06/09/2026
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
কিছু কিছু ঘটনা সত্যিই মানুষে হৃদয় ও বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দেয়। বারবার মনে প্রশ্ন জাগে—ঘটনাস্থলে কি কেউ ছিল না? একজন মানুষও কি একটু এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে পারতেন না? হয়তো কয়েকজন মানুষ বিবেকবান সাহসী ভূমিকা পালন করলে, এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনার পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো।
ঢাকার সাভারে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক। একই ঘটনায় তাঁর ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। একজন মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এভাবে স*হিং*সতার শিকার হবেন—এটি কোনোভাবেই মানবিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ কিংবা ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পড়তে গিয়ে আমার নিজের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া গতকাল ০৫/০৯/২০২৬ তারিখের একটি ঘটনার কথা বারবার মনে পড়ছিল। মনে হলো, কাল যদি আমি পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে এগিয়ে না আসতাম, তাহলে হয়তো গাবতলীর আল্লাহর দান হোটেলের সামনেও একটি ভয়াবহ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হতে পারত।
গতকাল পরিবারসহ হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পথে গাবতলীর আল্লাহর দান হোটেলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পাই, একজন ব্যক্তি একজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করছেন। আমি তখন গাড়ি চালাচ্ছিলাম বলে প্রথম মুহূর্তে পুরো বিষয়টি বুঝতে পারিনি। তবে ইশার আম্মা চিৎকার দিয়ে বলে পুলিশকে মারছে, তখন মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই।
সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারি যে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মব তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় ছিল, সেখানে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকলেও শুরুতে কেউ কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসছিলেন না। আমি মব সৃষ্টিকারী ব্যক্তিকে অন্যদের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় দেখতে পাই, তাঁর ডান হাতে একটি কাঁচি ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছিল।
পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জানতে পারি, ওই পুলিশ সদস্য ইতিহাস বাসে করে মিরপুর-১৪ নম্বরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে উঠতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে বাসে উঠতে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে উত্তেজনাকর আচরণ করে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আগেই উপস্থিত সচেতন ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ওই ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়। পরে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে দারুস সালাম থানায় পাঠানো হয়।
সাভারের এসআইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এবং আমার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা বহন করে। কোনো অন্যায় বা দুর্ঘটনা যখন আমাদের চোখের সামনে ঘটে, তখন আমরা যদি সবাই নীরব দর্শক হয়ে শুধু দাঁড়িয়ে থাকি, তাহলে একটি ছোট ঘটনা মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ পরিণতির দিকে চলে যেতে পারে।
ইসলাম আমাদের অন্যায়, জুলুম ও মব সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে মানুষের জীবন রক্ষা, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথাও শিক্ষা দেয়।
মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিকতার পরিচয় নয়, এটি আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্বও।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অন্যায় থেকে দূরে থাকার, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার তাওফিক দান করুন, আমিন।