আমাদের কার্যক্রম
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার দীন ইসলামকে আদর্শগত ও প্রমাণগত দিক থেকে শ্রেষ্ঠ ও বিজয়ীরূপে দুনিয়াতে নাযিল করেছেন। অতঃপর ব্যবহারিক ক্ষেত্রেও তার মহান দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য মানুষের উপর তিনি খেলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা’আলা প্রদত্ত সেই মহান দায়িত্ব পালনার্থে ইসলামী যুব আন্দোলন নিম্নে উল্লেখিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অগ্রসর হচ্ছে।
লক
্ষ্য: সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত তাগুত ও জাহেলিয়াতকে দূর করে আল্লাহর বিধানের আলোকে রাসূল সা.-এর তরীকায় ব্যক্তিজীবন গঠন এবং সর্বত্র পূর্ণাঙ্গ দীন বাস্তবায়ন।
উদ্দেশ্য : ইবাদাত ও খেলাফতের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা।
সাত দফা কর্মসূচি
এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইসলামী যুব আন্দোলন প্রণয়ন করেছে সুচিন্তিত সাত দফা কর্মসূচি। যথা-
১. ইলম ও আমল
২. আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠন
৩. দাওয়াত ও সংগঠন
৪. খেদমতে খালক্ব বা জনসেবা
৫. কর্মদক্ষ জনশক্তি তৈরী
৬. সমাজসংস্কার
৭. গণআন্দোলন
১. ইলম ও আমল :
ক) যুবসমাজকে ইসলামী আদর্শে গড়ে তুলতে দ্বীনি ইলম অর্জনে উদ্বুদ্ধ করা।
খ) ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষায় ব্যুৎপত্তি অর্জন এবং প্রচলিত ধর্মহীন শিক্ষা ও মানবরচিত সকল মতাদর্শের অসারতা অনুধাবনে উৎসাহিত করা।
গ) জাহিলিয়াতের সকল প্রকার চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় ইসলামী সমাজবিপ্লবের যোগ্য কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো।
২. আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠন :
ক) ব্যক্তিজীবনকে ইসলামী শরীয়তানুযায়ী সুন্নত তরীকায় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো।
খ) আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিদের সোহবত লাভের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির প্রচেষ্টা চালানো।
গ) জাহেরী ও বাতেনী নেক আমল অর্জন এবং বদ আমল বর্জনের চেষ্টা করা।
৩. দাওয়াত ও সংগঠন :
ক) সকল প্রকার তাগুতী মত ও পথ অস্বীকার করে জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবসমাজকে শরীক হবার আহ্বান জানানো।
খ) সর্বস্তরের যুবকদের সম্পৃক্ত করে আন্দোলনের সম্প্রসারণ ঘটানো।
৪. খেদমতে খালক্্ বা জনসেবা :
ক) মহানবী সা. এর গড়া স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন ‘হিলফুল ফুজুল’ এর আদলে যুবসমাজকে সাথে নিয়ে দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
খ) বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রাখা।
৫. কর্মদক্ষ জনশক্তি তৈরী :
ক) যুবসমাজকে কর্মদক্ষ হিসেবে তৈরীর মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণে ভুমিকা রাখা।
৬. সমাজসংস্কার :
ক) যুবসমাজকে সাথে নিয়ে সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানো।
খ) সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, মদ-জুয়া, যৌতুক, ইভটিজিং, অপসংস্কৃতিসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।
৭. গণআন্দোলন :
ক) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্দেশিত ও অনুমোদিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।
খ) সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থায়ী শান্তি এবং মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে ইসলামী বিপ্লব সাধনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো।
সাংগঠনিক কাঠামো
কেন্দ্রীয় সংগঠন, জেলা শাখা, মহানগর শাখা, থানা শাখা, পৌর শাখা, ইউনিয়ন শাখা ও ওয়ার্ড শাখাসমূহের সমন্বয়ে ইসলামী যুব আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো গঠিত হবে।
যোগদানের নিয়ম
যদি কোন যুবক ইসলামী যুব আন্দোলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সাথে একমত হয়ে কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির উপর আস্থাবান হন এবং আন্দোলনের সামগ্রিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে তিনি সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন।
আমাদের আবেদন
পরিশেষে সর্বস্তরের যুবকদের প্রতি আমাদের আহ্বান- আসুন! ‘ইসলামী যুব আন্দোলন’এর পতাকাতলে সমবেত হয়ে ইসলামবিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলি এবং মানুষের স্থায়ী শান্তি ও সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র রচনা করি।
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে তাঁর দীন কায়েমের যোগ্য সৈনিক হিসেবে কবুল করুন। আমীন।