অরাজ

অরাজ স্বাধীনতা-সংহতি-সৃজনশীলতা স্বাধীনতা সংহতি সৃজনশীলতা

হ্যাবারমাসরা এই পুরো ইতিহাসকে মুছে ফেলে জার্মান নাৎসিদের করা অন্যায়ের খেসারত দিতে সবাইকে চুপ থাকতে বলছেন। যারা কথা বলছেন...
16/03/2026

হ্যাবারমাসরা এই পুরো ইতিহাসকে মুছে ফেলে জার্মান নাৎসিদের করা অন্যায়ের খেসারত দিতে সবাইকে চুপ থাকতে বলছেন। যারা কথা বলছেন, সমালোচনা করছেন তাদেরকে ঢালাওভাবে ইহুদি-বিদ্বেষি ট্যাগ দিচ্ছেন। এই ইন্টেলেকচুয়াল হিপোক্রেটিক পজিশন হ্যাবারমাসের নিজের দেওয়া বড় বড় তত্ত্বের সাথে কতখানি সাংঘর্ষিক তা আসেফ বায়াত তার চিঠিতে দারুণভাবে দেখিয়েছেন। জার্মানিতে গাজা নিয়ে কথা বললে কিভাবে ‘এন্টিসেমেটিক’ তকমা দিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে, ফ্রাঙ্কফুর্টের মত শহরে যা কিনা ক্রিটিকাল চিন্তার সূতিকাঘর হিসেবে পরিচিত সেখানেও ফিলিস্তিনিদের পুরস্কার-সম্মাননা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে সেসব ব্যাপারে হ্যাবারমাসদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বায়াত।

নাজমুল আরেফিন আজকে আমরা ‘ক্রিটিকাল থিওরি’ বলতে যা বুঝি তার আধুনিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্....

উত্তর-ঔপনিবেশিক সমাজগুলোর সরকারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক ক্রমবিকাশে আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় ভূমিকার দিকে দৃষ্টি...
06/03/2026

উত্তর-ঔপনিবেশিক সমাজগুলোর সরকারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক ক্রমবিকাশে আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় ভূমিকার দিকে দৃষ্টিপাত করলে বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে, বিশেষ করে সনাতনী মার্ক্সীয় তত্ত্বের নিরিখে। মিলিব্যান্ড যাকে রাষ্ট্র সম্পর্কে প্রধান মার্ক্সবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বলছে তার সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট বহিঃপ্রকাশ পাওয়া যায় কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর সেই বিখ্যাত উদ্ধৃতিতে :“আধুনিক রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ হলো সমগ্র বুর্জোয়া শ্রেণির সাধারণ কার্যাবলি পরিচালনার একটি কমিটি মাত্র," এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা হলো "মূলত এক শ্রেণি কর্তৃক অন্য শ্রেণিকে দমন করার জন্য একটি সংগঠিত শক্তি।"

…উত্তর-ঔপনিবেশিক সমাজে সামরিক বাহিনী ও আমলাতন্ত্রকে এই সনাতনী মার্ক্সীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে কেবল একটি একক শাসক গোষ্ঠীর হাতিয়ার হিসেবে দেখলে চলবেনা। ঔপনিবেশিক সম্পর্কের মাধ্যমে সৃষ্ট নির্দিষ্ট কাঠামোগত বিন্যাস ও উত্তর-ঔপনিবেশিক আমলে বিকশিত পুনর্বিন্যাস রাষ্ট্র ও সামাজিক শ্রেণিসমূহের মধ্যকার সম্পর্ক আরো জটিল করে তুলেছে। এ দুটি ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশের ধারা সম্পূর্ন ভিন্ন। পশ্চিমা সমাজে আমরা দেশীয় বুর্জোয়াদের দ্বারা তাদের উদীয়মান ক্ষমতার প্রেক্ষিতে জাতি-রাষ্ট্রের উদ্ভব হতে দেখি, যা পুঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্কের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় আইনী কাঠামো ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। ঔপনিবেশিক সমাজগুলোতে এই প্রক্রিয়া তাৎপর্যপূর্ণভাবে আলাদা।

উত্তর-ঔপনিবেশিক সমাজগুলোর সরকারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক ক্রমবিকাশে আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় ভূমিকার...

03/03/2026

স্বনির্ভর বা অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন নারীদের জীবন ঘটনাবহুল নয়; এই জীবন আবর্তিত হয় একটি ছোটো পরিধিকে কেন্দ্র করে....

এ্যানার্কিস্টদের পরিচিত পত্রিকা ফ্রিডম এ ৫ জানুয়ারি ইরানের একটি এ্যানার্কিস্ট গ্রুপ ( এ্যানার্কিস্ট ফ্রন্ট) এর সদস্যের স...
12/01/2026

এ্যানার্কিস্টদের পরিচিত পত্রিকা ফ্রিডম এ ৫ জানুয়ারি ইরানের একটি এ্যানার্কিস্ট গ্রুপ ( এ্যানার্কিস্ট ফ্রন্ট) এর সদস্যের সাক্ষাতকার ছাপা হয়৷ সেই সাক্ষাতকারে ইরানের এ্যানার্কিস্ট ফ্রন্টের সদস্য দাবি করে যে ইরানের প্রতিবাদ স্বত:স্ফূর্ত এবং স্বসংগঠিত, তবে বাইরে থেকে শাহ সমর্থকরা এই মুভমেন্ট ছিনতাই করার চেষ্টা করছে৷

তাদের মতে, ইরানের এই আন্দোলনের ক্ষোভের শুরুটা মাঠপর্যায় থেকেই। ইরানের মুদ্রার দরপতন, মূল্যস্ফীতি, আমদানি পণ্যের বাড়তি দাম থেকেই মানুষ রাস্তায় নামলেও এখন ক্ষোভ পুরা ক্ষমতাকাঠামোর বিরুদ্ধেই৷ ইরানের গণমানুষের এই প্রতিবাদের পিছনের মূল কারণ ধসে পড়া অর্থনীতি৷ অর্থনীতির এই অবস্থার পিছনে সিস্টমেটিক দুর্নীতি, বাড়তে থাকা মিলিটারি খরচ এবং ইরানের উপর চালানো অর্থনৈতিক অবরোধ দায়ী। তবে ইস্লামিক রিপাব্লিক অর্থনৈতিক অবরোধকে নিজেদের নিপীড়ন চালানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।

সাধারণ মানুষের দ্বারা নিচ থেকে সংগঠিত হওয়া যেমন করে এই মুভমেন্টের শক্তি, তেমন ই এখানেই বিপদের আশংকা রয়েছে৷ শাহপন্থীরা এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আরেকটা বংশানুক্রমিক একনায়কতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করছে। এজন্য তারা নির্ভর করছে পশ্চিমা শক্তিদের সাথে আপোষ এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতির উপর৷ তাই ক্রিমিনাল ইসলামিক রিপাব্লিকের বিরুদ্ধে লড়াই করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারী এইসকল রাজতন্ত্রের সমর্থকদের বিরুদ্ধে লড়াই করাকেও এই এ্যানার্কিস্টরা তাদের লক্ষ্য বলে মনে করে৷ সেই সাথে তারা জানিয়েছে যে কোনভাবেই তারা বাইরের কোন শক্তির হস্তক্ষেপের পক্ষে নয়৷

আমরা উত্তর-আধুনিকতাবাদের সাথে জড়িত ফরাসি বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের (যার কেন্দ্রে ছিলেন মিশেল ফুকো, রোলা বার্থ, জাক লাকাঁ, দ...
12/11/2025

আমরা উত্তর-আধুনিকতাবাদের সাথে জড়িত ফরাসি বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের (যার কেন্দ্রে ছিলেন মিশেল ফুকো, রোলা বার্থ, জাক লাকাঁ, দেরিদাসহ আরও অনেকে) দিকে তাকাই, তখন রাষ্ট্রনীতিতে তাদের তেমন সরাসরি প্রভাব দেখা যায় না। অধিকাংশ সময়ই এইসব লেখকরা গুরুত্বহীন ও প্রভাবশূন্য বলে বিবেচিত হয়। দায়ী করা হয় তাদের ভাষাকে, যা বামঘেষা একটি অভিজাত বুদ্ধিবৃত্তিক বলয় ব্যতীত অন্য কেউ বুঝতে পারে না। এই বক্তব্য সম্ভবত কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—যেখানে ক্ষমতাকে প্রায়শই তত্ত্বায়িত করা হলেও খুব কম সময়ই মূলধারার প্রকাশনায় ক্রিটিক করা হয়৷ তবে এই আলাপ ফ্রান্সের ক্ষেত্রে সত্য নয়। অন্তত সিআইএ তা-ই মনে করে। কমিউনিজম ও অ্যান্টি-আমেরিকানিজমের বিরুদ্ধে নিজেদের দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে ফরাসি দর্শনের প্রভাবকে এই সংগঠনটি খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তাদের এই দীর্ঘমেয়াদী অনুসন্ধান নথিবদ্ধ করতে ১৯৮৫ সালে তারা একটি গবেষণা প্রবন্ধ তৈরি করে৷

সম্প্রতি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নথির একটি পরিশোধিত অনুলিপি "ফ্রান্স: ডিফেকশন অব লেফটিস্ট ইন্টেলেকচুয়াল" নামে প্রকাশিত হয়েছে। বিস্ময়করভাবে, এই নথি উত্তর-কাঠামোবাদী চিন্তকদের রাজনৈতিক অভিমুখকে ইতিবাচকভাবে দেখেছে।

"…গুপ্ত সাংস্কৃতিক যোদ্ধারা (সিআইএ) মূলত প্রশংসা করেছে দুটি পরিবর্তনকে৷ এক, উত্তর-কাঠামোবাদী বাঁকবদলের মাধ্যমে ফ...

08/10/2025

অবিভক্ত বাংলা অঞ্চলের ক্ষেত্রে অন্নপূর্ণা/গৌরী ও শিবের বহুমাত্রিক ও বহুস্তরবিশিষ্ট দৃশ্যগত উপস্থাপনার এমন নান....

আগামবেনের মতে, আধুনিক রাষ্ট্রে এই জৈবরাজনীতির ট্রান্সফর্মেশনের একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো যে এখানে বেয়ার লাইফ বা হো...
06/10/2025

আগামবেনের মতে, আধুনিক রাষ্ট্রে এই জৈবরাজনীতির ট্রান্সফর্মেশনের একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো যে এখানে বেয়ার লাইফ বা হোমো সাকের আর কেবলমাত্র একটা ব্যতিক্রম হিসেবে থাকে না, বরং এটা নিজেই একটা নিয়ম হয়ে ওঠে। যেইটাকে আগামবেন বলেন, ইরিডিউসিবল ইনডিসটিঙ্কশন। অর্থাৎ, যে কারো যেকোনো সময়ে হোমো সাকের হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এটা কেবলমাত্র আর প্রান্তের একটা বিষয় না, বরং আধুনিক রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীয় বিষয়।

আগামবেন বলেন, এই জৈবক্ষমতার উদ্বোধনের মাধ্যমে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ক্যাপিটালিজমের বিকাশও সম্ভবপর হ...

এই গপ্পোকে প্রায়শই একটি কৌতুক হিসেবে দেখা হয়—নির্বোধ ব্যাঙেরা রাজা চেয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাদেরই রাজার খাদ্য হতে হয়ে...
01/10/2025

এই গপ্পোকে প্রায়শই একটি কৌতুক হিসেবে দেখা হয়—নির্বোধ ব্যাঙেরা রাজা চেয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাদেরই রাজার খাদ্য হতে হয়েছে। কিন্তু এই হাসি অস্বস্তিকর, কারণ সেই ব্যাঙগুলোতো আসলে আমরাই। আমরা জনগণ কাঠের টুকরোকে উপহাস করি, সারসের অধীনে কাঁদি, এবং তারপর আবার কাঠের টুকরোকে আকাঙ্ক্ষা করি। ব্যাপারটা দেখতে হাস্যকর হলেও, এটা আমাদের রাজনীতির ট্র্যাজেডি। এই অশ্রুমিশ্রিত কৌতুকের অন্ত নেই, সমাধানও নেই।

জনগণ চাইলেই সার্বভৌমত্বকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে না, কারণ তখন তারা নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েই সন্দিহান হয়ে পড়ে। আবার তারা এটিকে পুরোপুরি গ্রহণও করতে পারে না, কারণ তাতে তাদেরই নাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাচীন পুকুর থেকে আধুনিক নেশন-স্টেট—এই চক্র চলেছে এবং চলছেই।

সমষ্টি হিসেবে অস্তিত্ব ধারণ করা মানে এই সন্দেহ নিয়ে জীবনযাপন করা যে, সার্বভৌমত্বের প্রতীক ছাড়া কোনো ঐক্যই বাস্...

ইতিহাসে এক একজন প্রতিভাধর ব্যক্তির ভূমিকা দেখে এক ধরনের বিভ্রান্তি অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। এ বিভ্রান্তিটি হলাে এই যে, এ...
07/09/2025

ইতিহাসে এক একজন প্রতিভাধর ব্যক্তির ভূমিকা দেখে এক ধরনের বিভ্রান্তি অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। এ বিভ্রান্তিটি হলাে এই যে, এই বিশেষ ব্যক্তির জন্য হলে তিনি যে ঐতিহাসিক কাজ সম্পন্ন করেছেন সেটা অসম্পন্নই থেকে যেত। এ বিভ্রান্তির বিষয়ে প্লেখানভ বলেন, ইতিহাসে ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে আলােচনা করলে, আমরা প্রায় সব সময়েই এক ধরনের যে দৃষ্টিবিভ্রমে পড়ে থাকি তার প্রতি পাঠকদের মনােযােগ আকর্ষণ করা মঙ্গলজনক হবে মনে করি।..
বাঙলাদেশে ইতিহাস চর্চা প্রসঙ্গে ইতিহাসে ব্যক্তির ভূমিকা সম্পর্কে এসব কথা সুনির্দিষ্ট কারণেই আলােচনার প্রয়ােজন হলাে। এই কারণটি হলাে, তৎকালীন পর্ব পাকিস্তানে ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ রাত্রে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল সেই যুদ্ধের ঘােষণা, নেতৃত্ব ইত্যাদি নিয়ে তিরিশ বছরের ওপর যে বিতর্ক চলছে তাতে সেই যুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান ও পরে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে যেভাবে ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃত করা হয়েছে সেটা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের চিন্তাকে বিরাটভাবে প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত করছে এবং এই বিভ্রান্তি স্কুল কলেজের পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে সমাজের গভীরদেশেও বিস্তৃত হচ্ছে। এই দুই ব্যক্তির গৌরব কীর্তন এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যাতে ইতিহাসের প্রকৃত নায়ক জনগণের ভূমিকা এই যুদ্ধে প্রায় সম্পূর্ণভাবেই অনুপস্থিত। যে মৌলিক সম্পর্কসমূহের ভিত্তিতে সমাজে পরিবর্তন ঘটে, সমাজে দ্বন্দ্ব সংঘর্ষ ও যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সে বিষয়গুলিও ব্যক্তির গৌরব কীর্তনের মহিমায় ধামাচাপা থাকে। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তির নামে কারণে-অকারণে অহরহ নানা ধরনের বাগাড়ম্বর চলা সত্ত্বেও এ যুদ্ধের প্রকৃত ঘটনাবলীর সাথে জনগণের ও ছাত্র সমাজের পরিচয়ের কোন সুযােগ নেই। শুধু তাই নয়, ব্যক্তির মহিমা কীর্তনের প্রয়ােজন বাঙলাদেশে ইতিহাস চর্চা আজ যেভাবে উচ্ছেদ হয়ে গেছে একটি জাতির জীবনে তার থেকে ভয়াবহ ব্যাপার আর কী হতে পারে?

রবীন্দ্রনাথ এখানে দেশের ইতিহাস বলতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে লিখিত ইতিহাসকে বুঝিয়েছিলেন। কিন্তু আমর...

আমরা বলেছি, মানুষ শুধু পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যক্তি–স্বাতন্ত্রিক প্রাণীই নয়—একই সঙ্গে সবচেয়ে সামাজিক প্রাণীও বটে। জাঁ–জাক রুশো...
24/08/2025

আমরা বলেছি, মানুষ শুধু পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যক্তি–স্বাতন্ত্রিক প্রাণীই নয়—একই সঙ্গে সবচেয়ে সামাজিক প্রাণীও বটে। জাঁ–জাক রুশো ভেবেছিলেন যে, আদিম সমাজ গড়ে উঠেছিল অসভ্য মানুষের মধ্যে স্বেচ্ছা–সমঝোতার মাধ্যমে। কিন্তু এই ধারণা ছিল একটি মস্ত ভুল। তবে শুধু রুশো নন, অধিকাংশ আইনতত্ত্ববিদ ও আধুনিক চিন্তা–প্রচারকগণ অনেকেই এ ধরনের ধারণা পোষণ করেছেন।

কান্টীয় ধারা হোক বা অন্য কোনো ব্যক্তি–স্বাতন্ত্র্যবাদী ও উদারপন্থী ধারা, যাঁরা সমাজকে ধর্মতাত্ত্বিকদের মতো “ঐশি অধিকারের’ ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করেন না, কিংবা হেগেলীয়দের মতো সমাজকে “বস্তুগত নৈতিকতার আধ্যাত্মিক উপলব্ধি” হিসেবে দেখেন না, কিংবা প্রকৃতিবাদীদের মতো সমাজকে কেবলমাত্র “প্রাণীবৎ জীবনের আদিম রূপ” বলে মনে করেন না, তাঁরা সকলেই চান বা না চান, অন্য কোনো ভিত্তি না পেয়ে, অলিখিত চুক্তি বা সমঝোতাকেই সমাজের সূচনা–বিন্দু হিসেবে ধরে নিয়েছেন।

আমরা বলেছি, মানুষ শুধু পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যক্তি-স্বাতন্ত্রিক প্রাণীই নয়—একই সঙ্গে সবচেয়ে সামাজিক প্রাণীও বটে। জা.....

চিরমুখস্থ মার্কসবাদী–লেনিনবাদী বিপ্লব এটা না। এটা কিউবার ফিদেল ক্যাস্ত্রো, চে গুয়েভারার সামরিক বাহিনীগত বিপ্লব না। এটা ...
03/08/2025

চিরমুখস্থ মার্কসবাদী–লেনিনবাদী বিপ্লব এটা না। এটা কিউবার ফিদেল ক্যাস্ত্রো, চে গুয়েভারার সামরিক বাহিনীগত বিপ্লব না। এটা ইরানের ‘ইসলামী’ বিপ্লবও না। এটা উনবিংশ শতাব্দীর অ্যানালগ–আমলাতান্ত্রিক বিপ্লব নয়। পরিণামে পুরাতনী ফেউ একে চিনতে পারছে না। উনিশ শতকের জ্ঞান–বুদ্ধি–তত্ত্ব দিয়ে আপনি এই চলমান গণবিপ্লব–প্রবাহের প্রকৃত পরিচয়ের কুল পাবেন না। চিরদিন চিন্তাপ্যারেড করা, বস্তাপচা ও বাতিল বুদ্ধি–সেপাইরা তাই আহাজারি করেই চলেছেন। চলছে অন্ধদের অন্তহীন হস্তিদর্শন।

বিপ্লব যাঁরা শুধু বইয়ে পড়েছেন, বিপ্লব শুরু হলে তাঁরা তাকে চিনতে পারেন না। পূর্বনির্ধারিত কোনো বৈপ্লবিক কর্মসূচি....

ফ্যাসিবাদ আচানক আবির্ভূত হয়নি।ইতিহাসের যথেষ্ট দীর্ঘ চিন্তাচর্চারই ফল এই মতাদর্শ। ফ্যাসিবাদ যদি একটি সামাজিক-রাজনৈতিক প্র...
15/07/2025

ফ্যাসিবাদ আচানক আবির্ভূত হয়নি।

ইতিহাসের যথেষ্ট দীর্ঘ চিন্তাচর্চারই ফল এই মতাদর্শ। ফ্যাসিবাদ যদি একটি সামাজিক-রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হয়, তবে তার আদর্শগত ভিত্তির অবস্থান অবশ্যই এর দার্শনিক প্রতিক্রিয়ায়। বলা হয় ফ্যাসিবাদের কোনো দর্শন নেই। এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা যা ঘটনাটি সঠিকভাবে বোঝার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।

ফ্যাসিবাদের একটি সুনির্দিষ্ট দর্শন রয়েছে যা দীর্ঘ সময় ধরে বিকশিত হয়েছে। একটি সামাজিক-রাজনৈতিক প্রপঞ্চ হিসাবে তার উপস্থিতির নজির অনেক আগের। ফ্যাসিবাদের অবস্থান আধুনিক বৈজ্ঞানিক দর্শনের বিপরীতে, যে দর্শন অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর বিপ্লবী সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনকে আদর্শ প্রদান করেছিল।

প্রখ্যাত রাজনৈতিক তাত্ত্বিক এম এন রায় ফ্যাসিবাদের দর্শন ও অনুশীলনেরই আকর অনুসন্ধানই করেছেন। গেল শতকের তিরিশের দশকে ভারতে ফেরার পর গ্রেপ্তার হন এম এম রায়। কারাগারেই লেখেন ফ্যাসিবাদ নিয়ে লেখেন ‘ফ্যাসিবাদ: প্রতীতি, প্রতিজ্ঞা, প্রয়োগ’ গ্রন্থটি। ১৯৩৮ সালে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কলকাতার ডি এম লাইব্রেরি থেকে।

গ্রন্থটিতে সাতটি অধ্যায়। পুরো গ্রন্থটি অনুবাদের উদ্যোগ নেয় অরাজ। এরই মধ্যে অনুবাদ শেষ পর্ষায়ে। গ্রন্থটির চারটি অধ্যায় অরাজের পাঠকের জন্য উন্মুক্ত করা হল।

লেখার লিংক: https://www.auraj.net/m-n-roy-fascism/7456/

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অরাজ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to অরাজ:

Share