12/08/2023
আমরা প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি, করতে হয় আমাদেরকে।
এই যে আমাদের শরীরে বিভিন্ন সময়ে ভাইরাস আক্রমণ করে, সেই ভাইরাসটিও এন্টিবায়োটিকের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে চেষ্টা করে। আলটিমেটলি উদ্দেশ্য সবার একই, 'বেঁচে থাকা'।
এই যে আমরা পড়াশোনা করি, চাকরি কিংবা ব্যবসায় করি, এর উদ্দেশ্য সারভাইভ করার পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন করে সামাজিক আত্মমর্যাদা দৃঢ় করা। এটি আমাদের প্রয়োজন। মানুষের মস্তিষ্কে যদি জ্ঞান না থাকে তবে তেলাপোকার মতো বেঁচে থেকে লাভ কি!
কিন্তু জীবন ধারণের জন্য এর চেয়েও একটি বড়ো প্রয়োজন হলো বেসিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট। এই বেসিক স্কিল পড়াশোনা করে জ্ঞান অর্জনের মতো নয়; হাতে ধরে প্রশিক্ষণ নিতে হয় -
আমাদের বাবা-মায়েদের উচিত ছোটো থেকে বড়ো হওয়ার সাথে সাথেই-
হোক ছেলে অথবা মেয়ে, প্রতিটি সন্তানকে প্রকৃতির সাথে সারভাইভ করার জন্য সকল কাজ যেমন নিজের খাবার নিজে তৈরি, পোশাক পরিষ্কার, ঘরবাড়ি, বিছানা, বাথরুম পরিষ্কার, সাঁতার শেখানো, কোনো হিংস্র জন্তুর হাত থেকে আত্মরক্ষার কৌশল এগুলো হাতে ধরে শেখানো।
আপনি যেমন আপনার সন্তানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে গড়ে তুলতে সবচেয়ে ভালো বিদ্যাপীঠ থেকে তাকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য চেষ্টা করেন, বিশ্বাস করুন তার থেকেও বেশি প্রয়োজন সন্তানকে এই বেসিক স্কিল গুলো শেখানো।
অনেক বাবা মাকে খুব গর্বের সাথে বলতে শুনি-
"আমার ছেলে/মেয়ে এক গ্লাস জল ঢেলেও খেতে পারে না"। খেতে পারে না এটা কোনো কথা নয়; আপনি খাওয়ান না এবং এটা কোনো গৌরবের কথা নয় গো মা/বাবা!
আপনার সন্তানকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলুন।
এটাই বরং কৃতিত্বের। পরনির্ভরশীল পঙ্গু বানিয়ে রাখবেন না প্লিজ! 🙏
শুধু সন্তানদের কথা কি বলবো! আমাদের বাবাদের কথাই বলি- ক'জন নিজের খাবার নিজে তৈরি করে অর্থাৎ রান্না করে খেতে পারেন? আর আমাদের মায়েরা যারা গৃহিণী ক'জন তার স্বামীর অবর্তমানে ব্যাংকিং লেনদেন থেকে শুরু করে সন্তানকে কিংবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে কিংবা নিজেকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার মতো ইমার্জেন্সি কাজটুকু করতে সক্ষম? অথচ এগুলো জানা থাকা খুব জরুরী।
প্লিজ আপনি আপনার পার্টনাকেও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলুন যেন আপনার অবর্তমানে তিনি একাকী সারভাইভ করতে পারেন 🙏