23/04/2018
পৃথিবীতে এমন মানুষের খুব অভাব যারা তোমার ব্যর্থ হবার পর হাতটা শক্ত করে ধরে বলবে, "কোনো ব্যাপার না,সামনের বার অবশ্যই হবে"!
ব্যর্থতার দিনে পাশে থাকার মানুষ খুজে পাওয়া না গেলেও হতাশায় পুরোপুরি ভাবে ডুবিয়ে দেয়ার লোকের অভাব হয় না।
আমি অনেক আপনজন চিনি যারা জীবনে কখনো খোজ-খবর নেয় না।তুমি বেঁচে আছো কি মরে গেছো,তুমি খেয়ে আছো নাকি না খেয়ে আছো,তুমি সুস্থ আছো নাকি অসুস্থ আছো সেসব কখনো খোজ করেনা।অথচ তোমার রেজাল্টের দিন তারা খোজ নেয়।
রেজাল্ট খারাপ হলে ক্লাস ফাইভ ফেল করা লোকটাও জ্ঞান দিতে ছাড়ে না।কেউ কেউ আবার ব্যর্থতার খবর পেয়ে পৈশাচিক আনন্দ পায়।সান্ত্বনা দেবার নাম করে কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছেটা দেয়।
হাটার সময় একসাথে অনেক আপনজন তোমার পাশে থাকবে! কিন্তু একবার তুমি হোঁচট খেলেই আপনজনগুলো কয়েকটা ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে!
কেউ জোরে জোরে হাসবে,কেউ মুখ চেপে হাসবে! কেউ দৌড়ে পালাবে, কেউ আবার সমবেদনা জানাবে! কেউ তোমাকে তোলার চেষ্টা করবে, কেউ আবার কেঁদে ভাসাবে!
যে যাই করুক, হোঁচট খেয়ে অন্তত তুমি বিশ্বস্ত হাতগুলো চিনবে!
শেষ পর্যন্ত যদি কেউ ওঠাতে না আসে তবে তোমার সব থেকে বড় আপনজন তোমাকে ওঠাবে! আর সে আপনজনটা তুমি নিজে! বিশ্বস্ত হাতগুলো যখন গুটিয়ে যাবে তখন নিজের পেশিতে জোর দিয়ে উঠে দাড়াতে হবে!
কেউ তোমার না,কিন্তু তুমি তো তোমার!
পৃথিবীতে প্রতিটা সফল ব্যক্তির জীবনে অসংখ্য ব্যর্থতার গল্প আছে এবং সেদিন সে ব্যর্থতাগুলোকে আত্মহত্যায় রূপ না দিয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে গেছে।
তাই যে সকল তথাকথিত আপনজনেরা কখনো কোনোদিন তোমার খোজ নেয়নি অথবা তোমার কোনো খারাপ সময়ে পাশে থাকেনি সেই সব মানুষদের জন্য লজ্জায় মরে যাবার কোনো প্রয়োজন নেই।
আমি ফেল করেছি, আমি ব্যর্থ হয়েছি।তবে আমি হারিনি, আমি জেতার উপায় শিখেছি।
কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছেটা দিতে আসলে সাথে একটু গুড়া মরিচ মিশিয়ে দিতে বলবে।
এবং ৩২টা দাঁত বের করে হেসে বুঝিয়ে দেবে এতে তোমার কিছু আসে যায়না!
তুমি চেষ্টা করবে,তুমি ব্যর্থ হবে,তুমি শিখবে, একদিন ঠিকই জিতবে।আর সেদিন এরাই তোমাকে নিয়ে লাফাবে।
সেদিনও একই ভাবে ৩২ টা দাঁত বের করে হেসে বুঝিয়ে দেবে, "তুমিই তোমার জন্য যথেষ্ট।কারো সান্ত্বনায় কিংবা নুনের ছেটায়; তোমার কিছু আসে যায় না!"