17/01/2026
চার্লি চ্যাপলিন (Charlie Chaplin) ছিলেন বিশ্ব চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা, পরিচালক ও নির্মাতা। তাঁর পুরো নাম চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিন। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৬ এপ্রিল ১৮৮৯ সালে, লন্ডন, ইংল্যান্ডে।
শৈশব ও পারিবারিক জীবন
চ্যাপলিনের শৈশবকাল ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। তাঁর বাবা ছিলেন মঞ্চশিল্পী, কিন্তু অল্প বয়সেই তিনি মারা যান। মা মানসিক অসুস্থতায় ভুগতেন। দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার কারণে চ্যাপলিন ও তাঁর ভাইকে অনেক সময় অনাথ আশ্রম ও কাজঘরে থাকতে হয়। এই দুঃখ-কষ্টই তাঁর পরবর্তী চলচ্চিত্রে মানবিকতা ও সংগ্রামের ছাপ ফেলেছে।
অভিনয় জীবনের শুরু
ছোটবেলা থেকেই চ্যাপলিন মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন। কিশোর বয়সে তিনি ফ্রেড কার্নো কমেডি দলে যোগ দেন এবং সেখান থেকেই আমেরিকায় যাওয়ার সুযোগ পান। ১৯১৩ সালে তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন এবং খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
“দ্য ট্র্যাম্প” চরিত্র
চ্যাপলিনের সবচেয়ে বিখ্যাত চরিত্র হলো “দ্য ট্র্যাম্প”—ছোট টুপি, লাঠি, ঢিলেঢালা পোশাক ও মজার হাঁটার ভঙ্গি। এই চরিত্রের মাধ্যমে তিনি হাসির সঙ্গে সঙ্গে সমাজের দুঃখ, দারিদ্র্য ও মানবিক অনুভূতিকে তুলে ধরেন।
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র
চ্যাপলিন শুধু অভিনেতাই নন, তিনি ছিলেন পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও সুরকারও। তাঁর বিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—
দ্য কিড (১৯২১)
দ্য গোল্ড রাশ (১৯২৫)
সিটি লাইটস (১৯৩১)
মডার্ন টাইমস (১৯৩৬)
দ্য গ্রেট ডিক্টেটর (১৯৪০)
শেষ জীবন
রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত জীবনের কারণে তিনি একসময় আমেরিকা ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন। ১৯৭২ সালে তিনি বিশেষ সম্মানসূচক অস্কার পুরস্কার লাভ করেন।
চার্লি চ্যাপলিন ২৫ ডিসেম্বর ১৯৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
উত্তরাধিকার
চার্লি চ্যাপলিন আজও বিশ্বজুড়ে স্মরণীয় এক নাম। তাঁর চলচ্চিত্র মানুষকে শুধু হাসায় না, বরং মানবতা, ভালোবাসা ও জীবনের সংগ্রাম সম্পর্কে গভীর বার্তা দেয়।