Ultimate Jokes

Ultimate Jokes Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Ultimate Jokes, Dhaka.

নৌকা মানে উন্নতি, নৌকা মানে সমৃদ্ধি...১৭ জুলাই তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার...
05/07/2023

নৌকা মানে উন্নতি, নৌকা মানে সমৃদ্ধি...

১৭ জুলাই তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার মার্কার প্রার্থী কে বিজয়ী করার লক্ষে নৌকায় ভোট চেয়ে কাটাখালী বালুয়া বাজারে গণসংযোগ।

#বাংলাদেশ #আওয়ামীলীগ #নির্বাচন

মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১আত্মসমর্পণের আগের সেই মুহূর্তগুলো---১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। সময় আনুমানিক সকাল ৯টা। ঢাকায় অবস্থানরত পাকিস...
16/12/2022

মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১
আত্মসমর্পণের আগের সেই মুহূর্তগুলো
---
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। সময় আনুমানিক সকাল ৯টা। ঢাকায় অবস্থানরত পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা তাদের দপ্তরে বসে বৈঠক করছিলেন একসঙ্গে। একটি চিরকুট এলো সেই সময়, চমকে দিল সবাইকে।

বৈঠকে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ কে নিয়াজি, মেজর জেনারেল জামশেদ, মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী, রিয়ার অ্যাডমিরাল শরিফ, ব্রিগেডিয়ার বকর সিদ্দিকী, সিদ্দিক সালিক ও আরও কয়েকজন।

সেই চিরকুটে লেখা ছিল- প্রিয় আবদুল্লাহ, আমি এখন মিরপুর ব্রিজে। আপনার প্রতিনিধি পাঠান।

এখানে 'আবদুল্লাহ' বলতে জেনারেল নিয়াজিকে বোঝানো হয়েছিল।

নিয়াজির পুরো নাম আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি, এ কে নিয়াজি হিসেবে পরিচিত ছিলেন যিনি। এ চিঠি পাঠিয়েছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল গন্দর্ভ সিং নাগরা।

সকাল ৮টা নাগাদ ঢাকার মিরপুর ব্রিজের কাছে মেজর জেনারেল নাগরাকে বহনকারী একটি সামরিক জিপ এসে থামে। তিনি কীভাবে ঢাকার প্রবেশমুখে এসে পৌঁছলেন সেটিও অবাক করেছিল সবাইকে। মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ভেবেছিলেন- যুদ্ধবিরতির জন্য বার্তা পাঠিয়েছেন মেজর জেনারেল নাগরা।

জেনারেল নিয়াজিকে তিনি প্রশ্ন করেন, 'জেনারেল নাগরা কি আলোচনার জন্য এসেছেন?'

নিয়াজি কোনো উত্তর দিলেন না সেই প্রশ্নের। কারণ এর আগে পাকিস্তানের তরফ থেকে ভারতের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।

সেনানিবাসে তখন এসব ঘটনা খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা সিদ্দিক সালিক। তার লেখা 'উইটনেস টু সারেন্ডার' বইয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তখনকার ঘটনা। এ ছাড়া সেই সময়ের ঘটনাবলি নিয়ে বই লিখেছেন মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খানও। তার লেখা বই 'হাউ পাকিস্তান গট ডিভাইডেড' বইয়েও উঠে এসেছে বিষয়গুলো। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন রাও ফরমান আলী খান। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বেসামরিক প্রশাসন দেখাশোনা করতেন তিনি। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয় তাকে। তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান গভর্নরের উপদেষ্টা।

রাও ফরমান আলী খান তার বইয়ে লিখেছেন- আমি নিয়াজিকে প্রশ্ন করলাম, আপনার প্রতিরক্ষা শক্তি কতটুকু আছে? কিন্তু মি. নিয়াজি সে প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে নীরব থাকলেন।

এ প্রসঙ্গে অ্যাডমিরাল শরিফ পাঞ্জাবি ভাষায় জেনারেল নিয়াজিকে প্রশ্ন করলেন- আপনার কি কিছু রয়েছে?

নিয়াজি এরপর মেজর জেনারেল জামশেদের দিকে তাকালেন, মাথা ঘুরিয়ে 'না' সূচক জবাব দিলেন। জেনারেল জামশেদের দায়িত্ব ছিল ঢাকা রক্ষা করা।

'উইটনেস টু সারেন্ডার' বইয়ে সিদ্দিক সালিক লিখেছেন- তখন মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী এবং রিয়ার অ্যাডমিরাল শরিফ একসঙ্গে বললেন, 'সেটাই যদি হয় তাহলে সে (জেনারেল নাগরা) যা বলছে সেটাই করুন।'

এরপর জেনারেল নাগরাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য মেজর জেনারেল জামশেদকে পাঠানো হলো। একই সঙ্গে মিরপুর ব্রিজের কাছে অবস্থানরত পাকিস্তানি সৈন্যদের বলা হলো- তারা যেন যুদ্ধবিরতি মেনে চলে এবং জেনারেল নাগরাকে নিরাপদে শহরে ঢুকতে দেয়।

সে মুহূর্তটিকে সিদ্দিক সালিক বর্ণনা করেছে এভাবে- ভারতীয় জেনারেল হাতেগোনা সৈন্য ও অনেক গর্ব নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করলেন। তখনই কার্যত ঢাকার পতন হয়ে গেল।

জেনারেল নাগরা যখন ঢাকায় প্রবেশ করলেন তখন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাদের অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। সিদ্দিক সালিকের বইয়ে সে বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। ঢাকার পতনকে তিনি বর্ণনা করেছেন হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত একজন মানুষের সঙ্গে। শরীরের কোথাও আঘাত না থাকলেও অচল হয়ে গেছে পুরো শরীর।

এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড অফিস থেকে যুদ্ধের রণকৌশল চিহ্নিত করার জন্য মানচিত্রগুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছিল। ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাদের আগমন উপলক্ষে বাড়তি খাবারের আয়োজন চলছিল। জেনারেল নাগরা কমান্ড অফিসে পৌঁছানোর পর তার সঙ্গে কৌতুকে মেতে ওঠেন জেনারেল নিয়াজি।

সিদ্দিক সালিক লিখেছেন- সেসব কৌতুক এতটাই নোংরা ছিল যে, সেগুলো বইয়ে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খানও সে মুহূর্তের বর্ণনা তুলে ধরেছেন তার লেখায়- জেনারেল নিয়াজি তার চেয়ারে বসে আছেন, তার সামনে জেনারেল নাগরা রয়েছেন এবং একজন জেনারেলের পোশাকে রয়েছেন মুক্তিবাহিনীর টাইগার সিদ্দিকীও (কাদের সিদ্দিকী)। শুনলাম নিয়াজি নাগরাকে জিজ্ঞেস করছেন, তিনি উর্দু কবিতা বোঝেন কি-না। জবাবে নাগরা জানালেন, তিনি লাহোর সরকারি কলেজ থেকে ফার্সিতে এমএ পাস করেছেন। নাগরা যেহেতু নিয়াজির চেয়ে বেশি শিক্ষিত ছিলেন, নিয়াজি তাই পাঞ্জাবিতে রসিকতা শুরু করলেন। নিয়াজি তার আগের চরিত্রে ফিরে গেলেন।

জেনারেল নিয়াজির অফিসের ভেতরকার অবস্থা 'ভীতিবিহ্বল' করেছিল তাকে।

এরই মধ্যে ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল জে আর জ্যাকব ঢাকায় অবতরণ করেছেন। তিনি সঙ্গে এনেছেন আত্মসমর্পণের দলিল। কিন্তু জেনারেল নিয়াজি এটিকে বর্ণনা করছিলেন 'যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাব' হিসেবে।

জেনারেল জ্যাকব যখন আত্মসমর্পণের শর্তযুক্ত কাগজ হস্তান্তর করলেন, তখন জেনারেল রাও ফরমান আলী একটি ধারা নিয়ে আপত্তি তুললেন। তিনি আত্মসমর্পণের দলিলটি পড়ে বললেন, 'এটা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।' তিনি ভেবেছিলেন, এখানে হয়তো আত্মসমর্পণের কথা বলা হবে না। দলিলে বলা ছিল- ভারতীয় যৌথ কমান্ড এবং বাংলাদেশ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করছে পাকিস্তান বাহিনী।

বাংলাদেশ শব্দটি রাখতে চায়নি পাকিস্তানি বাহিনী। কিন্তু জেনারেল জ্যাকব বললেন, 'দিল্লি থেকে বিষয়টি এভাবেই এসেছে।'

জ্যাকবের পাশে তখন দাঁড়ানো ছিলেন ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্নেল খেরা। রাও ফরমান আলীর আপত্তির জবাবে তিনি বললেন, 'এটা বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আপনারা শুধু ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করছেন।'

জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণের শর্তযুক্ত কাগজটি একবার চোখ বুলিয়ে নিলেন; কিন্তু কোনো কথা বললেন না।

দুপুরের পর জেনারেল নিয়াজি ঢাকা বিমানবন্দরে গেলেন ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের কমান্ডার জগজিৎ সিং অরোরাকে অভ্যর্থনা জানাতে। মি. অরোরা তখন তার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলেন। ততক্ষণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল।

সিদ্দিক সালিক বর্ণনা করেন- জনসম্মুখে পাকিস্তানি জেনারেলের অপমান দেখার জন্য আবেগতাড়িত বাঙালিরা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিল।

মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ও অ্যাডমিরাল শরিফ নিয়াজিকে অনুরোধ করলেন তিনি যাতে আত্মসমর্পণের কোনো অনুষ্ঠানে যোগ না দেন; কিন্তু তিনি সেটি মানলেন না।

রাও ফরমান আলী খান তার বইয়ে লিখেছেন- আমরা বললাম, আপনার এতে যোগ দেওয়া উচিত হবে না, আত্মসমর্পণ করা হয়ে গেছে। ...তাদের যা ইচ্ছা করুক। দয়া করে কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না। কিন্তু তিনি যোগ দিয়েছেন এবং আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেছেন।

তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে, যেটি বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, জেনারেল অরোরা ও জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। এরপর জেনারেল নিয়াজি তার রিভলবারটি জেনারেল অরোরার হাতে তুলে দেন।

সিদ্দিক সালিক লিখেছেন- সেই রিভলবার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকেও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো!-

এ ছবি দেখেই কি আত্মসমর্পণ করেছিলেন নিয়াজি?

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে মিলে মুক্তিবাহিনী যখন প্রবল আক্রমণ শুরু করে তখন থেকে ঢাকার পতন ছিল শুধুই সময় ব্যাপার। সিদ্দিক সালিক ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর বই থেকে বোঝা যায়, পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল একেবারেই ভেঙে পড়েছিল। কীভাবে যুদ্ধ থামানো যায় সে চেষ্টা করছিল ঢাকায় অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা। জেনারেল নিয়াজি ভাবছিলেন, তাদের জন্য বিদেশি সহায়তা আসবে। বিদেশি সহায়তা বলতে চীন কিংবা আমেরিকার সাহায্য। ডিসেম্বরের ৫ তারিখে কুমিল্লার দক্ষিণ অঞ্চলে একটি পাকিস্তানি ব্যাটালিয়নের আত্মসমর্পণের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বুঝতে পারলেন যে, তাদের সৈন্যদের মনোবল ভেঙে গেছে।

রাও ফরমান আলীর বর্ণনা অনুযায়ী, জেনারেল নিয়াজি সন্দেহাতীতভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। অনেকে জেনারেল নিয়াজিকে তার অফিসে কাঁদতেও দেখেছে বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু বাইরে থেকে জেনারেল নিয়াজি নিজেকে শক্ত হিসেবে উপস্থাপন করছিলেন।

১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর। জেনারেল এ কে নিয়াজি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। একই সঙ্গে ঢাকা বিমানবন্দরে বিমানবিধ্বংসী যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছিল সেটিও পরিদর্শন করেন তিনি। সেই সময় জেনারেল নিয়াজির সঙ্গে ছিলেন সিদ্দিক সালিক।

মি. নিয়াজি যখন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলেন তখন ছয়-সাতজন নার্স এসে জেনারেল নিয়াজিকে তাদের নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরেন।

ডিসেম্বর মাসের তিন তারিখ থেকেই ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে একত্রিত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে জোরালো আক্রমণ শুরু হয়। নার্সরা জেনারেল নিয়াজিকে বললেন যে, তারা মুক্তিবাহিনীর ভয়ে ভীত। তিনি নার্সদের আশ্বস্ত করলেন, বড় ধরনের বিদেশি সাহায্য আসছে এবং চিন্তার কোনো কারণ নেই।

জেনারেল নিয়াজি নার্সদের বললেন, তাদের কোনোভাবেই মুক্তিবাহিনীর হাতে পড়তে দেওয়া হবে না। যদি সাহায্য নাও আসে, তাহলে তোমরা মুক্তিবাহিনীর হাতে পড়ার আগে আমরাই তোমাদের হত্যা করব।

এ কথা বলে সেখান থেকে বিদায় নিলেন মি. নিয়াজি। সেই ঘটনা সিদ্দিক সালিক তার বইয়ে বর্ণনা করেছেন।

সেখান থেকে ফিরে আসার সময় তেজগাঁও বিমানবন্দরের সামনে থামেন জেনারেল নিয়াজি। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক তাকে কিছু প্রশ্ন করলেন। এর মধ্যে একটি ছিল- ভারতীয় বাহিনীকে প্রতিহত করার জন্য আপনার কি যথেষ্ট শক্তি আছে? জবাবে মি. নিয়াজি বলেন, আমার মৃতদেহের ওপর দিয়ে ঢাকার পতন হবে। আমার বুকের ওপর দিয়ে তাদের ট্যাঙ্ক চালাতে হবে।

যুদ্ধের সময় ঢাকায় অবস্থানরত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লেখা থেকে বোঝা যায় যে, ১২ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সেনা কর্মকর্তারা যুদ্ধের বিষয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। ঢাকায় অবস্থানরত পাকিস্তানি জেনারেলরা যুদ্ধবিরতির উপায় খুঁজছিলেন।

রাও ফরমান আলী লিখেছেন, ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রথমবারের মতো মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় বাহিনীর কামানের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ১৩ ডিসেম্বর ভারতীয় বিমান বাহিনী পূর্ব পাকিস্তান গভর্নর হাউসে আক্রমণ চালিয়েছিল। সেই হামলার পর গভর্নর পদত্যাগ করলেন।

যুদ্ধবিরতির আশা নিয়ে ১৪ ডিসেম্বর বিকেলে জেনারেল নিয়াজি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেলের কাছে যান। সঙ্গে ছিলেন রাও ফরমান আলী।

তখন জেনালের নিয়াজির সঙ্গে মার্কিন কনসাল জেনারেলের যে কথাবার্তা হয়েছিল সেটি রাও ফরমান আলী তার বইয়ে তুলে ধরে লিখেছেন- নিয়াজি একজন বন্ধু হিসেবে তার সাহায্য চাইলেন। জবাবে কনসাল জেনারেল বললেন, আপনারা কেন যুদ্ধ শুরু করেছিলেন? ইউএস আপনাদের সাহায্য করতে পারবে না। আমি বড়জোর যা করতে পারি তা হলো, আপনার বার্তাটি ভারতীয়দের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। আমি বার্তা প্রেরকের কাজ করব, যোগাযোগকারী নয়। আমাদের বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে এবং যেখানে যার কাছে বার্তা পাঠাতে চান আপনি পাঠাতে পারেন।

৩ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তান নিয়ে তার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। সিদ্দিক সালিক জানতে পেরেছেন যে, ৩ ডিসেম্বরের পর থেকে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আর অফিসে আসেননি। এ পর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আমি কী করতে পারি?

যুদ্ধবিরতির জন্য ভারতীয়দের কাছে যে বার্তা পাঠানো হয়েছিল সেটির জবাব এসেছিল ১৫ ডিসেম্বর। ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ সেটির উত্তর দিয়েছিলেন- যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন পাকিস্তানি বাহিনী অগ্রবর্তী ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে।

মানেকশর এ বার্তা রাওয়ালপিণ্ডিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান রাওয়ালপিণ্ডি থেকে পূর্ব পাকিস্তানে জানিয়ে দেন যে জেনারেল মানেকশর প্রস্তাব মেনে নিতে।

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এর পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ নিয়ে গিয়েছিল বিজয়ের সেই মুহূর্তের দিকে।

সৌজন্যেঃ দৈনিক সমকাল

নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের পর যেদিন বিজয়ের সূর্য হেসেছিল বাংলার আকাশে, সেদিন কেমন ছিল ঢাকা? নয় মাস অবরুদ্ধ থাকা মানুষগুলোর মুক...
16/12/2022

নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের পর যেদিন বিজয়ের সূর্য হেসেছিল বাংলার আকাশে, সেদিন কেমন ছিল ঢাকা? নয় মাস অবরুদ্ধ থাকা মানুষগুলোর মুক্তির আনন্দের প্রকাশইবা ছিল কেমন?

৫১ বছর পর তার চাক্ষুস সাক্ষী অনেকে হারিয়ে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে, কিন্তু যারা এখনও বেঁচে আছেন, তাদের মনে এখনও জ্বলজ্বল করে সেই স্মৃতি।

তেমনই একজন সত্তরোর্ধ্ব আনোয়ারুল আলীম; ওষুধের ব্যবসা করতেন এক সময়। এখন অবসর নিয়ে আবাস গেঁড়েছেন মিরপুর ডিওএইচএসে, তবে তখন থাকতেন পুরান ঢাকার মিডফোর্ড এলাকায়।১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকালে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণের পর রাতভর পুরান ঢাকায় বিজয়োল্লাসের সাক্ষী হয়েছিলেন তখনকার বিএ পরীক্ষার্থী আলীম।বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে স্মৃতির ঝাঁপি খুলে তিনি বলেন, “পুরান ঢাকায় সারারাত খণ্ড খণ্ড মিছিল হয়েছে। মানুষ আনন্দ করেছে। দীর্ঘদিন বন্দি থাকার পর মুক্তির উল্লাস!“ওই রাতে বাঙালি পরিবার সবাই জানালা খুলে রেখেছিল। ঘরের আলো জ্বালিয়ে দিয়েছিল। রাস্তায় আলো নেই। ঘরের আলোয় রাস্তা আলোকিত ছিল।”
সবার জানালা খোলা কেন- উত্তরে তিনি বলেন, “যাদের জানালা বন্ধ, তারা বাংলাদেশের পক্ষে না, এমনটাই সবার ধারণা ছিল।”

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ শুরুর পর শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের প্রতিরোধ যুদ্ধ। ঢাকায় যারা ছিলেন, সেই যুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময় তাদের এক ধরনের বন্দিদশায় থাকতে হয়েছিল।
তার মধ্যেই ডিসেম্বরের মাঝমাঝিতে তারা আভাস পাচ্ছিলেন, বিজয় আসছে, বিশ্বের মানচিত্রে নতুন দেশে হিসেবে অভ্যুদয় ঘটছে বাংলাদেশের।
তবে তখন ঢাকাবাসীর উপর পাকিস্তানি বাহিনীর কড়াকড়িও বাড়ছিল।

আনোয়ারুল আলীম বলেন, “আগের তিন দিন ছিল কারফিউ। শহরে ব্ল্যাকআউট। ১৫ ডিসেম্বর সম্ভবত আকাশবাণীতে শুনেছিলাম যে, স্যারেন্ডার হতে পারে। রেডিও তখন আস্তে শুনতে হত, গোপনে। আকাশবাণী আর মাঝে মাঝে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র।”
পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করছে- চাইলেও ঘরে থেকে এমন কথা বিশ্বাস করতে বিশ্বাস হতে চাইছিল না আলীমের।

“স্যারেন্ডারের খবর প্রথমে বিশ্বাস করিনি। যতক্ষণ না হয়, মানুষের মধ্যে বিশ্বাস আসেনি। তবে পরদিন মানে ১৬ ডিসেম্বর, আমার পরিষ্কার মনে আছে, ছাদে বসে আছি, বেলা ১১-১২টার দিকে হবে হয়ত, দেখলাম আকাশে ৩-৪টা ভারতীয় হেলিকপ্টার। আমার বাসা তখন মিডফোর্ড হাসপাতালের উল্টোদিকে। ওই হেলিকপ্টার দেখে মনে হল, স্যারেন্ডার হতে চলেছে। পরে বন্ধুদের খোঁজ নেওয়া শুরু করলাম।”বন্ধুদের নিয়ে তখন রেসকোর্সের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন আলীম, যেখানে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যের আত্মসমর্পণের মঞ্চ ততক্ষণে প্রস্তত।

“হাঁটতে হাঁটতে বন্ধুদের সাথে আমিও রেসকোর্সে গিয়েছিলাম। যখন পৌঁছেছিলাম তখন স্যারেন্ডারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ। তবুও প্রচুর মানুষ তখন রেসকোর্সে। সবাই উল্লাস করছে, স্লোগান দিচ্ছে। সারারাত মহল্লায় মহল্লায় উল্লাস। এখনও চোখের সামনে ভাসে।”
বাংলাদেশের বিজয়ের সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, এস ফোর্সের অধিনায়ক কে এস সফিউল্লাহ।

সেদিনে ঢাকার অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “এয়ারপোর্ট থেকে রেসকোর্স পর্যন্ত খুব বেশি মানুষ ছিল না। যখন আমরা নিয়াজিকে নিয়ে যাই তখন রেসকোর্সেও খুব মানুষ ছিল না। আত্মসমর্পণের পরে প্রচুর মানুষ রাস্তায় নামে। মিছিল করে।”
মানুষের উচ্ছ্বাস নিয়ে আনোয়ারুল আলীম বলেন, “রাস্তায় ভারতীয় সেনার ট্রাক দেখলেই মানুষ থামিয়ে তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিল। অনেকে আবার তাদের ফান্টা-সেভেনআপ কিনে খাওয়াচ্ছিল। রাস্তায় রাস্তায় মিছিল। মুক্তিযোদ্ধা, ভারতীয় সেনা দেখলেই উল্লাসে ফেটে পড়ছে।

“পাকিস্তানি আর্মি ১৭ তারিখেও ঢাকায় ঢুকেছে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। আমরা ক্ষোভ জানিয়েছিলাম, কেন তাদের হাতে অস্ত্র থাকবে।”

তরুণ মুক্তিযোদ্ধা সোহেল আহমেদ বলেন, তাদের ক্যাম্প ছিল বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজারে। ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১১টার দিকে ঢাকায় ঢোকেন তারা।

“আমাদের একটি নৌকা ডুবে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা মারা যান। আমরা তৎকালীন পাকিস্তান বেতার ভবনে ঢুকে পতাকা উড়িয়েছিলাম। মুক্তির আনন্দ ছিল তখন মানুষের চোখেমুখে।”

বিজয়ের পরদিন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে ঢু মেরেছিলেন আলীম ও তার বন্ধুরা; যেখানে তখন অনেক বিদেশি সাংবাদিক ছিলেন।

আলীম বলেন, “১৭ ডিসেম্বর আমরা কয়েকজন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে গিয়েছিলাম। একজন শিখ অফিসার দেখে আমাদের একজন বলে উঠল, ‘জেনারেল অরোরা’। সবার কী উৎসাহ! দূর থেকে দেখেছি। উনি জেনারেল অরোরা ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করে এখন বলতে পারব না। এরপর তেজগাঁও বিমানবন্দরে। সেখানে পাকিস্তানি সৈন্যরা ছিল। কেউ দাঁড়িয়ে ছিল, কেউ কাঁদছিল।”

রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণের দলিলে সই করেছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সর্বাধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজি। আর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে গঠিত মিত্রবাহিনীর পক্ষে সই করেন ভারতের সেনাবাহিনীর জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।

সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আখাউড়া থেকে এসেছিলেন মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ।

তিনি বলেন, “আমার শেষ যুদ্ধ হয়েছিল আখাউড়াতে। ওখানে পাকিস্তানের একটি ব্রিগেডকে পরাজিত করার পর ভারতীয় একটি ব্রিগেড আমাদের সাথে যুক্ত হয়। আমি সিলেট হাইওয়ে ধরে আশুগঞ্জ যাই। আর ইন্ডিয়ান ব্রিগেড রেললাইন ধরে এগোয়। ১০ ডিসেম্বর আমরা নরসিংদীর রায়পুরা থেকে ঢাকার দিকে রওনা দেই। ১১ তারিখ আমরা ডেমরা পৌঁছাই। নদীর এ পার থেকে আমরা গুলি চালিয়েছিলাম। ডেমরা ঘাটে যুদ্ধ হয়। ১৪ তারিখ ডেমরায় পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পণ করে।”
পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “স্যারেন্ডার ফাইনাল হওয়ার পরপর আমাকে বলা হয়, আমি যেন জেনারেল নিয়াজিকে এয়ারপোর্ট থেকে রেসকোর্স নিয়ে যাই। আমার কাছে গাড়ি নেই। এতদিন তো পায়ে হেঁটে চলছি। ডেমরাতে পাকিস্তানের যে ব্যাটালিয়ন আমার কাছে স্যারেন্ডার করে, সেটার কমান্ডারকে তার গাড়ি নিয়ে আসতে বললাম। ওই গাড়ি নিয়ে আমি এয়ারপোর্ট যাই। নিয়াজিকে নিয়ে আমি ঢাকা ক্লাবের উল্টোদিকে রেসকোর্সে যাই। আত্মসমর্পণ যেখানে হল, সেখানে আমি দাঁড়ানো ছিলাম। নিয়াজি সিগনেচার করল। জেনারেল অরোরা সই করার সময় তার নামটা ঠিক লেখেননি। আমি তখন তাকে বললাম, তার নাম ঠিক নাই। তারপর তিনি আবার সাইন করেন।”

ঐতিহাসিক সেই আত্মসমর্পণের দলিলের খসড়া লিখেছিলেন তখনকার ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফআর জ্যাকব (বর্তমানে প্রয়াত)। শুধু দলিলের খসড়া রচনাই নয়, নিয়াজিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার কৃতিত্বও তার।

২০০৮ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জ্যাকব নিয়াজির আত্মসমর্পণ সম্পর্কে বলেন, “…এরপর দেখি তার চোখে জল। আমি সেদিকে করুণাভরে তাকিয়ে ভাবলাম, এই লোকটা বাংলাদেশের মানুষকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। আপনারা জানেন, তার সেনাবাহিনী কী করেছে, তাই নতুন করে তা বলার নেই। এজন্য আমি তাকে ঢাকাবাসীর সামনে আত্মসমর্পণ করানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। নিয়াজী আবারও বললেন, তিনি তার সদর দপ্তরে আত্মসমর্পণ করবেন। আমি বললাম, না, আপনাকে রেসকোর্স ময়দানে ঢাকাবাসীর সামনে আত্মসমর্পণ করতে হবে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি নিয়মিত বাহিনীর প্রকাশ্য আত্মসমর্পণই শুধু নয়, আমি তাদের গার্ড অব অনার দিতেও বাধ্য করলাম।”

আত্মসমর্পণে আর দু’য়েকদিন দেরি হলেই জাতিসংঘ তাদের যুদ্ধবিরতি আদেশ কার্যকর করত বলে শঙ্কা ছিল জ্যাকবের।

তার ‘স্যারেন্ডোর অ্যাট ঢাকা: বার্থ অব অ্যা নেশন’ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিয়াজির অফিসে যখন আত্মসমর্পণের দলিলের খসড়া পড়ে শোনানো হয়, তখন সেখানে পিনপতন নিঃস্তব্ধতা। নিয়াজি কাঁদছিলেন। রাও ফরমান আলি ‘ভারত ও বাংলাদেশ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ’ কথাটিতে আপত্তি জানান। নিয়াজি বলেন, খসড়ায় তো নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের কথা বলা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নিয়াজি খসড়া মেনে নেন।

সেই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন উপ প্রধান সেনাপতি এ কে খন্দকার।
২০১৩ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত এক স্মৃতিচারণমূলক নিবন্ধে এ কে খন্দকার লেখেন, “আমি তখন কোলকাতায়। ১৬ ডিসেম্বর সকালের দিকে কিছু কাজে বাইরে গেছিলাম। ফিরলাম বেলা দশটার দিকে। ফিরে দেখি আমার জন্য কিছু লোক অপেক্ষা করছেন। তাদের কাছেই জানলাম পাকিস্তানি বাহিনী সেদিন বিকেলে যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে। সেজন্য ঢাকার রেসকোর্সে একটি ছোট্ট অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান হবে। আর আমাকে সে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করতে হবে….।”

রেসকোর্স ময়দানে আনন্দ-উল্লাস আর ভিড়ের মধ্যে সেই অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে তিনি লিখেছিলেন, “সামান্য একটু জায়গা ফাঁকা রাখা ছিল, সেখানে একটি টেবিল পাতা। সামনেই ঢাকা ক্লাব, সেখান থেকে দুটো চেয়ার এনে বসার ব্যবস্থা করা গেল। বসলেন ভারতীয় বাহিনীর পক্ষে জেনারেল অরোরা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে জেনারেল নিয়াজী। তারপর আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করলেন দুজনে।”

এ কে খন্দকার লিখেছেন, “স্বাক্ষরের পরপরই পাকিস্তানি অফিসারদের ওখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হল। কারণ আত্মসমর্পণ করেছে বলে পাক সেনা অফিসারদের নিরাপত্তার দায়িত্বভার আমাদের ওপরই বর্তে গেছে। ওদিকে আশেপাশে ঘিরে থাকা হাজার মানুষ উল্লাসে মুখর হয়ে ঊঠলেন। অনেকেই এগিয়ে এসে আমাদের জড়িয়ে ধরলেন। কাঁদছিলেন প্রায় সবাই। কাঁদতে কাঁদতে তারা বললেন, ‘আজ থেকে আমরা শান্তিতে ঘুমাব’।”

আত্মসমর্পণের সময় জ্যাকবের ঘড়িতে সময় ছিল বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিট (ভারতীয় সময়)। বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী ৫টা ২৫ মিনিট।
“তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে, কিন্তু কোনো আলোর ব্যবস্থা ছিল না,” লিখেছেন জ্যাকব।

তবে ততক্ষণে স্বাধীন দেশের নতুন আলোর আস্বাদ পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশের মানুষ।

সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সকালে সাভারে...
16/12/2022

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শ্রদ্ধ্যার্ঘ অর্পণ করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এর পর তারা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।

#১৬ডিসেম্বর #বিজয়দিবস #আওয়ামীলীগ

১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর থেকেই বাঙালি নিধনের পরিকল্পনা শুরু করে পাকিস্তানিরা। কিন...
16/12/2022

১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর থেকেই বাঙালি নিধনের পরিকল্পনা শুরু করে পাকিস্তানিরা। কিন্তু গণমানুষের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তা বুঝতে পারেন। এরপর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তত করতে থাকেন জনগণকে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই পাকিস্তানি প্রশাসনকে কোণঠাসা করে ফেলে জনতা। সাত কোটি বাঙালিকে সঙ্গে নিয়ে, বাংলার মাটিতে বিকল্প সরকার পরিচালনা করতে শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দশ লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশে ঘোষণা করেন স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত রণ-পরিকল্পনা। মূলত বর্বর পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিরোধের দামামা বেড়ে ওঠে সেদিনই।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশের প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জ-মহল্লার সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সংগঠিত হতে থাকেন। উত্তাল মার্চজুড়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলেন স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতি। মোক্ষম সময়ে, ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে, বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে তাড়ানোর আগ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেন। এরপরই যার যা আছে, তাই নিয়ে- দেশজুড়ে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়ে আপামর বাঙালি, প্রতিটি ঘরকে দুর্গে পরিণত করেন তারা। শুরু হয় মহান স্বাধীনতার জন্য এক মরণপণ যুদ্ধ।

তবে মুক্তিযুদ্ধকে নস্যাৎ করার জন্য, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানিরা। পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি করে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে তারা। কিন্তু 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগানে রণাঙ্গণকে মুখরিত করে তোলে বাংলার দামাল সন্তানরা। আকাশে-বাতাসে-নদীতে-অরণ্যে- থ্রি নট থ্রি রাইফেলের ট্রিগারের স্পর্শে- প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে সদা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে বঙ্গবন্ধুর মুখাবয়ব ও উদ্ধত তর্জণী, তার নামের ওপর জীবন বাজি রেখে লড়তে থাকেন মুক্তিযোদ্ধারা। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর, অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ।

আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথ ধরেই ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ - স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথেই থাকুন।

সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

#বিজয়দিবস #১৬ডিসেম্বর #বিজয়েরমাস #বাংলাদেশ #আওয়ামীলীগ #বঙ্গবন্ধু #শেখহাসিনা #স্মার্টবাংলাদেশ 🇧🇩✌️

পিএম অফিস ঘেরাও করতে এলেও বিএনপিকে বাধা দেবে না পুলিশ--মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমি তো বলে দিয়...
25/07/2022

পিএম অফিস ঘেরাও করতে এলেও বিএনপিকে বাধা দেবে না পুলিশ--মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমি তো বলে দিয়েছি- তারা যদি প্রাইম মিনিস্টার অফিসও ঘেরাও করতে আসে পুলিশ তাদের যেন বাধা না দেয়। বিশেষ করে বাংলা মোটরে বাধা দেওয়া, এটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছি। আসুক না, হেঁটে হেঁটে যতদূর আসতে পারে কোনো আপত্তি নেই। আমি চা খাওয়াব, বসাব, কথা বলতে চাইলে শুনব। কারণ, আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। তবে যদি বোমাবাজি করে, ভাংচুর করে- বাধা দেব। সেটা করলে উপযুক্ত জবাব পাবে।

#আন্দোলন

২৩ জুলাই বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং মুক্তিযুদ্ধ কালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দ...
23/07/2022

২৩ জুলাই বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং মুক্তিযুদ্ধ কালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদের ৯৭তম জন্ম বার্ষিকী I

বঙ্গতাজের জন্মদিনে তার স্মৃতির প্রতি
গভীর শ্রদ্ধা।

#তাজউদ্দীনআহমদ #বাংলাদেশ #আওয়ামীলীগ

20/07/2022

সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতুসহ মেগা প্রজেক্টসমূহের দ্রুত বাস্তবায়ন. সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গীবাদ ও মাদক নির্মূল, পদ্মা সেতুসহ মেগা প্রকল্পসমূহ দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন, তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, দারিদ্র্য নির্মূল, মানব উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, প্রত্যেক গ্রামে শহরের সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা, মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেয়াকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল। করোনার মহামারীর মধ্যেও প্রায় সকল নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

#আওয়ামীলীগ #উন্নয়ন #ইশতেহার #শেখহাসিনা #বাংলাদেশ

যেভাবে ওয়ান ইলেভেন বা এক এগারোর সৃষ্টি।২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতা দখল করে। এরপর দুর্নীতি...
16/07/2022

যেভাবে ওয়ান ইলেভেন বা এক এগারোর সৃষ্টি।
২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতা দখল করে। এরপর দুর্নীতি ও অপশাসনের মহোৎসবের মধ্য দিয়ে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয় তাদের। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, নিয়ম অনুযায়ী একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা তাদের। কিন্তু লুটপাট অব্যাহত রাখার জন্য অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে, বঙ্গবন্ধুর দুই খুনির স্বজন ও সাবেক একজন বিএনপি নেতাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে বসানোর পাঁয়তারা করেন খালেদা জিয়া। এ ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানায় আওয়ামী লীগ। সংবিধান অনুসারে একজন নির্দলীয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে এই পদে বসানোর দাবি জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা ও তৎকালীন প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়ার পরামর্শে, ২৯ অক্টোবর রাতে, সংবিধান লঙ্ঘন করে, নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন বিএনপি সমর্থিত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। ফলে সৃষ্টি হয় সাংবিধানিক সংকট।

দেশজুড়ে এই অচলাবস্থার মধ্যেই, ৭ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয় এবং ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করে বিএনপি-জামায়াত নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন। এরপর ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের আদেশে দেশে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমেও পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটায় এবং বিএনপি-জামায়াত জোট একতরফা সাজানো নির্বাচনের ছক থেকে সরে না আসায়, ২০০৭ সালের ৩ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। এরপর, ৫ জানুয়ারি, লন্ডনের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ইকোনোমিস্টের প্রতিবেদনে আসন্ন একতরফা নির্বাচনকে অর্থহীন বলে অভিহিত করা হয়।

এদিকে দেশজুড়ে উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারের ক্ষমতা দখলের উদ্যোগ নেয় সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্য। ১১ জানুয়ারি, ২০০৭, শীতের পড়ন্ত বিকালে, সেনা প্রধান মইন ইউ আহমেদের নেতৃত্বে তিন বাহিনীর প্রধান এবং আরো কিছু সেনাসদস্য বঙ্গভবনে যান। তাদের পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি নেন এবং দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। মধ্য রাতে ফখরুদ্দীন আহমদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব দেন তারা। ফলে অঘোষিতভাবে সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে চলে যায় দেশের শাসন ক্ষমতা। বেসামরিক ও সুশীল সমাজের ছদ্মবেশে সামরিক শাসন শুরু হয় দেশে। অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত হয়ে যায় নির্বাচন প্রক্রিয়া। রাজনীতিবিদদের প্রতি হয়রানিমূলক আচরণ শুরু হয়। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং নির্বাসনে পাঠানোর ষড়যন্ত্র হয় সর্ববৃহৎ দল আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে।

#শেখহাসিনা
#একএগারো
#শেখহাসিনারকারামুক্তি
#গণতন্ত্র
#বাংলাদেশ

১৬ জুলাই, গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা'র কারাবন্দী দিবস। ২০০৭ সালের এই দিনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল...
15/07/2022

১৬ জুলাই, গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা'র কারাবন্দী দিবস।

২০০৭ সালের এই দিনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০০৮’র ১১ জুন দেশের ছাত্র-জনতার দাবির প্রেক্ষিতে সরকার তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

১৬ জুলাই ভোর রাতেই যৌথবাহিনী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন ঘিরে ফেলে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে নিম্ন আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়ার পর পরই শেখ হাসিনাকে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে নিয়ে বন্দি করে রাখা হয়।

গ্রেপ্তারের আগে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়। ওইসব মামলায় দীর্ঘ ১১ মাস তাকে কারাগারে আটক রাখা হয়। ওই বিশেষ কারাগারের পাশেই সংসদ ভবন চত্বরে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করে তার বিচার প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়।
এদিকে কারাবন্দি অবস্থায় শেখ হাসিনা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারাগারের মধ্যেই তার চোখ, কানসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা চলতে থাকে।

গ্রেপ্তার হওয়ার প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিক সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে যান।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার মুক্তি এবং নির্বাচনের দাবিতে সংগঠিত হতে থাকে। সরকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংগঠিত, প্রতিবাদ ও ধীরে ধীরে আন্দোলন গড়ে তোলে।

দলের সভাপতির অনুপস্থিতি ও প্রতিকূল পরিবেশ-পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখেন এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান।

আবার কারাবন্দি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নিজেও বার বার দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তার আইনজীবী ও চিকিৎসকরা তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের মাধ্যমে তিনি দলকে এ ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে নেতাদের কাছে বার্তা পাঠান।

অনেক ক্ষেত্রে বন্দি সভাপতি শেখ হাসিনার পরামর্শ নিয়েই দল পরিচালনা ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সময় কারা অভ্যন্তরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি অবস্থার মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর সব সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণী-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে পাঠানোর দাবি ওঠে।

এক পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে ২০০৮ সালের ১১ জুন ৮ সপ্তাহের জামিনে মুক্তি দেয়া হয় কারাবন্দি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে।

#কারাবন্দী_দিবস #শেখহাসিনা #তত্ত্বাবধায়কসরকার

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ultimate Jokes posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Ultimate Jokes:

Share