31/05/2023
আরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসছে, প্রস্তুত সরকার”
খবরঃ
বাংলাদেশের ওপর আরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসছে। মানবাধিকার ইস্যু ছাড়াও গণতন্ত্র খর্ব, রাজনৈতিক নিপীড়ন, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে জড়িত সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ওপর চলতি মাসেই নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে যে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সরকার।
মন্তব্যঃ
কোন দেশের উপর অন্য দেশের সামরিক অনুপ্রবেশ বা আক্রমণকে দেশটির স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের উপর আক্রমণ হিসেবে মানুষ যেমন সহজেই বুঝতে পারে (যেমনটা ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার মত ঘটনা), কিন্তু আমেরিকা বা অন্যকোন পশ্চিমা দেশ অথবা দেশগুলোর জোট (ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন) অথবা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান (জাতিসংঘ, আইএমএফ) ইত্যাদি কর্তৃক অন্যদেশের উপর ‘স্যাংশন’ বা নিষেধাজ্ঞা দেয়াকে কিন্তু একইরকমভাবে ঘৃণ্য হিসেবে দেখা হয় না। যেমন: বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, সরকারের যুলুম ও দুঃশাসনের জর্জরিত জনগণের সরকারবিরোধী আবেগকে ব্যবহার করে “স্যাংশন” অস্ত্রটিকে পরিত্রাণের পথ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এই ‘স্যাংশন’ অস্ত্র ব্যবহার করেই আমেরিকা প্রায় সারা বিশ্বে তার রাজত্ব চালাচ্ছে। ‘স্যাংশন’-কে ভয়ংকর, প্রভাবশালী ও কার্যকর রাখার জন্য আমেরিকা অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর সহযোগিতায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন বা কনভেনশন (UN Charters & Conventions), আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান (UN, ICC) এবং জোট (NATO, QUAD, EU, ASEAN etc.) গঠন করে। এসবের সমন্বয়েই চলে American Hegemony বা আমেরিকান রাজ। এখানে যেসব দেশ আপোসে নিজেই নিজের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা বা স্বাধীনতাকে আমেরিকার ইচ্ছার কাছে সপে দেয়না, এই ‘স্যাংশন’ ব্যবহার করে আমেরিকা প্রথমে তাদেরকে ক্রিমিনালাইজ করে বা খারাপ হিসেবে তুলে ধরে এবং পরবর্তিতে বাগে না আসলে আমেরিকা সামরিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি আগ্রাসন চালিয়ে দেশসুদ্ধ প্রায় ধ্বংস করে দেয়। যেমন ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, ইরান, সোভিয়েত ইউনিয়ন, কিউবা, ভেনেজুয়েলা, পাকিস্তান ইত্যাদি। শুধু তাই নয় যেসব দেশ এই আমেরিকান রাজের সাথে দরকষাকষি করতে চায় তাদেরকেও এই স্যাংশন ব্যবহার করে দমন করা হয়।
মার্কিন আধিপত্যবাদ তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন মুখরোচক শব্দ যেমন স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার ইত্যাদি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্বব্যবস্থারই অংশ। হাসিনা সরকার জানে তারাও আমেরিকান রাজ-এরই অংশ, কারণ তারা পশ্চিমাদের প্রণীত ও নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। উপরে উপরে তারা যতই মার্কিন বিরোধিতার ভাব ধরুক না কেন, প্রকৃতপক্ষে তারা আমেরিকার সব চাওয়াই মেনে নিচ্ছে। তাছাড়া, তার পক্ষে চীন, রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়ে এই আমেরিকান রাজের Status Quo কে ভেঙে ফেলাও সম্ভব না। কারণ তারাও সেক্যুলার বিশ্বব্যবস্থা দ্বারা আষ্ঠেপৃষ্ঠে বাধা।
একমাত্র খিলাফত রাষ্ট্রের পক্ষেই সম্ভব এই বিশ্বব্যবস্থাকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে নতুন Status Quo তৈরি করা। কারণ এটি ইসলামী আক্বিদার স্পিরিটুয়াল শক্তি দিয়ে মুসলিমদের একত্র করতে পারবে। এই শক্তি একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, ফ্রীডম ইত্যাদিকে প্রত্যাখ্যান করে ও মুসলিম জাতিকে অন্যের অধীনস্থ থাকতে নিষিদ্ধ করে, অন্যদিকে পুরো মানবজাতির দায়িত্ব গ্রহণের ফারজিয়া আরোপ করে। একারণেই ইসলামের শক্তিতে বলিয়ান খলিফা মুসলিম দেশগুলোকে খিলাফতের মধ্যে নিয়ে এসে এবং উম্মাহর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুতই এই আমেরিকান রাজকে পর্যদুস্ত করে নতুন এক বিশ্ব রচনা করবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন, “এভাবে আমি তোমাদেরকে আদর্শ জাতি করেছি, যেন তোমরা মানবগণের জন্য সাক্ষী হও এবং রাসূলও তোমাদের জন্য সাক্ষী হয়” (সুরা বাকারা: ১৪৩)।
- মোহাম্মদ তালহা হোসেন