06/08/2024
আসসালামুআলাইকুম, আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর অশেষ রহমতে হাজারো শহীদের প্রানের বিনিময়ে আমাদের দেশে এক স্বৈরাচার সরকার ব্যবস্থার পতন ঘটেছে।
এখন আমরা আশা করছি এক নতুন বাংলাদেশের। যেখানে আর কোন অন্যায় দেখে কেউ মুখ বন্ধ করে সহ্য করবেনা। সবাই মাথা উচু করে বাঁচবে।
আমরা সবাই এখন প্রত্যেককে এক একজন আদর্শবান মানুষ হতে চেষ্টা করবো। কোন ব্যক্তির গোলাম নয় বরং আল্লাহর গোলাম হবো। সৎ ও ন্যায়ের আদর্শের গোলাম হবো।
আগামীর শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের প্রত্যেককেই এক একজন আদর্শের সৈনিক হতে হবে।
নিজেকে গড়ে তুলতে হবে, সেই সাথে নিজের পরিবার ও সমাজকে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিতে নিতে সাহায্য করতে হবে।
ইনশাআল্লাহ আগামীর বাংলাদেশ, আমাদের নবাগত শিশূ ও কিশোর সুন্দর বাংলাদেশে বেড়ে উঠবে, জ্ঞানে গুনে ও আদর্শে সমৃদ্ধ থাকবে ওরা।
আরা যারা এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে তাদের পাশে দাড়াবো আমরা। আমরা হয়তো আনন্দ করছি কিন্তু তাদের পরিবারে কোন আনন্দ নেই। স্বজন হারানোর ব্যাথা যে কি কঠিন তা সহজে অনুমান করা যায়। আমরা তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করবো সেই সাথে আল্লাহ যেন তাদের শহীদি মর্যাদা দান করেন, সেই দোয়া করবো। তারা আমাদের জাতীয় বীর। তাদেরকে আমরা সবসময় স্বরণ করবো।
পাশাপাশি দেশের সম্পদ যেন কেউ নষ্ট করতে না পারে, আর যেন কোন অরাজক পরিস্থিতি তৈরী না হয় সেদিকেও সজাক দৃষ্টি রাখবো আমরা।
সেই সাথে সকলের প্রতি অনুরোধ, আমাদের হৃদয়ে প্রচুর ব্যাথা, প্রচুর ক্ষোভ জমা হয়েছে যারা আমাদের উপর দমনপীড়ন চালিয়েছে। আমাদের যেন সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ না ঘটে। অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তি ভোগ করতে হবে তবে আমরা ব্যক্তিগতভাবে কারোই ক্ষতি করবো না।
কারন তাহলে তাদের অবস্থান আর সুন্দর আগামী বিনির্মানের সৈনিকগন এক নয়।
ভুলে যাবো না আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) মক্কা বিজয়ের পরে সকলকেই সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করেছিলেন।
তাও কখন, যখন তিনি মক্কার অধিপতি, ইচ্ছে হলে নিয়মানুযায়ী সবাইকে মৃত্যুদন্ডও দিতে পারতেন।
এর আগে একই কাজ করেছিলেন হযরত ইউসুফ (আ.)। তার ওপর ভাইদের অবিচার সত্ত্বেও তিনি যখন মিসরের সর্বোচ্চ আসনে আসীন, তখন তাদেরকে ক্ষমা করে দেন এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করেন। ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। তিনি সকল দয়ালুর চাইতে অধিক দয়ালু’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৯২)।
এটাই আমাদের প্রকৃত শিক্ষা।
আল্লাহ আমাদের সকলকে আগামীর সুন্দর ও ইনসাফ ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার তৌফিক দান করেন। আমিন।