19/08/2026
তালাবদ্ধ কক্ষে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার; পিবিআই কর্তৃক ২৪ ঘণ্টায় হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার-০১, আদালতে স্বীকারোক্তি
আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির গলাকাটা পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। এ ঘটনায় জড়িত আসামি মোঃ আল-আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার হেফাজত থেকে নিহতের মোবাইল ফোন এবং তার দেখানো মতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ আশুলিয়া থানাধীন বাসাইদ এলাকায় রাজু সিটির সামনে আমির আলীর ভাড়া দেওয়া একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির মালিক তাহেরুন্নেসা পুলিশকে খবর দেন। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে। সংবাদ পেয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ব্যক্তি মোঃ কামরুল খান (৪৪), পিতা-মৃত করিম খান, সাং-নয়াবরসাত, উপজেলা-তেরখাদা, জেলা-খুলনা।
এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মোঃ জামিল শেখ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা নং-১০০, তারিখ-১৭/০৮/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করেন। একই দিন পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ জামাল উদ্দীন, বিপিএম।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই খুলনার সহযোগিতায় গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তেরখাদা থানা এলাকা থেকে মামলার আসামি মোঃ আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করেন। তার হেফাজত থেকে নিহত কামরুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের বাথরুমের প্যানের ভেতর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, নিহত কামরুল ও আসামি আল-আমিন খুলনার তেরখাদা এলাকার বাসিন্দা এবং ছোটবেলা থেকেই তারা পরস্পর পরিচিত। কাজের সন্ধানে তারা গত ৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ খুলনা থেকে আশুলিয়ায় এসে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজে যোগ দেন। গত ১৪ আগস্ট রাতে কাজের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চাইলে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কামরুল সবজি কাটার ছুরি নিয়ে আল-আমিনকে আঘাত করতে উদ্যত হলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় আল-আমিন ছুরিটি কেড়ে নিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই কামরুলের মৃত্যু হয়। পরে আল-আমিন হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি বাথরুমের প্যানে ফেলে কক্ষটিতে তালা লাগিয়ে খুলনায় পালিয়ে যান। কক্ষ ভাড়া দেওয়ার সময় বাড়ির মালিক কোনো পরিচয়পত্র বা মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ না করায় প্রাথমিকভাবে নিহত ও সম্ভাব্য আসামি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পিবিআইয়ের প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই নিহতের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।