02/09/2020
ওপারে তাহারা ৪
ধারাবাহিক উপন্যাস
সাজেদুন নাহার
অতিথিরা এগিয়ে এলেন বিদায় নেবার জন্য। মোহোসেনা বেগমের আম্মা-আব্বা, শ্বশুর -শ্বাশুড়ি, বড় ভাসুর, বড় জা, মেঝো,সেঝো, নয়া ভাসুর, চাচা-চাচিরা, সবাই একে একে বিদায় নিচ্ছিলেন আবার আসবেন বলে আর ওনারাও যেনো যায় এই বলে। যাবার সময় মোহোসেনা বেগম তার লুতফা ভাইজানের ছোটো ছেলেটাকে অনেক আদর করে দিলেন। আহারে বেচারা কতো ছোটো বয়সে লঞ্চডুবি হয়ে মারা গিয়েছিলো! তাকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন,'বাবা খুব কষ্ট পেয়েছিলে?' হেসে তার ভাতিজা বললো, 'না, ফুফুআম্মা, কিভাবে কি হলো তাই বুঝতে পারিনি। তবে খুব ভয় পেয়েছিলাম, মা'র মুখটাই শুধু মনে পড়ছিলো। আজ আপনাকে দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। আর সবচেয়ে ভালো কথা হচ্ছে আমার কোনো হিসাব হবে না। আমিতো এখন থেকেই জান্নাতের ছায়ায় থাকি। আর আমার জন্য আমার আত্মীয় স্বজনরা সবাই অনেক কয়েন পেয়েছে। আপনিও পেয়েছেন কারন আপনি মন থেকে আমার জন্য কেঁদেছিলেন। তাইতো আমি আপনাকে দেখতে এসেছি। ফুপুআম্মা, আপনি কিন্তু আমার ওখানে আসবেন। আপনার জন্য আমি কনসার্ট আয়োজন করবো যা এখানে পাবেন না। আর আপনাদের সব খরচ আমি দিবো। আজ তাহলে আসি?' তাকে আনন্দ নিয়ে বিদায় জানালেন মোহোসেনা বেগম।
একে একে সবাই চলে গেলো। সবাই তাদের জায়গায় মোহোসেনা বেগমকে দাওয়াত দিয়ে গেলো। কেয়ামতের আগে এতো দাওয়াত এটেন্ড করতে পারবেন কিনা চিন্তায় পড়ে গেলেন তিনি। সবশেষে বিদায় নিতে এলেন মুন্নির চাচা শ্বশুর, আব্দুল মালেক ব্যাপারি আর আব্দুর রহিম, লাইজুর মরহুম স্বামী। মালেক চেয়ারম্যান এখানেও তার দলের কিছু মানুষ পেয়েছেন আর স্বভাবতই তিনি একা চলতে পারেন না তাই এখানেও কিছু সাংগপাংগ নিয়েই তিনি চলেন। তাদের বিদায় জানিয়ে তিনি রহিমকে বললেন,'তুমি কেনো যাবে? তুমি আমাদের সাথে থাকবে না?' জবাবে আব্দুর রহিম বললো, 'না আম্মা, আমি তো আমার বাবা-মায়ের সাথে থাকি। আপনিতো আমার বাবাকে দেখেননি আমার ওখানে এলে পরিচয় করিয়ে দিবো। আমি এখানেও লাইজুর জন্য 'মৈনাক' নামেই বাড়ি করেছি। তার অপেক্ষায় আছি। আপনি আর আব্বা এসে দেখে যেয়েন কেমন হয়েছে বাড়িটা?' মোহোসেনা বেগমের এখনই যেতে ইচ্ছে করছে লাইজু-রহিম এর বাড়িটা দেখতে কিন্তু আবদুল খালেক সাহেব বললেন,'তোমার এখনও নিজের কিছু কাজ বাকি আছে। আগে আমাদের বাড়িটা গুছিয়ে নেই কাল ওখানে যাওয়া যাবে।'
আব্দুর রহিম চলে গেলে জায়গাটা একদম ফাঁকা হয়ে গেলো। এতক্ষণে তিনি চারপাশটা দেখার অবকাশ পেলেন।