29/11/2025
১/পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লীগ অনেক ঘাত প্রতিঘাততের মধ্য দিয়ে গেলেও, সেটাই পরিণত হয়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত আশীর্বাদে। রাজনীতির খেলায় কোন ঘটনা কখন কাকে বাঁচিয়ে দেয় ইতিহাসই সেটা ভাল জানে। খালেদা জিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকতেন, এবং তারেক রহমান দেশে না আসতেন তাহলে এই দেশে টিভি টকশো, চায়ের আড্ডায়, পথে-প্রান্তরে সর্বত্র শেখ হাসিনাকে দায়ী করে সমালোচনার ঝড় উঠতো। শেখ হাসিনা শত আত্মচিতকার করেও কাউকে বুঝাতে পারতেন যে তারেক রহমান না আসার জন্য তিনি দায়ী নন।
২/বিএনপি যার মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান সে ইউনুস শাহী এখন ক্ষমতায়। এই সরকারের প্রধান অংশীজন বিএনপি হলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজেই জানিয়েছেন তার ফেরাটা তার নিয়ন্ত্রাধীন নয়। কোন অদৃশ্য সুতোয় তার ফেরাটা আটকে আছে, সেটা বিএনপি বা তারেক রহমান ভাল বলতে পারবেন। তবে তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাস অনেক অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধান করে দিয়েছে।
৩/তবে এই মুহুর্তে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সাধারণ মানুষের কথাতো বাদই দিলাম খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসব ঘটনার জন্য মনে মনে হলেও শেখ হাসিনাকে দায়ী করতেন। সারা বাংলার সবাই আওয়ামী লীগকে দায়ী করত। আর আজীবন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এই দায় বহন করতে হত। কিন্তু আজ ইতিহাস নিজে সত্য উন্মোচন করছে। আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মতো দেখতে পাচ্ছে, অনেক বোঝা তাদের ছিল না, অথচ তাদের বহন করতে হয়েছে। যে দায় তারা বহন করছিল, সেই দায় এখন অন্যের ঘাড়ে।
৪/সময় এগোতে থাকলে আরও অনেক জট খুলে যাবে। ঠিক একইভাবে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকে ঘিরে যে সমালোচনা ছিল, কখনও ন্যায্য আবার কখনও আবেগতাড়িত। কিন্তু ইউনুস শাসনামলে মানুষ যে দৃশ্যগুলো দেখল তা রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের নগ্নতা, দমন-পীড়ন, হত্যা, ধর্ষণ, মবের দাপট, অগোছালো প্রশাসন আর অনিরাপদ পরিবেশ দেখে মানুষ বোঝার সুযোগ পেয়েছে স্থিতিশীল শাসন আর বিশৃঙ্খল ব্যবস্থার পার্থক্য কত গভীর।
৫/পাঁচ আগস্ট না আসলে এই তুলনার দরজা খুলত না। এখন আওয়ামী লীগ যদি কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি নাও করে, শুধু নিঃশব্দে এবং স্থিরভাবে পর্যবেক্ষণে থাকে, মানুষই এই বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বুঝে ফেলবে কোন শক্তি রাষ্ট্রকে ধরে রাখতে পারে আর কোন শক্তি দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়।
৬/ভবিষ্যৎ আরও অনেক সত্য উন্মোচন করবে। ধীরে ধীরে সাগর-রুনি হত্যা, পিলখানা ঘটনা সহ অনেক ঘটনার জট খুলে যাবে। যেসব জট, যেসব অপবাদ, যেসব ভুল-বোঝাবুঝি বছরের পর বছর আওয়ামী লীগের ঘাড়ে তুলে দেয়া হয়েছিল, সময় সবকিছু ধীরে ধীরে খুলে দেবে এবং অদৃশ্য দায় থেকে আওয়ামী লীগ কে মুক্তি দেবে।
৭/রাজনীতি কখনও কখনও অদ্ভুত ভাবে ন্যায়বিচার করে। ক্ষমতার টেবিল থেকে সরিয়ে দিয়ে সত্যকে সামনে আসার সুযোগ করে দেয়। ইউনুস শাহীর অধ্যায় তাই আওয়ামী লীগের জন্য শুধু একটি বিরতি নয়, একটি পরিশোধন। একটি আয়না, যেখানে রাজনীতির অনেক জটিল চরিত্র সবার সামনে পরিস্কারভাবে দেখা যাচ্ছে।
তাই পাঁচ আগস্ট দিনটি বাইরে থেকে আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক বিপর্যয় মনে হলেও, এই পরাজয় আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের দীর্ঘকালীন মুক্তি।