17/10/2025
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলাধীন লাউড়ের গড় বাজার (দক্ষিণ-পশ্চিম) এলাকায় জব্দকৃত ৫,৪৯৩ (পাঁচ হাজার চারশত তিরানব্বই) ঘনফুট এবং (দক্ষিণ-পূর্ব) এলাকায় জব্দকৃত ৫,২৫০ (পাঁচ হাজার দুইশত পঞ্চাশ) ঘনফুটসহ মোট ১০,৭৪৩ (দশ হাজার সাতশত তেতাল্লিশ) ঘনফুট পাথর খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি), স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে নিলামগ্রহীতার নিকট হস্তান্তর।
________________________________________
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলাধীন লাউড়ের গড় বাজার (দক্ষিণ-পশ্চিম) এলাকায় জব্দকৃত ৫,৪৯৩ (পাঁচ হাজার চারশত তিরানব্বই) ঘনফুট এবং (দক্ষিণ-পূর্ব) এলাকায় জব্দকৃত ৫,২৫০ (পাঁচ হাজার দুইশত পঞ্চাশ) ঘনফুটসহ মোট ১০,৭৪৩ (দশ হাজার সাতশত তেতাল্লিশ) ঘনফুট পাথর (যেখানে যে অবস্থায় আছে) উন্মুক্ত নিলামে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ০৯/০৯/২০২৫ খ্রি. তারিখে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
জব্দকৃত উল্লিখিত পরিমাণ পাথরের উন্মুক্ত নিলাম ডাক (সরাসরি ও অনলাইন) বিএমডির সভাকক্ষে ১৬/০৯/২০২৫ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নিলামে জনাব মোঃ শাহান শাহ কামাল, পিতা–মোঃ সায়েদ মিয়া, ঠিকানা- লাউড়ের গড়, বাদাঘাট, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ, মোবাইল- ০১৭১১-৯১২৭২৬ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি প্রতি ঘনফুট পাথর ৮০.১০ (আশি টাকা দশ পয়সা) দরে মোট নিলাম মূল্য বাবদ টাকা ৮,৬০,৫১৪.৩০ (আট লক্ষ ষাট হাজার পাঁচশত চৌদ্দ টাকা ত্রিশ পয়সা), নিলাম মূল্যের উপর ১৫% ভ্যাট বাবদ টাকা ১,২৯,০৭৭.১৫ (এক লক্ষ উনত্রিশ হাজার সাতাত্তর টাকা পনেরো পয়সা) এবং ১০% আয়কর বাবদ টাকা ৮৬,০৫১.৪৩ (ছিয়াশি হাজার একান্ন টাকা তেতাল্লিশ পয়সা) সরকারি কোষাগারে এ-চালানের মাধ্যমে জমা প্রদান করেন।
পূর্বে পাথর নিলাম কার্যক্রমে কিছু প্রক্রিয়াগত ঘাটতির কারণে পাথর নিলামে বিক্রির পর সর্বোচ্চ দরদাতা (নিলামগ্রহীতা)-কে পাথর অপসারণের জন্য কার্যাদেশ প্রদানের তারিখ হতে নিলামকৃত পাথরের পরিমান অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে সময় প্রদান করা হতো। পাথর অপসারণকালীন সময়ে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি), স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতেন না। এই সুযোগে নিলামগ্রহীতা জব্দকৃত পাথরের পাশাপাশি আশেপাশের স্থান থেকেও অতিরিক্ত পাথর অপসারণ করতেন। এতে প্রকৃত জব্দকৃত পাথর অনেক সময় অবশিষ্ট থেকে যেত এবং পরবর্তীতে তারা অবশিষ্ট পাথর দেখিয়ে সময় বাড়ানোর আবেদন করতেন। বাস্তবে এই সময়ে তারা অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত পাথর অপসারন করতেন, যা সরকারের রাজস্ব ও খনিজ সম্পদের ক্ষতি করত।
এই অনিয়ম দূর করতে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) পাথর নিলাম ব্যবস্থায় একটি নতুন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রবর্তন করেছে। নিলামকৃত পাথরের সর্বোচ্চ দরদাতার অনুকূলে কার্যাদেশ প্রদানের পর প্রথমবারের মতো বিএমডি’র পরিচালক (খনি ও খনিজ), এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, একজন সহকারী পরিচালক ও একজন অফিস সহকারী, স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের উপস্থিতিতে পাথর বুঝিয়ে দেওয়ার তারিখ হতে ০৪ (চার) দিনের মধ্যে নিলামগ্রহীতার নিজ খরচ ও উদ্যোগে নিলামে ক্রয়কৃত পাথর (যেখানে যে অবস্থায় রয়েছে) অপসারণের ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে পাথর বুঝিয়ে দেওয়ার ফলে নিলামগ্রহীতা অতিরিক্ত পাথর অপসারণের সুযোগ পাননি। এই প্রক্রিয়ায় সরকারি সম্পদ সুরক্ষিত হয়েছে এবং রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি নিলামগ্রহীতা যাতে নিলামকৃত ১০,৭৪৩ ঘনফুট পাথর সঠিকভাবে বুঝে পান, তা সরেজমিন উপস্থিত থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিএমডি ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পদ্ধতি বজায় রাখার মাধ্যমে খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন ও জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।