11/01/2026
ইতিহাসের অন্যতম পাতানো করাপ্টেড নির্বাচন হবে ড. ইউনুসের নেতৃত্বে “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন”।
আগামীর রাষ্ট্র ক্ষমতায় কারা আসবে, কারা বিরোধী দল হবে সেটাও ছক করে ফেলেছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। যা সর্বশেষ রাজনৈতিক দলের সাথে কয়েকটি বৈঠক পর্যালোচনা করলেই উত্তর বেড়িয়ে আসবে। বৈঠকে প্রথমে কোন কোন রাজনৈতিক দলকে প্রাধাণ্য দিয়েছে, কাদের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক এবং নামমাত্র দলের গুলোর সাথে কাদের বৈঠকে ডাকতেন।
আলাদাভাবে রাষ্ট্রীয় খরচে বিলাসবহুল সাক্ষাৎ করেছে কোন দলের নেতার সাথে। জাতিসংঘের অধিবেশনে ১০০+ জনের বহর নিয়ে রাষ্ট্রীয় খরচে কোন কোন রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতাদেরকে সাথে নিয়েছিলেন।
◾১২ দলীয় সমঝোতা◾
অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ এবং ঘৃণিত। তাই জনগণ লীগ-বিএনপির বাহিরে ইসলামী মূল্যবোধের জাতীয় সরকার দেখতে চায়।
যার প্রেক্ষিতে সমমনা ইসলামী দল ও অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করা বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে “এক বাক্স” নীতির ভিত্তিতে সমঝোতা গঠন করে চরমোনাই পীর সাহেবের নেতৃত্বাধীন দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মতবিরোধ থাকলেও সমঝোতায় রাখা হয় জায়ামাতে ইসলামীকে।
জনগণ ইসলাম ও দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যবদ্ধতা দেখে আশা বাঁধলেও, এখন সমঝোতায় ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। পর্যালোচনা করে এর মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, সমঝোতার বাহিরে যেয়ে শরীকদের না জানিয়ে আলাদাভাবে একক সিদ্ধান্তে জামায়াত কয়েকটি দলের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে তাদের সাথে আসন বিন্যাস করে ৮ দলের সাথে নিয়ে আসে। যেটার প্রভাব প্রধান দুই দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূলে সম্পর্ক ফাটল ধরে।
১২ দলীয় সমঝোতা টিকলেও সম্পর্ক ফাটলের কারনে তৃণমূল জামায়াত ভোট দিবেনা ইসলামী আন্দোলন-কে। তবে ইসলামী আন্দোলনের সরলমনা তৃণমূল কর্মীরা, আসন সমঝোতায় নিজেদের না হলেও সমঝোতার প্রার্থীকে ভোট দিবে তারা।
যদি সমঝোতায় প্রার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে তাহলে বিপুল সংখ্যক আসন পাবে ১২ দলীয় সমঝোতার জোট।
১২ দলীয় সমঝোতা কোনোভাবে ভেঙে গেলে একচেটিয়া ২০০+ আসন দখলে নিবে বিএনপি। বাকি গুলো ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি-জামায়াত, স্বতন্ত্র প্রার্থী আসবে। বিরোধী দল গঠন করা হবে জামায়াত-এনসিপি নিয়ে। বিরোধী দলের মুখপাত্র করা হবে নাহিদ ইসলামকে। বিএনপির সাথে জামায়াত সম্পর্ক রাখবে ভিপি নুর, রাশেদ, মঞ্জু, আখতার কে দিয়ে। কোনঠাসা হয়ে পরবে চরমোনাই পীর সাহেব এর দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
জামায়াত ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে এনসিপির নাহিদ কে সামনে রেখে পশ্চিমের সাথে যোগসূত্র করে। তবে ইসলামী দলের জোট বিহীন জামায়াত সফল হতে পারবেনা। যা জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন এর জন্য হবে একটি কপালপোড়া ইতিহাস। কঠিন হোচট খাবে ক্ষমতা কেন্দ্রীক দল জামায়াত। ইসলামী আন্দোলন একলা চলো নীতিতে চলায় অতীত অভিজ্ঞতায় তাদের তেমন ক্ষতি হবেনা। অন্যান্য ইসলামী দল একত্রিত হলে জামায়াতের ভোট কমপক্ষে ৩০/৪০% কমে যাবে।
◾পাশে ও পশ্চিমে ◾
✪ বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত ইতোমধ্যে আমেরিকা ও ভারতীয় এজেন্সির সাথে চুক্তিবদ্ধ। সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে তারা ক্ষমতা ভাগাভাগি করে। তারা কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং করেছে, যা পশ্চিমা LGBTQ বাস্তবায়নের অংশ। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছে তারা।
বিএনপি তাদের ৩১ দফায় রেখেছে “রেইনবো নেশন”, নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড.. যা পশ্চিমা বস্তাপঁচা সংস্কৃতি। ট্রান্সজেন্ডার দের সাথে বিএনপির উচ্চপদস্থ নেতাদের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের ছবিও ছড়িয়ে আছে। ট্রান্স অধিকার এক্টিভিস্ট জুনায়েদ সাকীকেও করা হয়েছে জোটের প্রার্থী। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশের ব্যাপারে তাদের বক্তব্যে নমনীয়তা প্রকাশ পাচ্ছে।
🔺এনসিপি শুরুতেই “ইনক্লুসিভ” বাংলাদেশ গড়া, সমকামী & ট্রান্স এক্টিভিস্ট, পতিতাবৃত্তির অধিকার চাওয়া বিভিন্ন লোক নিয়ে দল গঠন করে বিতর্কিত হয়েছে। এব্যাপারে একাধিকবার অবস্থান পরিষ্কার করতে বললেও, মুখ খোলেনি এনসিপি। সাথে রয়েছে হঠাৎ লাখোপতি/কোটিপতি হওয়ার গল্প।
🔻জামায়াত ইসলামী এপর্যন্ত ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেনি। ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে ওপেনলি “আমি বিজয়ীনি” কর্মসূচি পালন করেছে নারীদের সাথে জামায়াত আমীর। এছাড়াও তাদেরকে লিবারেল পরিচয় দিতে, মহিলা-পুরুষ একত্রে বেপর্দায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে যাচ্ছে। সম্প্রতি “আওয়ার লিডার” নামে একটি অনুষ্ঠানেও সহশিক্ষার মতো ছেলে-মেয়ে একসাথে বেপর্দায় বসিয়ে অনুষ্ঠান করেছে তারা। তৃনমুল থেকে উচ্চপদস্থ নেতাকর্মী ও বক্তাদের অনেক বক্তব্য রয়েছে আমেরিকা জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। "জামায়াত একটি মডারেট ডেমোক্রেটিক ইসলামী দল" বলে দাবি করেছেন নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
এছাড়াও ছাত্রশিবির কে দেখা গিয়েছে ওপেনলি “স্যানিটারি ন্যাপকিন” বুথ ব্যবস্থা করতে, ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে নারী-পুরুষ এক সাথে অনুষ্ঠান করতে। চট্টগ্রাম উত্তর শাখায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী র্যালির ব্যানার করেছে পুরোপুরি LGBTQ পতাকার আদলে, তোপে পরে কমেন্ট শেকসন বন্ধ করলেও কোনো দুঃখ প্রকাশ করেনি তারা।
◾শেষ কথা◾
প্রায় ২০০০ তাজা প্রাণের বিনিময়ে অভ্যুত্থানে জালিমের পতনের পর জাতীয় সরকার গঠন করতে চেয়েছিলো জনগণ। কিন্তু এজেন্সির তৎপরতায় সাম্রাজ্যবাদের এক চর-কে আনা হয় রাষ্ট্র পরিচালনায়। তিনি আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আবদার করে বসলেন, তার সাঙ্গপাঙ্গ ছাড়া সরকার গঠন করতে না দিলে তিনি থাকবে না। জনগণ মেনে নিলেও, তিনি জনগণের সাথে একের পর এক প্রতারণা করেই যাচ্ছে। জনগণ চেয়েছিলো অপরাধীদের বিচার, স্বৈরাচারের মূলোৎপাটন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শান্তি-সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে। তিনি দেড় বছরে একটি বিচার করতে সক্ষম হয়নি। যখনই চেয়ারে টান পরে তখনই দলীয় নেতৃবৃন্দের ডাক আসে তার বাসভবনে। জনগণের চাওয়া রেখে তার পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৈরি করে বিভিন্ন কমিশন, যা দেশ ও মানবতা, সংস্কৃতি বিরোধী। গণভোটেও শব্দের মারপ্যাঁচে এলজি প্রবেশ করিয়েছে তার কমিশন। এভাবেই ডা. ইউনুস প্রিয় থেকে নাম উঠালেন প্রতারকের খাতায়।
✍️ এম মাইদুল হাসান সিয়াম
তরুন সংগঠক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক