08/03/2015
চিরন্তন ধর্ম চিরন্তনই থাকে। শুধু ধর্মের নামে অধর্ম এক শ্রেণির স্বার্থ লোভীরা ধর্মের নামে চালিয়ে দেয়।
চিরন্তন ধর্ম চিরন্তনই থাকে। শুধু মানুষই ধর্মে নূতন নূতন রসম-নিয়ম-রীতির প্রচলন করে তার প্রকৃত শিক্ষা আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়।
চিরন্তন ধর্ম চিরন্তনই থাকে। শুধুমাত্র তারাই সে ধর্মকে চিনতে পারে যারা স্রষ্টার বাণীতে আঁকড়ে ধরে শক্তভাবে।
চিরন্তন ধর্ম চিরন্তনই থাকে। শুধু মানুষের প্রবৃত্তি তাকে চিরন্তন ধর্ম থেকে দূরে রেখে শুধুমাত্র বাপ-দাদা থেকে চলে আসা রীতি, অধিকাংশের মতের প্রভাব, প্রভাবশালীদের দাপট ইত্যাদির দাস বানিয়ে রাখে....
সনাতন শব্দের অর্থ চিরন্তন।
কিন্তু এ কথাগুলো শুধু সনাতন বলতে আজ যে হিন্দু সম্প্রদায়কে বোঝায় তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, জুইস (ইয়াহুদি), খ্রিষ্টান, ইসলাম সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
শুনতে খারাপ লাগলেও সত্যকে কেউ লুকিয়ে রাখতে পারবেন না!
আদি অনন্ত কাল থেকে সৃষ্টি জগতের স্রষ্টার দেয়া দ্বীন একটাই ছিল আর তা হলো, একক স্রষ্টার কাছে আত্ম-সমর্পনের ব্যবস্থা। এটাই চিরন্তন, এটাই সনাতন, এটাই ইসলাম।
কিন্তু.... প্রতিটি যুগেই মানুষ তাদের ধর্মে নতুন নতুন বিধান, হুকুম, নিয়ম, ভাল/নেককার মানুষদের নিয়ে অতিরঞ্জন ইত্যাদির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে তাদের স্রষ্টার দেয়া আনুগত্যের বিধানের সত্ত্বাকে ঘোলাটে করে তুলেছে। একক স্রষ্টার আনুগত্যে স্রষ্টারই সৃষ্ট অন্যকোন সত্ত্বাকে তার সাথে অংশিদার করেছে, স্রষ্টার বিধানকে উপেক্ষা করে সৃষ্টির দেয়া বিধানের আনুগত্য করে তাদেরই দাস বনে গেছে... আর ধীরে ধীরে মূল সনাতন, মূল ইসলামের স্থানে তারা বিকৃত ব্যবস্থাকেই সনাতন আর ইসলাম ভেবে স্রষ্টার নাফরমানীতে লিপ্ত হয়েছে....
সত্যং সর্বদাই সু্ন্দরং ছিল..... মানব ইতিহাসে সব সময়ই মানুষ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল, এক. একক স্রষ্টার দাস আর দুই. নিজের প্রবৃত্তির দাস (বহুত্ববাদী বা অবিশ্বাসী)
চারদিকে অন্তচক্ষু দিয়ে তাকিয়ে দেখুন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে, প্রবৃত্তি মানুষকে কতটা নিকৃষ্ট করে তুলেছে।
আর প্রধান ধর্মগুলোর বিকৃত গ্রন্থগুলো উপেক্ষা করে মূল গ্রন্থগুলো নিরীক্ষা করুন দেখবেন স্রষ্টার একত্ত্বের সাক্ষ্য আপনার মন থেকে আপনা আপনিই প্রকাশিত হবে। কেননা মানুষের প্রকৃতিই এ সাক্ষ্য দেয় যে, “একম ইভাদ্বীতিয়ম” বা “কুল! হুআল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ্”
তিনিইতো অদ্বিতীয় সত্ত্ব, একক, চিরন্তন।
[Chandgya উপনিষদ ৬ঃ২ঃ১, সূরা ইখলাস ১১২ঃ১]