23/02/2026
ভয়কে পূজি করে নতুন পূজা‼ সাবধান... ‼
গত বছর ২১শে ডিসেম্বর, বরিশালের একটি গ্রামে ৩০ জন বোনের উদ্যোগে শুরু স্বপ্নে পাওয়া এই পূজার ৷
তারপর থেকে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে—“স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশ”! নামে চালু তথাকথিত এই নতুন পূজা।
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাছরং (৪ নম্বর ওয়ার্ড) গ্রামের পূর্বপাড়া মিস্ত্রী বাড়িতে ৩০ জন বোন একসাথে ভাইদের মঙ্গল কামনায় শনিদেবের পূজা করেন।
দাবি? স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশে এই পূজা করছেন তারা । অথচ এর কোনো সুস্পষ্ট শাস্ত্রীয় ভিত্তি নেই।
অথচ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং গীতার মধ্যে বলেছেন —
যঃ শাস্ত্রবিধিমুৎসৃজ্য বর্ততে কামকারতঃ ৷
ন স সিদ্ধিমবাপ্নোতি ন সুখং ন পরাং গতিম্॥
(গীতা ১৬.২৩)
সরলার্থ – যে ব্যক্তি শাস্ত্রবিধি পরিত্যাগ করে নিজের ইচ্ছে অনুসারে ধর্ম পালন করে, সেই ব্যক্তি কখনো সিদ্ধি প্রাপ্ত হয় না, না সুখকে প্রাপ্ত হয় আর না মৃত্যুর পর মোক্ষকে।
☞ তাহলে বলুন এখন আপনি কী করবেন ? শাস্ত্র বর্জিত নিয়ম পালন করে যোগেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন না তো ?
পুরাণের যে বর্ণনার কথা উঠে এসেছে এই প্রচারণায় ৷
“ ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে একদিন শনির ধ্যানের সময়, তার স্ত্রী দেবী ধামিনী সুন্দর বেশভূষা নিয়ে তার সামনে এলে ধ্যানমগ্ন শনিদেব সেদিকে খেয়াল না করাতে পত্নী ধামিনী বা মন্দা শনিদেবকে অভিশাপ দিলেন, আমার দিকে তুমি ফিরেও চাইলে না! এরপর থেকে যার দিকে চাইবে, সে-ই ভস্ম হয়ে যাবে ”
এই পৌরাণিক বিশ্বাসের আধারকে পূজি করে হাস্যকর অযৌক্তিক সব কাজ করে চলেছে সনাতনীরা ৷
এই নব্য পূজার উৎসকথা শুনলে আপনি চমকে উঠবেন ‼
বরিশালে, রাজ্জাকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বিজয়া রানী মন্ডলের উদ্যোগে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ আছে শনিদেবের স্বপ্নে দেখানো নির্দেশনা অনুযায়ী এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷
হ্যা ঠিকই ধরেছেন, স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশনা ৷
❓ প্রশ্নগুলো খুবই সহজ:
• কিন্তু কে স্বপ্ন দেখলো?
• কে পেল এই নির্দেশনা!
• কে সেই মহান ব্যাক্তি তার কোন খোঁজ নেই ৷
সবার মুখে একই কথা.. স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশ ৷ আর জনমনে শনির ভীতি....
কিন্তু সেই প্রতীকী গল্পকেই আজ বাস্তব ভয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে ৷
“শনির কুদৃষ্টি”, “সাড়ে সাতী”, “অমঙ্গল”—এই শব্দগুলো মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করে। আর সেই আতঙ্ককে পুঁজি করেই গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা তুলে পূজা আয়োজনের এই নতুন উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ তুঙ্গে ৷
চিন্তা করুন! এটি কি সত্যিই ভক্তি, নাকি ভয়কে ব্যবহার করে বিশ্বাস ছড়ানো? ধর্ম কি এতই ঠুনকো?
অজ্ঞাত স্বপ্ন, অযৌক্তিক ভয়, আর অলৌকিক প্রচারণাকে ভিত্তি করে নতুন নতুন আচার প্রতিষ্ঠিত করা যায়?
উত্তর হলো - না ৷
তাই এসব প্রচার ও কুংস্কার থেকে সাবধান॥