23/05/2026
প্রশ্ন:
কোরবানির দশদিন আগ থেকে চুল ও নখ না কাটলে কোরবানির সওয়াব হয়। এই না কাটা মানে কি মোটেও কিছু কাটা যাবে না? গালের উপরের দাড়ি কি কাটা যাবে? গলার নিচের দাড়ি বা মোচ?
উত্তর:
কোরবানির প্রথম ১০ দিন (জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি দেওয়া পর্যন্ত) চুল, নখ ও শরীরের অন্যান্য পশম না কাটার বিষয়টি একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত বা মুস্তাহাব বিধান।
আপনার মনে যে প্রশ্নগুলো জেগেছে, সেগুলোর উত্তর নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
১. 'না কাটা' মানে কি মোটেও কিছু কাটা যাবে না?
হ্যাঁ, এই ১০ দিন শরীরের যেকোনো অংশের চুল, নখ, গোঁফ বা অন্য যেকোনো পশম কাটার বিষয়ে সাধারণভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"যখন জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন আসে এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে, সে যেন তার চুল ও চামড়ার (নখের) কোনো অংশ স্পর্শ না করে (না কাটে)।" (সহীহ মুসলিম)
তাই উত্তম হলো, জিলহজ মাস শুরু হওয়ার আগেই (অর্থাৎ জিলকদ মাসের শেষ দিনগুলোতে) নখ, চুল এবং শরীরের অপ্রয়োজনীয় পশম পরিষ্কার করে নেওয়া।
২. গালের উপরের বা গলার নিচের দাড়ি কি কাটা যাবে?
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, দাড়ি এক মুষ্টির কম হলে তা কাটার কোনো সুযোগ নেই, তা কোরবানির সময় হোক বা বছরের অন্য যেকোনো সময়ই হোক।
তবে সাধারণ সময়ে যারা এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কেটে থাকেন বা গালের উপরের ও গলার নিচের বাড়তি পশম ছেঁটে পরিষ্কার করেন, কোরবানির এই ১০ দিন তাদের জন্যও এগুলো কাটা থেকে বিরত থাকা উত্তম। যেহেতু হাদিসে সাধারণভাবে "চুল ও পশম" কাটতে নিষেধ করা হয়েছে, তাই গাল বা গলার নিচের পশমও এর আওতাভুক্ত।
৩. মোচ বা গোঁফ কি কাটা যাবে?
গোঁফ ছেঁটে ছোট রাখা সুন্নাত। তবে কোরবানির এই ১০ দিন গোঁফ কাটাও এড়িয়ে চলতে হবে।
একটি বিশেষ ব্যতিক্রম (৪০ দিনের নিয়ম):
ইসলামে শরীরের অপ্রয়োজনীয় পশম ও নখ ৪০ দিনের বেশি না কেটে রাখা নিষিদ্ধ। যদি এমন হয় যে, জিলহজ মাসের ১০ দিন চুল-নখ না কাটলে আপনার কোনো পশম বা নখ কাটার মেয়াদ ৪০ দিন পার হয়ে যাবে, তবে সেই ক্ষেত্রে গুনাহ থেকে বাঁচতে জিলহজের ১০ দিনের মধ্যেও তা কেটে ফেলা ওয়াজিব বা আবশ্যক। কারণ সুন্নাত বা মুস্তাহাব আমল পালন করতে গিয়ে ওয়াজিব লঙ্ঘন করা যাবে না।
সংক্ষেপে করণীয়:
জিলহজের চাঁদ দেখার আগে আগেই নখ, চুল ও গোঁফ কেটে পরিচ্ছন্ন হয়ে নিন।
চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি শেষ হওয়া পর্যন্ত গাল, গলা, গোঁফ বা শরীরের কোথাও কোনো ক্ষুর, কাঁচি বা নেইলকাটার ব্যবহার করবেন না।
কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার পর এগুলো কাটবেন। (যারা কোরবানি দিতে পারছেন না, তারাও যদি এই আমলটি করেন, তবে হাদিস অনুযায়ী তারাও কোরবানির সওয়াব পাবেন)।
প্রশ্ন: আমি কোরবানি দিচ্ছি না ⭕
উত্তর:📍
আপনি কোরবানি না দিলেও এই আমলটি আপনার জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে আপনিও কোরবানির সওয়াব লাভ করতে পারবেন। এটি ইসলামের একটি বিশেষ অনুকম্পা।
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যারা আর্থিক অক্ষমতা বা অন্য কোনো কারণে কোরবানি দিতে পারছেন না, তারাও যদি জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন নিজের চুল, নখ ও পশম না কেটে কোরবানি ঈদের দিন কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার পর সেগুলো কাটেন, তবে আল্লাহর দরবারে তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ কোরবানি দেওয়ার সওয়াব লিখে দেওয়া হবে। (সুনানে আবু দাউদ, নাসায়ি)।
তাই আপনার জন্য নিয়মগুলো একই থাকবে:
চাঁদ দেখার আগে: জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার আগেই (অর্থাৎ জিলকদ মাসের শেষ দিকে) আপনার নখ, গোঁফ বা শরীরের অপ্রয়োজনীয় পশম কেটে পরিষ্কার করে নিন।
১০ দিনের নিষেধাজ্ঞা: জিলহজের ১ তারিখ থেকে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত গাল, গলা, গোঁফ, চুল বা নখ—কোনো কিছুই কাটবেন না।
কখন কাটবেন: ঈদের দিন ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পর (অথবা এলাকার কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার পর) আপনি আপনার নখ ও চুল কাটবেন। এর মাধ্যমেই আপনি কোরবানির সওয়াবের অংশীদার হবেন, ইনশাআল্লাহ।