10/02/2014
সিদ্ধিরগঞ্জে অপরাধ জগতে মুকুটহীন সম্রাট নজরুল ইসলাম।
ষ্টাফ রিপোর্টার (সি জেড নিউজ বিডি ২৪ ডটকম):
প্রায় দুই যুগ ধরে সিদ্ধিরগঞ্জে অপরাধ জগতে মুকুটহীন সম্রাট নজরুল ইসলাম । চাদাঁবাজি, বোমাবাজি, অত্রবাজি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, জায়গা জমি দখল সহ নানা অপরাধে তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মামলা ও জিডি হয়েছে দুই ডজনের কাছাকাছি ।কিন্তু নজরুলের ভাগ্য এতই সুপ্রসন্ন যে, একদিনের জন্যও তাকে কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে যেতে হয়নি। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় খুনের মামলায় নজরুলের ফাঁসির আদেশ হলেও ওই রায় অপরাধ জগতে তার প্রভাব এক মুহূর্তের জন্যও থামাতে পারেনি । তার বিষয়টি অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো মনে হলে ও এটিই সত্য। নজরুলের অপরাধ জগতের কাহিনীর ইতি কবে ঘটবে জনগন জানেন না । সাধারণ মানুষ মুখ ফুটে বলতে না পারলেও তারা চায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নজরুল ও তার বাহিনীর হাত থেকে আল্লাহ যেন তাদেও মুক্তি দেন। ক্রাইম জোন নিউজ বিডি ২৪ ডট কম এর অপরাধ বার্তার বিশেষ প্রতিবেদক , অপরাধ , শীর্ষ সন্ত্রাসী গোয়ার নজরুল সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক অনেক ঘটনা সাংবাদিকরা জানতে পেরেছেন। নজরুল এক মামলার ফাসিঁর আদেশ সম্পর্কে তুলে ধরা হয়। ২০০০ সালের ৩ মার্চ রাত পৌনে ১১টায় দিকে ধানমন্ডি ১৫ নম্বর (নতুন) সড়কের ১৬ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় কর্তব্যরত পুলিশ সার্জেন্ট খাইরুল ইসলাম। এরপর ডাক্তার ওই যুবককে মৃত ঘোষনা করে। মৃত ব্যাক্তির পরিচয় এ্যাড. ঊাবর এলাহী (৩৫) পিতা: মৃত ডা. সৈয়দ আব্দুস সালাম বাসা: ৫/১ ,ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।এই ঘটনায় থানার এস আই সহিদুর রহমান বাদি হয়ে অজ্ঞাত নামা ৫-৬ জন খুনির বিরুদ্ধে ৩০২/৩৪ দ.বি ধারায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার কু উদঘাটন ও খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য ১৫ই মে ২০০০ সালে মামলাটি সি আইডি ঢাকা সিটি জোনের সহশারী পুলিশ সুপার মুন্সী আতিকুর রহমান পিপিএম মামলাটি তদন্ত করেন। প্রায় ৩ বছর পর ২০০৩ সালের ১৪ই জুলাই ১২০-৬-৩০২/৩৪ দন্ডবিধি ধারায় ৫ জন আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র নং ২৬৪ দাখিল করেন। অভিযুক্ত আসামীরা হল সরকার প্ররস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহম্মেদ ওরফে টিটন, নজরুল ইসলাম, ডাঃ কাজী মশিউর রহমান ওরফে ডাঃ বাবু, শফিকুর রহমান ওরফে শফিক, রাসেল আহমেদ ওরফে রাসেল। মামলার মোট ৩১ জন স্বাক্ষী করা হয়। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয় আসামী ডাঃ বাবুর বোনের সাথে নিহত বাবর এলাহীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ কারণে ডাঃ বাবু নিহত বাবর এলাহীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ কারণে বাবর এলাহী হত্যার পরিকল্পনা করে। অভিুযুক্ত ডাঃ বাবুর অপর অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ওরফে নজরুল (পিতা-মৃত চাঁন মিয়া বেপারী, সাং-মিজমিজি পশ্চিমপাড়া বড়বাড়ী, থানা সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ) এর সাথে চুক্তি করে যে, বাবর এলাহী খুন করতে পারলে নজরুলকে ৫ লাখ টাকা দিবে ডাঃ বাবু। চুক্তি মোতাবেক পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার তারিখ ও সময় মোতাবেক আসামীরা ঘটনাস্থলে হাজির হয়। ঘটনাস্থলে নজরুল, টিটন ও মাহবুব (সঠিক ঠিকানা না পাওয়ায় অভিযোগ পত্র থেকে নাম বাদ দেয়া হয়) বাবর এলাহীকে গুলি করে। গুলি করার পর ঘটনাস্থল থেকে কিছু দুরে সরে এসে আসামীরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে। এরপর ডাঃ বাবু এসে নজরুলের হাতে চুক্তি অনুযায়ী টাকা দিয়ে যায়। অভিযোগপত্রের শুনানী শেষে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক শাহেদ নুরউদ্দিন ২০০৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪২ ধারা মতে অভিযোগ গঠন করেন। সাক্ষ গ্রহণ শেষে ২০০৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী ওই মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। বিচারক শাহেদ নুরউদ্দিন তার আদেশ ঘোঘণা করেন আসামী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে নাঈমুর রহমান, ডাঃ কাজী মশিউর রহমান, নজরুল ইসলাম (পলাতক) কে দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দেষী সাব্যস্ত করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে প্রত্যেককে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয় ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা প্রদানের আদেশ করা হয়। এই রায়ের পর শীর্ষ সন্ত্রাসী নজরুল ভারতে পালিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে তিনি লুকিয়ে দেশে আসা যাওয়া করেছেন সে সময়। অবাক করা বিষয় ফাঁসির রায় ঘোষনার পর রায় কার্যকর করা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হলেও সে কাগজ সংশ্লিষ্ট থানায় পৌছেনি। অভিযোগ রয়েছে, সে আদালতের পেশকার নজরুলের পক্ষ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সে পরোয়ানা ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। নজরুল নিজে আত্মসমর্পন না করেও কি করে আজও বহাল তবিয়তে রয়েছে সে প্রশ্ন সবারই। এ এলাকার সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের কাছে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর দাবী ভয়ানক সন্ত্রসী নজরুলের অত্যাচার থেকে সবাই মুক্তি পেতে চায়।তথ্য সুএঃ দৈনিক সকার বার্তা প্রতিদিন