14/02/2026
আমরা বেঁচে আছি, কিন্তু সুস্থ আছি তো?
আমরা এখন এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি,
যেখানে মানুষ ক্লান্ত—
শরীরে নয় শুধু,
মনেও।
প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙে তাড়াহুড়ায়,
দিন চলে যায় দায়িত্বে,
আর রাত নামে অবসাদ নিয়ে।
এই দৌড়ের মধ্যে কোথাও
নিজের শরীরের জন্য জায়গা নেই।
আমরা ভাবি—
“আরেকটু পরে দেখবো”
কিন্তু সেই পরে আর আসে না।
এই যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নীরব শত্রু হলো—
অবহেলা।
আর তার সবচেয়ে ভয়ংকর সঙ্গী—
ভেজাল খাদ্য।
আমরা যা খাচ্ছি,
তা আর খাবার নেই—
তা শুধু পেট ভরানোর বস্তু।
চকচকে ফল, টাটকা সবজি, বড় মাছ—
দেখতে সুন্দর,
কিন্তু ভেতরে বিষ।
কেমিক্যালে বড় হওয়া খাবার
আমাদের শরীরেও কেমিক্যালের মতো কাজ করছে—
ধীরে, নীরবে, কিন্তু ভয়ংকরভাবে।
আজ ওজন বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে,
কাল রক্তে চিনি বাড়ছে,
পরশু হার্ট দুর্বল হচ্ছে।
স্নায়ু ক্লান্ত,
হাঁটু ব্যথা,
শরীর ভারী—
তবু আমরা বলি,
“সব ঠিক আছে।”
আসলে ঠিক কিছুই নেই।
ডায়াবেটিস, হৃদরোগ,
স্নায়বিক সমস্যা, বাত—
এই রোগগুলো আলাদা আলাদা না।
এরা সবাই
একই ভুল জীবনের সন্তান।
সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটা কী ?
এই রোগগুলো আর বয়স্কদের না।
আজ যুবকরাও ক্লান্ত,
যুবকরাও রোগে ভরা।
আমরা নিজের শরীরকে ব্যবহার করছি
একটা মেশিনের মতো—
কিন্তু মেশিনের মতো সার্ভিস দিচ্ছি না।
ভেঙে গেলে তখন মেরামতের কথা ভাবি,
কিন্তু ভাঙার আগের যত্ন নিই না।
এই লেখা কোনো উপদেশ না,
এই লেখা একটা প্রশ্ন—
আমরা যে জীবনটা চাচ্ছি,
এই শরীর কি সেই জীবনটার জন্য তৈরি?
একটু থামা অপরাধ না।
ভালো খাবার চাওয়া বিলাসিতা না।
নিজের শরীরের কথা ভাবা স্বার্থপরতা না।
এই যান্ত্রিক সময়ের সবচেয়ে বড় সাহস হলো—
নিজের স্বাস্থ্যের পক্ষে দাঁড়ানো।
কারণ শেষ পর্যন্ত,
আমরা যা অর্জন করবে—
সবই এই শরীরের কাঁধে ভর করে।
আর যদি শরীরটাই হেরে যায়,
তাহলে জেতার গল্পগুলোও
অর্থহীন হয়ে যায়।