23/10/2025
এনসিপির এই নেতা নিজের মত করে ভুংভাং গ্রাফ বানিয়ে বলছেন বাংলাদেশে নাকি বেকার ২৬ লক্ষ।। তার মধ্যে উনার দাবি বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১ কোটি মানুষের যে কর্মসংস্থানের কথা বলেছেন সেটা কোনো ভাবেই বাস্তবায়ন করতে পারবে না।। এবং উনার করা পোস্টেই বাচ্চা পার্টির ছাপড়িদের অনেকে বলছেন ১৮ মাসে ১ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করা অসম্ভব, আমি মনে করি এটা ভুল ধারণা। এরকম কর্মসূচী অনেক দেশেই বাস্তবায়ন অতিতে করা হয়েছে।। এনসিপির মেধাবী ভাইটি ভুংভাং গ্রাফ না একে ফোনে একটু তথ্য ঘাটাঘাটি করলেই উনি পেয়ে যেতেন।।
আমি মনে করি বাংলাদেশে আগামীতে যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সঠিক পরিকল্পনা থাকে এটা ১ কোটির বেশি করাও সম্ভব।।
আজকের দিনে কর্মসংস্থান মানে শুধু কারখানা নয়; গিগ ইকোনমি, রিমোট জব, কৃষি-ভিত্তিক উৎপাদন, আইসিটি, SME, এবং ব্লু ইকোনমি এই সবকিছুই কর্মসংস্থানের আওতায় আসে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ৭ কোটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী আছে। এর মধ্যে মাত্র ৫%–৭% লোককে নতুন কাজের সুযোগ দিতে পারলেই ১ কোটি নতুন চাকরি তৈরি সম্ভব। যদি সরকার আইসিটি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, নির্মাণ, গার্মেন্টস এক্সটেনশন, ফ্রিল্যান্সিং ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ৬টি সেক্টরে একসাথে ইনভেস্টমেন্ট চালায়
তাহলে ১৮ মাসে ১ কোটি কর্মসংস্থান শুধু সম্ভবই না, বাস্তবায়নযোগ্য।
আমি অনলাইনে ঘাটাঘাটি করে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। যেটা তারেক রহমান নিজেও নিজ দেশে সরকার গঠন করলে বাস্তবায়ন করবেন বলেছেন।।
যেইসব আমাদের আশেপাশের দেশেই বাস্তবায়ন করা হয়ে গেছে অলরেডি। যেমন:
ভারত: ২০১৪–২০১6 সালে মোদি সরকারের “Skill India” ও “Make in India” প্রকল্পে ২ বছরে প্রায় ১.২ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল।
চীন: ২০১0–২০১২ সালে “Urban Job Expansion” প্রোগ্রামে দেড় বছরে প্রায় ১.৫ কোটি চাকরি তৈরি করেছিল — মূলত ক্ষুদ্র শিল্প ও নির্মাণ খাতে।
ইন্দোনেশিয়া: ২০১৬–২০১৭ সালে "Work Creation Omnibus Law" এর মাধ্যমে প্রায় ৯০ লাখ মানুষকে নতুন কর্মে নিয়োজিত করে।
ভিয়েতনাম: ২০১৮–২০১৯ সালে গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও রপ্তানি-ভিত্তিক SME প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৮০ লাখ নতুন চাকরি তৈরি করেছিল।
ব্রাজিল: “Fome Zero” ও “Bolsa Família” প্রকল্পে কম আয়ের মানুষদের উদ্যোক্তা বানিয়ে ২ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান দেয়।
বিএনপি তাহলে কিভাবে এই কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে পারবে??
উত্তর সহজ প্রবাসী আয়, কৃষি, ও আইসিটি, শিল্প, সরকারি খাতকে একত্রে কাজে লাগিয়ে দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা সম্ভব।
বিএনপি ইতিমধ্যে “Family Card” ও “Agriculture Card” এর মাধ্যমে সরাসরি জনগণকে অর্থনীতিতে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। বিএনপির সামনে বড় একটা ভিশন নিতে যাচ্ছে কৃষিখাত নিয়ে।।
আপনারা হয়তো জানেন, আমাদের দেশের অর্থনীতির মূল দুইটি স্তম্ভ, প্রবাসী আয় ও গার্মেন্টস শিল্প। এই দুইটি খাত বিএনপি আমলেই করা।। এই খাতে দেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যাক মানুষ কাজ করে।। এবং বিএনপি আমলেই বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত বাজার অর্থনীতির দুয়ার খুলে দেন। যার ফলে দেশে বিরাট সংখ্যাক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। বিশেষ করে বড় সংখ্যাক নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে।।। এই বিএনপিই দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা থেকে দেশকে মুক্ত করেছেন। আজকে যারা বলতে চান বিএনপি অলীক স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, তাদের মুখে ছাই মেরে বিএনপি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার প্রতিটি দফা বাস্তবায়ন করবে।।