27/02/2026
জাবির (রা.) বলেন, খন্দক যুদ্ধে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তীব্র ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখলাম। আমি দ্রুত আমার স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললাম, "তোমার কাছে কি কিছু আছে? আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে অত্যন্ত ক্ষুধার্ত দেখেছি।"
আমার স্ত্রী একটি থলি বের করলেন যাতে এক সা’ (প্রায় আড়াই কেজি) যব ছিল। আমাদের বাড়িতে একটি ছোট বকরি ছিল। আমি সেটি যবেহ করলাম এবং আমার স্ত্রী যব পিষে আটা তৈরি করলেন। আমি যখন মাংস কেটে হাড়িতে (ডেকচিতে) চড়ালাম, আমার স্ত্রী তখন তাঁর কাজও শেষ করলেন।
এরপর আমি যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম, তখন স্ত্রী বললেন, "রাসূল (সা.) ও তাঁর সাথীদের সামনে আমাকে লজ্জিত কোরো না (অর্থাৎ খাবার যেহেতু কম, তাই অল্প কয়েকজনকে এনো)।" আমি নবীজি (সা.)-এর কাছে গিয়ে নিচু স্বরে চুপি চুপি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা একটি ছোট বকরি যবেহ করেছি এবং এক সা’ যব পিষেছি। আপনি আপনার সাথে মাত্র কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে আমাদের বাড়িতে চলুন।"
রাসূলুল্লাহ (সা.) উচ্চস্বরে ঘোষণা দিলেন, "হে খন্দকবাসী! জাবির তোমাদের জন্য খাবারের আয়োজন করেছে, তোমরা সবাই এসো!" এরপর তিনি আমাকে বললেন, "আমি না আসা পর্যন্ত তোমরা ডেকচি চুলা থেকে নামাবে না এবং আটার খামির থেকে রুটি বানাবে না।"
আমি বাড়ি ফিরলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-ও লোকদের সাথে নিয়ে এলেন। আমার স্ত্রী (এত মানুষ দেখে) আমাকে তিরস্কার করতে লাগলেন। আমি বললাম, "তুমি যা বলেছিলে আমি তাই করেছি (অর্থাৎ আমি অল্প মেহমানই চেয়েছিলাম)।"
রাসূলুল্লাহ (সা.) ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং আমাদের আটার খামিরে নিজের পবিত্র লালা মিশিয়ে বরকতের দোয়া করলেন। এরপর তিনি আমাদের ডেকচিতেও বরকতের দোয়া করলেন এবং স্ত্রীকে বললেন, "রুটি বানানোর জন্য অন্য একজনকে ডাকো সে যেন তোমাকে সাহায্য করে। আর ডেকচি থেকে মাংস বেড়ে দাও কিন্তু ডেকচি চুলা থেকে নামাবে না।"
সেখানে প্রায় এক হাজার মানুষ ছিল। আল্লাহর কসম! তারা সবাই পেট ভরে খেয়ে বিদায় নিল, অথচ আমাদের ডেকচি তখনও আগের মতোই টইটম্বুর হয়ে ফুটছিল এবং আমাদের আটার খামির থেকে তখনও আগের মতোই রুটি বানানো হচ্ছিল।
অল্প খাবার—একটি বকরি ও এক সা’ যব দিয়ে এক হাজার মানুষ তৃপ্তিভরে খেলেন এবং এরপরও অনেক খাবার অবশিষ্ট রয়ে গেল।
সুবহানআল্লাহ।
সূত্র: সহীহ বুখারী,হা/৪১০১; মুসলিম,হা/২০৩৯