02/03/2021
ইন্টার্নীর সময় কি করবেন, কি করবেন নাঃ
আপনার ইন্টার্নশিপের সময় আপনার জন্য স্বর্ণযুগ, কারণ এর পর সবাই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী, কেউ শেখাতে চাইবেনা, যা শিখতে হবে ইন্টার্নশিপ এর সময়ই শিখবেন।
মেডিসিন ওয়ার্ডঃ মেডিসিন ওয়ার্ডে স্যারেরা কোন রোগের কি ঔষধ দিচ্ছেন, কিভাবে রোগের কারণ নির্নয় করছেন সে দিকে মনোযোগ দিবেন। কিভাবে একটা রোগের সিম্পটম থেকে আরো কি কি রোগ হতে পারে তা বের করার চেষ্টা করবেন।
কিভাবে ওসকাল্টেট, পারকাশন করে দেখবেন। যে কয়টা রোগের রোগী ভর্তি আছে, সে কয়টা রোগের ডিটেইলস বাসায় গিয়ে পড়বেন। ইসিজির বেসিক জিনিসগুলো এখানেই শিখে নিতে পারেন। রাউন্ডের সময় অবশ্যই স্যারদের সাথে থাকবেন, রাউন্ডের আগে ফলোআপ সুন্দর করে পূরণ করে রাখবেন, বিপি না দেখে কখনো লিখে রাখবেন না, ধরা পড়লে বাজে ইম্প্রেশন তৈরি হবে। ঔষধ কোম্পানির কাছে কখনো কিছু চাইতে না যাওয়াই ভাল।
সার্জারী ওয়ার্ডঃ সার্জারী ওয়ার্ডে বড় বড় অপারেশনে মনোযোগ না দিয়ে, মাইনর সার্জারী গুলো নিজের হাতেই করার চেষ্টা করবেন (কারণ বড় অপারেশন আপনার তেমন কাজে আসবে না )। যেমন লাইফোমা, সিভাসিয়াস সিস্ট এক্সসিশন, সারকামসেশন, গ্যাংলিয়ন ম্যানেজমেন্ট। কিভাবে ক্যাথেটার করা, বিভিন্ন সুচার দেওয়ার টেকনিক দেখে নিবেন । স্যারদের সাথে এসিস্ট করার সময় অবশ্যই নম্র ভদ্র ও প্রাণবন্ত থাকার চেষ্টা করুন। কখনো ওটি রুমের কোন জিনিস নিজের মনে করে বাসায় নিয়ে আসবেন না, অনেকের এই অভ্যাস টা থাকে, এতে করে সবার উপর বাজে ইম্প্রেশন তৈরি হয়। ইভিনিং নাইট ডিউটিতে প্রত্যেকটা রোগীর ফলোআপ ভাল ভাবে করবেন, কোন কমপ্লিশন এরাইজ করলে সাথে সাথে স্যারদের সাথে যোগাযোগ করবেন, স্যারদের সাথে ফ্রি হওয়ার ট্রাই করুন। ভুলেও নার্সদের সাথে অর্ডারসুলভ আচরণ করতে যাবেন না অথবা তেল মারতে যাবেন না। নিজের আত্নমর্যাদা বজায় রাখুন।
গাইনী ওয়ার্ডঃ এই ওয়ার্ডের বেলায়, যারা ছেলে তারা এনভিডি, সিজারিয়ান সেকশন এর প্রসিডিওর এর দিকে বেশি মনোযোগ না দিয়ে, আউট ডোরে রোগী দেখার প্রতি মনোযোগ দেওয়াই ভাল, কারণ আপনার ব্যাক্তিগত চেম্বারে এসব রোগী আসতে পারে। আর আপুরা এই ওয়ার্ডটা আপনাদের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, বলা যায় আপনার রুটিরুজির ক্ষেত্র এটার উপর নির্ভর করবে। তাই ফাঁকি না দিয়ে, আউটডোর এবং ওটি দুটো দিকই ভাল ভাবে খেয়াল করতে হবে।নার্সদের সাথে ভাল সম্পর্ক রেখে এনভিডি, এ এন সি, পিএন সি কেয়ার শিখে নিবেন।
শিশু ওয়ার্ডঃ এই ওয়ার্ডে বড় বড় ডায়াগনসিস এর দিকে না গিয়ে কিছু কমন ডিজিজ এর দিকে মনোযোগ দিবেন, যেমন এ আর আই, ম্যানিঞ্জাইটিস, কনভালশন ম্যানেজমেন্ট, তবে কিছু কার্ডিয়াক ডিজওর্ডার এর রোগীর ক্লিনিক্যাল ফিচারগুলো ভালভাবে টুকে রাখবেন, বাচ্চাদের ক্যানুলা করাটা ভালভাবে আয়ত্ত করে নিতে পারেন এই ওয়ার্ড থেকে।
অর্থোপেডিকঃ এখানে ট্রমা ম্যানেজমেন্ট শিখে নিবেন, বিশেষ করে কিভাবে ইমোভাইলিজেশন করা হয়, প্লাস্টার / ব্যাকস্লাপ দেয় তা নিজ হাতে করতে চাইবেন, এক্সরে এর খুটিনাটি স্যারদের থেকে জেনে নিবেন।
ইএনটি+ আই ডিপার্টমেন্টঃ এসব ডিপার্টমেন্ট এ আউটডোর এ বেশি মনোযোগ দিবেন ওটি থেকে।আপনার চেম্বারে এসব কমন রোগীরাই আসবে।
ইমার্জেন্সিঃ এ বিভাগে সাধারণত ইমার্জেন্সি রোগী কিভাবে ম্যানেজ করে তার দিকে যাবেন, কর্তব্যরত স্যারকে জিজ্ঞেস করবেন, স্যার এই রোগীর কি ডায়াগসিস হতে পারে, কেন হবে, কি ইনভেস্টিগেশন দিবে ইত্যাদি। স্ট্রিচ দেওয়াটা এখান থেকেই আয়ত্ত করতে পারবেন। তবে কখনো স্যারদের রোগী দেখা অবস্থায় কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবেন না, কারণ স্যাররা তখন খুবই এক্সাইটেড থাকে।
যে আচরণ গুলো করবেন নাঃ
হাসপাতালে আসার সময় অবশ্যই মার্জিত ভাবে আসবেন, শার্ট প্যান্ট সু ব্যবহার করবেন,
জিন্সের প্যান্ট, এলোমেলো চুল, হাতে ব্রেসলাইট পরে আসবেন না। এগুলো পড়ার অভ্যাস থাকলে বাহিরে পরবেন। এপ্রোন পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
কর্তব্যরত নার্সদের সাথে কখনো খারাপ ব্যবহার করবেন না, অর্ডার সুলভ আচরণ করবেন না, আবার বেশি বেশি জি হুজুর করতেও যাবেন না।কোন সমস্যা ফেস করলে স্যারদের সাথে সম্মিলিতভাবে আলোচনা করুন।
ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি দের কাছে কিছু চাইতে না যাওয়াই ভাল, আপনার মনোযোগ থাকবে শুধু শিখার প্রতি।
কখনো ইভিনিং নাইট ডিউটিতে ফাঁকি দিবেন না, কারণ স্যারেরা তখন থাকবেনা, আপনাকে একাই ম্যানেজ করতে হবে রোগীকে, এমন সুযোগ কি হাত ছাড়া করা যায়?
আউটার সাইডে একসাথে সবাই বসে আড্ডা দিবেন না। খারাপ লাগলে ক্যান্টিনে বসে কথা বলুন।
কখনো রোগীর লোকের সামনে রোগীর ছবি তুলতে যাবেন না, যদি একান্তই তুলতে হয়, তাদের থেকে বিনয়ের সাথে অনুমতি নিবেন।
কোন হাসপাতালের পরীক্ষা নিরীক্ষার কমিশনের সাথে যুক্ত হবেন না।
যা করবেনঃ
যে ওয়ার্ডে আপনার প্লেসমেন্ট থাকবে, সে ওয়ার্ডের যে রোগের রোগী ভর্তি হয়, আর সে রোগগুলো সম্পর্কে বইতে দেখবেন, প্রতিদিন ২/৩ টা রোগ দেখলে দেড় মাসে ৯০ হয়, আপনার ক্লিনিকাল লাইফে হয়ত এত গুলোও লাগবেনা। সুতরাং প্রতিদিন কম করে হলেও ২ টা রোগ সম্পর্কে বইতে বিস্তারিত দেখবেন এবং নেটেও ঘাটাঘাটি করবেন।
রোগীর শরীরে হাত দেওয়ার আগে অবশ্যই তার থেকে অনুমতি নিবেন।
স্যারেরা যখন রোগ নির্নয় করে,
একটা প্রটোকল তৈরি করবেন,
কি রোগ চিন্তা করছে, কেন করেছে, কি ইনভেস্টিগেশন দিচ্ছে, কেন দিচ্ছে, কি চিকিৎসা দিচ্ছে, না বুঝলে জিজ্ঞাস করবেন।
রাউন্ডের আগে ফলোআপ শিট ভালভাবে ফিলাপ করে নিবেন।