05/09/2026
কুমিল্লায় ধানকাটা শ্রমিক কর্তৃক চুরি করার জন্য গৃহকর্ত্রীকে হত্যা, ৭০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট, প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার-০৩
কুমিল্লার চান্দিনার অলিপুরে গত ০৩/০৫/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকালে নিজ বসতঘর থেকে গৃহকর্তী ছমিরন খাতুন (৬০)-এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘরের কাঠের আলমিরা খোলা ও কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, বাড়ীতে থাকা ধান কাটা শ্রমিকরা নগদ ৭০,০০০/- টাকা ও প্রায় ২,৩০,০০০/- টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকারসহ মোট ৩,০০,০০০/- টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ বশির আহাম্মদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে চান্দিনা থানার মামলা নং-০১, তারিখ-০৩/০৫/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ; ধারা-৩০২/৩৮০/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। থানা পুলিশ ০৭ দিন তদন্তের পর পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত মামলা হওয়ায় গত ১০/০৫/২০২৬ খ্রিস্টাব্দে পিবিআই কুমিল্লা জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিঃ) মোঃ আমিরুল ইসলাম মামলাটির তদন্ত করছেন।
পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই টিম তথ্য-প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্ততে গত ১২/০৫/২০২৬ থেকে ১৫/০৫/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি শরীফুল ইসলাম শান্ত (২৭)-কে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু আরাফাত হোসেন (১৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ০৩/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ মাসুম বিল্লা প্রকাশ রবিন (৩১)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই এর তদন্তে জানা যায়, আসামিরা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারী ঘাটে একসঙ্গে কাজ করত। ধান কাটার শ্রমিক সেজে তারা কুমিল্লায় এসে নিহতের বাড়িতে অবস্থান নেয়। কাজ না জানা এবং ধান নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার দিন রাতে ভিকটিম ছমিরন খাতুন ও তাঁর স্বামীর সঙ্গে শ্রমিকদের ঝগড়া হয়। এক পযার্য়ে ভিকটিম ছমিরন খাতুন ও তাঁর স্বামীর দুই জন একই ঘরের দুই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে এবং পাশের রুমে শ্রমিকরা ঘুমাতে যায়। বাড়ীর অন্য ঘরে ভিকটিমের ছেলে এবং ছেলের বউ ঘুমিয়ে পড়ে। এই সুযোগে রাত আনুমানিক ১.০০টা থেকে ১.৩০টার মধ্যে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ভিমটিম ছমিরন খাতুনের শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং তাঁর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।গ্রেফতারকৃত আসামিরা বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।