02/05/2021
প্রথমত আর্টিকেল টি পুরো পড়াড় আগে বিশেষ দ্রষ্টব্য
১।প্রেম নামক কোন সম্পর্কের ই সামাজিকভাবে কোন ভিত্তি নেই কারণ এই ধরনের সম্পর্ক গুলোতে Commitments থাকলেও অন্তত্য সামাজিক ভাবে কোন স্বীকৃতি নেই ।
২। যেহেতু বিষয় গুলো আমাদের সমাজে অহরঅহ ঘটছে তাই এই আর্টিকেল টি লিখা।
যেন আমরা কিছুটা হলেও সতর্ক হই অন্তত্যপক্ষে অন্য কাউকে প্রতারিত করার পূর্বে । প্রতারণা ছেলে করুক বা মেয়ে উভয়ই অপরাধী।
৩। তবে যে কোন অপরাধ প্রমাণের জন্য প্রথমে যষ্ঠেট evidence এবং Ground দরকার এ দুটোর একটিও যদি অনুপস্থিত থাকে সেক্ষেত্রে হিতের বিপরীত হতে পারে।
প্রথমেই আপনাদের একটু নিরাশ করি, আইনে প্রেমের প্রতারণা বিষয়ক সরাসরি কোন ধারা বা অনুচ্ছেদ নেই, কিছু ভূঁইফোড় নিউজ পোর্টাল কিছু ধারা বানিয়ে মানুষের আবেগ নিয়ে ক্লিকের ব্যবসা করে পাঠকদের বেশ বোকা বানাচ্ছে।
তবে এখুনি হতাশ হবেন না কারণ আমরা আপনার সঠিক পথ দেখাতে যাচ্ছি। আইন মাত্রই ব্যাখ্যার বিষয়, পৃথিবীর কোন দেশের আইন-ই খুঁটিনাটি সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারে না কিন্তু প্রচলিত আইন থেকে ব্যাখ্যার মাধ্যমেই আইনের যথাযথ প্রয়ােগ করতে হয়। কখনো বা কৌশল খাটাতে হয় যেটা স্থান-কাল ও অবস্থান ভেদে আলাদা হয়।
আবার কিছু সময় কিছু বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকে যা মেনে একজন বিজ্ঞ উকিল তার মামলা পরিচালনা করেন। এই সব বিষয় অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে তাই সবিস্তারে সব আলােচনা করে প্রায় অসম্ভব তবে আমরা কিছু কমন সমস্যার বিষয় নিচে আলোকপাত করছি।
আশা করি এই বিষয়গুলাে মাঝেই আপনি আপনার উত্তরটি পেয়ে যাবেন।
তবে আপনার সমস্যাটি যদি একটু আলাদা হয় তবে আপনি আমাদের কাছে এসে বা অন্য কোন বিজ্ঞ আইনজীবীর কাছে গিয়ে বললে আশা করি সমাধান পাবেন।
“1st Case”
“প্রেমের সম্পর্কে প্রতারণা করে অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ করেছে”
ধরুন আপনার ভালোবাসার মানুষ আপনার সাথে অর্থ বা সম্পদের জন্য প্রেম করেছে এবং আপনার কাছে ঘেঁষে আপনার বিশ্বাস অর্জন করে তারপর আপনার অর্থ বা সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে বা ক্ষতি করেছে, এখন কি হবে?
দন্ডবিধি ৪১৫- ৪২০ ধারায় এ ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ধারা ৪১৫ তে বলা হয়েছে যদি কোন ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে কারো উপর প্রভাব বিস্তার করে তার কাছ থেকে কোন কিছু আদায় করে [তার সম্মতি নিয়ে করেলেও] সেটা হবে প্রতারণা।
যেমন ধরুন; রহিমা রহিমের সাথে ভালবাসার অভিনয় করে নিয়ে বিনিয়ে তার দামি আইফোনটা হাতিয়ে নিলাে। এবং অভিনয়টা এমন ছিল যা সাধারণ কোন মানুষের বােঝার যাে নেই কিন্তু পরে তার যথাযথ প্রমাণ পাওয়া গেল এবং স্বাভাবিক ভাবেই বােঝা যায় যে সে আই-ফোনটি পাবার উদ্দেশ্যেই প্রেমের অভিনয় করেছিল। [উভয় উদাহরণ রহিমের ক্ষেত্রেও প্রোযজ্য]
এছাড়াও হতে পারে, জাল – জালিয়াতি করলাে, টাকা মেরে দিল, একটা কাজের বদলে বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আরেকটা কাজ ।
আবার এই একই ধরনের কাজ যদি কেউ মূল্যবান সম্পত্তির ক্ষেত্রে করে থাকে তবে তিনি দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা অনুসারে অপরাধী হবেন এবং যার সাজা হতে পারে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থ দণ্ড।
“2nd Case”
“মিথ্যে পরিচয় দিয়ে প্রেম করে প্রতারণা করলে”
যদি এমন হয় যে কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির নকল হিসেবে নিজেকে পরিচিত করলাে [Impersonation ] এবং সেই পরিচয়ে প্রেম করে ধোঁকা দিল বা প্রতারণা করলে।
তবে দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারার অধীনে সে অপরাধ করেছে এবং এর জন্য তার তিন বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
আর এই একই কাজ যদি কেউ ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে করেন [ফেসবুক, ফোন, ইন্টারনেট ইত্যাদির মাধ্যমে] তবে সে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৪ এবং সেক্ষেত্রে তারা ৫-৭ বছর পর্যন্ত সাজা সাথে ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ড হতে পারে।
এছাড়াও ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, ২০১৮ এর ধারা ২২ ও ২৩ এ ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে। জালিয়াতি ও প্রতারণার শাস্তি বর্ণনা করা আছে।
“3rd Case”
“বাগদানের পর প্রতারণা করলে”
ধরুন দুজনের পারিবারিক এবং সামাজিক ভাবে বাগদান হল, এক্ষেত্রে দুজনের কিছু ট্রাস্টের জায়গা স্বীকৃত হয় এবং তারপর যদি একজন আরেকজনের আর্থিক ক্ষতি করে তবে সে পেনাল কোডের ৪১৮ ধারা অনুসারে অপরাধী হতে পারেন যার সাজা ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়-ই।
শেষ কথা
যে কোন পদক্ষেপ নেওয়া আগে ভাবুন, নিশ্চিত হােন এবং তারপর ব্যবস্থা নিন। কারণ এসব বিষয় প্রমাণ কারা একটু দূরহ
“Though we should remember justice will prevail”,
আর প্রায় সকল বিষয়ের সমাধান আছে শুধু প্রয়োজন আইনের প্রয়োগ ও কৌশল,
তাই আইনের আশ্রয় নিতে ভয় পাবেন না।
“আইন জানুন নিজের জন্য”
Aman Hossain Anjan
( Associate Lawyer Of “Chamber Of Jurist” )
Contact: 013149-73346
My official Address: 85, 1/A Purana Paltan Line