03/02/2026
অত্র ইনস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত তিন দিনব্যাপী “বিসিএসআইআর বিজ্ঞান ও শিল্প প্রযুক্তি মেলা–২০২৬” আজ মঙ্গলবার বেলা ১১:০০টায় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সফলভাবে শেষ হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিএসআইআর-এর সম্মানিত সদস্য (অর্থ) ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুগ্মসচিব জনাব মোঃ তৌফিক-ই-লাহী এবং সদস্য (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) ড. মোসা: হোসনে আরা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অত্র ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. তাসনীম ফারজানা, পিএসও।
প্রধান অতিথি ড. সামিনা আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা বিকশিত করা এবং বিজ্ঞানের চর্চাকে আরও গতিশীল করতে এ ধরনের মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি সদস্য (অর্থ) জনাব তৌফিক-ই-লাহী শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি ও অনুসন্ধিৎসা শক্তিকে ভবিষ্যতের অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আজকের ক্ষুদ্র পদক্ষেপই আগামী দিনের বড় উদ্ভাবনের ভিত্তি তৈরি করে, আর প্রতিটি সফলতার পেছনে থাকে অবিচল চেষ্টা। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "তোমরা কি জানো তোমাদের সামনে একজন বড় বিজ্ঞানী বসে আছেন, যিনি বিশ্বের ২% বিজ্ঞানীদের একজন?" তারপর তিনি প্রধান অতিথিকে দেখিয়ে দিয়ে বলেন," আজকের প্রধান অতিথিই সেই বিজ্ঞানী।"
বিশেষ অতিথি সদস্য (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) ড. মোসা: হোসনে আরা বেগম জানান, বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের বইভিত্তিক জ্ঞানকে বাস্তবমুখী প্রয়োগের সুযোগ করে দেয়। তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী হয়ে প্রযুক্তি–উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ড. তাসনীম ফারজানা বলেন, নতুন প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা জাগিয়ে তোলা এবং বিজ্ঞানবোধ বাড়ানোই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের মেধাসম্পদ সমৃদ্ধ করার দিকেও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
মেলায় সাভার ও ধামরাই অঞ্চলের বিভিন্ন স্বনামধন্য স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা মোট ৫৮টি উদ্ভাবনী বৈজ্ঞানিক প্রকল্প প্রদর্শন করে, যা পুরো মেলাকে প্রাণবন্ত ও জ্ঞানসমৃদ্ধ করে তোলে। সমাপনী দিনে প্রকল্প মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারী প্রকল্পসমূহকে সনদসহ আর্থিক
পুরস্কার প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সকল অংশগ্রহণকারী স্টলকে সনদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে অতিথিবৃন্দ প্রদর্শনীস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে খুঁটিনাটি খোঁজখবর নেন। উল্লেখ্য, মেলা প্রতিদিন সকাল ১০:০০টা থেকে বিকাল ৫:০০টা পর্যন্ত চলমান ছিল এবং এলআরআই-এর তথ্য কেন্দ্রে আগত দর্শনার্থীদের প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উদ্ভাবন ও পণ্য সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়।