18/03/2024
🌺❤💟 #হুজুরের_বউ_হবো💟❤🌺
🌺🌺🌺 #পর্ব__০২🌺🌺🌺
✍ েশা_বিনতে_রাজিয়া
প্রিন্সিপালঃ তুমি কি জানো টেস্ট পরিক্ষা না দিলে ফাইনাল পরিক্ষা দিতে পারবেনা...
নুজাইফাঃ স্যার মাফ করবেন! দুনিয়ার পরিক্ষা দিয়ে কি করব যদি আখেরাতের পরিক্ষায় ফেইল হয়ে যাই?
প্রিন্সিপালঃ আখেরাতের চিন্তা তো পরেও করতে পারবে। আগে তো ক্যারিয়ার গড়ে তুলো।
নুজাইফাঃ স্যার একটা বরফের খন্ড হাতে তুলে রাখলে তার ২মিনিট অথবা পাচঁ মিনিটের গ্যারান্টি আছে কিন্তু আমার নিঃশ্বাষের তো সেই গ্যারান্টিও নেই।
আমি যে এখান থেকে বাড়িতে পৌছতে পারব তার গ্যারান্টি দিতে পারবেন?
প্রিন্সিপাল আমতা আমতা করে বলল, হ্যা তা পারব না কিন্তু তুমি সিয়ামের সাথে মিসবিহেব কেনো করেছো?
নুজাইফাঃ স্যার আমি ওনার সাথে মিসবিহেব করি নাই, ওনি আমার মুখ দেখতে চেয়েছে আমি ওনাকে বলেছি মেডামকে ডাকতে! মেডামের সামনে আমি মুখ খোলতাম.
প্রিন্সিপালঃ তুমি এখন যেতে পারো আর হ্যা পরিক্ষা দিবা কোন প্রবলেম হলে আমি দেখব।
নুজাইফাঃ শুকরিয়া স্যার। সালাম দিয়ে নুজাইফা চলে গেলো।
সিয়ামঃ স্যার আপনি ওকে পরিক্ষা দিতে বললেন?
প্রিন্সিপালঃ হ্যা বললাম কারণ ও যা বলেছে সবি যুক্তি সঙ্গত কথা বলেছে। তুমি এখন যাও তোমার সাথে এ ব্যাপারে আর কোন কথা বলতে চাই না।
সিয়ামের মনে রাগ আর জেদ দুটোই চেপে বসলো আরো জোরালো ভাবে।
নুজাইফা পরিক্ষার হলে গেলো...
তার সিট পড়েছে অবন্তিকার পাশে।
নুজাইফা অবন্তিকার পাশে বসতেই অবন্তিকা লাফিয়ে উঠে বলল, এই কালো ভূত তুমি আমার পাশে বসবেনা। আনকালচার ক্ষেত
নুজাইফা কোমল কন্ঠে বললঃ আমার কোন দোষ নেই বোন, স্যার রা যেভাবে সিট ফেলেছে আমি সেভাবেই বসেছি।
অবন্তিকাঃ যেভাবেই সিট ফেলুক তুমি আমার পাশে বসবেনা।
নুজাইফাঃ তাহলে আমি কোথায় বসব?
অবন্তিকাঃ জানি না কোথায় বসবে বাট এখান থেকে সরে বসো। অবন্তিকা আর নুজাইফার কথাগুলি পাশের সিটের নিঝুম শোনছিলো।
নিঝুম নুজাইফা কে ডাক দিলো তার পাশে বসার জন্য।
নুজাইফা নিঝুমের পাশে বসল নিঝুমকে ভালো করে দেখলো, বেশ সুন্দর গড়নের একটা মেয়ে, অন্যসকল মেয়েদের মতো অতোটা মড্রার্ণ ও না আবার অতোটা ব্যাকডেটেড ও না। হিজাব পড়েছে কিন্তু অত্যাধুনিক ভাবে।
নিঝুমঃ কি দেখছো??
নুজাইফাঃ না কিছুনা।
নিঝুমঃ সিট পরিবর্তনের জন্য প্রিন্সিপাল এমনকি অন্য কোন স্যার মেডামরাও তোমাকে কিছু বলবেনা।
নুজাইফাঃ কেনো :O
নিঝুমঃ কারণ অবন্তিকা হচ্ছে প্রিন্সপালের মেয়ে, তাই অবন্তিকা ভার্সিটি অন্যরকম একটা পাওয়ার দেখিয়ে চলে। আর ওকে কেউ কিছু বলেও না, কেউ কিছু বললে তার খবর আছে।
নুছাইফাঃ হুম বোঝলাম। কিন্তু বোন তোমার নাম কি?
নিঝুমঃ RaHima NisHat NizUm...তোমার নাম কি??
নুজাইফাঃ মাশা'আল্লাহ খুব সুন্দর নাম...আমার নাম হচ্ছে নুজাইফা জান্নাত।
নিঝুমঃ একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
নুজাইফাঃ হ্যা বলো।
নিঝুমঃ এইযে তুমি কালো একটা বোরখা আর চার থেকে পাচঁ লেয়ারের হিজাব পড়ে, নিকাব নামিয়ে চোখে সানগ্লাস পড়েছো তাও কালচে গ্লাসের চশমা, আবার হাতে মোজা পায়ে মোজা, তোমার কি গরম লাগেনা?
নুজাইফাঃ সত্যি কথা বলবো? আমার এতে একটুও গরম লাগেনা, এসব পড়লে কেমন জানি মনে প্রশান্তি অনুভব করি। বেপর্দা ভাবে চললে তার শাস্তি জাহান্নাম! এখন যদি এই টুকু গরম সহ্য না করে বেপর্দা ভাবে ঘুরাফেরা করি তাহলে জাহান্নামের আগুনের উত্তাপ কি করে সহ্য করব? তুমি কি জানো নামায, রোজার মত মেয়েদের জন্য পর্দাও ফরজ ইবাদত!
পর্দা হলো ফরজে আইন অর্থ্যাৎ
""এটা আল্লাহর হুকুম এবং আবশ্যক""।
আল্লাহর এই আইন যদি না মানি তাহলে জাহান্নামের গর্জন রত কালো ভয়ানক আগুনে দগ্ধ হতে হবে লাখ কোটি বৎসর। জাহান্নাম এতো ভয়ংকর যে ৭০ হাজার ফেরেস্তা ৭০হাজার লোহার শিকল দিয়েও বেধে রাখতে পারছেনা।
নিঝুমঃ হুম বাট আমিওতো স্কার্ফকে হিজাবের করে মতো পড়ি যথেষ্ঠ শালীন ভাবেই থাকি শুধু মুখ ঢাকি না, তাতে কি আমার পর্দা হয় না?
শোন নুজাইফা মনের পর্দাই বড় পর্দা তাছাড়া তোমাকে তো কেউ দেখতেই পারেনা এসব আবরনের জন্য! সবাই ভাবে তুমি কালো ভুতের মতো।
নুজাইফাঃ মাশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।
নিঝুমঃ হোয়াট? সবাই তোমাকে কালো ভূত বলে এতে তোমার খারাপ লাগেনা?
নুজাইফাঃ না একদম খারাপ লাগে না, কারণ তারা আমার শরীরের একটু অংশ দেখতে পারে না বলেই কালো ভূত বলে তার মানে আমার পর্দা নিখুত।
নিঝুমঃ তুমি কি পাগল?
নুজাইফাঃ অবশ্যই না। শোন নিঝুম
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন-
"হে ঈমানদার নারীগন! তোমরা বাড়ির ভেতরেই থাকো এবং বাড়ির বাহির হইওনা। যেভাবে জাহেলিয়া যুগের নারীরা নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ করত।"
[সূরা, আহযাব-৪৩]
আবার অনত্র আয়াতে বলেছেন-
"যদি তোমরা প্রয়োজনে বাড়ির বাহির হও তাহলে তোমাদের উপর একটা লম্বা চাদর টেনে নাও এবং নিজেকে আবৃত করে বের হও।"
[সুরা আহযাব-৬০]
রাসুল স. বলেছেন,
"নারী যখন বালেগা (ঋতুবর্তী) হয়ে যায় তখন তার সতর দেখা এবং দেখানো জায়েজ নয়,তার জন্য পর্দা ফরজ"।[মুসলীম]
"যারা সতর দেখায় এবং দেখে তাদের উপর আল্লাহর লা'নত" [বাইহাকী]
আর তাছাড়া মুখ থেকেই তো পাপের সূচনা।যে নারী বোরখা পড়ে মুখ খোলা রাখল, সে যেনো জানালা বন্ধ করে দরজা খোলা রাখল।
নিঝুমঃ....
আচ্ছা এ ব্যাপারে পড়ে আলোচনা করব।
স্যার আসতেছে পরিক্ষা শুরু হবে এখন।
স্যার আসলো পরিক্ষা শুরু হলো এবং পরিক্ষা চলছে।
নুজাইফা ভালোই লিখতেছে, লিখার পর দেখলো অবন্তিকা কলম কামড়াচ্ছে হয়তো ও লিখতে পারছেনা। যেহেতু নুজাইফার লেখা শেষ তাই ও অবন্তিকা কে হেল্প করার উদ্দেশ্যে ওকে ডাকল।
অবন্তিকা বিরক্ত বোধ করে নুজাইফার ডাকে সাড়া দিলো না। নুজাইফা ভাবলো ও হয়তো শোনেনি তাই আবার ডাক দিলো। এবার অবন্তিকা রেগে গেলো তারপর বলল,
এই কালো ভূত আমাকে ডাকছিস কেনো?
নুজাইফাঃ ইয়ে মানে তুমিতো না লিখে বসে আছো আর আমারতো লেখা শেষ তাই ভাবলাম তোমাকে একটু হেল্প করি।
অবন্তিকাঃ তোর কাছ থেকে আমি সাহায্য নেবো? এই অবন্তিকাকে হেল্প করতে চাস?
তোকে দেখে তো মনে হয় পরিক্ষার প ও জানিস না।
নুজাইফা চুপ করে গেলো।
নিঝুম বললঃ ও তোমাকে তখন এতো অপমান করল।তারপরেও তুমি তাকে নিলর্জ্জের মতো হেল্প করতে গেলে কেনো?
নুজাইফাঃ ও পারছিলো নাতো তাই।
নিঝুমঃ দেখো নম্র হওয়া ভালো বাট অতি নম্রতা কস্টের কারণ।
নুজাইফাঃ এটা ঠিক বললেনা কারণ আজ নাহোক কাল আল্লাহ ওকে সঠিক বোঝ নিশ্চই দেবে।
নিঝুমঃ থাক আর বলা লাগবে চলো যাওয়া যাক।
নুজাইফাঃ হুম।
পরিক্ষা শেষে নিঝুম আর নুজাইফা আর বাড়ির পথে পা বাড়ালো ঠিক তখনি...
🏃🏃🏃চলবে🏃🏃🏃
( পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন। এই গল্পের প্রতিটি পর্বে রয়েছে শিক্ষনীয় বিষয়। যা আমাদের বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারবো ইনশাল্লাহ)
© Collected