01/07/2023
১ জুলাই ২০২৩। এখন থেকে ঠিক একশ দুই বছর আগে নানামুখী ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে পূর্ব বাংলার মাটিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি মানুষ তৈরির কারখানা, নাম যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অনেক চড়াই উৎরাইয়ের মাঝেও এ বিশ্ববিদ্যালয় এদেশকে স্মরণ করার মতো স্মৃতি দিয়ে গেছে দুহাত ভরে।
সেই বিশ্ববিদ্যালয়টিই ৫২তে হায়েনার হাতে মৃত প্রায় মায়ের ভাষাকে উদ্ধার করেছে, ৭১-এ হানাদারের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার নিখুঁত পরিকল্পনা ও সামনে থেকে লড়াই করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ ও পতাকা এনে দিয়েছে।
নানা সময়ে দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ছাত্রদের অধিকার, গণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের সাক্ষ্য হয়েছে। লেখাপড়া, গবেষণা আর মুক্তবুদ্ধির আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তাই তো শতবর্ষের গন্ডি পেরিয়ে জন্মদিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিকাতরতায় প্রতিটি শিক্ষার্থী আবেগপ্রবণ হয়ে উঠছে।
এ প্রতিষ্ঠানটির নানাবিধ প্রাপ্তিতে ঝুলি পূর্ণ থাকলেও বর্তমানে নোংরা রাজনীতি, চরম দলীয়করণ, অস্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার অভাব আর তোষামোদি শক্তির আবির্ভাবের ফলে আজ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের পাত্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা আর শিক্ষকের সামাজিক অবস্থানের অবনতি তার চূড়ান্ত রুপ দেখে ফেলেছে। শিক্ষা ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক তৈরি করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা করতে যেমন এই বিশ্ববিদ্যালয় ব্যর্থ হয়েছে তেমনি বারবার নিজের সন্তানদের রক্ষায়ও এই বিশ্ববিদ্যালয় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নাকের নিচে থেকে সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠন নিয়মিত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। এখানেও প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকায়।
আমাদের প্রত্যাশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবার ঘুরে দাঁড়াবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবার প্রকৃত শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নয়, সারা বিশ্বের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবদান রাখবে।
আজকের এই জন্মদিবসে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১০ টি প্রস্তাবনা:
১. ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান ও ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
২. ১ম বর্ষ থেকে প্রতিটি শিক্ষার্থীর বৈধ সীট নিশ্চিত করে গেস্টরুম/গণরুম কালচার বাতিল ও নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. লাইব্রেরির জন্য নতুন ভবণ নির্মাণ ও লাইব্রেরিতে সীট বৃদ্ধি করতে হবে।
৪. শিক্ষার মান উন্নত করতে রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।
৫. গবেষণায় বাজেট বৃদ্ধি এবং গবেষণাকর্মে ও নতুন গবেষক তৈরিতে উৎসাহপ্রদানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৬. হল ও ক্যাম্পাস ক্যান্টিন গুলোতে ভর্তুকি দিয়ে হলেও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণের সাথে সাথে খাবারের মান উন্নত করণ এবং খাবারের দাম ও মান নিয়ন্ত্রনে রাখতে তদারকি সেল গঠন করতে হবে।
৭. বহিরাগত মুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে।
৮. নিয়মিত ঢাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
৯. ভিনদেশী সংস্কৃতি রোধে দেশীয় সংস্কৃতি চর্চাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
১০. হিজাবের বিরুদ্ধে সকল প্রকার ষড়যন্ত্র বন্ধ করে ধর্মীয় পোশাকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বার্তা প্রেরক,
সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন,
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক,
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।