01/04/2024
যখন মানুষগুলি চলে যায়, নীরবতা নেমে আসে
কোলাহল ভেঙে যায়, এক এক করে খালী হয়ে যায় প্রাঙ্গণ
তখন আমি আসি এখানে, পিতার পাশে দু’দণ্ড বসি
অনুভব করি, শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে প্রণাম করি
বাড়ীর আঙিনায়, ঘরে দেয়ালে, যত্রতত্র
বুলেটের বিদ্ধ দাগ, এলোপাথারি গুলি যেন অনল বর্ষণ।
আহা! কী দর্শন লালন করে এগিয়ে গিয়েছেন
বাঙালীর ইতিহাসে প্রথম স্বশাসিতের সুযোগ দান
সেই মুক্তি, স্বাধীনতা আর্থিক সাম্যতা
আর জাতি ভেদাভেদ ভুলে অসাম্প্রদায়িক চেতনা
এই দর্শনকে ধারণ করেই কণ্ঠে তুলেছিলেন উচ্চস্বর
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম”।
সেই মানুষটির লাশ পড়ে আছে
নীরবতা নিঃশব্দতায় জড়িয়ে আছে চারদিক
স্তম্ভিত দেশ, স্তম্ভিত জাতি
ঠিক এইখানে কান্না বিজড়িত কণ্ঠে দু’হাত তুলি
পরম করুনাময়ের কাছে প্রার্থনা করি
পিতার পাশে বসে পিতার দর্শনের উৎস খুজি
পিতাকে জিজ্ঞাসিতাম, কোথায় পেয়েছিলে এ মহান বার্তা।
অতপর খুঁজে পাই এক বিশাল ভাণ্ডার
রয়েছে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খিষ্টের মহান বাণী
চার খলিফা, স্বামী বিবেকানন্দ, অনুকূল দেব
জওহার লাল নেহরু, নেতাজী সুভাষ বসু
যারা যুগে যুগে এই পৃথিবীকে দিয়ে গেছে অনন্ত প্রাণ
রয়েছে কার্ল মাক্স, ফ্রেডরিক এঙ্গেল, লেলিন বাদের সকল সিরিজ
রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ঈশ্বরচন্দ্র, শরৎচন্দ্র সকল সাম্যবাদী
এহেন অপরিমেয় ভাণ্ডারের সাথে যার
ঐকান্তিক যোগাযোগ, তার দর্শন কতটা সুদৃঢ়
রাষ্ট্র সংগ্রাম, স্বাধীনতা তার কতটা আপন
দেশের মানুষের ভালবাসা তার কতটা শীরধার্য
এমন উচ্চমার্গীয় দার্শনিক দেহখানা পড়ে আছে
সিড়ি বেয়ে রক্তের ফোটা গড়িয়ে যাচ্ছেে এখনও জীবন্ত
আর কোলাহলে ভীড়ের মধ্যে সশব্দে দ্রুত চলে গেলে
উপলব্ধি হবে কি কোনভাবে?
তুমি এসো, নীঃশব্দে এসো, কোন অঞ্জলী লাগে না
শুধু উন্মুক্ত মন নিয়ে তুমি এসো পিতার কাছে।