27/05/2026
টাকা দিয়ে কি সুখ কেনা যায়?
বাম পাশের মানুষটি প্রয়াত লতিফুর রহমান। তিনি ট্রান্সকম গ্রুপ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন, যা দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তিনি বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি সংবাদপত্র—দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার-এর মূল প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক ছিলেন। তার হাত ধরেই বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ফুড চেইন পিৎজা হাট, কেএফসি এবং কোমল পানীয় পেপসি ও ফিলিপসের ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু হয়। ২০১২ সালে ব্যবসায়িক সততা ও নৈতিকতার জন্য তিনি বিশ্বখ্যাত ‘ওসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। যা ব্যবসায়ের অস্কার নামে পরিচিত।
মাঝের জন - প্রয়াত ফারাজ আইয়াজ হোসেন ছিলেন লতিফুর রহমানের নাতি যিনি ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জ*ঙ্গি হামলায় নি*হত হন।
ডানের জনকে সবাই চেনেন - প্রয়াত শাজনীন তাসনিম রহমান প্রয়াত লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে। ১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকার গুলশানে নিজ বাড়িতে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি এক নৃ*শংস অপরাধের শিকার হয়ে মৃ*ত্যুবরণ করেন। তৎকালীন সময়ে এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। মূলত তাকে নিয়ে ইদানীং অনেকেই লিখছেন, আপনারা জানেন তাই ডিটেইলস এ গেলাম না।
লতিফুর রহমান - বাংলাদেশের বিজনেস টাইকুন। তার টোটাল সম্পত্তির বর্তমান হিসাবে না যাই। এত অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়া অবস্থায় তাকে তার কন্যার এমন মৃ*ত্যুর মুখোমুখি হতে হয় তা কোন বাবাই চাইবেন না। ১৯ বছর ধরে তিনি ন্যায় বিচারের জন্য আদালতের দারস্থ ছিলেন। শেষ পর্যন্ত যে বিচারটা হলো তাতে তিনি সন্তুষ্ট নিশ্চয়ই ছিলেন না। সন্তান হারানো বাবাকে আসলে কোন কিছু দিয়ে সন্তুষ্ট করা যায় কি? কন্যার এমন পরিণতির পর এই অর্থ সম্পদ কি তাকে সুখ দিতে পেরেছিলো?
আদরের নাতী ফারাজকেও হামলায় প্রা*ণ দিতে হলো। একটা মানুষ যার চারিদিকে সফলতা, অর্থের ছড়াছড়ি। বেঁচে থাকতে থাকতে আল্লাহ তাকে দুইটা নি*র্মমতার সাক্ষী করে দিলেন। আল্লাহ তাকে অনেক কিছু যেমন দিয়েছেন - তেমন সবচেয়ে মুল্যবান কিছু কেড়েও নিলেন।
কন্যার মৃ*ত্যুর পর আরো ২২ বছর এবং নাতীর মৃ*ত্যুর পর আরো ৪ বছর বেঁচে ছিলেন। আমি ভাবি, এই বেঁচে থাকাটা তার জন্য কেমন ছিলো। তার টাকা কি তাকে সুখি রেখেছিলো?
জীবনের শেষ কালে ঢাকার আলিশান বাড়ি ছেড়ে কুমিল্লায় তার পৈত্রিক বাড়িতে ছিলেন এবং নিরবে নিভৃতে ফারাজের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীর দিন নিজেও চলে গেলেন। রেখে গেলেন ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ। যা নিয়ে কাড়াকাড়িতে পরবর্তীতে তার ছেলে মেয়েরা ভাই বোনের সম্পর্ক ভুলে আদালত পর্যন্ত গিয়েছে। একমাত্র ছেলে ছিলো ডিভোর্সি ও নি:সন্তান। তার লা*শ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়। তাকে খু*ন করা হয়েছে অভিযোগ তুলে ছোট বোন বড় বোনের নামে হ*ত্যা মামলা করেছিলো। ব্যাপারটা এমন দিকে গড়ায় যে ভাইয়ের লা*শ কবর থেকে তুলে ফেলার পর্যায়ে চলে যায়। সব কিছুর পেছনের কারণ এই অর্থ সম্পদের ভাগাভাগি।
লতিফুর রহমান কি এতসব অর্থ সম্পদ গড়েছিলেন এসবের জন্য? নাকি সুখের জন্য?
এত এত অর্থের মালিক - কত আয়েশি জীবন। এদেরকে দেখে আমরা সাধারণ মানুষ টাকার পেছনে ছুটি। লাক্সারি লাইফ আমাদের স্বপ্ন হয়ে উঠে। poor but happy নাকি rich but sad দুইটার মধ্যে একটা চুজ করতে দিলে আমরা হাসতে হাসতে rich+sad চুজ করি। কাঁদলে টাকার গাট্টির উপর বসে কাঁদবো এমন ই একটা চিন্তা।
তবে লতিফুর রহমানকে আল্লাহ যদি আরেকটা চান্স দিয়ে বলতেন দুইটার মধ্যে একটা লাইফ চুজ করো। তাহলে উনি হয়ত বলতেন poor but happy. কারণ টাকা দিয়ে তো তিনি সুখ পান নাই...
সুখ কোন পন্য না, যেটা আপনি টাকা দিয়ে কিনবেন। এটা সৃষ্টিকর্তার এমন দান যা একটা রাস্তার পাগলের মনে থাকে কিন্তু কোনো একজন ধনীর পুরো জীবনেও থাকে না।
©আয়শা রুবাইয়াত শশী
তথ্যসূত্র : চ্যাটজিপিটি / ইন্টারনেট