16/05/2026
ককুরছানা গুলো কে মারার ভিডিওটা দেখার পর থেকে দৃশ্যটা মাথা থেকে সরছে না। পাবনার ঈশ্বরদীতে এক ব্যক্তি সদ্যোজাত ৮টি কুকুর ছানাকে মায়ের সামনেই বস্তায় ভরে পানিতে ডুবিয়ে মেরে ফেলল। ঘটনাটিকে নিছক পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা হিসেবে না দেখে, চলুন একটু গভীরে গিয়ে ভাবি। এটাকে একটা 'কেস স্টাডি' হিসেবে বিবেচনা করি।
প্রশ্ন হলো, ওই ব্যক্তি মা কুকুরটিকে কেন মারল না? কারণ খুব সহজ—ভয়। মা কুকুরটির কামড় দেওয়ার ক্ষমতা ছিল, প্রতিরোধ করার শক্তি ছিল। কিন্তু ওই ছানাগুলোর কিছুই ছিল না। তারা ছিল নিরেট দুর্বল, অসহায়। আর ঠিক এই কারণেই, স্রেফ বিনোদনের খোরাক হিসেবে ওই ব্যক্তি বাচ্চাগুলোকে হত্যা করার সাহস পেল। কারণ সে জানত, এখান থেকে কোনো ‘প্রতিরোধ’ আসবে না।
আমি এই ঘটনাকে কেবল কুকুরের বাচ্চার মৃত্যু হিসেবে দেখছি না। এটি আমাদের সমাজেরই এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। মানুষের সমাজেও ঠিক এই সূত্রটাই খাটে।
আমাদের সমাজ দুর্বলকে কখনও আশ্রয় দেয় না, উল্টো পদে পদে পিষে মারে। আপনি যদি দুর্বল হন, তবে এই সমাজ আপনার ওপর চড়ে বসবে। আপনার পিঠের ওপর দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের ক্ষমতা জাহির করবে। এখানে টিকে থাকতে হলে, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে, দিনশেষে সবাই বাধ্য হয়ে এক একটা ‘দানব’ হতে চায়। কারণ এই সমাজ ভদ্রতা বা দুর্বলতার ভাষা বোঝে না, সে কেবল ভয় আর ক্ষমতাকেই সমীহ করে।
দিনশেষে শিক্ষাটা খুব পরিষ্কার— দুর্বল হওয়া মানেই এই সমাজে বলির পাঁঠা হওয়া।
প্রাণ ও প্রাণীর প্রতি সদয় হোন।
Human Well-being Foundation of Bangladesh
fans
wares Ali