03/06/2026
স্ত্রীর সাথে পরকিয়ার জেরে স্বামী কর্তৃক পরকিয়া প্রেমিককে হত্যা, অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের, পিবিআই কিশোরগঞ্জ কর্তৃক রহস্য উদঘাটন, ০১ জন আসামী গ্রেফতার ও বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তি।
গত ০২/০৭/২০২৫ খ্রিঃ তারিখ বিকাল অনুমান ০৬.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিম জাহাঙ্গীর তার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে বাড়ির পশ্চিম দিকে রওনা হয়। গত ০৩/০৭/২০২৫ খ্রিঃ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.৩০ ঘটিকার সময় কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর থানাধীন বড়খারচর মধ্যপাড়ায় ঘাসের জমিতে ভিকটিম জাহাঙ্গীর মিয়ার মৃতদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ভিকটিমের মাতা দিলুয়ারা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানার মামলা নং-০৫, তারিখ- ০৪/০৭/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। থানা পুলিশ ০২ (দুই) মাস মামলাটি তদন্ত করে । পিবিআই, কিশোরগঞ্জ জেলা মামলাটি স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে। পিবিআই এর তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ০২ (দুই) জন আসামী শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনা করে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর থানা এলাকা হতে তদন্তে প্রাপ্ত সন্দিগ্ধ আসামী ১। হুসনা খাতুন (৪৫), কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ‘কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী হুসনা পিবিআই এর জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং পরবর্তীতে ০২/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে সিআরপিসি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই এর তদন্ত ও আসামীর জবানবন্দি থেকে জানা যায় যে, ভিকটিম জাহাঙ্গীর এর বিবাহের পূর্বে আসামী হুসনার সাথে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তাদের প্রায় সময়ই শারীরিক সম্পর্ক হতো। ভিকটিম জাহাঙ্গীর বিবাহ করার পর বেশ কয়েক বছর তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিলো না। পরবর্তীতে অত্র মামলার ঘটনার আনুমানিক ০৩ বছর পূর্ব থেকে তাদের মধ্যে পুনরায় পরকিয়া সম্পর্ক শুরু হয়। তখন থেকে আবারও মাঝে মধ্যেই জাহাঙ্গীর ও আসামী হুসনার মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হতো। এরই ধারাবাহিকতায় অত্র মামলার ঘটনার দিন জাহাঙ্গীর রাত অনুমান ০৮.০০ ঘটিকার সময় আসামী হুমনাকে অত্র মামলার ঘটনাস্থল কুলিয়ারচর থানাধীন বড়খারচর মধ্যপাড়া যেতে বলে। তখন আসামী হুসনা জাহাঙ্গীরের সাথে আসাদ মিয়ার নেপিয়ার ঘাসের জমিতে যায়। সেখানে তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকা অবস্থায় আসামী হুসনা এর স্বামী শহীদ বিষয়টি টের পেয়ে একটি ছুড়ি নিয়ে এসে জাহাঙ্গীরের উপর আক্রমন করে তার পিঠে ও পেটে আঘাত করে তাকে হত্যা করে। জাহাঙ্গীরের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আসামী শহীদ রশি দিয়ে তার হাত ও পা বেধে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে চলে যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামী শহীদ‘কে গ্রেফতারে লক্ষ্যে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।