09/05/2025
Congratulations
Nabil Ahmed Rafi
Assistant Secretary
K M Das Lane Student’s Organisation
We are really proud of you.
একজন রউফিয়ানের সাফল্যের গল্প
আমি এইচএসসিতে GPA ৫ পাইনি। আমি বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দেইনি, কোথাও ভর্তি হইনি। আমার কোনো ব্যাকআপ প্ল্যান ছিল না। আমার হাতে ছিল শুধু একটা সুযোগ—আর আমি সেটা নিয়ে নিঃসংকোচে ঝুঁকি নিয়েছিলাম।
এটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
অনেকেই বলেছিল আমি ভুল করছি। অনেকেই ভেবেছিল আমি সময় নষ্ট করছি। আর সত্যি বললে, এমন সময়ও ছিল যখন আমিও সেটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম। চাপ… প্রশ্ন… নীরবতা… অনিশ্চয়তা… সব মিলিয়ে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।
একটা রাতও ছিল না যেদিন আমি কাঁদিনি। একটা দোয়াও ছিল না যেটা আমি করিনি। ইউএসএ অ্যাপ্লিকেশন জার্নিতে অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে মনে হয়েছিল, আমি আর অ্যাপ্লাইই করতে পারবো না। মনটাই ভেঙে পড়েছিল। ভেবেছিলাম এখানেই বোধয় শেষ।
তার উপর একদিন একজন আমাকে বললো—
“সব ইউনিভার্সিটির (বাংলাদেশ) পরীক্ষা তো শেষ… এখন আর কোনটা বাকি?”
আমি কিছুই বলিনি। চুপ করে ছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন আমার অস্তিত্বটাই হারিয়ে যাচ্ছে। বন্ধুরা একে একে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেলো। তারা নতুন জীবন শুরু করলো, ইউনিভার্সিটি লাইফ উপভোগ করতে লাগলো।
আর আমি… একা।
আমার খুব কাছের কয়েকজন ছাড়া কেউ জানতো না আমি কী ভয়ানক সময় পার করছিলাম। যে ‘গ্যাপ ইয়ার’ এর ভয়, সেটা আমাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছিল।
কখনো কখনো নিজের পরিবার থেকেও কিছু কথা শুনেছি, যেগুলো না চাইলেও ভেতরটা আরও একটু ভেঙে দিয়েছিল। কারণ তারাও তো চিন্তিত ছিল।
আর সমাজ?
সমাজ তো প্রশ্ন করবেই—
“তোর ছেলে এখন কী করছে?” “কোথায় ভর্তি হয়েছে?”
শেষ মুহূর্তে Ratul আমাকে একটা কথাই বলেছিল—
“ভাই যা হবার হইছে। তুমি অ্যাপ্লাই কর। রিজেকশন খাইলে খাবা তাও এপলাই কর । তুমি অ্যাকসেপট্যান্স পাবাই। আল্লাহ ভরসা”
ওই কথাটা আমার মধ্যে একটা আগুন জ্বেলে দিলো।
আমি কাঁদা বন্ধ করলাম।নিজেকে আবার গুছিয়ে নিলাম। ডেডলাইন শেষ হয়ে যাচ্ছিল—দিন-রাত এক করে শুধু অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করলাম। ঘুমহীন রাত, চাপে ভরা দিন, হাজারো বাধা—কিন্তু থামিনি।
এত কিছুর পর আজ—আমি ইউএসএ’র ভিসা হাতে ধরে আছি। আমি যাচ্ছি আমার স্বপ্নের দেশে, পড়তে যাচ্ছি Knox College এ। ইউএসএ এর একটা টপ লিবারেল আর্টস কলেজে, প্রায় ৩ কোটি টাকা সমমানের স্কলারশিপ নিয়ে। আরও বড় কথা— ১১টি ইউনিভার্সিটি থেকে অ্যাকসেপট্যান্স আর স্কলারশিপ পেয়েছি, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা!
হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন।
যে ছেলে GPA ৫ পায়নি,
যার কোনো প্ল্যান বি ছিল না,
যাকে সমাজ প্রশ্ন করেছে, চুপ করিয়েছে, ভেঙে দিয়েছে—
আজ সে নিজের স্বপ্নকে ছুঁতে যাচ্ছে।
আর আমি শুধু বলতে চাই—আলহামদুলিল্লাহ।
এই পোস্টটা কাউকে কিছু দেখানোর জন্য না। এই লেখা তাদের জন্য, যারা এখন দিশেহারা। যারা ভাবছে তাদের সময় শেষ, যারা মনে করছে তারা হারিয়ে যাচ্ছে।
আমার কথা শুনো—তোমার জার্নি এখনো শেষ হয়নি।
অনেক সময়, সবচেয়ে বড় কামব্যাকটা আসে সবচেয়ে কঠিন সময়ের পরেই।
Take the risk. If it scares you, pursue it more.
Big dreams are scary—but they’re worth it.
আমার পরিবারকে ধন্যবাদ পাশে থাকার জন্য। আমার বন্ধু, ছোটভাই, বড় ভাই যারা বিশ্বাস রেখেছিল তোমাদের কৃতজ্ঞতা। আর আল্লাহ—আপনাকেই সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ।
This is just the beginning.
Please keep me in your prayers. I promise to make you all, and my country, proud.