05/07/2021
আপনার হয়তো অনেক আছে, তাই আপনি ভাবতেই পারেন, "দেশে আবার গরিব মানুষ আছে নাকি এখন"! আপনি বলতেই পারেন, "সামান্য খাতা-কলম কেনার পয়সা জোটে না, এমন মানুষ আছে নাকি এদেশে"!
আপনি-আমি যাই ভাবি না কেন, দেশে হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে আছে যারা তাদের দরকারি খাতা-কলম কিনতে পারে না। হয় তাদের কেনার সামর্থ্য নেই, নয়তো মা-বাবা এ ব্যাপারে সচেতন নন। কপাল ভালো, বইগুলো অন্তত সরকার দিচ্ছে এখন। নইলে এই বই কেনার চাপেই অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিত। ঠিক যেরকম আগেও দিয়েছে।
আমার এক প্রতিবেশীর এক বিখ্যাত ঘটনার কথা বলি। ঘটনাটি আজ থেকে কমপক্ষে ত্রিশ বছর আগের। স্বামী বাজারে যাচ্ছেন দুধ বিক্রি করতে। স্ত্রী কাছে এসে বললেন, "মনির জন্যি ইটু ওষুদ আনবা তো!" তাই শুনে স্বামী রেগে গিয়ে বললেন, "শালীর কতা শোনো! আমার বিড়ি কিনার পয়সা নাই, আর উনি ওষুদ খাওয়ার মতলব করতিচেন!"
এমন বাবা নিশ্চয়ই এখনও আছেন, আরও আছেন যারা টাকা থাকলেও ছেলে-মেয়েদের প্রয়োজনীয় খাতা-কলম কিনে দেন না ঠিক মতো। আর যারা ভাতের যোগাড় করতেই হিমশিম খান তাদের ব্যাপার তো একদমই আলাদা।
খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার তিনটে গ্রামের হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে Be & Make একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল মাস ছয়েক আগে। ওখানকার প্রায় দেড়শো স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল খাতা-কলম সহ কিছু শিক্ষা উপকরণ। আর একটি বাড়িতে ওদের জন্যে খাতা-কলম রাখা থাকে। যার যখন দরকার হয় পুরোনো খাতা বা কলম দেখিয়ে নতুন একটি নিয়ে যায়। স্থানীয় একজন শিক্ষক (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র) এই কাজটি তত্ত্বাবধায়ন করছেন।
গত মাসে একই উপায়ে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার একটি গ্রামে একইভাবে পঞ্চাশ জনের মতো শিক্ষার্থীর মাঝে খাতা-কলম বিতরণ করা হয়। ওদের বলা আছে, যার যখন দরকার হবে পুরোনো খাতা বা কলম দেখিয়ে নতুন একটি নিয়ে যাবে। এখানেও স্থানীয় একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এই কাজটি তত্ত্বাবধায়ন করছেন।
তার কাছ থেকেই শুনলাম, এই সামান্য উপহার পেয়েই শিক্ষার্থীরা ভীষণ খুশি। খুশি অভিভাবকরাও। কেউ যে ওদের কথা ভেবেছে, ওরা তাতেই খুশি।
মনে হলো, এই বিষয়টি আপনাদের সাথে শেয়ার করি যদি আপনারাও কেউ এভাবে কিছু করতে চান। আমরা সবাই নিজের গ্রাম, এলাকা বা পরিচিতদের নিয়ে একটু ভাবলেই দেশের জন্যে কিছু করা হয়। আসুন মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াই!
জগতের কল্যাণ হোক!