21/05/2017
হার্ট অ্যাটাকে বিনামূল্যে ইনজেকশন, উত্তম উদ্যোগ
- সম্পাদকীয়, দৈনিক সমকাল
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তদের বিনামূল্যে জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশন দেওয়ার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে সাধুবাদযোগ্য। এই একটি পদক্ষেপ হাজার মানুষের সচল থাকার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আমরা জানি, আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুরুতেই এই ইনজেকশন দেওয়া হয় ধমনিতে জমাট বেঁধে যাওয়া রক্ত গলিয়ে স্বাভাবিক করার জন্য। চিকিৎসকদের মতে, যত দ্রুত এই ইনজেকশন দেওয়া যায়, হার্টের পেশি তত কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। কিন্তু বাইরে থেকে ইনজেকশনটি কিনে আনতে গিয়ে অনেক সময় মূল্যবান ও স্পর্শকাতর সময় ব্যয় হয়ে যায়। তাতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কাও কম থাকে না। আবার দরিদ্র চিকিৎসাপ্রার্থীদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ওই অর্থের সংস্থান সহজ নয়। বিনামূল্যে ইনজেকশনটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে এসব অনিশ্চয়তা দূর করবে। আমরা হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নাগরিকদের পক্ষে ধন্যবাদ জানাতে চাই। একই সঙ্গে আমরা মনে করি, অন্যান্য সরকারি হাসপাতালেও এই সেবা সম্প্রসারিত করা উচিত। হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তি যাতে দ্রুতই নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ইনজেকশনটি গ্রহণ করতে পারে। প্রাথমিক ঝুঁকি কেটে যাওয়ার পর তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা যেতে পারে। দেশে অসংক্রামক রোগ যে হারে বাড়ছে, তাতে এর বিকল্প কী? ১৫ বছরের ব্যবধানে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও আর্থ্রাইটিসের মতো অসংক্রামক ব্যাধি তিন থেকে চারগুণ বেড়ে গেছে বলে সাম্প্রতিক একটি স্বাস্থ্য ও রোগ জরিপে উঠে এসেছে। আমরা জানি, হৃদরোগের চিকিৎসা জটিল ও এ বিষয়ে দক্ষ চিকিৎসক ও সেবিকার সংখ্যা সীমিত। কিন্তু লক্ষণ শনাক্ত করে কেবল এই ইনজেকশনটি দেওয়ার জন্য প্রতি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া কঠিন হতে পারে না। ইনজেকশনটি দামি হলেও নাগরিকদের প্রাণের তুলনায় তা কিছুই নয়। আমরা এও আশা করতে পারি যে, পর্যায়ক্রমে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও এই ইনজেকশন বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সদিচ্ছা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করুক।