19/03/2021
আগামীকাল ২০ মার্চ ঐতিহাসিক "নেজামে ইসলাম দিবস "
" আমরা চাই নেজামে ইসলাম "
ঐতিহাসিক এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আগামী কাল ২০ মার্চ বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি'র সারাদেশের সকল শাখাসমূহের উদ্যোগে " ঐতিহাসিক নেজামে ইসলাম দিবস " পালন করুন
ইউরোপিয়ান দস্যু বৃটিশ বেনিয়াদের রাক্ষুসে করাল মুক্ত করে বৃটিশ ভারত থেকে পৃথক এবং স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রস্বত্ত্বা প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা ও তৎকালীন ভারতীয় মুসলমানসহ পুরো মুসলিম উম্মাহ'র অন্যতম শীর্ষ অভিভাবক হাকীমুল উম্মাত আল্লামা শাহ আশরাফ আলী থানভী রহ : এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং শায়খুল ইসলাম আল্লামা শিব্বির আহমাদ উসমানী রহ : , আল্লামা যফর আহমদ উসমানী রহ : ও হযরত থানভী রহ :- এর প্রখ্যাত খলীফা আল্লামা আতহার আলী রহ : সহ উপমহাদেশের সর্বস্তরের আকাবিরে দীনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো " জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম " ।
জমিয়ত প্রতিষ্ঠার পূর্বে ভারতকে খণ্ডিত করে মুসলমানদের জন্য পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্রস্বত্ত্বা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হযরত থানভী রহ : এর সরাসরি নির্দেশে ভারতীয় কংগ্রেসের বিকল্প শক্তি ও মুসলিম রাজনৈতিক দল হিসাবে নবাবজাদা স্যার সলিমুল্লাহ খানের নেতৃত্বে ১৯০৬ ঈসায়ী সালে গঠিত হয় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ।
একই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে তথা স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রস্বত্ত্বার প্রবল দাবীকে বাস্তবে রূপদানের দৃঢ়প্রত্যয়ে হযরত থানভী রহ : এর নির্দেশে কংগ্রেস পন্থী জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের বিপরীতে উপমহাদেশের মুসলিম জনতার স্বপ্ন মদীনার সনদ বাস্তবায়নে সক্ষম ও নিয়ামক শক্তি রূপে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শিব্বির আহমাদ উসমানী রহ : এর নেতৃত্বে ১৯৪৫ ঈসায়ী সালে প্রতিষ্ঠিত হয় "জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ।
ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তন করে পরিশেষে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও মুসলিম লীগ - এর যৌথ সংগ্রামের ফসল স্বরূপ ১৯৪৭ ঈসায়ী সালে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল উপমহাদেশীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর একান্তই নিজস্ব ঠিকানা স্বাধীন রাষ্ট্রস্বত্ত্বা নিখিল পাকিস্তান । অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এর যৌথ অবস্থানই ছিলো ১৯৪৭ সালের প্রথম স্বাধীনতা পরবর্তী তৎকালীন নিখিল পাকিস্তান ।
নবপ্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানকে ঘিরে মুসলিম লীগের দৃষ্টিভঙ্গি যাই থাকনা কেনো , কিন্তু জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-এর স্বাধীনতার পাশাপাশি আপোষহীন ও বলিষ্ঠ দাবী ছিলো যে , পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সংবিধান হবে ঐতিহাসিক মদীনা সনদের বাস্তব প্রতিচ্ছবি । যে বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আপোষ রফার অবকাশ নেই , এমনই ছিলো জমিয়তের স্পষ্ট রাজনৈতিক ঘোষণা ।
তাই সূচনাপর্বের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নেতৃবৃন্দ তৎকালীন পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের ভিতরে এবং বাইরে অবিরাম লড়াই ও সংগ্রামের পথেই ছিলেন অটল ও অবিচল । তবুও ফিরিঙ্গী চেতনার মুসলিম লীগ সরকার ও এর নেতৃবৃন্দ জমিয়তের এদাবী বাস্বায়নের পথে এগিয়ে আসেনি ।
ফলশ্রুতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মুসলিম লীগ দলীয় সরকারের সঙ্গ ত্যাগের বলিষ্ঠ মানসিকতায় ১৯৫০ ঈসায়ী সালে জমিয়ত নেতা সৈয়দ মুসলেহুদ্দীন রহ : এর অক্লান্ত আত্মত্যাগের বদৌলতে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক মাছিহাতা কনফারেন্স । মাছিহাতার সে কনফারেন্সের চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গি হিসাবে নেজামে ইসলাম তথা ইসলামী আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দলীয় সংগ্রামের গতিবেগ আরও তীব্র থেকে তীব্রতর করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্তকরা হয় , সে অঙ্গীকারের আলোকে পরবর্তী ১৯৫২ ঈসায়ী সালের ঐতিহাসিক হয়বতনগর সম্মেলনের সমাপনী পর্যায়ে ২০ মার্চ আমরা চাই " নেজামে ইসলাম " এই শ্লোগান দলের প্রধান অলংকার ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিনত হয়েছিলো । সেই শ্লোগানকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম - এর রাজনৈতিক নামই হয়ে গেলো নেজামে ইসলাম তথা "নেজামে ইসলাম পার্টি "
সে ধারাবাহিকতায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টির জৌলুসপূর্ণ রাজনৈতিক ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত নির্যাসটুকুই এখানে আলোকপাত করা হলো , কারণ কলেবর একদম সংক্ষিপ্ত ।
সে ধারাবাহিকতার আলোকে বর্তমান নেজামে ইসলাম পার্টি তার সোনালী অতীতের স্মরণীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নবপ্রজন্মের নিকট যৌক্তিক পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রতিবছর ২০ মার্চ ঐতিহাসিক " নেজামে ইসলাম দিবস " হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । তাই এই অবতারনা ।
সুতরাং আলোচনা সভা , ছোটদের কুইজ প্রতিযোগিতা , হামাদ ও না'ত পরিবেশন অনুষ্ঠান সহ স্থান এবং পরিবেশের আলোকে যেকোনো ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে "ঐতিহাসিক নেজামে ইসলাম দিবস " উদযাপন করার জন্য পার্টির সকল শাখা , ইসলামী শ্রমিক সমাজ সহ সকল সহযোগী সংগঠনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান রইলো ।
মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী
সিনিয়র নায়েবে আমীর
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি