12/03/2025
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় বন্ধুরা, আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরে ধর্মীয় অনুশাসন পালনের বাস্তব চিত্র নিয়ে একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত—সব মুসলিম পরিবারে কি সত্যিই ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত আছে? আমরা কি শুধু মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়েছি বলেই মাঝেমধ্যে নামাজ পড়া, রমজানের রোজা রাখা, আর বছরে দুটি ঈদ উদযাপনকেই যথেষ্ট বলে ধরে নিচ্ছি? আমাদের জীবনযাপনে কোরআন ও রাসূল (সাঃ)-এর নির্দেশিত পথের কতটুকু প্রতিফলন ঘটছে?
প্রতিটি পরিবারের সন্তানরা কি তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে যথাযথ ধর্মীয় শিক্ষা পাচ্ছে? নাকি আজকের সমাজ-রাষ্ট্র তাদের সেই সুযোগটাই দিচ্ছে না? ভাবুন তো, একজন দিনমজুর, রিকশাচালক, হকার, কিংবা গৃহকর্মীর সন্তান কি কখনো জেনেছে পর্দার প্রকৃত সংজ্ঞা কী? পুরুষের জন্য চোখের পর্দার বাধ্যবাধকতা কী? অথচ তারা ছোটবেলা থেকেই অশ্লীল ভাষা রপ্ত করছে এবং তারা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।
অপরদিকে, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সমাজে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ থাকলেও, অভিভাবকদের ব্যস্ততার কারণে কতজন সন্তান সেই সঠিক দীক্ষা পাচ্ছে? অথচ, এসব সন্তানরা ইন্টারনেট ও সামাজিক প্রভাবের কারণে ছোটবেলা থেকেই সমকামিতার মতো বিষয় সম্পর্কে অবগত হচ্ছে। নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের অভাব প্রতিটি স্তরেই প্রকট হয়ে উঠেছে।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কি সত্যিই সফল? হুজুররা একের পর এক ওয়াজ করে যাচ্ছেন, কিন্তু সমাজে তার কতটুকু বাস্তব প্রভাব পড়ছে? আমাদের দেশে এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে মসজিদ নেই, তবু কখনো কি শুনেছেন, কোনো মসজিদের ইমাম স্থানীয় দরিদ্র পরিবারের ঘরে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন, তাদের সন্তানরা ধর্মীয় শিক্ষা পাচ্ছে কিনা? ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতারা কি কখনো তাদের আশেপাশের গৃহকর্মীর সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষার খোঁজ নিয়েছেন?
অন্যদিকে, ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনীতিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার প্রবণতা সমাজের ইসলামি নীতি-নৈতিকতার অভাবের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মীয় জ্ঞান ও আদর্শ শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে, তার বাস্তবিক প্রভাব কখনো সমাজে দৃশ্যমান হবে না। আমাদের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে—নিজ পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পর্যন্ত, যেন ইসলাম সত্যিকার অর্থে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয়।
আসুন, আমরা নিজেদের ঈমানের শক্তিতে বলীয়ান করি এবং যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করি। ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, এটি একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা—যা সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আল্লাহ হাফেজ।
আসসালামু আলাইকুম।