12/07/2026
লেবাসধারী হোসেন মোল্লার পতন:
১, ইয়াবাখোর ছেলের হাতে মসজিদের ইমাম মারধর
হোসেন মোল্লার অন্যায় প্রশ্রয়ে তার পরিবার ও সন্তানরা আজ বেপরোয়া। তার এক ছেলে তীব্র মাদকাসক্ত ও নিয়মিত ইয়াবা সেবন করে। সম্প্রতি এই ইয়াবাখোর ছেলে পবিত্র মসজিদের সম্মানিত ইমাম সাহেবের ওপর বর্বরোচিত ও পৈশাচিক হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর মারধর করেছে। একজন আলেম ও ধর্মীয় নেতার গায়ে হাত তোলার এই ধৃষ্টতা পুরো সমাজকে স্তব্ধ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
২. বিচারের দাবিতে উত্তাল সমাজ: কোনো ছাড় নয়
পবিত্র মসজিদের ভেতর বা ধর্মীয় সেবকের ওপর এমন মাদকাসক্ত অপরাধীর হামলা এবং হোসেন মোল্লার একের পর এক জালিয়াতি কোনোভাবেই একটি সুস্থ সমাজ মেনে নিতে পারে না। এই ঘৃণ্য ঘটনা সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর চরম আঘাত। এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এখন এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে।
৩. সরকারি খাস জমি দখল ও গ্রাস হোসেন মোল্লার লোভের থাবা থেকে রক্ষা পায়নি রাষ্ট্রের সম্পত্তিও। এলাকার অসচ্ছল ও ভূমিহীন মানুষের হকের সরকারি খাস জমি জোরপূর্বক দখল করে সে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছে। প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সম্পদ নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করার এই দুঃসাহস প্রমাণ করে যে, সে দেশের আইন-কানুনকে কতটা বৃদ্ধা
৪. কাজীর পদের চরম অপব্যবহার ও অবৈধ বিয়ে
আইন অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্টার বা কাজীর দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল। হোসেন মোল্লা নিজে কাজী হয়ে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তার ছেলেদের দিয়ে এলাকায় বিয়ের রেজিস্ট্রি ও বিয়ে পড়ানোর কাজ করাচ্ছিল। ক্ষমতার এই পারিবারিক অপব্যবহার ও আইনি জালিয়াতির কারণে ওই অঞ্চলের বহু বিয়ে আজ আইনি বৈধতার সংকটে পড়েছে, যা সামাজিক শান্তি ও তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
৫, ধর্মীয় অর্থ আত্মসাৎ: দানবাক্সের টাকা লুট
মসজিদ বা মাদ্রাসার দানবাক্সে সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ জমা দেয় সওয়াবের আশায়। কিন্তু হোসেন মোল্লার লোভাতুর দৃষ্টি থেকে রক্ষা পায়নি সেই পবিত্র অর্থও। অভিযোগ রয়েছে, দানবাক্সের টাকা নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার জোরে নিজের পকেটে ভরেছেন তিনি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্যতম অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও, এই তথাকথিত মাওলানা তা অবলীলায় করে গেছেন।
৬,এক জমি বহুবার বিক্রি: ভূমিদস্যুতার নতুন রূপ
আর্থিক প্রতারণায় হোসেন মোল্লা একজন পেশাদার অপরাধীর চেয়ে কম যান না। জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে জালিয়াতির এক অভিনব জাল বিছিয়েছেন তিনি। একই জমি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং নথিপত্র জাল করে দুই থেকে তিনবার আলাদা আলাদা মানুষের কাছে বিক্রি করেছেন। সরল বিশ্বাসে তার কাছ থেকে জমি কিনতে গিয়ে অনেক পরিবার আজ সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে।
৭, প্রশ্ন জালিয়াতি ও কারাবাস,
যিনি সমাজের মানুষকে সততার পাঠ দেবেন, তিনি নিজেই জড়িয়েছেন প্রশ্নপত্র জালিয়াতির মতো দেশদ্রোহী ও তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসকারী অপরাধে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতি করার অপরাধে হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন এই ভণ্ড মাওলানা। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে আদালত তাকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। একজন সাজারত সাবেক কয়েদি কীভাবে সমাজের ধর্মীয় নেতা বা পথপ্রদর্শক হতে পারেন, তা আজ বড় প্রশ্ন।
তথাকথিত মাওলানা হোসেন মোল্লা এবং তার মাদকাসক্ত, সন্ত্রাসী ছেলেদের এই ধরণের সামাজিক নৈরাজ্য আর সহ্য করা হবে না। খাস জমি দখলমুক্ত করা, জালিয়াতির বিয়ে বন্ধ করা এবং সম্মানিত ইমামের ওপর হামলার অপরাধে এই পিতা ও পুত্রদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমাজকে কলঙ্কমুক্ত করতে এদের কঠিনতম শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।