর্ককে সম্মান করি, মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিই, তাহলে এই বিভ্রান্তি বা অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের কোনো জায়গা থাকে না।
শেষ কথা—
মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়া অপরাধ নয়,
বরং সেটাই সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।
বেলাল আহমেদ
চেয়ারম্যান
ইমেজ ফাউন্ডেশন