08/08/2015
বন্যাদুর্গতদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা
বন্যা দুর্গত ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে জরুরি সহায়তা দেবে ইউরোপীয় কমিশন। এই সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ৫ লাখ এবং মিয়ানমারকে ১০ লাখ ইউরো দেওয়া হবে।ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার ক্রিসটস স্টাইলানাইডস এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। ইইউ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্গতদের খাদ্য, পুষ্টি, আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি এবং পয়োনিষ্কাশনের জন্য এই সহায়তা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা দেখে আরও সহায়তা দেওয়া হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
ডেঙ্গুজ্বর
ক্রমাগত বৃষ্টিপাতের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ছয় দিনে শুধুমাত্র রাজধানীতেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ১৫৬ রোগীর খবর পাওয়া গেছে, যা গত বছরের পুরো আগস্ট মাসের চেয়ে ৩৬ জন বেশি। দেশের অন্যান্য স্থানেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর এ সময় বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় এবং মানুষের সচেতনতার অভাবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহিত এডিস মশা জন্ম নেয়। ডেঙ্গুর লক্ষণ হচ্ছে, কাঁপুনি দিয়ে হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর, কখনো কখনো তা ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা, চোখের পেছনের দিকে বেশ ব্যথা এবং শরীরে লালচে দাগ বা র্যাশ ওঠা। এছাড়া দাঁতের মাড়ি ও নাক দিয়ে রক্ত পড়া, চোখ লাল এবং পায়খানা ও প্রশ্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। তবে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এসব লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।সেইসাথে ঘরবাড়ি ও এর চারপাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ক্যান, টিনের কৌটা, মাটির পাত্র, বোতল, নারকেলের মালা বা এ জাতীয় পানি ধারণ করতে পারে এমন পাত্র ধ্বংস করে ফেলারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এছাড়া ঘরের আঙিনা, ফুলের টব, বারান্দা, বাথরুম, ফ্রিজ ও এসির নিচে জমানো পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, যাতে মশা বংশবৃদ্ধি করতে না পারে। আর মশার হাত থেকে বাঁচতে সব সময় মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তরারা।
জয়পুরহাটের চাঁই
জয়পুরহাটে বেরইল গ্রামের প্রায় ৬শ’ পরিবারের জীবিকা চলে মাছ ধরার চাঁই তৈরি করে। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে সরবরাহ করা হয়ে থাকে । বছরের ৬ মাস তাদের ব্যবসা ভাল চললেও বাকি ছয় মাস অবশ্য অভাব-অনটনে কাটে। তারপরও বাপ-দাদার এ পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন ওই গ্রামের মানুষ।বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই জেলার বেড়ইল গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন বাঁশের তৈরি মাছ ধরার বিশেষ এক ধরনের ফাঁদ খলসানি বানানোর কাজে।স্থানীয়ভাবে এর নাম খলসানি হলেও কোথাও কোথাও চাঁই বা ঢেউল নামেও পরিচিত। এক সময় জেলার বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুর-দিঘী ও ধানক্ষেত পানিতে পরিপূর্ণ থাকায় বাঁশের তৈরি মাছ ধরার এই বিশেষ ধরনের যন্ত্র খলসানির ব্যাপক চাহিদা ছিল। কিন্তু এখন চাঁইয়ের জায়গা দখল করে নিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির কারেন্ট জাল। ফলে হাট-বাজারে খলসানির আমদানির তুলনায় বেচা-বিক্রি কম। তবে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে জয়পুরহাটের চাঁইয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিসিক জয়পুরহাটের উপ-ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিক জানান,চাঁই তৈরির কারিগরদের তালিকা তৈরি করে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখবেন তার মতে, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে একদিকে যেমন রক্ষা পাবে এই নান্দনিকতাপুর্ণ হস্তশিল্পটি, অন্যদিকে চাঁই তৈরির কারিগররা খুঁজে পাবে স্বাবলম্বী হবার পথ।
সিএমএনএ/০৭০৮১৫