11/01/2021
স্বার্থপর বন্ধুদেরকে এড়িয়ে চলুন!
প্রত্যেক নতুন জিনিসকেই উৎকৃষ্ট মনে হয়, তবে বন্ধুত্ব যতো পুরনো হয় ততই উৎকৃষ্ট ও দৃঢ় হয়-কথাটি এরিস্টটলের। বন্ধু নিয়ে এমন খাঁটি কথা আর হয়না। কিন্তু বন্ধুত্বের চেহারা ধরে যদি অবন্ধু কপালে এসে জুটে তবেই জীবন শেষ।
স্বার্থপর বন্ধু থাকার চাইতে বন্ধুহীন থাকা ঢের ভাল। বন্ধু তো আত্মার আত্মা। কিছু মানুষ আছে যারা বন্ধুত্বের বেশ ধরে নিজের স্বার্থটা আদায় করে। এই স্বার্থপর বন্ধুরা নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, নিজেদের ভালো থাকা ছাড়া অন্য আর কোনো কিছুই চিন্তা করতে পারেনা। এসব স্বার্থপর মানুষদের আবদার অনেক সময় লজ্জার খাতিরে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা যায়না। তবে কিছুটা বুদ্ধি খাটিয়ে সহজেই এসব সুযোগ সন্ধানী মানুষদের এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
আত্মকেন্দ্রিক বন্ধুরা কখনোই সম্পর্কের মর্যাদা দিতে জানেনা। ফলে সম্পর্কের প্রতি এদের মনে শ্রদ্ধাবোধ জন্মায়না। এসমস্ত স্বার্থপর বন্ধুদের কাছ থেকে কোনো ধরনের প্রত্যাশা না রাখাই ভালো। আপনি পারলে তারজন্য করুন নতুবা চুপচাপ থাকুন তার সব ব্যাপারে।
স্বার্থপর মানুষেরা অতি সহজেই অন্যের মনোযোগ কাড়তে সক্ষম। এই সুযোগে তারা নিজেদের সুবিধাগুলো আদায় করে নেয়। কিন্তু অন্যের ভালা লাগা, মন্দ লাগা, ইচ্ছা, অনিচ্ছার কোনো মূল্যই তার কাছে নেই। তাই ইটের জবাব পাটকেলের মাধ্যমে দিতে গেলে তাদের মতোই নিজেদেরও কিছুটা স্বার্থপরতার পথে হাঁটা উচিৎ। যখনই আপনি নিজের স্বার্থ দেখতে শুরু করবেন, দেখবেন সুড়সুড় করে সরে গেছে আপনার পাশ থেকে। স্বার্থপর মানুষেরা আপনার কাছ থেকে কেবল উপকার পেতে চাইবে। কিন্তু আপনাকে কখনোই সে উপকার করবেনা। আর ভবিষ্যতে কখনো সে আপনার উপকারের কথা স্বীকারও করবেনা।
তাই এসমস্ত মানুষকে উপকার করা বন্ধ করে দিন। এই পৃথিবীতে স্বার্থপর মানুষের পাশাপাশি অনেক নিঃস্বার্থ মানুষও রয়েছে। যারা কিনা আপনার মনের কদর করতে জানে। স্বার্থপর মানুষদের কৌশলে এড়িয়ে ঐ সমস্ত নিঃস্বার্থ মানুষের সঙ্গে সময় কাটান। বন্ধুত্ব গড়ুন। সবসময় স্বার্থপর বন্ধুর মতের প্রাধান্য দিবেননা। তার মাঝে নিজের মতের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করুন। স্বার্থপর বন্ধুর সঙ্গে সবসময় স্পষ্ট ভাষায় কথা বলুন। যদি দেখেন তারপরেও কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা তখন সে সম্পর্কের পাঠ অতি দ্রুত চুকিয়ে ফেলুন। এতে আপনারই মানসিক প্রশান্তি আসবে।
#জীবন_থেকে_সংগৃহীত।