14/04/2024
মৃত্যু চিরন্তন সত্য। আরো কঠিন সত্য হলো কার মৃত্যু কখন হবে কেউ জানে না, জানার কোন সুযোগ ও নেই।
যেকোনো মৃত্যু সংবাদই বেদনাদায়ক ।আবার কিছু কিছু মৃত্যু সংবাদ আরো বেশি বেদনাদায়ক । বিশেষ করে তিনি যদি হন একজন ভালো মানুষ।
তেমনি একজন ভালো মানুষ রাতইল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবার মিয়া/মুনশী বাড়ির নাজমা জামান। অদ্য ১৪.০৪.২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মানুষ তার কাজ-কর্ম,চাল-চলন, আচার-আচরণের মাধ্যমেই মানুষের মনে স্থান করে নেয় ---- এভাবেই ভালো মানুষ, মন্দ মানুষ পরিচয়ে মানুষ দীর্ঘকাল মানুষের মনে জাগরুক থাকে।
নাজমা জামান--- তিনি রাতইল গ্রামের কাহার মাস্টার সাহেবের বড় কন্যা , জন্ম ১৯৫৭ সাল। আমার চেয়ে খুব বেশি বড় নন।
ছোটবেলায় আমাদের দোতলা ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখেছি উনাকে বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁটে স্কুলে যেতে। অত্যন্ত ভদ্র, অমায়িক, শালীন আচরণ ও চালচলনের অধিকারিনী। কারোর সাথে ঝগড়া হয়েছে, উচ্চস্বরে কথা বলা, কোন বিষয়ে মনোমালিন্য হওয়া,তিনি কারোর সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন --- এরকম কথা কোনো মানুষই বলতে পারবে না।
এখানেই তার সার্থকতা ও সফলতা।
সুন্দর চেহারার সুন্দর মনের সুন্দর মানুষ ছিলেন তিনি।
তিনি তার বাবার দিক দিয়ে আমার ভাতিজি, মায়ের দিক দিয়ে ভাগ্নি ।তবে মায়ের দিকের পরিচয়েই সম্বোধন / কথাবার্তা হতো বেশি।
উনার মা ছিলেন একজন অনেক ভালো মানুষ। উনার নানা-নানীও ছিলেন খুব ভালো মানুষ। অনেক বড় পরিবারের মানুষ হলেও চলাফেরা ছিল অতি সাধারণ । মানুষের প্রতি ছিল তার অসাধারণ মমত্ববোধ।
তার পারিবারিক ঐতিহ্য সম্পর্কে আমার দাদী সাহিদা খাতুন এর কাছে শুনেছি তাদের বাড়িতে পরের দিন সকাল- দুপুর- রাতে কি খাবার হবে সে মেনু আগে থেকেই টাঙ্গানো থাকতো।
আমি ব্রিটিশ আমলের কথা বলছি।
উনার বাবা কাহার মাস্টার সাহেব একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ/ শিক্ষক /হেডমাস্টার এবং ৫২ র ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। টেবিল টকার হিসেবে তার জুড়ি মেলা ভার ছিল ।তিনি বহুবিধ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি / ক্যামপ ছিল উনাদের বাড়িতে। উনার বিবাহ হয় কাশিয়ানীর নড়াইল গ্রামের একজন প্রখ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধা খান আক্রাম সাহেবের সাথে। খান আকরাম সাহেব একজন প্রথিতযশা মুক্তিযোদ্ধা।
নাজমা জামান বিএ পাস ছিলেন এবং চারকন্যা ও দুই পুত্রের জননী।
বাবা- মা ও স্বামীর দিক থেকে অনেক বড় ও উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন পরিবারের মানুষ হওয়া সত্বেও তিনি কখনো গর্ব ভরে চলাফেরা করতেন না বা গৌরব করতেন না । তিনি ছিলেন সদাহাস্য, পরোপকারী । তার দুই ছেলে এবং চার মেয়ে সকলেই বাস্তব জীবনের সুপ্রতিষ্ঠিত।
আমাদের খুব কাছের একজন ভালো মানুষের প্রস্থানে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত --- আরো অনেক কিছু লেখা যেত কিন্তু মনটা ভারাক্রান্ত ।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উনাকে বেহেস্তের সর্বোচ্চ স্থান জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। উনার স্বামী ,পুত্র- কন্যাদের এ শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দিন ।আমীন।
---- মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ।